📘 ইখলাস ২ > 📄 ইখলাসের মর্ম

📄 ইখলাসের মর্ম


একজন ঈমানদার ব্যক্তির জীবনের প্রতিটি কাজ, বিষয়, উচ্চারণ-আচরণ সবকিছুতেই এক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্যলাভের উদ্দেশ্য থাকবে। সবকিছুতে আল্লাহর সন্তুষ্টিই হবে তার লক্ষ্য। সে তার কোনো আমল বা ইবাদতে লোক দেখানো, মানুষের কাছে সুনাম অর্জন, দুনিয়ার স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য থেকে বিরত থাকবে।

**ইখলাস কেন গুরত্বপূর্ণ**
আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জ্বিন সৃষ্টির এ দুটি শ্রেণিকে মূলত তার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন এবং সবাইকে ইখলাসের আদেশ করেছেন। কুরআনে কারিমের ভাষায়—
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ
তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে (একনিষ্ঠভাবে) তাঁর ইবাদত করতে।
অন্যত্র ঘোষিত হয়েছে—
إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ. أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ
আমি তোমার নিকট এ কিতাব সত্যসহ অবতীর্ণ করেছি। সুতরাং আল্লাহর ইবাদত করো তাঁর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে। জেনে রাখো—নির্ভেজাল আনুগত্য কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য।
কুরআনে কারিমে আরও ঘোষিত হয়েছে—
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. لَا شَرِيكَ لَهُ ۖ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ.
বলেন, আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ (সবকিছু) জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তার কোনো শরিক নেই এবং এর জন্যই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।
কুরআনে কারিমে আরও ঘোষিত হয়েছে—
الذي خلق الموت والحياة ليبلوكم أيكم أحسن عملا، وهو العزيز الغفور
যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদের পরিক্ষা করার জন্য—কে তোমাদের মধ্যে কাজে উত্তম? তিনিই পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।
এখানে প্রতিটি আয়াতেই ইখলাসের আদেশ করা হচ্ছে। বিশুদ্ধচিত্তে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন।

টিকাঃ
১১. সূরা বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫
১২. সূরা যুমার, আয়াত: ২-৩
১৩. সূরা আনআম, আয়াত: ১৬২-১৬৩
১৪. সূরা মূলক, আয়াত: ২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00