📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 খ্রিস্টবাদ ও ইসলামের মাঝে তুলনামূলক পর্যালোচনা

📄 খ্রিস্টবাদ ও ইসলামের মাঝে তুলনামূলক পর্যালোচনা


ইসলাম
১- ইসলাম আল্লাহ তাআলার সত্তা ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাওহিদের দাওয়াত দেয়। ইসলাম বলে : একমাত্র তিনিই ইবাদতের উপযুক্ত।
قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ .
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। [সুরা ইখলাস, আয়াত: ১-৪]
২- মসিহ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
৩- মসিহ মানুষকে ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথের দিশা দেওয়ার জন্য আগমন করেছেন।
৪- ইসলাম ঈমান ও আমলের দাওয়াত দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। [সুরা বাকারা, আয়াত: ৬২]
৫- মসিহ ছিলেন মায়ের প্রতি সদাচারী। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا এবং জননীর অনুগত করেছেন এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। [সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৩২]
৬- আল্লাহ তাআলা মসিহকে রুহুল কুদস তথা জিবরাইল ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ অর্থ্যাৎ, “আমি তাকে রুহুল কুদসের মাধ্যমে শক্তিদান করেছি।” [সুরা বাকারা, আয়াত: ৮৭]
৭- মসিহ আলাইহিস সালাম দুনিয়া ও আখেরাতে মহাসম্মানের অধিকারী। পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছে,
اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ
তার নাম হলো মসিহ-মারইয়াম তনয় ঈসা-, দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহাসম্মানের অধিকারী...। [আলে ইমরান, আয়াত: ৪৫]
৮- মসিহ অন্যান্য নবিগণের মতো নিষ্পাপ ছিলেন।
৯- মসিহ পূর্ববর্তী নবিগণকে সত্যায়নকারী ছিলেন।
১০- আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তারা তাকে হত্যা করতে পারেনি।
১১- সর্বাবস্থায় মসিহের উপর সালাম বা শান্তি। পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছে, وَالسَّلامُ عَلَيَّ يَوْমَ وُلِدتُّ وَيَوْমَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا .
আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব। [সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৩৩]
১২- হাওয়ারিগণ মসিহের দাওয়াতে সাড়া দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের ভাষায়- قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ اللَّهِ
শিষ্যবর্গ বলেছিল, আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। [সুরা সফ, আয়াত: ১৪]
১৩- আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, দয়ালু। তিনি বান্দার তাওবা কবুল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ তিনি অনুকম্পা প্রদর্শনকে নিজ দায়িত্বে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন। [সুরা আনআম, আয়াত: ১২]
অন্যত্র তিনি বলেন, وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ আমার রহমত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। [সুরা আরাফ, আয়াত: ১৫৬]
১৪- ইবাদত কবুলের জন্য আল্লাহ তাআলা কোনো মাধ্যমের মুখাপেক্ষী নন।
১৫- ইসলামি শরিয়ত হেদায়াত ও সৌভাগ্যের উৎস।
১৬- ইসলামের দৃষ্টিতে নবি-রাসুলগণ আল্লাহর নেককার বান্দা।
১৭- নবিগণ নিষ্পাপ।
১৮- আল্লাহ এবং তার রাসুল ব্যতীত আর কারও অধিকার নেই ইসলামের কোনো বিধান রহিত করার।
১৯- কুরআন আল্লাহ তাআলার অলৌকিক কিতাব।
২০- কুরআন মসিহের বক্তব্য তুলে ধরেছে,
إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা আপনার দাস এবং যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে আপনিই পরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞ। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ১১৮]

খ্রিষ্টবাদ
১- খ্রিষ্টবাদ ত্রিত্ববাদের দাওয়াত দেয়। পিতা ঈশ্বর, পুত্র ঈশ্বর ও পবিত্র আত্মা ঈশ্বর। খ্রিষ্টবাদ বলে : তিন জনের প্রত্যেকেই ইবাদাতের উপযুক্ত।
২- মসিহ আল্লাহর পুত্র।
৩- মসিহ মানুষকে পাপ থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য এসেছেন।
৪- খ্রিষ্টবাদ ইশ্বরপুত্র মসিহ এবং প্রায়শ্চিত্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের দাওয়াত দেয়।
৫- মসিহ মায়ের প্রতি সদাচারী ছিলেন না। তিনি মায়ের মর্যাদাকে অস্বীকার করতেন। [যোহন, ২/১-৪, মথি, ১২/৪৭-৪৮]
৬- পবিত্র আত্মা মসিহকে ক্রুশ থেকে বাঁচানোর জন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।
৭- সৈনিকরা মসিহকে প্রহার করেছে। মুখে থুতু দিয়েছে। তারপর তাকে শূলে চড়িয়েছে।
৮- মসিহ সৎ ছিলেন না।
৯- সুসমাচারের ভাষ্যমতে মসিহ অন্যান্য নবি-রাসুলগণকে ডাকাত বিবেচনা করতেন।
১০- ইহুদিরা তাকে বেত্রাঘাত করে শূলে চড়িয়েছে।
১১- বনি আদমের পাপের কারণে তাকে শূলে চড়ানো হয়েছে। সুসমাচারের ভাষ্যমতে তার মৃত্যু ছিল অভিশপ্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ন্যায়।
১২- বিপদ ও পরীক্ষার সময় হাওয়ারিরা মসিহকে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল।
১৩- আল্লাহ পরাক্রমশালী। তিনি আদমের তাওবা কবুল করেননি। এমনকি তার সন্তানকে শূলে চড়িয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন।
১৪- আল্লাহ তাআলা পোপের মাধ্যমে তাওবা ও যাবতীয় ইবাদাত কবুল করে থাকেন।
১৫- শরিয়ত খ্রিষ্টানদের কাঁধে অভিশাপস্বরূপ।
১৬- পুরাতন ও নতুন উভয় নিয়মের ভাষ্যমতে নবি-রাসুলগণ সীমালঙ্ঘনকারীদের চেয়ে নিকৃষ্ট। তাদের অনেকে স্বীয় কন্যার সাথে ব্যভিচার করেছেন। আবার অনেকে মদ পান করতেন। কেউ কেউ মানুষের সামনে উলঙ্গও হয়েছেন।
১৭- পোপগণ নিষ্পাপ
১৮- পোপ শরিয়ত রহিত করার অধিকার রাখেন।
১৯- খ্রিষ্টানদের কাছে রক্ষিত সুসমাচারগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির রচনা।
২০- মসিহ ফরিশি ও সাদ্দুকিদের ধ্বংস ও বরবাদির বদদুআ করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px