📄 আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে ক্যাথলিকদের আকিদা
ক্যাথলিকগণ বলেন: ইশ্বর তিন জন। প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ও বিচ্ছিন্ন। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা। যোহনের সুসমাচারের প্রথম বাক্য "আদিতে বাক্য (কালিমা) ছিলেন” এর ব্যাখ্যায় তারা বলেন কালিমা এবং তাকে যিনি জন্ম দিয়েছেন উভয়ে স্বতন্ত্র। পিতা পুত্র নন। পুত্রও পিতা নন। তবে উভয়ে প্রকৃতি, সত্তা, হিকমা ও অস্তিত্বের দিক থেকে এক।
তাদের এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে বুঝা যায়, মসিহ ঐশ্বরিক বিবেচনায় পিতার সমপর্যায়ের। আর মানবসত্তার বিবেচনায় পিতার চেয়ে নিচু স্তরের। এটি প্রোটেস্টান্টদেরও মতো। এদের দিকেই ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে-
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهِ إِلَّا إِلَهُ وَاحِدٌ وَإِن لَّمْ يَنتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوْا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ .
নিশ্চয় তারা কাফির, যারা বলে, আল্লাহ তিনের এক; অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। যদি তারা স্বীয় উক্তি থেকে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরে অটল থাকবে, তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পতিত হবে। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ৭৩]
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَلَا تَقُولُواْ ثَلاثَةُ انتَهُوا خَيْرًا لَّكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهُ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلاً .
আর এ কথা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক, এ কথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক উপাস্য। সন্তানসন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়। যা কিছু আসমানসমূহ ও জমিনে রয়েছে সবই তার। আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট। [সুরা নিসা, আয়াত: ১৭১]
এই তিন সত্তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। আল্লাহর সত্তার ব্যাপারে খ্রিষ্টানরা তাদের ভ্রান্ত আকিদার পক্ষে এখনো বিভিন্নভাবে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দীর্ঘ বিশ শতাব্দীতেও এই আকিদাটি বিজ্ঞমহলে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে পারেনি। পাঠক এ পর্যায়ে 'ইলিয়াস মাক্কার' নামক একজন সাধুর আরও কিছু হাস্যকর বক্তব্য শুনুন-
১. যে ব্যাক্তি নিষ্কৃতি পেতে চায় তার জন্য সর্বাগ্রে ক্যাথলিক বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। অর্থাৎ খ্রিষ্ট চার্চের সমন্বিত সাধারণ বিশ্বাসকে।
২. এই বিশ্বাসকে অনিষ্ট থেকে যে হেফাজত করবে না নিশ্চিত সে চিরস্থায়ী ধ্বংস হবে।
৩. ক্যাথলিক বিশ্বাস হলো, আমরা ত্রিত্বের ভেতর এক এবং একত্বের ভেতর ত্রয়ীর উপাসনা করি।
৪. তিন সত্তার মিশ্রণ হয় না।
৫. পিতার আলাদা সত্তা পুত্রের আলাদা সত্তা এবং পবিত্র আত্মারও ভিন্নসত্তা।
৬. কিন্তু পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা একক সত্তা, একই সমান অস্তিত্ব এবং একসাথেই তারা চিরস্থায়ী মহিমার অধিকারী।
৭. পিতা মাখলুক নন। পুত্র মাখলুক নন। পবিত্র আত্মাও মাখলুক নন।
৮. পিতা যেমন পুত্রও তেমন, পবিত্র আত্মাও তেমনই।
৯. পিতা অসীম। পুত্র অসীম। পবিত্র আত্মা অসীম।
১০. পিতা চিরন্তন। পুত্র চিরন্তন। পবিত্র আত্মা চিরন্তন।
১১. কিন্তু এই চিরন্তন একক। আলাদা তিন চিরন্তনতা নয়।
১২. একইভাবে তিন গাইরে মাখলুক নন। একক গাইরে মাখলুক। তিন অসীম নন। একক অসীম।
১৩. পিতা সবকিছুর ধারক। পুত্র সবকিছুর ধারক। পবিত্র আত্মা সবকিছুর ধারক।
১৪. কিন্তু তিন জন ধারক নন। এক জন ধারক।
১৫. একইভাবে পিতা ঈশ্বর। পুত্র ঈশ্বর। পবিত্র আত্মা ঈশ্বর।
১৬. কিন্তু তারা তিন ঈশ্বর নন। তিনে মিলে এক ঈশ্বর।
১৭. এভাবে পিতা পালনকর্তা। পুত্র পালনকর্তা। পবিত্র আত্মা পালনকর্তা।
১৮. কিন্তু তারা তিন পালনকর্তা নন। বরং তিনে মিলে এক পালনকর্তা।
১৯. খ্রিষ্টীয় সত্য আমাদেরকে বাধ্য করে এ কথা স্বীকার করতে যে, এই তিন সত্তার প্রত্যেকেই স্বয়ং ঈশ্বর ও পালনকর্তা।
২০. ক্যাথলিক ধর্ম আমাদেরকে তিন ঈশ্বর ও তিন পালনকর্তার অস্তিত্বের বিশ্বাস থেকে নিষেধ করে।
২১. পিতা কারও থেকে প্রস্তুতকৃত নন। মাখলুক নন। কারও থেকে জন্মও নেননি।
২২. পুত্র পিতা থেকে। তবে তিনি প্রস্তুতকৃত নন। মাখলুক নন। বরং জন্মগ্রহনকারী।
২৩. পবিত্র আত্মা পিতা ও পুত্র থেকে। তবে প্রস্তুতকৃত নন। মাখলুক নন। জন্মগ্রহনকারী নন। তবে উৎপন্ন।
২৪. সুতরাং এক পিতা। তিন পিতা নন। এক পুত্রা তিন পুত্র নন। এক পবিত্র আত্মা। তিন পবিত্র আত্মা নন।
২৫. এই ত্রয়ীর মাঝে কেউ আগেও নন, পরেও নন। কেউ বড়ও নন, ছোটও নন।
২৬. কিন্তু প্রত্যেক সত্তাই সমপর্যায়ের ও একই সাথে চিরন্তন।
২৭. যা বলা হলো তার ভিত্তিতে আমাদের ওপর কর্তব্য ত্রয়ীর মাঝে একত্বের ইবাদত করা। এবং একত্বের মাঝে ত্রয়ীর ইবাদত করা।
২৮. সুতরাং যে মুক্তি পেতে চায় তার কর্তব্য হলো ত্রয়ীর ব্যাপারে এভাবে জোরদার বিশ্বাসী হওয়া।
২৯. একইভাবে মুক্তির জন্য আমানতদারিতার সাথে আমাদের প্রভু যিশুর দেহধারণের আকিদায় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।
৩০. কেননা, সংগত বিশ্বাস হলো, আমানতদারিতার সাথে আমাদের এই বিশ্বাস স্থাপন করা এবং এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আমাদের প্রভু যিশু ঈশ্বরের পুত্র। তিনি ঈশ্বর এবং মানুষ।
৩১. তিনি ঈশ্বর পিতার মৌল থেকে। যুগের পূর্বে তিনি জন্মেছেন। তিনি মানুষ মায়ের মৌল থেকে। এই যুগে তিনি অস্তিত্বশীল।
৩২. তিনি পূর্ণ ঈশ্বর ও পূর্ণ মানুষ। সত্তাগত বাকসম্পন্ন ও মানব দেহধারী।
৩৩. ঐশ্বরিক দিক থেকে পিতার সমান। মানবীয় দিক থেকে পিতার নিচে।
৩৪. তিনি যদিও ঈশ্বর এবং মানুষ তথাপি তিনি একক মসিহ। দ্বৈত নন।
৩৫. কিন্তু এমন একজন যার ঐশ্বরিক সত্তা দেহে রূপান্তরিত নয় বরং মানবীয় সত্তা ঐশ্বরিক সত্তায় গ্রহণ করে।
৩৬. সার্বিকভাবে এক। বিভিন্ন মৌলের সংমিশ্রণে নয়। বরং সত্তাগুলোর একত্বের দ্বারা।
৩৭. যেভাবে বাকসম্পন্ন আত্মা ও দেহের সমন্বয়ে একজনই মানুষ একইভাবে ঈশ্বর এবং মানব মিলে একজন মসিহ।
৩৮. আমাদের মুক্তির জন্য তিনি কষ্ট ভোগ করেছেন। জাহিমে[৬০৫] অবতরণ করেছেন। তৃতীয় দিন তিনি মৃতদের থেকে উত্থিত হয়েছেন।
৩৯. তিনি আসমানে উঠে গেছেন। সবকিছুর ধারক পিতার ডানপাশে তিনি উপবিষ্ট হয়েছেন।
৪০. সেখান থেকেই তিনি জীবিত ও মৃতদেরকে প্রতিদান দেওয়ার জন্য আগমন করবেন।
৪১. তার আগমনে সকল মানুষ স্বশরীরে উত্থিত হবে। সবাই নিজের ব্যক্তিগত আমলের হিসাব দেবে।
৪২. অতঃপর যারা ভালো কর্ম সম্পাদন করেছেন তারা স্থায়ী জীবনে প্রবেশ করবেন। আর যারা মন্দ কর্মে লিপ্ত হয়েছে তারা স্থায়ী জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
৪৩. এটাই হলো ক্যাথলিক বিশ্বাস। এর ওপর আমানত ও ইয়াকিনের সাথে বিশ্বাস স্থাপন না করলে কারোরই পক্ষেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।[৬০৬]
টিকাঃ
[৬০৫] অর্থাৎ রুহজগৎ অথবা হাবিয়া নামক জাহান্নাম অথবা তৃতীয় দিন পর্যন্ত মসিহের মৃত্যুর অধীনে থাকা। এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন "আমার বিশ্বাস” গ্রন্থের লিখক।
[৬০৬] আকানিমুন নাসারা, পৃষ্ঠা: ৬৯-৭২
ক্যাথলিকগণ বলেন: ইশ্বর তিন জন। প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ও বিচ্ছিন্ন। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা। যোহনের সুসমাচারের প্রথম বাক্য "আদিতে বাক্য (কালিমা) ছিলেন” এর ব্যাখ্যায় তারা বলেন কালিমা এবং তাকে যিনি জন্ম দিয়েছেন উভয়ে স্বতন্ত্র। পিতা পুত্র নন। পুত্রও পিতা নন। তবে উভয়ে প্রকৃতি, সত্তা, হিকমা ও অস্তিত্বের দিক থেকে এক।
তাদের এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে বুঝা যায়, মসিহ ঐশ্বরিক বিবেচনায় পিতার সমপর্যায়ের। আর মানবসত্তার বিবেচনায় পিতার চেয়ে নিচু স্তরের। এটি প্রোটেস্টান্টদেরও মতো। এদের দিকেই ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে-
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهِ إِلَّا إِلَهُ وَاحِدٌ وَإِن لَّمْ يَنتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوْا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ .
নিশ্চয় তারা কাফির, যারা বলে, আল্লাহ তিনের এক; অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। যদি তারা স্বীয় উক্তি থেকে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরে অটল থাকবে, তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পতিত হবে। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ৭৩]
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَلَا تَقُولُواْ ثَلاثَةُ انتَهُوا خَيْرًا لَّكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهُ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلاً .
আর এ কথা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক, এ কথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক উপাস্য। সন্তানসন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়। যা কিছু আসমানসমূহ ও জমিনে রয়েছে সবই তার। আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট। [সুরা নিসা, আয়াত: ১৭১]
এই তিন সত্তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। আল্লাহর সত্তার ব্যাপারে খ্রিষ্টানরা তাদের ভ্রান্ত আকিদার পক্ষে এখনো বিভিন্নভাবে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দীর্ঘ বিশ শতাব্দীতেও এই আকিদাটি বিজ্ঞমহলে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে পারেনি। পাঠক এ পর্যায়ে 'ইলিয়াস মাক্কার' নামক একজন সাধুর আরও কিছু হাস্যকর বক্তব্য শুনুন-
১. যে ব্যাক্তি নিষ্কৃতি পেতে চায় তার জন্য সর্বাগ্রে ক্যাথলিক বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। অর্থাৎ খ্রিষ্ট চার্চের সমন্বিত সাধারণ বিশ্বাসকে।
২. এই বিশ্বাসকে অনিষ্ট থেকে যে হেফাজত করবে না নিশ্চিত সে চিরস্থায়ী ধ্বংস হবে।
৩. ক্যাথলিক বিশ্বাস হলো, আমরা ত্রিত্বের ভেতর এক এবং একত্বের ভেতর ত্রয়ীর উপাসনা করি।
৪. তিন সত্তার মিশ্রণ হয় না।
৫. পিতার আলাদা সত্তা পুত্রের আলাদা সত্তা এবং পবিত্র আত্মারও ভিন্নসত্তা।
৬. কিন্তু পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা একক সত্তা, একই সমান অস্তিত্ব এবং একসাথেই তারা চিরস্থায়ী মহিমার অধিকারী।
৭. পিতা মাখলুক নন। পুত্র মাখলুক নন। পবিত্র আত্মাও মাখলুক নন।
৮. পিতা যেমন পুত্রও তেমন, পবিত্র আত্মাও তেমনই।
৯. পিতা অসীম। পুত্র অসীম। পবিত্র আত্মা অসীম।
১০. পিতা চিরন্তন। পুত্র চিরন্তন। পবিত্র আত্মা চিরন্তন।
১১. কিন্তু এই চিরন্তন একক। আলাদা তিন চিরন্তনতা নয়।
১২. একইভাবে তিন গাইরে মাখলুক নন। একক গাইরে মাখলুক। তিন অসীম নন। একক অসীম।
১৩. পিতা সবকিছুর ধারক। পুত্র সবকিছুর ধারক। পবিত্র আত্মা সবকিছুর ধারক।
১৪. কিন্তু তিন জন ধারক নন। এক জন ধারক।
১৫. একইভাবে পিতা ঈশ্বর। পুত্র ঈশ্বর। পবিত্র আত্মা ঈশ্বর।
১৬. কিন্তু তারা তিন ঈশ্বর নন। তিনে মিলে এক ঈশ্বর।
১৭. এভাবে পিতা পালনকর্তা। পুত্র পালনকর্তা। পবিত্র আত্মা পালনকর্তা।
১৮. কিন্তু তারা তিন পালনকর্তা নন। বরং তিনে মিলে এক পালনকর্তা।
১৯. খ্রিষ্টীয় সত্য আমাদেরকে বাধ্য করে এ কথা স্বীকার করতে যে, এই তিন সত্তার প্রত্যেকেই স্বয়ং ঈশ্বর ও পালনকর্তা।
২০. ক্যাথলিক ধর্ম আমাদেরকে তিন ঈশ্বর ও তিন পালনকর্তার অস্তিত্বের বিশ্বাস থেকে নিষেধ করে।
২১. পিতা কারও থেকে প্রস্তুতকৃত নন। মাখলুক নন। কারও থেকে জন্মও নেননি।
২২. পুত্র পিতা থেকে। তবে তিনি প্রস্তুতকৃত নন। মাখলুক নন। বরং জন্মগ্রহনকারী।
২৩. পবিত্র আত্মা পিতা ও পুত্র থেকে। তবে প্রস্তুতকৃত নন। মাখলুক নন। জন্মগ্রহনকারী নন। তবে উৎপন্ন।
২৪. সুতরাং এক পিতা। তিন পিতা নন। এক পুত্রা তিন পুত্র নন। এক পবিত্র আত্মা। তিন পবিত্র আত্মা নন।
২৫. এই ত্রয়ীর মাঝে কেউ আগেও নন, পরেও নন। কেউ বড়ও নন, ছোটও নন।
২৬. কিন্তু প্রত্যেক সত্তাই সমপর্যায়ের ও একই সাথে চিরন্তন।
২৭. যা বলা হলো তার ভিত্তিতে আমাদের ওপর কর্তব্য ত্রয়ীর মাঝে একত্বের ইবাদত করা। এবং একত্বের মাঝে ত্রয়ীর ইবাদত করা।
২৮. সুতরাং যে মুক্তি পেতে চায় তার কর্তব্য হলো ত্রয়ীর ব্যাপারে এভাবে জোরদার বিশ্বাসী হওয়া।
২৯. একইভাবে মুক্তির জন্য আমানতদারিতার সাথে আমাদের প্রভু যিশুর দেহধারণের আকিদায় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।
৩০. কেননা, সংগত বিশ্বাস হলো, আমানতদারিতার সাথে আমাদের এই বিশ্বাস স্থাপন করা এবং এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আমাদের প্রভু যিশু ঈশ্বরের পুত্র। তিনি ঈশ্বর এবং মানুষ।
৩১. তিনি ঈশ্বর পিতার মৌল থেকে। যুগের পূর্বে তিনি জন্মেছেন। তিনি মানুষ মায়ের মৌল থেকে। এই যুগে তিনি অস্তিত্বশীল।
৩২. তিনি পূর্ণ ঈশ্বর ও পূর্ণ মানুষ। সত্তাগত বাকসম্পন্ন ও মানব দেহধারী।
৩৩. ঐশ্বরিক দিক থেকে পিতার সমান। মানবীয় দিক থেকে পিতার নিচে।
৩৪. তিনি যদিও ঈশ্বর এবং মানুষ তথাপি তিনি একক মসিহ। দ্বৈত নন।
৩৫. কিন্তু এমন একজন যার ঐশ্বরিক সত্তা দেহে রূপান্তরিত নয় বরং মানবীয় সত্তা ঐশ্বরিক সত্তায় গ্রহণ করে।
৩৬. সার্বিকভাবে এক। বিভিন্ন মৌলের সংমিশ্রণে নয়। বরং সত্তাগুলোর একত্বের দ্বারা।
৩৭. যেভাবে বাকসম্পন্ন আত্মা ও দেহের সমন্বয়ে একজনই মানুষ একইভাবে ঈশ্বর এবং মানব মিলে একজন মসিহ।
৩৮. আমাদের মুক্তির জন্য তিনি কষ্ট ভোগ করেছেন। জাহিমে[৬০৫] অবতরণ করেছেন। তৃতীয় দিন তিনি মৃতদের থেকে উত্থিত হয়েছেন।
৩৯. তিনি আসমানে উঠে গেছেন। সবকিছুর ধারক পিতার ডানপাশে তিনি উপবিষ্ট হয়েছেন।
৪০. সেখান থেকেই তিনি জীবিত ও মৃতদেরকে প্রতিদান দেওয়ার জন্য আগমন করবেন।
৪১. তার আগমনে সকল মানুষ স্বশরীরে উত্থিত হবে। সবাই নিজের ব্যক্তিগত আমলের হিসাব দেবে।
৪২. অতঃপর যারা ভালো কর্ম সম্পাদন করেছেন তারা স্থায়ী জীবনে প্রবেশ করবেন। আর যারা মন্দ কর্মে লিপ্ত হয়েছে তারা স্থায়ী জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
৪৩. এটাই হলো ক্যাথলিক বিশ্বাস। এর ওপর আমানত ও ইয়াকিনের সাথে বিশ্বাস স্থাপন না করলে কারোরই পক্ষেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।[৬০৬]
টিকাঃ
[৬০৫] অর্থাৎ রুহজগৎ অথবা হাবিয়া নামক জাহান্নাম অথবা তৃতীয় দিন পর্যন্ত মসিহের মৃত্যুর অধীনে থাকা। এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন "আমার বিশ্বাস” গ্রন্থের লিখক।
[৬০৬] আকানিমুন নাসারা, পৃষ্ঠা: ৬৯-৭২