📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 প্রোটেস্টান্টদের মূলনীতিসমূহ

📄 প্রোটেস্টান্টদের মূলনীতিসমূহ


১। প্রোটেস্টান্ট চার্চগুলো অপর চার্চের ওপর হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার রাখে না। প্রতিটি চার্চই পরিচালনা, কার্যক্রম, কেন্দ্রীয় চার্চের সাথে সম্পর্ক প্রভৃতি ক্ষেত্রে স্বাধীন।
২। কিতাবুল মুকাদ্দাস তথা বাইবেলই খ্রিষ্টধর্মের একমাত্র উৎস।
৩। প্রতিটি খ্রিষ্টানের জন্য কিতাবুল মুকাদ্দাস অধ্যয়ন করা এবং এর অর্থ বোঝার অধিকার রয়েছে। তবে এর আগে তাকে মৌলিক কিছু নিয়ম-কানুন আত্মস্থ করতে হবে। প্রত্যেক জার্মান নাগরিকের কিতাবুল মুকাদ্দাস পড়ার সুবিধার্থে এটিকে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
৪। চার্চ কর্তৃক কারোর পাপ মার্জনা করার অধিকার নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে সৃষ্টিকর্তার এখতিয়ারভুক্ত।
৫। ঈশ্বরভোজে অংশগ্রহণকারীদের দেহে স্বয়ং মসিহ প্রবেশ করার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন। একইভাবে রুটি মসিহের হাড়ে পরিণত হওয়া এবং শরাব তার রক্তে পরিণত হওয়ার বিষয়টি প্রোটেস্টান্টরা অস্বীকার করে থাকে। তারা ঈশ্বরভোজকে সৃষ্টিজগতের জন্য মসিহের আত্মোৎসর্গের স্মৃতি বিবেচনা করে।
৬। অন্যান্য চার্চগুলো মসিহের মাতা মারইয়ামকে কেন্দ্র করে যেসব রসম-রেওয়াজ, প্রার্থনা ও পার্বন পালন করে প্রোটেস্টান্ট চার্চ এর সবকটিকে প্রত্যাখ্যান করে। তারা এগুলোকে বিদআত বিবেচনা করে।
৭। এরা চার্চে মূর্তি-ভাস্কর্য রাখে না। কেননা, এগুলো পৌত্তলিকতার বাহ্যিক রূপ। কোনো কোনো গবেষক মনে করেন, এই ধারণাটি খ্রিষ্টান সংস্কারকগণ মুসলমানদের থেকে গ্রহণ করেছেন।
৮। দুর্বোধ্য ভাষায় প্রার্থনা সম্পাদন না করা। খ্রিষ্টানদের অভ্যাস ছিল প্রার্থনা এমন ভাষায় সম্পাদন করা যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। যেমন ল্যাটিন ভাষা, কিবতি ভাষা প্রভৃতি। কিন্তু লুথার ও তার অনুসারীগণ প্রার্থনাকে বোধগম্য ভাষায় নিয়ে আসেন। কেননা প্রার্থনা বান্দার পক্ষ থেকে মাবুদের প্রতি কায়মনোবাক্যে করা হয়। সুতরাং এটি বান্দার বোধগম্য ভাষাতেই হওয়া উচিত।
৯। মহাসভাসম্মেলনসমূহের কতেক সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া আর কতেককে প্রত্যাখ্যান করা। সংস্কারকবৃন্দের সামনে বিবেকের দাবি ছিল, মহাসভাগুলোর সিদ্ধান্তগুলো এবং এগুলোর ধর্মীয় মূল্যকে নতুনভাবে বিবেচনা করে দেখা। পাশাপাশি এগুলোকে কিতাবুল মুকাদ্দাসের মানদণ্ডে যাচাই করা। অতঃপর কিতাবুল মুকাদ্দাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধানগুলোকে গ্রহণ করা আর সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো ছুঁড়ে ফেলা। কিন্তু তারা মহাসভাগুলোর সিদ্ধান্তসমূহ এবং তাদের ওপর ধার্যকৃত চিন্তা-ফিকিরগুলোর ক্ষেত্রে এই মানদণ্ডের প্রয়োগ করেনি। কেননা এতে করে তাদের নিকিয়ার মহাসভার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ভয় ছিল। নিকিয়ার এই মহাসভাতেই মসিহ এবং পবিত্র আত্মার প্রভুত্বের বিষয়টি স্বীকৃত হয়।
১০। ত্রিত্ববাদ, মসিহের প্রভুত্ব, ঈশ্বরপুত্র হওয়া, ক্রুশবিদ্ধকরণ, পুনরুত্থান এবং আদম কর্তৃক সম্পাদিত আদিপাপের প্রায়শ্চিত্য প্রভৃতি আকিদার ক্ষেত্রে এই দলটি অন্যান্য উপদল থেকে ব্যতিক্রম নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px