📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 সুসমাচারের লেখক হওয়ার জন্য হাওয়ারি হওয়া শর্ত?

📄 সুসমাচারের লেখক হওয়ার জন্য হাওয়ারি হওয়া শর্ত?


ইনজিলু বরনবা মুযাইয়াফুন গ্রন্থের লেখক শিমিয়ন বলেন, "তর্কের খাতিরে যদিও আমরা মেনে নিই যে তিনিই (বরনাবা), বর্তমান সময়ে তার নামে প্রচারিত সুসমাচারটির রচয়িতা। তথাপি দ্ব্যর্থহীনভাবে তাকে সত্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা, সুসমাচারের সত্যতার জন্য মৌলিক শর্ত হলো এর লেখক মসিহের শিষ্য, কিংবা সহচর হওয়া; যিনি স্বচক্ষে তার কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছেন।”[৫২৪]

শিমিয়ন এবং অন্যান্য খ্রিষ্টানগণকে কি আমরা এই প্রশ্নটা করতে পারি যে, লুকের সুসমাচারের ক্ষেত্রে এই শর্তটির প্রয়োগ কোথায়? লুক তো মসিহ আলাইহিস সালামের শিষ্য ছিলেন না। কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাসের লেখকের মতে তিনি পোলের সাথি ছিলেন। কলিসিয়দের প্রতি প্রেরিত পত্রে তিনি উভয়কে যৌথভাবে সম্ভাষণ জানিয়েছেন। পোল তাকে "প্রিয় ডাক্তার", "আমার সহযোগী” প্রভৃতি অভিধায় ভূষিত করতেন। সুতরাং খ্রিষ্টানদের জন্য এমন একটি সুসমাচারে বিশ্বাস স্থাপন করা কীভাবে সংগত হয়, যার লেখক হাওয়ারিও নন, শিষ্যও নন? অথচ এই পুস্তকটিকেই তারা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ কিতাবুল মুকাদ্দাসের তৃতীয় সুসমাচার বিবেচনা করে। সুসমাচারটির লেখক হাওয়ারি তো ছিলেনই না বরং তিনি ছিলেন খ্রিষ্টান দাবিদার ইহুদি পোলের সঙ্গী।

খ্রিষ্টানগণ দ্বিতীয় সুসমাচারের রচয়িতা মার্কের ব্যাপারে কী বলবেন? তার মসিহ আলাইহিস সালামের শিষ্য হওয়ার বিষয়টিও সন্দেহযুক্ত। সর্বোচ্চ এতটুকু বলা যায়, তিনি মসিহের সমর্পণের দিন তার অনুসারী হয়েছেন। যার অর্থ তিনি মসিহের কোনো বক্তৃতা, কোনো ওয়াজ শ্রবণ করেননি। মসিহ আলাইহিস সালামের ঊর্ধ্বারোহণের পর দীর্ঘদিন তিনি পোলের সঙ্গেই ছিলেন। এরপর পোলের দুরাচার এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সম্পর্কে মিথ্যাচারের কারণে তাকে ত্যাগ করেন। এরপর খ্রিষ্টধর্মের দাওয়াতি কাজে বরনাবার সঙ্গে মিলিত হন। প্রশ্ন হলো, ক্ষণিকের সাহচর্য কি মার্ককে সুসমাচার লেখার মতো যোগ্য করে তুলতে পেরেছে? তিনি তো মসিহের জীবদ্দশায় সংঘটিত ঘটনাবলি প্রত্যক্ষ করেননি। তার এই সুসমাচার কি মসিহ আলাইহিস সালামের জীবনবৃত্তান্ত জানার মূল উৎস হতে পারে?

কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাসের লেখক বলেন, "মার্ক স্বীয় সুসমাচারে যে বিষয়ে কথা বলেছেন, বিস্তারিত বলেছেন। তিনি মসিহের জীবনবৃত্তান্ত, কার্যক্রম, ক্রুশবিদ্ধ হওয়া এবং পুনরুত্থান বিষয়ে আলোচনা করেছেন।... মার্ক মসিহের শিক্ষার চেয়ে তার কর্মের দিকটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার সুসমাচারে মসিহের প্রবচন উল্লেখ করেছেন মাত্র চারটি। মুজিযা বর্ণনা করেছেন আঠারোটি। বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন একটি। এখানে উল্লেখ যে, এসব ঘটনাবলির সঠিক বর্ণনার জন্য অকুস্থলে উপস্থিত থাকা এবং প্রত্যক্ষ করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মার্ক তো এসব ঘটনা নিজে দেখেননি। সুতরাং খ্রিষ্টানগণ কীভাবে এই সুসমাচারের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে?

এ থেকে প্রমাণিত হয় শিমিয়ন কর্তৃক সুসমাচারের লেখক হওয়ার জন্য হাওয়ারি হওয়ার শর্তারোপ করা সঠিক নয়। অথচ এই শর্তের ওপর ভর করেই তিনি বরনাবার সুসমাচারকে প্রত্যাখ্যান করেন। সুসমাচারের লেখক হওয়ার জন্য শিমিয়ন কর্তৃক আরোপিত শর্তটিকে যদি আমরা যথার্থ হিসেবে মেনেও নিই তাহলে বলতে হয় এই শর্তটি শুধু বরনাবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। হ্যাঁ, শুধু বরনাবাই এই শর্তটি পূরণ করতে পেরেছেন। অন্য কোনো সুসমাচারের লেখক নন। বরনাবা মসিহ আলাইহিস সালামের জীবদ্দশাতেই ঈমান এনেছেন। তাঁর সময়ে সংঘটিত ঘটনাবলি এবং মুজিযাসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন। বিভিন্ন স্থানে নিজ কানে মসিহ আলাইহিস সালামের বক্তব্য শ্রবণ করেছেন। মসিহ আলাইহিস সালাম তাকে অসিয়ত করে গেছেন ঊর্ধ্বারোহণের পর মসিহ আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে সাফাই গাওয়ার জন্য। অসিয়ত করেছেন মানুষকে তাঁর দাওয়াত ও রিসালাতের হাকিকত বর্ণনা করতে।

পাঠক, বরনাবার সুসমাচারে দুইশ একুশ নং অধ্যায়টি পড়ে দেখুন। সেখানে বলা হয়েছে, “যিশু ঐ ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করলেন যে লিখছিল। অতঃপর বললেন, "হে বরনাবা! তুমি অবশ্যই আমার সুসমাচার লিখবে। পৃথিবীতে অবস্থানকালে আমাকে নিয়ে যা ঘটেছে তাও লিখবে। যিহুদার সাথে কী হয়েছে সেটাও লিখবে যাতে বিশ্বাসীগণ প্রবঞ্চনা থেকে মুক্তি পায়।” প্রত্যেকে যাতে হককে সত্যায়ন করতে পারে। তখন লিখনকার্যে রত ব্যক্তিটি বললেন, "হে গুরু! আল্লাহ চাহেন তো আমি অবশ্যই তা করবো। কিন্তু যিহুদার সাথে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। কেননা, আমি সবকিছু দেখিনি।” তখন জবাবে যিশু বললেন, “এই যে যোহন এবং পিতর, তারা সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছে। তারাই তোমাকে বলবে কী ঘটেছিল।” এরপর যিশু আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন তার একনিষ্ঠ শিষ্যগণকে ডাকার জন্য যাতে করে তারা যিশুকে দেখতে পায়। তখন যাকোব, যোহন, নিকোডেমাসসহ সাত শিষ্য, যোসেফ এবং আরও অনেকে; সব মিলিয়ে মোট বাহাত্তর জন আসলেন। তারা সবাই যিশুর সাথে আহার করলেন। তৃতীয় দিন যিশু বললেন, "তেমরা আমার মায়ের সাথে যায়তুন পর্বতে যাও। আমি সেখান থেকেই আসমানে উঠে যাব।”[৫২৫]

টিকাঃ
[৫২৪] ইনজিলু বরনবা মুযাইয়াফুন, পৃষ্ঠা: ৬৩।
[৫২৫] বরনাবা, অধ্যায়: ২২১।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 সুসমাচারটিকে খ্রিস্টানগণ কর্তৃক বরনবার রচনা হিসেবে অস্বীকৃতিজ্ঞাপন

📄 সুসমাচারটিকে খ্রিস্টানগণ কর্তৃক বরনবার রচনা হিসেবে অস্বীকৃতিজ্ঞাপন


সুসমাচারটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক হৈ চৈ পড়ে যায়। বিশেষ করে সুসমাচারটির কিছু বক্তব্য কুরআনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় খ্রিষ্টান শিবিরে প্রচণ্ড বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। তাদের লেখক, গবেষক, বক্তা সকলে একযোগে সর্বশক্তি দিয়ে এটির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বরনাবার দিকে সম্বন্ধিত পুস্তকটিকে জাল প্রমাণের জন্য তাদের অনেকেই পৃথক গ্রন্থ রচনা করেন। যেমন খ্রিষ্টান লেখক শিমিয়ন। শিমিয়ন আরব বিশ্বে খ্রিষ্টবাদের প্রচারক ও মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। খ্রিষ্টধর্মের প্রচার ও সমর্থনে প্রচুর গ্রন্থও রচনা করেছেন। পাঠক, তার গ্রন্থ ইনজিলু বরনাবা/ইনজিলুন মুযাইয়াফুন (إنجيل برنابا/إنجيل مزيف) অধ্যয়ন করতে পারেন। এখানে আমরা বরনাবার সুসমাচার সম্পর্কে বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাদের বক্তব্যের অংশটুকুর পর্যালোচনা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরছি।[৫২৬]

১। যদি ধরে নেওয়া হয়, ইসলাম ধর্মের সূচনালগ্নে মথি, মার্ক, লুক ও যোহন কর্তৃক লিখিত সুসমাচারগুলোর পাশাপাশি বরনাবার সুসমাচারটিও বিদ্যমান ছিল তাহলে কুরআন বরনাবার সুসমাচারকে আঁকড়ে ধরতে উৎসাহিত করত, অন্য সুসমাচারকে নয়।

২। অষ্টম থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়কালে; যে সময়ের মধ্যে ইবনু জারির তবারি এবং ইবনু কাসিরের মতো বড় বড় মুফাসসিরের আবির্ভাব হয়েছে, সে সময় যদি এই সুসমাচারটির অস্তিত্ব থাকত তাহলে মুফাসসিরগণ মসিহের পরিবর্তে ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তিটির পরিচয় নির্ণয়ে মতবিরোধ করতেন না। বরং বরনাবার সুসমাচারের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে তারা সবাই একমত হতেন যে, ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তিটি যিহুদা ইস্করিয়োতি।

৩। চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত অতিবাহিত হওয়া সকল মুসলিম ঐতিহাসিক খ্রিষ্টানদের সুসমাচার হিসেবে মথি, মার্ক, লুক ও যোহনের সুসমাচারের কথাই উল্লেখ করেছেন। তাদের কারোর রচনাতে বরনাবার সুসমাচারের উল্লেখ পাওয়া যায় না। যেমন মাসউদি কর্তৃক রচিত মুরুজুয যাহাব, ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, মাকরিজি কর্তৃক রচিত আলকওলুল ইবরিযি, ইবনুল আসির কর্তৃক রচিত আল-কামিল প্রভৃতি।

৪। মুসলিম ইতিহাসবিদগণ মসিহের শিষ্যদের তালিকায় বরনাবার নাম উল্লেখ করেননি। অথচ বরনাবা তার সুসমাচারে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে যেমন ১৬, ২৫, ৬৭, ৬৯, ১১২, ১৩৮, ১৫৫, ১৬৮, ১৭১, ২৪৬, ৩২৩ প্রভৃতিতে নিজেকে মসিহের শিষ্য দাবি করেছেন। মুসলিম ইতিহাসবিদগণ মসিহের শিষ্য হিসেবে শুধু তাদের নামই উল্লেখ করেছেন, যাদের উল্লেখ লুক ও অন্যান্যরা করেছেন। এ থেকে বোঝা যায় চতুর্দশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত বরনাবার সুসমাচারের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। -সংক্ষেপিত

ড. খলিল সাদাত মনে করেন, এই লেখক স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত একজন ইহুদি। প্রথমে তিনি খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী হয়ে সুসমাচারগুলো সম্পর্কে অবগত হন। এরপর তিনি ইসলামে দীক্ষিত হন। ড. খলিল সাদাত তার এই দাবির স্বপক্ষে বরনাবার সুসমাচারের নিম্নোক্ত বক্তব্যগুলো তুলে ধরেন।[৫২৭]

১। যিশু তাঁর প্রভুত্ব ও ঈশ্বরপুত্র হওয়াকে অস্বীকার করেন।
২। ইবরাহিম আল্লাহর জন্য ইসমাইলকে কুরবানি দিতে চেয়েছেন। ইসহাককে নয়।
৩। প্রতিশ্রুত পরিত্রাণদাতা যিশু নন, বরং মুহাম্মাদই হলেন প্রতিশ্রুত পরিত্রাণদাতা। এমনকি সুসমাচারটিতে সরাসরি মুহাম্মাদ শব্দটি বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বারংবার উল্লেখ হয়েছে। এটাও বলা হয়েছে যে, তিনি আল্লাহর রাসুল। আদম জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়ে দেখতে পান, তাঁর দরজায় নুরের হরফে লেখা রয়েছে, "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।”
৪। যিশু ক্রুশবিদ্ধ হননি। তাকে আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে বিশ্বাসঘাতক যিহুদাকে। তাকে যিশুর আকৃতিতে পরিবর্তিত করা হয়েছিল। এই বক্তব্য হুবহু কুরআনের সঙ্গে মিলে যায়-
৫। খতনার বিধান।

সুসমাচারটি খ্রিষ্টানদের পরিমণ্ডলেই উদঘাটিত হয়েছে। এটি তাদেরই এক লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে, যেখানে খ্রিষ্টান পণ্ডিত ব্যতীত আর কারো পৌঁছার সুযোগ নেই। একইভাবে এটির আবিষ্কার, ইতালিয়ান ভাষা থেকে ইংরেজি অনুবাদ, আবার ইংরেজি থেকে আরবি অনুবাদ সকল কৃতিত্ব খ্রিষ্টানদেরই। কোনো মুসলিমের সেখানে হাত ছিল না। সুতরাং কীসের তাড়নায় তারা এটিকে বরনাবার সুসমাচার বলে মেনে নিতে পারছে না? স্বয়ং খ্রিষ্টানরা নিজেরাই স্বীকার করে যে ৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে পোপ হিসেবে অভিষেক হওয়া প্রথম গ্যালাসিয়াস এক ফরমান জারি করে কিছু পুস্তক অধ্যয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। নিষিদ্ধ সেই পুস্তকগুলোর তালিকায় বরনাবার সুসমাচারটিও ছিল।

ড. সাদাতের আপত্তির জবাবে আমরা তাকে প্রশ্ন করতে চাই, খতনা নিষিদ্ধ করল কে? মসিহ আলাইহিস সালাম নাকি পোল? নিশ্চয় পোলই খতনা নিষিদ্ধ করেছেন। কেননা, প্রসিদ্ধ আছে যে খতনা ইবরাহিম, ইসমাইল, মুসা, ঈসা আলাইহিস সালাম—সকলের সুন্নত। পুরাতন ও নতুন উভয় নিয়মে এর বর্ণনা এসেছে। যেমন গালাতিয়দের প্রতি লিখিত চিঠিতে পোল বলেন, দেখ, আমি পৌল তোমাদিগকে কহিতেছি, যদি তোমরা ত্বক্‌ছেদ (খতনা) প্রাপ্ত হও, তবে খ্রীষ্ট হইতে তোমাদের কিছুই লাভ হইবে না।[৫২৮]

এ থেকে বোঝা যায় বরনাবার বক্তব্য ঈসা আলাইহিস সালামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরনাবা তার সুসমাচারে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম কোনো ধরনের ইশারা-ইঙ্গিতের আশ্রয় না নিয়ে সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে, যার কারণে ড. খলিল সাদাত সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার জবাবে আমরা বলব— ১। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী ঈসা আলাইহিস সালাম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। স্মরণ করো, যখন মারইয়াম-তনয় ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, হে বনি ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রাসুলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ। [সুরা সফ, আয়াত: ৬]

২। নামটি এমন কোনো শব্দ নয় যা ভিনদেশি ভাষা থেকে অনূদিত হয়ে এসেছে, যার আরবি অর্থ আহমদ বা মুহাম্মাদ। অনেক ইংরেজ পণ্ডিত এমনটাই দাবি করেছেন। যেমন: উডেন জোনস তার গ্রন্থ নাশআতুদ দিয়ানাতিল মসিহিয়‍্যাহ-তে বলেন, খ্রিষ্টানদের এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, তাদের ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লিখিত 'পারাক্লিত' শব্দের অর্থ মুহাম্মাদ।'

ভ্যাটিকানের লাইব্রেরিতে ওইসব পুস্তক ও সুসমাচারের কিছু অংশ রক্ষিত ছিল, যেগুলোর পাঠ প্রথম শতাব্দীগুলোতে নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো প্রকাশ করা গেলে বরনাবার সুসমাচারসংক্রান্ত সকল সন্দেহের নিরসন হতো। বরনাবা সুস্পষ্টভাবে 'মুহাম্মাদ' শব্দটি অনুবাদ হিসেবে লিপিবদ্ধ করাও অসম্ভব কিছু নয়। মূল গ্রন্থে এটি এমন শব্দে ছিল যার অর্থ দাঁড়ায় মুহাম্মাদ। যেমন পারাক্লিত শব্দটি। অনুবাদের ক্ষেত্রে এমন ছাড় দেওয়াটা খ্রিষ্টানদের মধ্যে স্বীকৃত প্রচলিত বিষয় ছিল। যেমনটি শায়খ রহমতুল্লাহ কিরানবি তার গ্রন্থ ইযহারুল হকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি নতুন নিয়মের দ্বাদশ ভবিষ্যদ্বাণীও উল্লেখ করেছেন।[৫৩০]

টিকাঃ
[৫২৬] খ্রিষ্টানগণ দাবি করে থাকেন প্রচলিত বরনাবার সুসমাচারটি কোনো মুসলিম জালিয়াতি করে রচনা করেছে। এটি হাওয়ারি বরনাবার রচনা নয়। তাদের সেই দাবির স্বপক্ষে তারা বিভিন্ন যুক্তি খাড়া করে থাকে।
[৫২৭] তাদের দাবী অনুযায়ী বরনাবার সুসমাচারের প্রকৃত লেখক।
[৫২৮] গালাতিয়, অধ্যায়: ৫, অনুচ্ছেদ: ২-৩।
[৫২৯] করিন্থিয় ১ম, অধ্যায়: ৭, অনুচ্ছেদ: ১৮-১৯।
[৫৩০] ইযহারুল হক, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫৩১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px