📄 ঈসা আলাইহিস সালামের ইনজিল
আমরা মুসলিমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহ তাআলা নবি ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর একটি গ্রন্থ নাজিল করেছেন। নাম ইনজিল।[৫০৩] অর্থাৎ সুসমাচার বা ভবিষ্যদ্বাণী। ঈসা আলাইহিস সালাম শহর-গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষকে এই সুসংবাদ জানাতেন। বিদ্যমান সুসমাচারগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, ঈসা আলাইহিস সালামের নিকট একটি ইনজিল বা সুসমাচার ছিল। যেমন মথির সুসমাচারে বলা হয়েছে, 'পরে যীশু সমুদয় গালীলে ভ্রমণ করিতে লাগিলেন; তিনি লোকদের সমাজ-গৃহে উপদেশ দিলেন, রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করিলেন, এবং লোকদের সর্বপ্রকার রোগ ও সর্বপ্রকার পীড়া ভাল করিলেন।[৫০৪] এখানে রাজ্যের সুসমাচার শব্দটি ইনজিল শব্দের ভাবানুবাদ।
মার্কের সুসমাচারে বলা হয়েছে, 'আর যোহন কারাগারে সমর্পিত হইলে পর যীশু গালীলে আসিয়া ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচার করিয়া বলিতে লাগিলেন, 'কাল সম্পূর্ণ হইল, ঈশ্বরের রাজ্য সন্নিকট হইল; তোমরা মন ফিরাও, ও সুসমাচারে বিশ্বাস কর।'[৫০৫] সন্দেহ নেই যে, মথি ও মার্ক কর্তৃক ওপরে বর্ণিত সুসমাচারটি প্রচলিত সুসমাচারগুলোর চেয়ে ভিন্ন। এটি বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ তথা মার্ক, যোহন, মথি, লুক প্রমুখের দিকে সম্বন্ধিত সুসমাচারগুলো নয়। এটি এমন এক ইনজিল বা সুসমাচার যা ঈসা আলাইহিস সালামের কাছেই বিদ্যমান ছিল। তিনি গ্রামে-গঞ্জে মানুষকে ইনজিলের দাওয়াত দিতেন। সুসমাচারগুলোর লেখকগণ মসিহ আলাইহিস সালামের ইনজিল থেকে কিছু অংশ নিজেদের সুসমাচারে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এমনটিও অসম্ভব নয়। এর মাধ্যমে মূলত তারা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়েছেন।
ঈসা আলাইহিস সালামের ইনজিলের অস্তিত্বের ব্যাপারে কুরআনের পর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো পোলের চিঠির নিম্নোক্ত বাক্যটি, যেখানে বলা হয়েছে, 'প্রথমতঃ আমি যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা তোমাদের সকলের জন্য আমার ঈশ্বরের ধন্যবাদ করিতেছি যে, তোমাদের বিশ্বাস সমস্ত জগতে ঘোষিত হইতেছে। কারণ ঈশ্বর, যাঁহার আরাধনা আমি আপন আত্মাতে তাঁহার পুত্রের সুসমাচারে করিয়া থাকি, তিনি আমার সাক্ষী যে, আমি নিরন্তর তোমাদের নাম উল্লেখ করিয়া থাকি।'[৫০৬]
একইভাবে করিন্থিয়বাসীদের প্রতি লিখিত প্রথম পত্রে তিনি বলেন, 'যদি তোমাদের উপরে কর্তৃত্ব করিবার অন্য লোকদের অধিকার থাকে, তবে আমাদের কি আরও অধিকার নাই? তথাপি আমরা এই কর্তৃত্ব ব্যবহার করি নাই, বরং সকলই সহ্য করিতেছি, যেন খ্রীষ্টের সুসমাচারের কোনো বাধা না জন্মাই।'[৫০৭]
তিনি আরও বলেন, 'সেইরূপে প্রভু সুসমাচার প্রচারকদের জন্য এই বিধান করিয়াছেন যে, তাহাদের উপজীবিকা সুসমাচার হইতে হইবে।'[৫০৮]
তিনি অন্যত্র বলেন, 'আমি সকলই সুসমাচারের জন্য করি, যেন তাঁহার সহভাগী হই।'[৫০৯]
এই বাক্যগুলো আমরা খ্রিষ্টানদের কাছে বিদ্যমান সুসমাচারগুলো থেকে উদ্ধৃত করেছি। এই নামটি (ইনজিল বা সুসমাচার) সেগুলোতে বারবার উল্লিখিত হয়েছে।[৫১০] এই সুসমাচারটি নিশ্চিতভাবে বিদ্যমান সুসমাচারগুলোর কোনোটিই নয়। এগুলোর প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট লেখকের দিকে সম্বন্ধিত সুসমাচার। বর্তমানে ঈসা আলাইহিস সালামের ইনজিল বা সুসমাচারের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
খ্রিষ্টান পণ্ডিতগণ একটি সংক্ষিপ্ত চিঠির কথা স্বীকার করেছেন, যেটাতে মসিহ আলাইহিস সালামের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিল। এটিই ছিল প্রকৃত ইনজিল বা সুসমাচার। তবে এটি ছিল ওই সমস্ত ব্যক্তিবর্গের জন্য যারা মসিহ আলাইহিস সালামের বাণী নিজ কর্ণে শোনেননি। তার অবস্থা নিজ চোখে দেখেননি। বলা যায়, এই চিঠিটিই ছিল মূল, যেখানে খ্রিষ্টানদের অবস্থা ধারাবাহিকভাবে লিখিত ছিল।[৫১১] কিন্তু এই চিঠিটি হারিয়ে গেছে কিংবা ইচ্ছাকৃত নষ্ট করে ফেলা হয়েছে, যাতে করে চিঠিটি মসিহ আলাইহিস সালামের প্রভুত্ব এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়তকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ খাড়া করা না যায়।
সুসমাচারসমূহ, সেগুলোর লেখক আর বিষয়বস্তু নিয়ে পর্যালোচনার পর আমরা স্পষ্টভাবে বলতে পারি, এই শিক্ষা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসেনি। কেননা, তিনি কখনোই শিরকের আদেশ দিতে পারেন না। আল্লাহর মনোনীত দ্বীন হচ্ছে তাওহিদের দ্বীন। সমস্ত নবি-রাসুলকে তিনি তাওহিদ-প্রচারের জন্য প্রেরণ করেছেন। তারপরও খ্রিষ্টানরা দাবি করে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে! আমরা মুসলিমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মসিহ আলাইহিস সালাম বনি ইসরাইলের একজন রাসুল ছিলেন। তার ওপর ইনজিল অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁকে হত্যা করা হয়নি। শূলেও চড়ানো হয়নি। বরং তাদের কাছে ঈসা আলাইহিস সালামের সাদৃশ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,
مَا الْمَسِيحُ ابْنُ মَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ انظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الْآيَاتِ ثُمَّ انظُرْ أَنَّى يُؤْفَكُونَ
মারইয়াম-তনয় মসিহ রাসুল ছাড়া আর কিছু নন। তাঁর পূর্বে অনেক রাসুল অতিক্রান্ত হয়েছেন। আর তার জননী একজন সত্যবাদী নারী। তাঁরা উভয়েই খাদ্য ভক্ষণ করতেন। দেখুন, আমি তাদের জন্যে কীরূপ যুক্তি- প্রমাণ বর্ণনা করি, আবার দেখুন, তারা কী ভুলে ঘুরপাক খাচ্ছে। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ৭৫]
অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন,
وَقَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِم بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَآتَيْنَاهُ الإِنجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ.
আমি তাদের পেছনে মারইয়াম-তনয় ঈসাকে প্রেরণ করেছি। তিনি পূর্ববর্তী গ্রন্থ তাওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। আমি তাঁকে ইনজিল প্রদান করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ৪৬]
টিকাঃ
[৫০৩] ইনজিল শব্দটি গ্রিক উনজেলিন থেকে গৃহীত। এর অর্থ হচ্ছে ভালো খবর, সুসংবাদ, সুসমাচার, আনন্দদায়ক সংবাদ প্রভৃতি।
[৫০৪] মাথি, অধ্যায়: ৪, অনুচ্ছেদ: ২৩।
[৫০৫] মার্ক, অধ্যায়: ১, অনুচ্ছেদ: ১৪-১৫।
[৫০৬] রোমিয়, অধ্যায়: ১, অনুচ্ছেদ: ৮-৭
[৫০৭] করিন্থিয় ১ম, অধ্যায়: ৯, অনুচ্ছেদ: ১২
[৫০৮] করিন্থিয় ১ম, অধ্যায়: ৯, অনুচ্ছেদ: ১৪
[৫০৯] করিন্থিয় ১ম, অধ্যায়: ৯, অনুচ্ছেদ: ২৩
[৫১০] পাঠক উদাহরণস্বরূপ দেখুন: রোমিয়, ১/১; থিষলনিকিয় ১ম, ২/২; মার্ক, ১/১; প্রকাশিত কালাম, ১/১৫-১৬,১৯; কলিসিয় ১ম, ৯/১২,১৮; গালাতিয়, ১/৭ প্রভৃতি।
[৫১১] মুহাদারাতুন ফিন নাসরানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৬৬।
📄 খ্রিস্টবাদ ও ইসলামের মাঝে তুলনামূলক পর্যালোচনা
ইসলাম
১- ইসলাম আল্লাহ তাআলার সত্তা ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাওহিদের দাওয়াত দেয়। ইসলাম বলে : একমাত্র তিনিই ইবাদতের উপযুক্ত।
قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ .
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। [সুরা ইখলাস, আয়াত: ১-৪]
২- মসিহ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
৩- মসিহ মানুষকে ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথের দিশা দেওয়ার জন্য আগমন করেছেন।
৪- ইসলাম ঈমান ও আমলের দাওয়াত দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। [সুরা বাকারা, আয়াত: ৬২]
৫- মসিহ ছিলেন মায়ের প্রতি সদাচারী। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا এবং জননীর অনুগত করেছেন এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। [সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৩২]
৬- আল্লাহ তাআলা মসিহকে রুহুল কুদস তথা জিবরাইল ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ অর্থ্যাৎ, “আমি তাকে রুহুল কুদসের মাধ্যমে শক্তিদান করেছি।” [সুরা বাকারা, আয়াত: ৮৭]
৭- মসিহ আলাইহিস সালাম দুনিয়া ও আখেরাতে মহাসম্মানের অধিকারী। পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছে,
اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ
তার নাম হলো মসিহ-মারইয়াম তনয় ঈসা-, দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহাসম্মানের অধিকারী...। [আলে ইমরান, আয়াত: ৪৫]
৮- মসিহ অন্যান্য নবিগণের মতো নিষ্পাপ ছিলেন।
৯- মসিহ পূর্ববর্তী নবিগণকে সত্যায়নকারী ছিলেন।
১০- আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তারা তাকে হত্যা করতে পারেনি।
১১- সর্বাবস্থায় মসিহের উপর সালাম বা শান্তি। পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছে, وَالسَّلامُ عَلَيَّ يَوْমَ وُلِدتُّ وَيَوْমَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا .
আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব। [সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৩৩]
১২- হাওয়ারিগণ মসিহের দাওয়াতে সাড়া দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের ভাষায়- قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ اللَّهِ
শিষ্যবর্গ বলেছিল, আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। [সুরা সফ, আয়াত: ১৪]
১৩- আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, দয়ালু। তিনি বান্দার তাওবা কবুল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ তিনি অনুকম্পা প্রদর্শনকে নিজ দায়িত্বে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন। [সুরা আনআম, আয়াত: ১২]
অন্যত্র তিনি বলেন, وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ আমার রহমত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। [সুরা আরাফ, আয়াত: ১৫৬]
১৪- ইবাদত কবুলের জন্য আল্লাহ তাআলা কোনো মাধ্যমের মুখাপেক্ষী নন।
১৫- ইসলামি শরিয়ত হেদায়াত ও সৌভাগ্যের উৎস।
১৬- ইসলামের দৃষ্টিতে নবি-রাসুলগণ আল্লাহর নেককার বান্দা।
১৭- নবিগণ নিষ্পাপ।
১৮- আল্লাহ এবং তার রাসুল ব্যতীত আর কারও অধিকার নেই ইসলামের কোনো বিধান রহিত করার।
১৯- কুরআন আল্লাহ তাআলার অলৌকিক কিতাব।
২০- কুরআন মসিহের বক্তব্য তুলে ধরেছে,
إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা আপনার দাস এবং যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে আপনিই পরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞ। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ১১৮]
খ্রিষ্টবাদ
১- খ্রিষ্টবাদ ত্রিত্ববাদের দাওয়াত দেয়। পিতা ঈশ্বর, পুত্র ঈশ্বর ও পবিত্র আত্মা ঈশ্বর। খ্রিষ্টবাদ বলে : তিন জনের প্রত্যেকেই ইবাদাতের উপযুক্ত।
২- মসিহ আল্লাহর পুত্র।
৩- মসিহ মানুষকে পাপ থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য এসেছেন।
৪- খ্রিষ্টবাদ ইশ্বরপুত্র মসিহ এবং প্রায়শ্চিত্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের দাওয়াত দেয়।
৫- মসিহ মায়ের প্রতি সদাচারী ছিলেন না। তিনি মায়ের মর্যাদাকে অস্বীকার করতেন। [যোহন, ২/১-৪, মথি, ১২/৪৭-৪৮]
৬- পবিত্র আত্মা মসিহকে ক্রুশ থেকে বাঁচানোর জন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।
৭- সৈনিকরা মসিহকে প্রহার করেছে। মুখে থুতু দিয়েছে। তারপর তাকে শূলে চড়িয়েছে।
৮- মসিহ সৎ ছিলেন না।
৯- সুসমাচারের ভাষ্যমতে মসিহ অন্যান্য নবি-রাসুলগণকে ডাকাত বিবেচনা করতেন।
১০- ইহুদিরা তাকে বেত্রাঘাত করে শূলে চড়িয়েছে।
১১- বনি আদমের পাপের কারণে তাকে শূলে চড়ানো হয়েছে। সুসমাচারের ভাষ্যমতে তার মৃত্যু ছিল অভিশপ্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ন্যায়।
১২- বিপদ ও পরীক্ষার সময় হাওয়ারিরা মসিহকে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল।
১৩- আল্লাহ পরাক্রমশালী। তিনি আদমের তাওবা কবুল করেননি। এমনকি তার সন্তানকে শূলে চড়িয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন।
১৪- আল্লাহ তাআলা পোপের মাধ্যমে তাওবা ও যাবতীয় ইবাদাত কবুল করে থাকেন।
১৫- শরিয়ত খ্রিষ্টানদের কাঁধে অভিশাপস্বরূপ।
১৬- পুরাতন ও নতুন উভয় নিয়মের ভাষ্যমতে নবি-রাসুলগণ সীমালঙ্ঘনকারীদের চেয়ে নিকৃষ্ট। তাদের অনেকে স্বীয় কন্যার সাথে ব্যভিচার করেছেন। আবার অনেকে মদ পান করতেন। কেউ কেউ মানুষের সামনে উলঙ্গও হয়েছেন।
১৭- পোপগণ নিষ্পাপ
১৮- পোপ শরিয়ত রহিত করার অধিকার রাখেন।
১৯- খ্রিষ্টানদের কাছে রক্ষিত সুসমাচারগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির রচনা।
২০- মসিহ ফরিশি ও সাদ্দুকিদের ধ্বংস ও বরবাদির বদদুআ করেছেন।