📄 পুরাতন নিয়মের
#আদিপুস্তকের শুরু থেকে ৪৬ অধ্যায় পর্যন্ত। #গীতপুস্তকের একশত পাঁচ থেকে একশত সাইত্রিশতম (১০৫-১৩৭) শ্লোক।
📄 নতুন নিয়মের
#ইবরিয়দের প্রতি পোলের পত্রের নবম থেকে চতুর্দশ (৯-১৪) অধ্যায়। #তিত ও ফিলিমনের কাছে লিখিত পোলের পত্র এবং যোহনের স্বপ্ন বা প্রকাশিত কালাম। পঞ্চদশ শতাব্দীতে এসে কেউ একজন এগুলোকে যুক্ত করেছেন। #মার্কের সুসমাচারে লেখক ষোড়শ অধ্যায়ের নবম থেকে বিংশ (৯-২০) অনুচ্ছেদ পর্যন্ত স্থান সাদা রেখে দিয়েছেন।
📄 দ্বিতীয়, আলেকজান্দ্রিয়া সংস্করণ (Alexandrian version)
এই সংস্করণের কপিটি ১৬০৮ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট প্রথম চার্লসের হাতে পৌঁছায়। বর্তমানে এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। এই সংস্করণেও বেশ কিছু অংশ অনুপস্থিত। যেমন: #মথির সুসমাচারের পঞ্চবিংশ অধ্যায়ের শুরু থেকে নিয়ে ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত। #যোহনের সুসমাচারের ষষ্ঠ অধ্যায়ের পঞ্চাশত অনুচ্ছেদ থেকে অষ্টম অধ্যায়ের বায়ান্ন নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত।
📄 তৃতীয়, সিনাই সংস্করণ
এই সংস্করণটি নিয়ে একটি অদ্ভুত গল্প শোনা যায়। সিনড্রোফ (Tischendorf) নামক জনৈক জার্মান গবেষক কিতাবুল মুকাদ্দাসের প্রাচীন কপি অনুসন্ধানে প্রবল আগ্রহী ছিলেন। একবার তিনি সিনাই সফর করছিলেন। সিনাই পাহাড়ের পাদদেশে একটি খানকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আকস্মিক তার নজরে পড়ল পাদরিগণ আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা গ্রহণের জন্য কিছু পুরাতন কাগজ জড়ো করে রেখেছে। তিনি দ্রুত গিয়ে কাগজগুলো নিলেন। পরে নিশ্চিত হলেন যে, এগুলো সেপ্তজিয়ান্ট কপির কিছু বিচ্ছিন্ন অংশ। তিনি পাদরিগণকে বারবার অনুরোধ করতে লাগলেন তাকে কাগজগুলো দেওয়ার জন্য। আরও অনুরোধ করলেন, কোথায় পাওয়া গেছে তা বলার জন্য।
তার এই পীড়াপীড়ির কারণে পাদরিরা বুঝতে পারলেন যে এগুলো অত্যন্ত মূল্যবান কাগজ। তারা সিনড্রোফের আবদারকে প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর সিনড্রোফ খুব দ্রুত দেশে ফিরে যান এবং পুনরায় মিশর সফরে আসেন। এসে তিনি মিশরের শাসকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু কপিটি হস্তগত করার কোনো সহজ ব্যবস্থা শাসক করতে পারেননি। তখন তিনি রাশিয়ান দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদেরকে কাগজগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন।
১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ান দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে তিনি সিনাই সফর করতে সক্ষম হন। সেখানে গিয়ে খানকার লাইব্রেরিতে তিনি নুসখাটি তালাশ করতে থাকেন। শেষমেশ প্রচুর অর্থের বিনিময়ে তিনি কপিটি হস্তগত করতে সক্ষম হন। কপিটি নিয়ে তিনি রাশান সম্রাটকে অর্পণ করেন। অবশেষে সম্রাটের নির্দেশে কপিটি রাশিয়ার জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়।
গবেষকগণ মনে করেন, এই কপিটি চতুর্থ শতাব্দীতে লেখা হয়েছে। এতে পুরাতন ও নতুন উভয় নিয়ম উভয়টা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।