📄 যোহনের স্বপ্ন বা প্রকাশিত কালাম
এই পুস্তকটি সুসমাচার লেখক যোহন ৮১-৯৬ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালে রচনা করেছেন। বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কতগুলো স্বপ্নের বর্ণনা। যোহনের দাবি মোতাবেক এই স্বপ্নগুলোর মাধ্যমে তাকে খ্রিষ্টধর্মের হাকিকত এবং ভবিষ্যতে ঘটিতব্য বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে প্রত্যাদেশ করা হয়েছে। পুস্তকটিতে নিন্মোক্ত বিষয়াবলি স্থান পেয়েছে:
এক, মসিহ আলাইহিস সালামের প্রভুত্ব সাব্যস্তকরণ।
দুই, আকাশে মসিহের কর্তৃত্ব, সেখান থেকে গির্জা ও গির্জার দায়িত্বশীলগণকে পর্যবেক্ষণ, ফিরিশতাদের কর্মকাণ্ড ও মসিহের প্রতি তাদের আনুগত্য।
তিন, লোকেরা কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে এবং মসিহের সামনে উপস্থাপিত হবে। তিনিই তাদের আমলের হিসাব নেবেন। অতঃপর সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করবেন আর মন্দ লোকদের শাস্তি দেবেন।
চার, ভবিষ্যতে ঘটিতব্য কিছু ঘটনা যার কিছু কিছু সাধারণভাবে সমগ্র মানবজাতির সাথে সম্পৃক্ত আর কিছু খ্রিষ্টানদের সাথে সম্পৃক্ত। ভবিষ্যদ্বাণীগুলো অস্পষ্ট ও ইঙ্গিতাকারে প্রদত্ত।
৩৬৩ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম গির্জা এই পুস্তকগুলোর ওপর আস্থা প্রকাশ করে। এর আগে পুস্তকগুলীর বাস্তবতা ও যোহনের দিকে সম্বন্ধকরণের শুদ্ধতার ব্যাপারে সকলেই সন্দিহান ছিলেন। এমনকি ৩২৫ খ্রিষ্টাব্দে নিকিয়ার মহাসভায় এগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যাত হয়। বর্তমানেও অনেক গবেষক যোহনের দিকে এগুলোর সম্বন্ধকরণের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে থাকেন। ইমাম ইবনে হাজম অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পুস্তকগুলোকে যোহনের দিকে সম্বন্ধকরণের বিষয়টি তুমুল যুক্তি দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এগুলোকে মিথ্যা, বিরোধপূর্ণ, বিকৃত, কুফুরি প্রভৃতি অভিধায় অভিযুক্ত করেছেন।
📄 প্রথম স্তর তথা সর্বজন সমাদৃত পুস্তকাবলি
পুরো নতুন নিয়মের সংকলন ও বিধিসম্মত হতে প্রায় ৩৫০ বছর সময় লেগেছে। এর পূর্বে চতুর্থ শতাব্দীর সূচনা পর্যন্ত এগুলোর বিধিসম্মত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড জটিলতা বিরাজমান ছিল। আরিয়ুনুস এই পরিস্থিতির বিবরণ দিয়েছেন। তিনি পুস্তকগুলোকে তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন।
প্রথম স্তর তথা সর্বজন সমাদৃত পুস্তকাবলি
১। চার সুসমাচার
২। প্রেরিতদের কার্যবিবরণী
৩। পোলের পত্রসমূহ
৪। পিতরের প্রথম পত্র
৫। যোহনের প্রথম পত্র
৬। যোহনের স্বপ্ন বা প্রকাশিত কালাম। পুস্তকটিকেও কখনো কখনো এ স্তরে রাখা হয়।
📄 দ্বিতীয় স্তরের পুস্তকাবলি
১। যাকোবের পত্র
২। যিহুদার পত্র
৩। পিতরের দ্বিতীয় পত্র
৪। যোহনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পত্র
📄 তৃতীয় স্তরের পুস্তকসমূহ
১। পোলের কার্যবিবরণী-সংক্রান্ত পত্রসমূহ
২। রাখাল হারমোসের পুস্তক
৩। পিতরের স্বপ্ন
৪। যোহনের আরও কিছু স্বপ্ন[৪৯৭]
খ্রিষ্টানগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত কিতাবগুলোর খুব অল্পই এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুবা এ তালিকা অনেক দীর্ঘ। এ পর্যায়ে আমরা এনসাইক্লোপিডিয়া অব অ্যামেরিকা থেকেও প্রত্যাখ্যাত পুস্তকের একটি তালিকা তুলে ধরছি।
১। টমাসের সুসমাচার
২। মিথ্যুক মথির সুসমাচার
৩। ইবরীয়দের সুসমাচার
৪। নাসেরিদের সুসমাচার
৫। বারোজনের সুসমাচার
৬। ইবোনীয়দের সুসমাচার
৭। মিশরীয় সুসমাচার
৮। পিতরের সুসমাচার। এটি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষাংশে মানুষের কাছে পরিচিত ছিল।
৯। বসিলের সুসমাচার। এটি দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যভাগে প্রসিদ্ধ ছিল।
১০। মার্কীয় সুসমাচার
১১। ইবিল্ল এর সুসমাচার
১২। নায়সানের সুসমাচার
১৩। ফিলিপের সুসমাচার
১৪। মেরিটাসের সুসমাচার
১৫। মারইয়ামের সুসমাচার
১৬। বরথলময়ের সুসমাচার
১৭। নিকোডেমাসের সুসমাচার
১৮। গামালিয়েলের সুসমাচার
১৯। যথার্থ সুসমাচার
২০। আন্দ্রেয় এর সুসমাচার
২১। বরনাবার সুসমাচার
২২। ইনকারাতিনের সুসমাচার
২৩। হোসিশিয়াসের সুসমাচার
২৪। যিহুদার সুসমাচার
২৫। খদ্দেয়ের সুসমাচার
২৬। সত্য সুসমাচার[৪৯৮]
টিকাঃ
[৪৯৭] এনসাইক্লোপেডিয়া অব ব্রিটানিকা, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫১৪।
[৪৯৮] এনসাইক্লোপিডিয়া অব আমেরিকা, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৭০-৭১।