📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 প্রেরিতদের কার্যবিবরণী

📄 প্রেরিতদের কার্যবিবরণী


পুস্তকটি সুসমাচার লেখক লুকের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। তিনি সুসমাচার এবং এটি একই বছর তথা ৬৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন। এ পুস্তকটিতে হাওয়ারি, একদল শিষ্য ও তাদের অনুসারীদের জীবনবৃত্তান্ত আলোচনা করা হয়েছে। খ্রিষ্টধর্মের যথেষ্ট প্রভাব বিদ্যমান।

এখানে প্রেরিতগণ বলতে উদ্দেশ্য হচ্ছে বারোজন হাওয়ারি, যাদেরকে মসিহ আলাইহিস সালাম দীনের দাওয়াত নিয়ে বিভিন্ন জাতির কাছে প্রেরণ করেছিলেন। এই বারোজনের সাথে তারা পোলকেও অন্তর্ভুক্ত করে। অথচ তিনি মসিহ আলইহিস সালামের ঊর্ধ্বারোহণের পর খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হওয়ার দাবি করেন।

আর কার্যবিবরণী থেকে উদ্দেশ্য হচ্ছে - এই প্রেরিতগণের ইতিহাস বা তাদের কর্মসমূহ। হাওয়ারিদের জীবনসংক্রান্ত এই ঐতিহাসিক বর্ণনার সূচনাতে খ্রিষ্টীয় আকিদা-বিশ্বাস ও অনেকগুলো ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পুস্তকে লুক বিশেষভাবে পোলের জীবনবৃত্তান্ত, খ্রিষ্টধর্মে তার অবদান ও তার হাতে প্রকাশিত মুজিযাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমনকি পুস্তকের অর্ধেকটাই পোলের জীবনসংক্রান্ত আলোচনা স্থান করে নিয়েছে।

পুস্তকের ভূমিকা থেকে বোঝা যায়, সুসমাচারের মতো এই পুস্তকটিও তিনি থিয়ফিলকে উদ্দেশ্য করে রচনা করেছেন। পুস্তকের সূচনাতেই তিনি থিয়ফিলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হে থিয়ফিল, প্রথম প্রবন্ধটি আমি সেই সকল বিষয় লইয়া রচনা করিয়াছি, যাহা যীশু সেই দিন পর্যন্ত সাধন করিতে ও শিক্ষা দিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন, ২. যে দিনে তিনি আপনার মনোনীত প্রেরিতদিগকে পবিত্র আত্মা দ্বারা আজ্ঞা দিয়া ঊর্ধ্বে নীত হইলেন। ৩. আপন দুঃখভোগের পরে তিনি অনেক প্রমাণ দ্বারা তাঁহাদের নিকটে আপনাকে জীবিত দেখাইলেন, ফলতঃ চল্লিশ দিন যাবৎ তাঁহাদিগকে দর্শন দিলেন, এবং ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয় নানা কথা বলিলেন।”[৪৯৬]

টিকাঃ
[৪৯৬] প্রেরিত, অধ্যায়: ১, অনুচ্ছেদ: ১-৩।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 যোহনের স্বপ্ন বা প্রকাশিত কালাম

📄 যোহনের স্বপ্ন বা প্রকাশিত কালাম


এই পুস্তকটি সুসমাচার লেখক যোহন ৮১-৯৬ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালে রচনা করেছেন। বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কতগুলো স্বপ্নের বর্ণনা। যোহনের দাবি মোতাবেক এই স্বপ্নগুলোর মাধ্যমে তাকে খ্রিষ্টধর্মের হাকিকত এবং ভবিষ্যতে ঘটিতব্য বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে প্রত্যাদেশ করা হয়েছে। পুস্তকটিতে নিন্মোক্ত বিষয়াবলি স্থান পেয়েছে:

এক, মসিহ আলাইহিস সালামের প্রভুত্ব সাব্যস্তকরণ।

দুই, আকাশে মসিহের কর্তৃত্ব, সেখান থেকে গির্জা ও গির্জার দায়িত্বশীলগণকে পর্যবেক্ষণ, ফিরিশতাদের কর্মকাণ্ড ও মসিহের প্রতি তাদের আনুগত্য।

তিন, লোকেরা কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে এবং মসিহের সামনে উপস্থাপিত হবে। তিনিই তাদের আমলের হিসাব নেবেন। অতঃপর সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করবেন আর মন্দ লোকদের শাস্তি দেবেন।

চার, ভবিষ্যতে ঘটিতব্য কিছু ঘটনা যার কিছু কিছু সাধারণভাবে সমগ্র মানবজাতির সাথে সম্পৃক্ত আর কিছু খ্রিষ্টানদের সাথে সম্পৃক্ত। ভবিষ্যদ্বাণীগুলো অস্পষ্ট ও ইঙ্গিতাকারে প্রদত্ত।

৩৬৩ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম গির্জা এই পুস্তকগুলোর ওপর আস্থা প্রকাশ করে। এর আগে পুস্তকগুলীর বাস্তবতা ও যোহনের দিকে সম্বন্ধকরণের শুদ্ধতার ব্যাপারে সকলেই সন্দিহান ছিলেন। এমনকি ৩২৫ খ্রিষ্টাব্দে নিকিয়ার মহাসভায় এগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যাত হয়। বর্তমানেও অনেক গবেষক যোহনের দিকে এগুলোর সম্বন্ধকরণের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে থাকেন। ইমাম ইবনে হাজম অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পুস্তকগুলোকে যোহনের দিকে সম্বন্ধকরণের বিষয়টি তুমুল যুক্তি দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এগুলোকে মিথ্যা, বিরোধপূর্ণ, বিকৃত, কুফুরি প্রভৃতি অভিধায় অভিযুক্ত করেছেন।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 প্রথম স্তর তথা সর্বজন সমাদৃত পুস্তকাবলি

📄 প্রথম স্তর তথা সর্বজন সমাদৃত পুস্তকাবলি


পুরো নতুন নিয়মের সংকলন ও বিধিসম্মত হতে প্রায় ৩৫০ বছর সময় লেগেছে। এর পূর্বে চতুর্থ শতাব্দীর সূচনা পর্যন্ত এগুলোর বিধিসম্মত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড জটিলতা বিরাজমান ছিল। আরিয়ুনুস এই পরিস্থিতির বিবরণ দিয়েছেন। তিনি পুস্তকগুলোকে তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন।

প্রথম স্তর তথা সর্বজন সমাদৃত পুস্তকাবলি
১। চার সুসমাচার
২। প্রেরিতদের কার্যবিবরণী
৩। পোলের পত্রসমূহ
৪। পিতরের প্রথম পত্র
৫। যোহনের প্রথম পত্র
৬। যোহনের স্বপ্ন বা প্রকাশিত কালাম। পুস্তকটিকেও কখনো কখনো এ স্তরে রাখা হয়।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 দ্বিতীয় স্তরের পুস্তকাবলি

📄 দ্বিতীয় স্তরের পুস্তকাবলি


১। যাকোবের পত্র
২। যিহুদার পত্র
৩। পিতরের দ্বিতীয় পত্র
৪। যোহনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পত্র

ফন্ট সাইজ
15px
17px