📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 দুই ও তিন. পিতরের দুটি চিঠি

📄 দুই ও তিন. পিতরের দুটি চিঠি


মসিহ আলাইহিস সালামের পর হাওয়ারিদের প্রধান ছিলেন পিতর। এই চিঠি দুটি তার দিকে সম্বন্ধ করা হয়। কিন্তু বিশ্লেষকগণ চিঠি দুটিকে পিতরের দিকে সম্বন্ধ করতে দ্বিধান্বিত। কেননা, পিতর ছিলেন মসিহ আলাইহিস সালামের প্রভুত্ব ও পুনরুত্থান আকিদার ঘোর বিরোধী। একইভাবে তিনি পোলের অধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতেন।[৪৯৫]

টিকাঃ
[৪৯৪] এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকার লেখক মনে করেন, প্রথম চিঠিটি পোলের মৃত্যুর পর লেখা হয়েছিল। খণ্ড: ১৭, পৃষ্ঠা: ৬৪৬।
[৪৯৫] এই পত্রদ্বয়ে পিতরের নীতি-আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক বক্তব্য স্থান পাওয়ায় বিশ্লেষকগণ এগুলোকে তার দিকে সম্বন্ধ করার ব্যাপারে সন্দিহান।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 চার, পাঁচ ও ছয়. যোহনের তিনটি চিঠি

📄 চার, পাঁচ ও ছয়. যোহনের তিনটি চিঠি


এই তিনটি চিঠি সুসমাচার লেখক যোহনের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। কথিত আছে ৯০-১০০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালে চিঠিগুলো লেখা হয়েছে। এই চিঠিগুলোতে মসিহ আলাইহিস সালামের প্রভুত্ব, তার পুনরুত্থান এবং ভবিষ্যতে তার পুনরাগমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়বস্তুর দিক থেকে পত্রগুলো যোহনের সুসমাচারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চিঠিগুলো অধ্যয়ন করলে বোঝা যায়, একদল বিশ্বাসী মসিহের প্রভুত্বকে অস্বীকার করে তাওহিদের আকিদাকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন। তারা পোলের দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেন। তাই চিঠিগুলো তাদের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়। এই চিঠিগুলোর লেখক যোহন প্রকৃতপক্ষে হাওয়ারি ছিলেন না। যা ইতিপূর্বে প্রমাণিত হয়েছে।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 সাত. যিহুদার পত্র

📄 সাত. যিহুদার পত্র


যিহুদা হলেন যাকোবের ভাই। ইনি এবং যিহুদা ইস্ককরিয়োতি ভিন্ন ব্যক্তি। এটি একটি ধর্মীয় বিতর্কমূলক চিঠি। প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এটি লিখিত হয়েছে। চিঠিটি লেখা হয়েছে খ্রিষ্টানদেরকে ওইসব ব্যক্তিবর্গ থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে, যারা বিশ্বাসকে বাদ দিয়ে জ্ঞানের দিকে মানুষকে আহ্বান করে।

সারকথা হলো, এই সাতটি চিঠি নানা সময়ে লিখিত। তন্মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনটি লেখা হয়েছে ৫০ খ্রিষ্টাব্দে এবং সর্বশেষটি লেখা হয়েছে ৯০ খ্রিষ্টাব্দে। ওপরে প্রদত্ত ধারাবাহিকতা অনুসারে পত্রগুলো নতুন নিয়মে স্থান পেয়েছে। এগুলোতে আখলাক সম্পর্কিত কিছু বিষয় আলোচিত হয়েছে। একইভাবে পোলের পৌত্তলিক ধ্যান-ধারণার সাথে সাযুজ্যপূর্ণ খ্রিষ্টধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কিত আলোচনাও স্থান পেয়েছে এ চিঠিগুলোতে।

এই পত্রগুলোকে সামষ্টিকভাবে 'নতুন নিয়মের শিক্ষাপুস্তক' নামে অভিহিত করা হয়। কারণ, এগুলোতে শরিয়তের বিধি-বিধান স্থান পেয়েছে।

প্রথমদিকে খ্রিষ্টানজগৎ এই পত্রগুলোর ব্যাপারে দ্বিধান্বিত ছিল। এমনকি নিকিয়ার মহাসভাতেও এসব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। খ্রিষ্টানগণ পরবর্তী সময় এই চিঠিগুলোকে ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস হিসেবে বিবেচনা করার ব্যাপারে সম্মত হন। খ্রিষ্টান ধর্মকে গ্রিক ও রোমান পৌত্তলিকতায় ধাবিত করতে এই সম্মতি বিরাট প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px