📄 তেরো. ফিলিমনের প্রতি লিখিত চিঠি
ফিলিমন ছিলেন পোলের আদর্শে দীক্ষিত একজন খ্রিষ্টান। ফিলিমনের এক দাস ওনিসিমকে কেন্দ্র করে পোল এই চিঠিটি লিখেন। ওনিসিম তার মনিব ফিলিমনের কিছু সম্পদ চুরি করে পালিয়ে গিয়েছিল। রোমে পৌঁছার পর পোলের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। পোলের কথায় প্রভাবিত হয়ে সে তার কৃতকর্ম থেকে তাওবা করে। পোল তাকে নিজের কাছে রেখে দিতে চাইলে মনিবের মতামত গ্রহণ ব্যতিরেকে সে থাকতে অস্বীকৃতি জানায়। অতঃপর মনিবের কাছে গেলে মনিব তাকে ক্ষমা করে দেন।
📄 চৌদ্দ. ইবরিয়দের প্রতি প্রেরিত চিঠি
ইস্টার্ন চার্চ ও ওয়েস্টার্ন চার্চের মধ্যে এই চিঠিটির লেখক নির্ধারণে মতদ্বৈততা রয়েছে। ইস্টার্ন চার্চ মনে করে এটি পোলের পত্র। দ্বিতীয় শতাব্দীর খ্রিষ্টান ঐতিহাসিক টারটেলিয়ান (Tertullian) বলেন, “এটি বরনাবার চিঠি। অপরদিকে লুথার মনে করেন এটি আপল্লো [৪৯৩] রচনা করেছেন। চিঠিটির বিষয়বস্তু হলো মসিহ আলাইহিস সালামের ওপর বিশ্বাস স্থাপন এবং পুরাতন নিয়মের গুরুত্বহীন হওয়া।
সংক্ষিপ্ত পরিসরে বলতে গেলে এই চিঠিগুলো খ্রিষ্টধর্মের আকিদা, ইবাদাত, আখলাক সম্পর্কীয় বিধি-বিধানের বিশদ বিবরণ উপস্থাপন করে। পাশাপাশি মসিহ আলাইহিস সালামের প্রভুত্ব ও ঈশ্বরপুত্র হওয়া এবং ত্রিত্ববাদের প্রাথমিক ধারণা এই চিঠিগুলোতে গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়েছে।
বর্তমান যুগের খ্রিষ্টানগণ অন্যান্য পবিত্র গ্রন্থের চেয়ে এই চিঠিগুলোর ওপর বেশি আস্থা রাখে। এমনকি প্রেরিত রাসুলের বাণী বলতে তারা খ্রিষ্টান দাবিদার এই ইহুদি পোলের বক্তব্যকে বুঝিয়ে থাকে।
নিকিয়ার মহাসভায় এই পত্রগুলোকে সুসমাচারসমূহের ব্যাখ্যা ও মসিহ আলাইহিস সালামের ইলাহ হওয়ার বিষয়ে মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
টিকাঃ
[৪৯৩] আপেল্লো ছিলেন পোলের বন্ধু। মিশরে আলেকজান্দ্রিয়ায় এই ব্যক্তিটি খ্রিষ্টধর্মের পক্ষে বক্তব্য দিতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বাকপটু। নতুন নিয়মের বিভিন্ন স্থানে তার নাম স্থান পেয়েছে। প্রেরিতদের কার্যবিবরণীতে তার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।-অনুবাদক।