📄 মসিহ আলাইহিস সালামের মুজিযা
অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বলল, হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ। হে হারুন-ভগ্নি, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিণী। অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তারা বলল, যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব? সন্তান বলল, আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবি করেছেন। [সুরা মারইয়াম, আয়াত: ২৭-৩০]
আর বনি ইসরাইলের জন্য রাসুল হিসেবে তাকে মনোনীত করবেন। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছি নিদর্শনসমূহ নিয়ে। আমি তোমাদের জন্য মাটির দ্বারা পাখির আকৃতি তৈরি করে দিই। তারপর তাতে যখন ফুৎকার প্রদান করি, তখন তা উড়ন্ত পাখিতে পরিণত হয়ে যায় আল্লাহর হুকুমে। আর আমি সুস্থ করে তুলি জন্মান্ধকে এবং শ্বেত কুষ্ঠ রোগীকে। আর আমি জীবিত করে দিই মৃতকে আল্লাহর হুকুমে। আর আমি তোমাদেরকে বলে দিই যা তোমরা খেয়ে আস এবং যা তোমরা ঘরে রেখে আস। এতে প্রকৃষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৪৯]
ঈসা ইবনে মারইয়াম বললেন, হে আল্লাহ, আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুজি দিন। আপনিই শ্রেষ্ঠ রুজিদাতা। আল্লাহ বললেন, নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ১১৪-১১৫]
আমি মারইয়াম-তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মুজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তি দান করেছি। [সুরা বাকারাহ, আয়াত: ৮৭]
যখন আল্লাহ বলবেন, হে ঈসা ইবনে মারইয়াম, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্য করেছি। তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে কোলে থাকতেও এবং পরিণত বয়সেও এবং যখন আমি তোমাকে গ্রন্থ, প্রগাঢ় জ্ঞান, তওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি এবং যখন তুমি কাদামাটি দিয়ে পাখীর প্রতিকৃতির মতো প্রতিকৃতি নির্মাণ করতে আমার আদেশে, অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দিতে; ফলে তা আমার আদেশে পাখী হয়ে যেত এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্টরোগীকে নিরাময় করে দিতে এবং যখন আমি বনি-ইসরাইলকে তোমা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা কাফির ছিল, তারা বলল, এটা প্রকাশ্য জাদু। [সুরা মায়েদাহ, আয়াত: ১১০]
📄 বনি ইসরাইলের নবি ঈসা মসিহ আলাইহিস সালাম
আর বনি ইসরাইলের জন্যে রাসুল হিসেবে তাকে মনোনীত করবেন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছি নিদর্শনসমূহ নিয়ে। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৪৯]
স্মরণ করো, যখন মারইয়াম-তনয় ঈসা বলল, হে বনি ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী। [সুরা সফ, আয়াত: ৬]
সে তো এক বান্দাই বটে আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করেছি এবং তাকে করেছি বনি ইসরাইলের জন্যে আদর্শ। [সুরা যুখরুফ, আয়াত: ৫৯]
📄 মসিহ আলাইহিস সালামের দাওয়াত
তারা কাফির, যারা বলে যে, মারইয়াম-তনয় মসিহই আল্লাহ; অথচ মসিহ বলেন: হে বনি ইসরাইল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ৭২]
আর এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহকে সত্যায়ন করে, যেমন তাওরাত। আর তা এজন্য যাতে তোমাদের জন্য হালাল করে দিই কোনো কোনো বস্তু, যা তোমাদের জন্য হারাম ছিল। আর আমি তোমাদের নিকট এসেছি তোমাদের পালনকর্তার নিদর্শনসহ। কাজেই আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার অনুসরণ করো। নিশ্চয় আল্লাহ আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। অতএব তার ইবাদত করো, এটাই হলো সরল পথ। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫০-৫১]
ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আগমন করল, তখন বলল, আমি তোমাদের কাছে প্রজ্ঞা নিয়ে এসেছি এবং তোমরা কোন কোন বিষয়ে মতভেদ করছ তা ব্যক্ত করার জন্যে এসেছি। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার কথা মান। নিশ্চয় আল্লাহই আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তার ইবাদত করো। এটা হলো সরল পথ। [সুরা যুখরুফ, আয়াত: ৬৩-৬৪]
অতঃপর ঈসা যখন বনি ইসরাইলের কুফরি সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারলেন, তখন বললেন, কারা আছে আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে? সঙ্গী-সাথিরা বলল: আমরা রয়েছি আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। আর তুমি সাক্ষী থাক যে, আমরা হুকুম কবুল করে নিয়েছি। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা সে বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা তুমি নাজিল করেছ, আমরা রাসুলের অনুগত হয়েছি। অতএব, আমাদেরকে মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নাও। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫২-৫৩]
📄 মসিহ আলাইহিস সালাম আল্লাহর বান্দা ও অন্যান্য রাসূলগণের মতো একজন রাসূল
নিঃসন্দেহে মারইয়ামপুত্র মসিহ ঈসা আল্লাহর রাসুল এবং তার বাণী, যা তিনি প্রেরণ করেছেন মারইয়ামের নিকট এবং রুহ-তারই কাছ থেকে আগত। [সুরা নিসা, আয়াত: ১৭১]
মারইয়াম-তনয় মসিহ রাসুল ছাড়া আর কিছু নন। তার পূর্বে অনেক রাসুল অতিক্রান্ত হয়েছেন আর তার জননী একজন সৎ-খাঁটি ঈমানদার। তারা উভয়েই খাদ্য ভক্ষণ করতেন। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ৭৫]
মসিহ আল্লাহর বান্দা হবেন, তাতে তার কোনো লজ্জাবোধ নেই এবং ঘনিষ্ঠ ফেরেশতাদেরও না। বস্তুত যারা আল্লাহর দাসত্বে লজ্জাবোধ করবে এবং অহংকার করবে, তিনি তাদের সবাইকে নিজের কাছে সমবেত করবেন। [সুরা নিসা, আয়াত: ১৭২]
সন্তান বলল, আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবি করেছেন। আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে। এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব। এই মারইয়ামের পুত্র ঈসা। সত্যকথা, যে সম্পর্কে লোকেরা বিতর্ক করে। [সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৩০-৩৪]
সে তো এক বান্দাই বটে আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করেছি এবং তাকে করেছি বনি ইসরাঈলের জন্যে আদর্শ। [সুরা যুখরুফ, আয়াত: ৫৯]