📄 অ-ইহুদি সম্পর্কে তালমুদের দৃষ্টিভঙ্গি
তালমুদের দৃষ্টিতে ইহুদিরা হলো আল্লাহর পুত্র। তারা ফিরিশতাদের চেয়ে উত্তম। আর অ-ইহুদিরা হলো চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও অধম। ইহুদিরা আল্লাহর নির্বাচিত জাতি। একমাত্র তাদেরই অধিকার রয়েছে জমিনের বুকে সসম্মানে বসবাস করার।
ইহুদিদের একটি উৎসব তথা ঈদুল ফেসাখে তালমুদের নির্দেশনা হলো অ-ইহুদিদেরকে প্রভুর উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া। এরপর তার রক্ত পবিত্র খামিরে মিশ্রিত করা। যেগুলো তারা উৎসবে খেয়ে থাকে। বলির জন্তুর রক্ত ঝরানোর জন্য ইহুদিরা নানারকম বীভৎস পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে। তন্মধ্যে একটি হলো সুচ পিপা (The needle barrel)। এটি মূলত একটি পিপা যার ভেতরের দিকে ধারালো ও তীক্ষ্ম সূচ লাগানো থাকে। এরপর বলির জন্তু বা মানুষকে জীবন্ত এর ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এই সূচ গেঁথে যায় এবং রক্ত ঝরতে থাকে। এভাবে রক্তক্ষরণ এর মাধ্যমে যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে প্রাণীটি বা মানুষটি মৃত্যুবরণ করে। এসময় পিপার চতুষ্পার্শ্বে ইহুদিরা বেশ উৎফুল্ল মেজাজে থাকে। এই বিভৎস দৃশ্য তাদের মধ্যে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ সৃষ্টি করে। রক্ত ঝরে বীপার নিচে জমা হলে পূর্ব থেকে প্রস্তুতকৃত পাত্রে তারা সেগুলো সংগ্রহ করে। কখনো কখনো তারা বলির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধমনী কেটে দেয় যাতে করে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়। আবার কখনো কখনো বলির জন্য প্রস্তুত করা মানুষটাকে পশুর মতো জবেহ করা হয়। রক্ত সংগ্রহ করা হলে তারা সেগুলো রাব্বি বা যাজকের কাছে দেয় পবিত্র খাবার তৈরি করার জন্য।
এই বিকৃত অপরাধ চর্চা ইহুদিদের মাঝে কোনোরুপ ভাবনার উদ্রেক করে না। এমনকি বর্তমানেও তারা সুযোগ পেলেই এর চর্চা করে থাকে। বিশেষ করে অনৈতিক পন্থায় মুসলিমদের ফিলিস্তিনে তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর তারা এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করে যাচ্ছে।
একজন ইউরোপিয়ান লেখক আরনল্ড লিসি (Arnold Leese) ইহুদিদের এ ধরনের অপরাধগুলো প্রমাণসহ লিপিবদ্ধ করেন। দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে নিয়ে বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক পর্যন্ত ইউরোপ-এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ইহুদিদের স্বীকারোক্তিসহ তিনি পুস্তকটি রচনা করেন। তুকুসুল ইগতিয়ালিল ইহুদিয়্যাহ নামক এই গ্রন্থটি ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। বইটিতে ইহুদিদের এমন ভয়ঙ্কর ষাটটি ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
প্রাচীন ইহুদি ঐতিহাসিক জোসেফাস (মৃ. ৯৫ খ্রিষ্টাব্দ) উল্লেখ করেন, তারা শুধু নরবলির রক্তপান এবং খামিরের সাথে মিশিয়ে ক্ষান্ত হতো না। বরং তারা বলি দেওয়া লোকটির শরীর থেকে গোশতও ভক্ষণ করত।
এরপর এই ঐতিহাসিক উল্লেখ করেন যে, গ্রিক সম্রাট চতুর্থ এন্টনিয়াস - যিনি ১৭৪ খ্রিষ্টপূর্বে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন এবং জেরুজালেম জয় করেন - জেরুসালেমে প্রবেশের পর হাইকলের এক স্থানে একজন গ্রিককে দেখতে পেলেন যাকে ইহুদিরা বন্দি করে রেখেছিল। ইহুদিরা তাকে ভালো ভালো খাবার দিত। উদ্দেশ্য ছিল খাবার খেয়ে সে মোটাতাজা হবে। এরপর ঈদুল ফিসাখের দিন তাকে বলি দিয়ে তার রক্ত মাংস খাওয়া হবে। লোকটি সম্রাটের কাছে তাকে মুক্ত করার আবেদন করলে তিনি দয়াপরবশ হয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।
তালমুদে আরও বলা হয়েছে, ইহুদির জন্য কোনো অ-ইহুদিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো কিংবা কোনো গর্ত থেকে উদ্ধার করা বৈধ নয়। বরং কোনো অ-ইহুদিকে গর্তে পড়ে থাকতে দেখলে তার ওপর পাথর চাপা দেওয়াটাই কর্তব্য।
টিকাঃ
[২৮৪] আল-কানযুল মারসুদ ফি কাওয়াইদিত তালমুদ গ্রন্থের আরবি অনুবাদের ভূমিকা থেকে সংগৃহীত।
[২৮৫] আল-কানযুল মারসুদ ফি কাওয়াইদিত তালমুদ।
📄 তালমুদ ও মসিহ আলাইহিস সালাম
মসিহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তালমুদের বক্তব্য হলো যিশু জাহান্নামের আগুন বরফের শান্তি ভোগ করছে। তার মা মরিয়ম তাকে অবৈধভাবে জন্ম দিয়েছেন। খ্রিষ্টান গির্জাগুলো সব আবর্জনার ভাগাড়। সেখানকার উপদেশদাতাগণ ঘেউ ঘেউ করতে থাকা কুকুরের মতো। খ্রিষ্টানকে হত্যা করাই হলো নির্দেশনা। কোনো খ্রিষ্টানের সাথে চুক্তি করলে তা শুদ্ধ হয় না। খ্রিষ্টানকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে ইহুদির জন্য সেটা পূরণ করা জরুরি নয়। ইহুদিদের কর্তব্য হলো খ্রিষ্টান নেতাদের তিনবার অভিশাপ করা। একইভাবে যারা বনি ইসরাইলের সাথে শত্রুতা করে থাকে তাদেরকেও তিনবার অভিশাপ করা।
টিকাঃ
[২৮৬] আল-কানযুল মারসুদ ফি কাওয়াইদিত তালমুদ এর আরবি অনুবাদকের ভূমিকা থেকে সংগৃহীত। অনুবাদক মনে করেন ফরাসি সম্রাটের দরবারে যেসব ইহুদি রাব্বি তাদের ধর্মীয় গ্রন্থের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছিল তারা মসিহ এবং খ্রিষ্টানদের সম্পর্কে তাদের এসব বক্তব্যকে স্বীকার করে নিয়েছিল। এমনকি তাদের এসব অনুচ্ছেদের অনুবাদ তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যাখ্যা দিয়েছিল।
📄 শপথ সম্পর্কে
ইহুদিরা অন্য জাতির সাথে শপথ করলে সেটা শপথ হিসেবে বিবেচিত হয় না। এটা চতুষ্পদ জন্তুর সাথে শপথ করার মতো। চতুষ্পদ জন্তুর সাথে শপথ করলে সেটা শপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কেননা, শপথ করা হয় মানুষের মাঝে বিবাদ মীমাংসা করার জন্য। মানুষ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন নেই। ইহুদি যদি কোনো খ্রিষ্টান এর সাথে শপথ করতে বাধ্য হয় তাহলে সেটাকে শপথ বিবেচনা করার দরকার নেই। ইহুদির কর্তব্য প্রয়োজনে বিশবার মিথ্যা শপথ করা। এ ক্ষেত্রে ইহুদি কোনো ভাইয়ের জন্য তাকে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
টিকাঃ
[২৮৭] আল-কানযুল মারসুদ ফি কাওয়াইদিত তালমুদ, পৃষ্ঠা: ৯৩-৯৪।
📄 অ-ইহুদি নারী সম্পর্কে
তালমুদ অ-ইহুদি নারীর সাথে অশ্লীল কর্মে লিপ্ত হওয়ার বৈধতা দেয়। অ-ইহুদির স্ত্রীর সাথে সহবাস করা বৈধ। কেননা, অ-ইহুদিদের বিবাহগুলো তালমুদের বিধান অনুযায়ী বাতিল ও অবৈধ। অ-ইহুদি নারী চতুষ্পদ জন্তুর মতো। চতুষ্পদ জন্তুদের মাঝে বিবাহ হয় না। তাই ইহুদি কর্তৃক কোনো খ্রিষ্টান নারীর সাথে সহবাস করা হারাম নয়। বরং অ-ইহুদি নারীকে ধর্ষণ করা ইহুদির অধিকার। রাব্বি টম এর ভাষায়, ইহুদি নারী-পুরুষের সাথে জিনা করলে কোনো শাস্তি প্রযোজ্য হবে না। কেননা, ইহুদিরা পশুর বংশধর।
এ পর্যায়ে আমরা পাঠকদের সামনে তালমুদ এর কিছু বক্তব্যের অনুবাদ উপস্থাপন করা হলো। এগুলো ইহুদিধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করা মোহাম্মদ আফিন্দি (মুসা আবুল আফিয়া) এর অনুবাদ।
টিকাঃ
[২৮৮] আল-কানযুল মারসুদ ফি কাওয়াইদিত তালমুদ, পৃষ্ঠা: ৮৯।
[২৮৯] আবুল আফিয়া ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে দামেশকের যাজক টমাসের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর ইসলামে দীক্ষিত হন। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি গোপনে তালমুদের বাক্যগুলোর অনুবাদ শুরু করেন এবং সেগুলো ফরাসি কনস্যুলেট এর উপদেষ্টা ও গভর্নর শরিফ পাশাকে হস্তান্তর করেন। শরিফ পাশা এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ইহুদিরা তাকে অর্ধ মিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা ঘুষ দিয়ে তালমুদের ব্যাপারে তদন্ত থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করে। পাশাপাশি আবুল আফিয়াহ কর্তৃক কৃত অনুবাদকে নিশ্চিহ্ন করার প্রস্তাব দেয়।