📄 ইহুদি
ইনানিয়্যাহ সম্প্রদায় ইহুদিদের প্রধান উপদলগুলোর একটি। পূর্বোল্লিখিত উপদলগুলোর অনেক পরে এদের উদ্ভব। অষ্টম শতাব্দীতে বাগদাদে ইনান ইবনে দাউদ নামক এক ব্যক্তির হাতে এই সম্প্রদায়ের উৎপত্তি ঘটে। প্রতিষ্ঠাতা ইনান ইবনে দাউদ এর নামানুসারে এদেরকে ইনানিয়্যাহ বলা হয়। এদের আরেক নাম কুররাইয়্যাহ (قرائية) এটি (قراءة) শব্দ থেকে নির্গত। এর অর্থ হচ্ছে যা পঠিত হয় অর্থাৎ কিতাব বা পুস্তক। ইহুদিদের কাছে এই শব্দটি পুরাতন নিয়মের পুস্তক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং কুররাইন শব্দের অর্থ হলো যারা শুধু কিতাবকে আঁকড়ে ধরে থাকে। বর্তমানেও এই সম্প্রদায়ের প্রচুর অনুসারী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।
ইহুদি এই সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্যঃ
১। পুরাতন নিয়মের বিধিবিধানকে আঁকড়ে ধরা।
২। তালমুদের শিক্ষাকে স্বীকৃতি না দেওয়া।
৩। রাব্বিদের ক্ষমতার স্বীকৃতি না দেওয়া।
৪। রাব্বিগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সকল বিধিবিধান প্রত্যাখ্যান করা।
ইতিপূর্বে অনেক ইহুদি নেতা ইনান ইবনে দাউদের জন্য পথ সুগম করে গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সিরিয়ান ইহুদি নেতা সারডিউস। তিনি ৭২০ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। তার স্লোগান ছিল, 'তালমুদকে ত্যাগ করো'। 'শাহরাস্তানি' এদের নেতা আবু ঈসা আল-ইসফাহানির দিকে সম্বন্ধ করে এদেরকে ঈসাবিয়্যাহ নামে উল্লেখ করেছেন।²⁶³ উয়াইদিয়ান ও তার অনুসারীরা ইহুদিদের ওপর নিজেদের মত চাপিয়ে দেয়ার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। এদের পরেই ইনান বিন দাউদের প্রকাশ ঘটে। সে এসে ইহুদিদের মধ্যে ইজতেহাদ তথা নিজে নিজে শরিয়ত নিয়ে গবেষণা করার পথ খুলে দেয়।
এরপর এই দলটি আরও বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে দুটি উপদল ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। একটি হলো বিনইয়ামিন। অপরটি হলো আকবরিয়া। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় ইহুদিদের উপদল এবং তাদের আকিদা বিশ্বাসের মূল বিতর্ক হলো তালমুদ কেন্দ্রিক। রব্বানিরা তালমুদে বিশ্বাসী। অপরদিকে কুররাইনরা তালমুদে বিশ্বাসী নয়। এখন পর্যন্ত ইহুদিদের এদুটি গ্রুপ সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে কাফির আখ্যায়িত করে এবং প্রতিপক্ষকে নিজেদের ইবাদতগৃহ ব্যবহার করা তো দূরের কথা প্রবেশ করতেও দেয় না।
টিকাঃ
২৬৩. বিস্তারিত জানতে আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়ায়ি ওয়ান নিহাল, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫৫ এর টীকা দ্রষ্টব্য।