📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 এ সম্প্রদায়ের আকিদাগত বৈশিষ্ট্য

📄 এ সম্প্রদায়ের আকিদাগত বৈশিষ্ট্য


১। এ সম্প্রদায়টি পুনরুত্থান, আখেরাত, হিসাব, জান্নাত-জাহান্নামে বিশ্বাসী নয়। তারা মনে করে দেহের সাথে সাথে আত্মারও মরণ ঘটে। সম্ভবত এমন লোকদের দিকেই ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে— أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ * إِلَّا مَوْتَتَنَا الْأُولَى وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ (এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না। আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা দণ্ডিতও হব না। [ সুরা সাফফাত, আয়াত: ৫৮-৫৯])
২। ফেরেশতা, রুহ, শয়তান, আখেরাতের অস্তিত্বকে এরা অস্বীকার করে।
৩। এরা তাকদিরকে অস্বীকার করে এবং মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে। তারা মনে করে কর্ম মানুষের নিজের সৃষ্টি। আল্লাহর সৃষ্টি নয়। কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাসের লেখক বলেন, 'তারা ইচ্ছার স্বাধীনতার কথা বলে। তারা বলে আমরা আমাদের কর্মের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্বের অধিকারী। আমরা নিজেদের কল্যাণ এর কারণ এবং বোকামির দণ্ড বহনকারী।'
৪। তারা মসিহ আলাইহিস সালামের আবির্ভাবকে অস্বীকার করে এবং তার আবির্ভাব এর অপেক্ষায়ও থাকে না।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 ধর্মীয় উৎসগত বৈশিষ্ট্য

📄 ধর্মীয় উৎসগত বৈশিষ্ট্য


১। এরা পুরাতন নিয়মে বিশ্বাসী। তবে তাওরাতের সর্বজনীন পবিত্রতায় বিশ্বাস করে না। কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাসের লেখক বলেন, 'সাদ্দুকিগণ তাদের শিক্ষাকে কিতাবের বাক্যে সীমাবদ্ধ রাখে। তারা বলে শুধুমাত্র নামুসের লিখিত হরফই আবশ্যককারী।'
২। মুসা আলাইহিস সালামের দিকে সম্পর্কিত মৌখিক বাণীগুলোকে তারা প্রত্যাখ্যান করে।
৩। এরা তালমুদ এবং তালমুদের শিক্ষায় বিশ্বাসী নয়। কেননা, এদের উদ্ভবের অনেক পরে ফরিশিগণ এটি লিপিবদ্ধ করে।
৪। এরা বলে থাকে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন নিজেকে নিজেই পরিচালনার জন্য। সুতরাং আল্লাহর ইচ্ছার দিকে তাকিয়ে থাকা অহেতুক একটি কাজ। মানুষের উচিত সমস্যার সমাধান নিজেই করে নেওয়া।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 মসিহ আলাইহিস সালামের সাথে সাদ্দুকিদের সম্পর্ক

📄 মসিহ আলাইহিস সালামের সাথে সাদ্দুকিদের সম্পর্ক


এই সম্প্রদায়ের সাথে প্রথম দিকে মসিহ আলাইহিস সালামের সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। কেননা, তিনি ফরিশিদের বিরোধিতা করতেন। কিন্তু পুনরুত্থান ও আখেরাতের প্রতি তাদের অবিশ্বাসের কারণে পরবর্তীকালে এই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তারা চেষ্টা করেছিল তাদের আকিদা এবং ফরিশিদের বিরোধীদের ক্ষেত্রে মসিহ আলাইহিস সালাম কে তাদের দলভুক্ত করতে। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কেননা, মসিহ আলাইহিস সালাম তাদের আকিদাগত বিভ্রান্তির বিষয়টি প্রকাশ করে দিয়েছিলেন।

মথি লিখিত সুসমাচারের দ্বাবিংশ অধ্যায়ে বলা হয়েছে-
সেই দিন সাদ্দুকিদের- যাহারা বলে পুনরুত্থান নাই- তাঁহার কাছে আসিল; এবং তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, গুরু, মোশি বলিয়াছেন, কেহ যদি নিঃসন্তান হইয়া মরে, তবে তাহার ভাই তাহার স্ত্রীকে বিবাহ করিয়া আপন ভাইয়ের জন্য বংশ উৎপন্ন করিবে। ভাল, আমাদের মধ্যে সাতটি ভাই ছিল; আর জ্যেষ্ঠ বিবাহের পর মরিয়া গেল, এবং সন্তান না হওয়াতে আপন ভ্রাতার জন্য নিজ স্ত্রীকে রাখিয়া গেল। দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রভৃতি সপ্তম জন পর্যন্ত সেইরূপ করিল। সকলের শেষে সেই স্ত্রীও মরিয়া গেল। অতএব পুনরুত্থানে ঐ সাত জনের মধ্যে সে কাহার স্ত্রী হইবে? সকলেই ত তাহাকে বিবাহ করিয়াছিল। যীশু উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরা ভ্রান্ত হইতেছ, কারণ তোমরা না জান শাস্ত্র, না জান ঈশ্বরের পরাক্রম। কেননা, পুনরুত্থানে লোকে বিবাহ করে না, এবং বিবাহিতাও হয় না, বরং স্বর্গে ঈশ্বরের দূতগণের ন্যায় থাকে। কিন্তু মৃতদের পুনরুত্থান বিষয়ে ঈশ্বর তোমাদিগকে যাহা বলিয়াছেন, তাহা কি তোমরা পাঠ কর নাই? তিনি বলেন, 'আমি অব্রাহামের ঈশ্বর, ইসহাকের ঈশ্বর, ও যাকোবের ঈশ্বর' ঈশ্বর মৃতদের ঈশ্বর নহেন, কিন্তু জীবিতদের। এই কথা শুনিয়া লোকসমূহ তাঁহার শিক্ষাতে চমৎকার জ্ঞান করিল।²⁶¹

এখান থেকেই মসিহ আলাইহিস সালাম এবং সাদ্দুকিদের মাঝে বিরোধ শুরু হয়। যুগে যুগে খ্রিষ্টানদের বিরোধিতায় এরা ফরিশিদের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। জন দ্য ব্যাপটিস্ট ফরিশিদের মত এদেরকেও সাপের বাচ্চা বলে সম্বোধন করেছেন। খ্রিষ্টানদের সাথে এই চরম বিরোধিতা সত্ত্বেও এই সম্প্রদায়টি অন্যান্য জাতির সাথে হৃদ্যতার সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করত। অপরদিকে ফরিশিরা অ-ইসরাইলিদেরকে শত্রুতা ও তাচ্ছিল্যের চোখে দেখত। সম্ভবত এই সম্প্রদায়টি সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে-

وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِقِنْطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ

কোনো কোনো আহলে কিতাব এমনও রয়েছে, তোমরা যদি তাদের কাছে বহু ধনসম্পদ আমানত রাখো, তাহলেও তা তোমাদের যথারীতি পরিশোধ করবে। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৭৫]

আর ফরিশিদের সম্পর্কে বলা হয়েছে-

وَمِنْهُمْ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِدِينَارٍ لَا يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ إِلَّا مَا دُمْতَ عَلَيْهِ قَائِمًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِিলُ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ .

আর তাদের মধ্যে অনেক এমনও রয়েছে যারা একটি দিনার গচ্ছিত রাখলেও ফেরত দেবে না-যে পর্যন্ত না তুমি তার মাথার ওপর দাঁড়াতে পারবে। এটা এজন্য যে, তারা বলে রেখেছে যে, (উম্মিদের অধিকার বিনষ্ট করাতে) আমাদের কোনো পাপ নেই। আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে জেনে শুনেই মিথ্যা বলে। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৭৫] ইহুদি সম্প্রদায়ের পরিভাষা অনুযায়ী অ-ইহুদিদেরকে উম্মি বলা হয়।

সাদ্দুকিরা কখনো বিপ্লব, সংঘাত ও বিপৎসংকুল কোনো কাজে অংশ নিতে আগ্রহী হয় না। তারা সর্বাবস্থায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে থাকে। শুধু যেকোনো উপায়ে তাদের ইহুদি ধর্মের সম্মান রক্ষা হলেই হলো। পরিস্থিতি মেনে নেওয়াকে তারা হিকমাহ তথা প্রজ্ঞার পরিচয় বলে মনে করে। এদের সংখ্যা অনেক কম যেমনটা ড. আহমদ শালবি তার মুকারানাতুল আদইয়ান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

টিকাঃ
২৬১. মথি, অধ্যায়: ২২, অনুচ্ছেদ: ২৩-৩৩।
২৬২. এখানে আরবি বাইবেল এবং বাংলা বাইবেলের মধ্যে বৈপরীত্য লক্ষণীয়। আরবিতে যে বাক্য আছে তার অর্থ হলো তারা মসিহ-এর বক্তব্যে হতবুদ্ধি হয়ে গেল। কিন্তু বাংলাতে অনুবাদ করা হয়েছে তারা চমৎকার জ্ঞান করিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px