📄 ৭। আরবি অনুবাদ
ইতিহাসের সর্বপ্রথম আরবি অনুবাদটি সম্পাদিত হয় ৭২৪ খ্রিষ্টাব্দে। সেভিলের বিশপ জন এ দায়িত্ব পালন করেন।
ইবনে নাদিম মনে করেন, প্রথমে তাওরাতকে হিব্রু থেকে আরবিতে রূপান্তর করেন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন সালাম।²⁴⁸
ইতিহাসবিদ মাসউদি অবশ্য তিনটি মত উল্লেখ করেছেন।
এক. হানিন ইবনে ইসহাক আন-নিসতুরি (মৃ. ২৬০ হিজরি মোতাবেক ৮৭৩-৮৭৪ খ্রি.)। তিনি গ্রিক বাইবেল থেকে এটি অনুবাদ করেন।
দুই. আবু কাসির (মৃ. ৩২০ হিজরি মোতাবেক ৯৩৪ খ্রি.)।
তিন. সাদ বিন ইউসুফ আল-ফাইয়ুমি (মৃ. ৩৩১ হিজরি মোতাবেক ৯৪৩ খ্রি.)।
শেষোক্ত দুজন হলেন ইহুদি পণ্ডিত। এরপর হিবা ইবনুল আসসাল ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দে কিবতি ভাষা থেকে আরবিতে রুপান্তর করেন।
এখান থেকে বুঝা যায় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ইসরাইলি পুস্তকের পূর্ণাঙ্গ কোনো আরবি কপি ছিল না।²⁴⁹
বর্তমানে বাইবেলের উভয় নিয়মের দুটি পূর্ণাঙ্গ আরবি অনুবাদ বাজারে পাওয়া যায়।
এক. আমেরিকান প্রোটেস্ট্যান্ট অনুবাদ। দুজন আমেরিকান ও তিনজন লেবানিজ পণ্ডিত এই অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করেন। তন্মধ্যে উনচল্লিশ পুস্তক বিশিষ্ট পুরাতন নিয়ম ছাপা হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
দুই. ক্যাথলিক অনুবাদ। যিশু সোসাইটির ফাদারগণ ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এই অনুবাদটি সম্পন্ন করেন। এটি বৈরুত থেকে ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে ছাপা হয়। এরপর আবার নতুনভাবে ক্যাথলিক অনুবাদ ছাপা হয় ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে। উনচল্লিশ পুস্তকের এই পুরাতন নিয়মটি বৈরুতের 'দারুল কিতাবিল মুকাদ্দাস ফিল আলামিল আরবি' থেকে ছাপানো হয়।
ব্যাবিলনীয় তালমুদের মূল আরবি নুসখাটি ইসরাইল থেকে পুনর্মুদ্রণ করা হয় এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গের মাঝে নামমাত্র মূল্য দশ ডলারে বণ্টন করা হয়। এই কপিটি সাধারণ ইহুদিদের কাছেও পৌঁছতে দেওয়া হয়নি। অথচ তারা প্রতি বছর কিতাবুল মুকাদ্দাস তথা বাইবেলের লক্ষ লক্ষ কপি ছাপায় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ফ্রি বিতরণ করে।
টিকাঃ
২৪৮. আল ফিহরিসত, পৃষ্ঠা: ৩৩
২৪৯. এজন্যই যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের ভাষা শিখতে বলেছিলেন, হে যায়েদ, তুমি ইহুদিদের ভাষা শিখে নাও। কেননা, তাদের ওপর আমি ভরসা করতে পারি না। এরপর যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে তা শিখে নিলেন। তিনি ইহুদিদের চিঠিপত্র নবিজিকে পড়ে শোনাতেন এবং লিখতেন। ইমাম বুখারি রাহিমাহুল্লাহ এই হাদিসটি তালিক হিসেবে এনেছেন, খণ্ড : ১৩, পৃষ্ঠা: ১৬১। তবে তিনি তার তারিখুল কাবির গ্রন্থে হাদিসটি মুত্তাসিল সনদে এনেছেন ৩/৩৮০-৩৮১। সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং: ৩৬৪৫, সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং: ২৭১৬, হাকেম হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৭৫।