📄 ২। ক্যালডিয়ান অনুবাদ
ব্যাবিলনের দীর্ঘকাল দাসত্বের জীবনযাপনের কারণে ইহুদিদের ভাষা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। তাদের মুখের ভাষা ছিল তখন আরামীয় ভাষা। এটিকে রূপকার্থে ক্যালডিয়ান ভাষাও বলা হয়ে থাকে। ইহুদিদের পূর্বপুরুষদের হিব্রু ভাষার সাথে এই ভাষার বিস্তর ফারাক রয়েছে। ভাষাগত এই জটিলতার কারণে তাদের ধর্মীয় পুস্তকগুলোকে আরামীয় ভাষায় অনুবাদের প্রয়োজন দেখা দেয়। এই অনুবাদকেই তারা নাম দিয়েছিল ‘তরজুমাত’। নহমিয়ের পুস্তকে এদিকেই ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে—
‘এইরূপে তাহারা স্পষ্ট উচ্চারণপূর্বক সেই পুস্তক, ঈশ্বরের ব্যবস্থা পাঠ করিল, এবং তাহার অর্থ করিয়া লোকদিগকে পাঠ বুঝাইয়া দিলো। আর শাসনকর্তা নহিমিয়, অধ্যাপক ইষ্রা যাজক ও লোকদের শিক্ষক লেবীয়েরা সমস্ত লোককে কহিলেন, অদ্যকার দিন তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে পবিত্র, তোমরা শোক করিও না, রোদন করিও না। কেননা ব্যবস্থা-পুস্তকের বাক্য শ্রবণে সমস্ত লোক রোদন করিতেছিল।’²⁴⁶
অর্থাৎ তারা পুস্তকগুলোকে ক্যালডিয়ান ভাষায় অনুবাদ করেছিল যে ভাষায় ইহুদিরা তখন কথা বলত।
টিকাঃ
২৪৬. নহমিয়, অধ্যায়: ৮, অনুচ্ছেদ: ৮-৯।
📄 ৩। ল্যাটিন অনুবাদ
ঈসা আলাইহিস সালাম পরবর্তী যুগে প্রথম শতাব্দীতেই গ্রিক অনুবাদ থেকে ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ হয়। কেননা ল্যাটিন ভাষা সেসময় উত্তর আফ্রিকার বহুল প্রচলিত ভাষা ছিল। এখানকার ইহুদি-খ্রিষ্টান অধিবাসীরা এই অনুবাদ দিয়ে দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করত।
📄 ৪। ইথিওপিয়ান অনুবাদ
৩২০ খ্রিষ্টাব্দে গ্রিক অনুবাদ থেকে পুরাতন নিয়মকে ইথিউপিয়ান (হাবশি) ভাষায় অনুবাদ করা হয়। বলা হয়ে থাকে সম্রাট কনস্টানাটিন (৩২৪-৩৩৭ খ্রি.) এর সময়ে যখন হাবশায় খ্রিষ্টধর্ম প্রবেশ করে তখন এই অনুবাদের কাজ শুরু হয়। এরপর চতুর্থ শতাব্দীর শেষের দিকে এই অনুবাদের কাজ সমাপ্ত হয়।
📄 ৫। গোথিক (Gothic) অনুবাদ
বিশপ ভিলাস ৩৫০ খ্রিষ্টাব্দে পুরোনো ও নতুন নিয়মকে গোথিক ভাষায় অনুবাদ করেন। কিন্তু তিনি সামুয়েলের পুস্তকদ্বয় এবং রাজাবলি পুস্তকদ্বয় অনুবাদ করেননি। তার বক্তব্য ছিল এই পুস্তকগুলি গোথিক জাতির জন্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কেননা এগুলোতে নৈরাজ্যবাদী চেতনা বিদ্যমান রয়েছে।²⁴⁷
টিকাঃ
২৪৭. কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, পৃষ্ঠা: ৭৭১