📄 ১। হিব্রু
পুরাতন নিয়মের সবচেয়ে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি হলো হিব্রু ভাষার। এটি মৃত সাগর (Dead Sea) এর কাছে কমরান (Qumran) উপত্যকায় পাওয়া যায়। এই পাণ্ডুলিপির কোনো কোনো তারিখ খ্রিষ্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীর।
তামরের অধিবাসী একজন আরব রাখাল যিরিহো থেকে বারো কিলোমিটার দূরে মৃত সাগরের উত্তর পশ্চিম তীরে উপত্যকার মুখে একটি গুহাতে পাণ্ডুলিপিটি খুঁজে পান। পুরানো লিনেন কাপড়ে মোড়ানো কিতাবটি একটি মাটির পাত্রের ভেতরে রাখা ছিল। কিতাবটিতে পুরাতন নিয়মের কিছু পুস্তক পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য নবি যিশাইয়ের পুস্তক। একইভাবে এই অঞ্চলের অন্যান্য গুহা থেকে কিতাবটির অন্যান্য অংশ পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে ছিল লেবীয় পুস্তক, গীত পুস্তক এবং ইয়োবের পুস্তকের একটি অনুচ্ছেদ।²³⁵
কিন্তু আমাদের সামনে হিব্রু যে কপিটি রয়েছে তা মাসুরি লিপি (Massoretic Text) থেকে কপিকৃত। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে ইহুদি পণ্ডিতগণ এটি প্রস্তুত করেন। হিব্রু ভাষায় প্রথম পুরাতন নিয়ম ছাপা হয় ১৪৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ডাচি অব মিলান²⁰⁶ সাম্রাজ্যের সোন্সিউমানে (ধারণা অনুযায়ী বর্তমান সুইজারল্যান্ড)। এরপর দ্বিতীয়বার ছাপা হয় ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে ইতালির ব্রেসসিয়াতে।
টিকাঃ
২৩৫. J.A. Sanders, The dead sea psalus scrall, Oxford University-১৯৬৭, মাখতুতাতুল বাহরিল মাইয়িত, ৫৪, আল-আরব ওয়াল ইয়াহুদ ফিত তারিখ, ১৬১
২০৬. ডাচি অব মিলান ছিল ১৩৯৫ থেকে ১৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় একটি সাম্রাজ্য। এটি ছিল হলি রোমান এম্পায়ারের একটি অংশ। উইকিপিডিয়া—নিরীক্ষক
📄 ২। সামেরিয়া (Samaritan)
এই পাণ্ডুলিপিতে শুধু মুসার পাঁচ কিতাব সন্নিবেশিত হয়েছে। গবেষকরা মনে করেন এটি খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে লিখা হয়েছে। এটি কোনো অনুবাদগ্রন্থ নয়। বরং এটি সামেরিয় হরফে লিখিত মূল হিব্রু ভাষায় রচিত হয়েছে। অনেকে মনে করেন এটি পুরাতন হিব্রু হরফে লিখিত হয়েছে। এই সামেরিয়াহ তাওরাতের হস্তলিখিত একটি পাণ্ডুলিপি ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে নাবলুস শহরে পাওয়া গিয়েছে। সামেরি যাজক আবুল হাসান ইসহাক আস-সুরি হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে এটিকে আরবিতে রূপান্তর করেন। ড. আহমদ হিজাযী এটি প্রকাশ করেন এবং শুরুতে একটি দীর্ঘ ভূমিকা জুড়ে দেন। সামেরিয় তাওরাত ও হিব্রু তাওরাতের মাঝে ছয় হাজারেরও বেশি বৈপরীত্য বিদ্যমান। যেমন জেরুজালেমের চেয়ে গেরিজিম পর্বতকে (Gerizim) অধিক সম্মান করা। এই কপিটির দিকে ইঙ্গিত করে ইবনে হাযম বলেন, তাওরাতের এই নুসখাটি প্রথম ১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্যারিসে ছাপানো হয়। অতঃপর দ্বিতীয়বার ছাপানো হয় ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে।