📄 তাওরাত লিপিবদ্ধকরণের পর্যায়সমূহ
পুরাতন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রথম অংশ তথা তাওরাতের পুস্তকগুলো। ইহুদিরা বিশ্বাস করে এগুলো আল্লাহর ওহি যা মুসা আলাইহিস সালামের ওপর নাজিল হয়েছিল। তারা এও বিশ্বাস করে যে মুসা নিজেই এই পুস্তকগুলো একত্রিত করেছেন, যা পরবর্তীতে তাওরাত নামে নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু ধারাবাহিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এই গ্রন্থগুলো একক কোনো ব্যক্তির রচনা নয়। এমনকি এগুলো মুসা আলাইহিস সালামের যুগেও রচিত হয়নি। বরং মুসা আলাইহিস সালামের ওফাতের দীর্ঘকাল পর এগুলো লিখা হয়েছে।
এগুলো অধ্যয়ন করলে যে কেউই দেখতে পাবে যে, মুসা আলাইহিস সালাম পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা এগুলোতে স্থান পেয়েছে। যেমন আদিপুস্তকে এসেছে, অতঃপর ইসরাইল সফর করিল এবং মিগদল ইদরের পেছনে তাঁবু স্থাপন করল।¹⁹⁸ আর এ কথা সর্বজনবিদিত যে মিগদল ইদর (Tower of Edar) বাইতুল মুকাদ্দাসের একটি টাওয়ার। এটি মুসা আলাইহিস সালামের সাতশ বছর পর সুলাইমান আলাইহিস সালাম নির্মাণ করেছিলেন। একই পুস্তকে আরও বলা হয়েছে, ইস্রায়েল-সন্তানদের ওপরে কোনো রাজা রাজত্ব করিবার পূর্বে ইঁহারা ইদোম দেশের রাজা ছিলেন।¹⁹⁹ এখান থেকে বোঝা যায়, বনি ইসরাইলের বেশকিছু রাজা অতিবাহিত হওয়ার পর আদিপুস্তক রচিত হয়েছে।
যাত্রাপুস্তকে বলা হয়েছে, বনি ইসরাইল কানান দেশে পৌঁছে চল্লিশ বছর পর্যন্ত মান্না ভক্ষণ করিয়াছিল। তারা মোশির যুগে কানানে পৌঁছতে পারেনি। এর অর্থ দাঁড়ায়—এই পুস্তক বনি ইসরাইল কানানে পৌঁছার পর লিপিবদ্ধ হয়েছে। আর মুসা আলাইহিস সালামের জীবদ্দশায় তারা কানানে পৌঁছতে পারেনি।
দ্বিতীয় বিবরণে মুসা আলাইহিস সালামের মৃত্যুর বর্ণনা আলোচিত হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা পূর্বেই মনোজ্ঞ আলোচনা করেছি। পুরাতন নিয়মের ব্যাখ্যাকারগণ সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এই অনুচ্ছেদগুলো মুসার পরে তাওরাতে যুক্ত করা হয়েছে। কেননা, মুসা আলাইহিস সালাম নিজেই নিজের মৃত্যু বিবরণী লিখে যাবেন, এটা হাস্যকর অসম্ভব। এখানে আরও বহু ঘটনা বিবৃত হয়েছে যেগুলো মুসা আলাইহিস সালামের পরে সংঘটিত হয়েছে। তাওরাতে এগুলো লিপিবদ্ধ ছিল।²⁰⁰
ইহুদি পণ্ডিতগণ এবং খ্রিষ্টান আলেমগণ যখন কথিত তাওরাতে এই বৈপরীত্যগুলো দেখতে পেলেন তখন তারা স্বেচ্ছায় তাওরাত বিকৃতিতে লেগে গেলেন। এই বিকৃতিকে তারা 'পাদরিদের সংস্করণ' নামে নামকরণ করেন। টমাস বলেন, আদিপুস্তকে এ কথা ছিল যে, যিহোভা প্রভু আব্রাহামের সামনে দাঁড়িয়ে রইলেন। এই বাক্যটিকে পরিবর্তন করে তারা লিখে দিলো, অব্রাহাম আ. তখনও সদাপ্রভুর সাক্ষাতে দণ্ডায়মান থাকিলেন।²⁰¹ প্রথম বাক্যটিতে যখন তারা প্রভুর শানে বেয়াদবি প্রত্যক্ষ করল তখন তারা বাক্যটিকে ঘুড়িয়ে দিলো। বিচারকগণের পুস্তকে বলা হয়েছিল, জোনাথন মুসার নাতি। কিন্তু পরে তারা তাকে ভুলে মনঃষির নাতি বানিয়ে দেয়।²⁰²
তাদের এই সংস্কারের পরও এখনও কথিত তাওরাতে প্রচুর সাংঘর্ষিক ও জগাখিচুড়িমার্কা বক্তব্য অবশিষ্ট আছে। উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি নিম্নে দেওয়া হলো।
১। যাত্রাপুস্তকে বলা হয়েছে, তখন মোশি ও হারোণ, নাদব ও অবীহ্ এবং ইস্রায়েলের প্রাচীনবর্গের মধ্যে সত্তর জন উঠিয়া গেলেন; আর তাঁহারা ইস্রায়েলের ঈশ্বরকে দর্শন করিলেন।²⁰³ অথচ একই পুস্তকে আবার বলা হয়েছে, আরও কহিলেন, তুমি আমার মুখ দেখিতে পাইবে না, কেননা মনুষ্য আমাকে দেখিলে বাঁচিতে পারে না।²⁰⁴
২। যাত্রাপুস্তকে আরও বলা হয়েছে, আমার ও ইস্রায়েল-সন্তানগণের মধ্যে ইহা চিরস্থায়ী চিহ্ন; কেননা সদাপ্রভু ছয় দিনে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী নির্মাণ করিয়াছিলেন, আর সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিয়া আপ্যায়িত হইয়াছিলেন।²⁰⁵ অথচ যিশাইয় এর পুস্তকে বলা হয়েছে, তুমি কি জ্ঞাত হও নাই? তুমি কি শুনো নাই? অনাদি অনন্ত ঈশ্বর, সদাপ্রভু, পৃথিবীর প্রান্ত সকলের সৃষ্টিকর্তা ক্লান্ত হন না, শ্রান্ত হন না; তাঁহার বুদ্ধির অনুসন্ধান করা যায় না।²⁰⁶
৩। শমুয়েলের ২য় পুস্তকে বলা হয়েছে, আর সৌলের কন্যা মীখলের মরণকাল পর্যন্ত সন্তান হইল না।²⁰⁷ একই পুস্তকে আবার বলা হয়েছে, কিন্তু অয়ার কন্যা রিস্পা শৌলের জন্য অর্মোণি ও মফীবোশৎ নামে যে দুইটি পুত্র প্রসব করিয়াছিল এবং মহোলাতীয় বর্সিল্লয়ের পুত্র অদ্রীয়েলের জন্য শৌলের কন্যা মীখল যে পাঁচটি পুত্র প্রসব করিয়াছিল, তাহাদিগকে লইয়া রাজা গিবিয়োনীয়দের হস্তে সমর্পণ করিলেন।²⁰⁸
৪। রাজাবলি ২য় পুস্তকে বলা হয়েছে, অহসিয় বাইশ বৎসর বয়সে রাজত্ব করিতে আরম্ভ করিয়া যিরূশালেমে এক বৎসর রাজত্ব করেন। তাঁহার মাতার নাম অথলিয়া, তিনি ইস্রায়েল-রাজ অম্রির পৌত্রী।²⁰৯ অপরদিকে বংশাবলি ২য় পুস্তকে বলা হয়েছে, অহসিয় বিয়াল্লিশ বৎসর বয়সে রাজত্ব করিতে আরম্ভ করেন; এবং যিরূশালেমে এক বৎসর কাল রাজত্ব করেন; তাঁহার মাতার নাম অথলিয়া, ইনি অম্রির পৌত্রী।²¹⁰
৫। আদিপুস্তকে এসেছে, যে স্থানে আব্রাহামকর্তৃক পুত্রকে জবাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল আব্রাহাম সে স্থানের নাম রেখেছিলেন যিহোভা যিরি। আর অব্রাহাম সেই স্থানের নাম যিহোভা-যিরি²¹¹ রাখিলেন। এই জন্য অদ্যাপি লোকে বলে, সদাপ্রভুর পর্বতে যোগান হইবে।²¹² ইহুদিদের নিকট যিহোভা আল্লাহ তাআলার একটি নাম। এর অর্থ হচ্ছে সেই সত্তা যিনি অস্তিত্বশীল। যিহোভা শব্দের ব্যবহার শুরু হয় মুসা আলাইহিস সালামের যুগে। এর আগে শব্দটি পরিচিত ছিল না। যেমন যাত্রাপুস্তকে বলা হয়েছে, 'ঈশ্বর মোশির সহিত আলাপ করিয়া আরও কহিলেন, আমি যিহোভা²¹³; আমি অব্রাহামকে, ইসহাককে ও যাকোবকে 'সর্বশক্তিমান ঈশ্বর' বলিয়া দর্শন দিতাম, কিন্তু আমার যিহোভা²¹⁴ নাম লইয়া তাহাদিগকে আমার পরিচয় দিতাম না।'²¹⁵
৬। দ্বিতীয় বিবরণে দশ আজ্ঞার বর্ণনায় বলা হয়েছে, সদাপ্রভু পর্বতে অগ্নির, মেঘের ও ঘোর অন্ধকারের মধ্য হইতে তোমাদের সমস্ত সমাজের নিকটে এই সমস্ত বাক্য মহারবে বলিয়াছিলেন, আর কিছুই বলেন নাই। পরে তিনি এই সমস্ত কথা দুইখানি প্রস্তরফলকে লিখিয়া আমাকে দিয়াছিলেন।²¹⁶ এখানে বর্ণিত দশ আজ্ঞা এ সপ্তম দিনে আল্লাহ তাআলার বিশ্রামের কথা উল্লেখ হয়নি শনিবাবের ব্যাপারে শুধু বলা হয়েছে, যাতে তোমার গোলাম তোমার দাসীও তোমার মতো বিশ্রাম নেয়।²¹⁷ একই পুস্তকে দশ আজ্ঞায় আরও বলা হয়েছে, তোমার প্রতিবাসীর স্ত্রীতে লোভ করিও না; প্রতিবাসীর গৃহে কি ক্ষেত্রে, কিংবা তাহার দাসে কি দাসীতে, কিংবা তাহার গরুতে কি গর্দভে, প্রতিবাসীর কোনো বস্তুতেই লোভ করিও না।²¹৮ এই দশটি আজ্ঞা যাত্রাপুস্তকেও উল্লেখ হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিবরণীর দশ আজ্ঞার সাথে যাত্রাপুস্তকের দশ আজ্ঞার বেশ কিছু অমিল রয়েছে। যেমন যাত্রাপুস্তকে বলা হয়েছে, কেননা সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী, সমুদ্র ও সেই সকলের মধ্যবর্তী সমস্ত বস্তু ছয় দিনে নির্মাণ করিয়া সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিলেন। এই জন্য সদাপ্রভু বিশ্রামদিনকে আশীর্বাদ করিলেন, ও পবিত্র করিলেন।²¹⁹ একইভাবে এই পুস্তকে প্রতিবাসীর কথা উল্লেখ করা হয়নি যার বর্ণনা দ্বিতীয় বিবরণীতে ছিল।²²⁰ তাওরাতের ভাষ্য অনুযায়ী এই দশটি আজ্ঞা প্রভু নিজেই লিখে দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো প্রভুর লিখিত বাণীতে কি এমন বৈপরীত্ব থাকতে পারে? আশ্চর্যের বিষয় হলো দ্বিতীয় বিবরণে এই দশটি অজ্ঞার আলোচনার পর জোর দিয়ে বলা হয়েছে প্রভু এরচেয়ে কিছুই বাড়িয়ে বলেননি। অথচ যাত্রাপুস্তকে এসেছে, পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে এই কথা কহ, তোমরা নিজেরাই দেখিলে, আমি আকাশ হইতে তোমাদের সহিত কথা কহিলাম। তোমরা আমার প্রতিযোগী কিছু নির্মাণ করিও না; আপনাদের নিমিত্তে রৌপ্যময় দেবতা কি স্বর্ণময় দেবতা নির্মাণ করিও না।²²¹
৭। আদিপুস্তকে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা ষষ্ঠ দিনে মানুষ এবং চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করলেন। সেখানে বলা হয়েছে, পরে ঈশ্বর কহিলেন, ভূমি নানাজাতীয় প্রাণিবর্গ, অর্থাৎ স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী গৃহপালিত পশু, সরীসৃপ ও বন্য পশু উৎপন্ন করুক; তাহাতে সেইরূপ হইল। ফলত ঈশ্বর স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী বন্য পশু ও স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী গৃহপালিত পশু ও স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী যাবতীয় ভূচর সরীসৃপ নির্মাণ করিলেন; আর ঈশ্বর দেখিলেন যে, সেই সকল উত্তম। পরে ঈশ্বর কহিলেন, আমরা আমাদের প্রতিমূর্তিতে, আমাদের সাদৃশ্যে মনুষ্য নির্মাণ করি; আর তাহারা সমুদ্রের মৎস্যদের উপরে, আকাশের পক্ষীদের উপরে, পশুগণের উপরে, সমস্ত পৃথিবীর উপরে, ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় সরীসৃপের উপরে কর্তৃত্ব করুক।²²² এটি ঘটেছিল জমিনের বুকে গাছগাছালি ফলমূল ও আসমানের পাখি সৃষ্টির পর। অথচ একই পুস্তকে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা প্রাণিজগতের পূর্বে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আর সদাপ্রভু ঈশ্বর মৃত্তিকা হইতে সকল বন্য পশু ও আকাশের সকল পক্ষী নির্মাণ করিলেন; পরে আদম তাহাদের কি কি নাম রাখিবেন তাহা জানিতে সেই সকলকে তাঁহার নিকটে আনিলেন। তাতে আদম যে সজীব প্রাণীর যে নাম রাখিলেন, তাহার সেই নাম হইল।²²³ এর আগে একই অধ্যায়ে বলা হয়েছে, 'আর সদাপ্রভু ঈশ্বর মৃত্তিকার ধূলিতে আদমকে (অর্থাৎ মনুষ্যকে) নির্মাণ করিলেন, এবং তাহার নাসিকায় ফুঁ দিয়া প্রাণবায়ু প্রবেশ করাইলেন; তাহাতে মনুষ্য সজীব প্রাণী হইল।"²²⁴ আর এগুলো প্রাণীজগৎ সৃষ্টির পূর্বে।
৮। ইহুদিদের শরিয়ত অনুযায়ী ফুফুকে বিবাহ করা হারাম। যেমন লেবির পুস্তকে বলা হয়েছে, 'আর তুমি আপন মাসীর কিংবা পিসীর আবরণীয় অনাবৃত করিও না; তাহা করিলে তোমার নিকটবর্তী কুটুম্বের আবরণীয় অনাবৃত করা হয়, তাহারা উভয়েই আপন আপন অপরাধ বহন করিবে।²²৫ অথচ মুসা আলাইহিস সালামের পিতা নাকি তার ফুফুকে বিবাহ করেছিলেন। যেমন যাত্রাপুস্তকে বলা হয়েছে, 'অশ্রম আপন পিসী যোকেবদকে বিবাহ করিলেন, আর ইনি তাঁহার জন্য হারোণকে ও মোশিকে প্রসব করিলেন। অম্রমের বয়স একশত সাঁইত্রিশ বৎসর হইয়াছিল।²²৬ একইভাবে গণনাপুস্তকে বলা হয়েছে, অম্রামের স্ত্রীর নাম যোকেবদ, তিনি লেবির কন্যা, মিশরে লেবির ঔরসে তাঁহার জন্ম হয়। তিনি অম্রামের জন্য হারোণ, মোশি ও তাঁহাদের ভগিনী মরিয়মকে প্রসব করিয়াছিলেন।"²²৭
টিকাঃ
১৯৮. আদিপুস্তক, অধ্যায়: ৩৩, অনুচ্ছেদ: ২২১।
১৯৯. আদিপুস্তক, অধ্যায়: ৩৬, অনুচ্ছেদ: ৩১।
২০০. উদাহরণস্বরূপ দেখা যেতে পারে আদিপুস্তক, অধ্যায়: ১৪, অনুচ্ছেদ: ১৪; দ্বিতীয় বিবরণ, অধ্যায়: ২৪, অনুচ্ছেদ: ১; বিচারকগণের পুস্তক, অধ্যায়: ১৮, অনুচ্ছেদ: ২৯; গণনা পুস্তক, অধ্যায়: ২১, অনুচ্ছেদ: ১৪।
২০১. History of the English Bible
২০২. বিচারকগণ, অধ্যায়: ১৮, অনুচ্ছেদ: ৩০।
২০৩. যাত্রাপুস্তক, অধ্যায়: ২৪, অনুচ্ছেদ: ৯-১০।
২০৪. যাত্রাপুস্তক, অধ্যায়: ৩৩, অনুচ্ছেদ: ২০।
২০৫. যাত্রাপুস্তক, অধ্যায়: ৩১, অনুচ্ছেদ: ১৭।
২০৬. যিশাইয়, অধ্যায়: ৪০, অনুচ্ছেদ: ২৮।
২০৭. শমুয়েল ২য়, অধ্যায় ৬, অনুচ্ছেদ: ২৩।
২০৮. শমুয়েল ২য়, অধ্যায়: ২১, অনুচ্ছেদ: ৮।
২০৯. রাজাবলি ২য়, অধ্যায়: ৮, অনুচ্ছেদ: ২৬।
২১০. বংশাবলি ২য়, অধ্যায়: ২২, অনুচ্ছেদ: ২।
২১১. অর্থ্যাৎ সদাপ্রভু যোগাইবেন।
২১২. আদিপুস্তক, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ১৪
২১৩. সদাপ্রভু
২১৪. সদাপ্রভু
২১৫. যাত্রাপুস্তক, অধ্যায় ৬, অনুচ্ছেদ: ২-৩।
২১৬. দ্বিতীয় বিবরণ, অধ্যায়: ৫, অনুচ্ছেদ: ২২।
২১৭. দ্বিতীয় বিবরণ, অধ্যায়: ৫, অনুচ্ছেদ: ১৪।
২১৮. দ্বিতীয় বিবরণ, অধ্যায় ৫, অনুচ্ছেদ: ২১।
২১৯. যাত্রাপুস্তক, অধ্যায়: ২০, অনুচ্ছেদ: ১১।
২২০. যাত্রাপুস্তক, অধ্যায়: ২০, অনুচ্ছেদ: ১৭।
২২১. যাত্রাপুস্তক, অধ্যায়: ২, অনুচ্ছেদ: ২২-২৩।
২২২. আদিপুস্তক, অধ্যায়: ১, অনুচ্ছেদ: ২৪-২৬।
২২৩. আদিপুস্তক, অধ্যায়: ২, অনুচ্ছেদ: ১৯।
২২৪. আদিপুস্তক, অধ্যায়: ২, অনুচ্ছেদ: ৭।
২২৫. লেবীয় পুস্তক, অধ্যায়: ২০, অনুচ্ছেদ: ১৯।
২২৬. যাত্রাপুস্তক, অধ্যায়: ৬, অনুচ্ছেদ: ২০।
২২৭. গণনা পুস্তক, অধ্যায়: ২৬, অনুচ্ছেদ: ৫৯।
📄 তাওরাত সংকলনের বিভিন্ন স্তর
ইহুদি ও খ্রিষ্টান পণ্ডিতগণ একমত যে, প্রাথমিকভাবে তাওরাত পুরোটা একখণ্ড ছিল। অতঃপর ২৮৪ খ্রিষ্টপূর্বে ইহুদিরা যখন এটাকে গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করে তখন তারা এটিকে পাঁচ খণ্ডে ভাগ করে নেয়। ১২৪০ খ্রিষ্টাব্দে কার্ডিনাল এতে অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ যুক্ত করেন। পণ্ডিতগণ এতে নুকতা, হরকত প্রভৃতি জুড়ে দেন। কেননা, হিব্রু বাইবেলে নুকতা-হরকত ছিল না। এত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও তাহকিকের পরও তাওরাত শব্দ ও অর্থগত দিক থেকে তালগোল পাকানোই রয়ে গেছে।
প্রথম তাওরাতের বিনাশ ঘটে ৯৪৫ খ্রিষ্টপূর্বে রহবিয়াম বিন সুলাইমান এর রাজত্বকালে, যখন মিশর সম্রাট শশাঙ্ক আক্রমণ করেছিলেন।²²⁸ রাজাবলি ১ম পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে, আর রহবিয়াম রাজার পঞ্চম বৎসরে মিসর-রাজ শীশক যিরূশালেমের বিরুদ্ধে আসিলেন; তিনি সদাপ্রভুর গৃহের ধন ও রাজবাটীর ধন লইয়া গেলেন; তিনি সমস্তই লইয়া গেলেন, আর শলোমনের নির্মিত স্বর্ণময় ঢাল সকলও লইয়া গেলেন।²²⁹
খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর সূচনা পর্যন্ত তাওরাত গায়েব ছিল। এরপর যাজক হিল্কিয় ঘোষণা দিলেন যে তিনি হাইকলের ভেতর শরিয়তসম্বলিত একটি পুস্তক পেয়েছেন। রাজাবলি দ্বিতীয় পুস্তকে এই ঘটনা বিবৃত হয়েছে। বলা হয়েছে, তখন হিষ্কিয় মহাযাজক শাফন লেখককে কহিলেন, আমি সদাপ্রভুর গৃহে ব্যবস্থাপুস্তকখানি পাইয়াছি। পরে হিল্কিয় শাফনকে সেই পুস্তক দিলে তিনি তাহা পাঠ করিলেন। আর শাফন লেখক রাজার নিকটে গিয়া তাঁহাকে এই সমাচার দিলেন, আপনার দাসগণ সেই গৃহে প্রাপ্ত সমস্ত টাকা একত্র করিয়া সদাপ্রভুর গৃহের তত্ত্বাবধায়ক কার্যকারীদের হস্তে দিয়াছে। পরে শাফন লেখক রাজাকে কহিলেন, হিল্কিয় যাজক আমাকে একখানি পুস্তক দিয়াছেন। আর শাফন রাজার সাক্ষাতে তাহা পাঠ করিতে লাগিলেন। তখন রাজা সেই ব্যবস্থাপুস্তকের বাক্য সকল শুনিয়া আপনার বস্ত্র ছিঁড়িলেন।²³⁰
৬২৩ খ্রিষ্টপূর্বে যিহুদা রাজ্যে ঘটনাটি ঘটেছিল। এখান থেকে বোঝা যায়, সে সময়টাতে তাওরাতের কপি খুব বেশি ছিল না। শুধু একটি কপি পাওয়া গিয়েছিল হাইকলের ভিতর। প্রায় তিনশ বছর গায়েব থাকার পর হিল্কিও একমাত্র কপিটি খুঁজে পান। প্রশ্ন আসে, এটাই যে মুসা আলাইহিস সালামের তাওরাত তার প্রমাণ কি? প্রকৃত তাওরাতের সাথে মিলিয়ে দেখার কি কোনো সুযোগ ছিল? এত বছর পরে তো এমন কেউই বেঁচে ছিলেন না যিনি সরাসরি মুসা আলাইহিস সালাম কিংবা তার সন্তানদের কাছ থেকে তাওরাত শুনেছেন। খ্রিষ্টান পণ্ডিতগণ লক্ষ লক্ষ ঘণ্টা গবেষণা করেও এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে ব্যাবিলন সম্রাট বুখতে নসর জেরুজালেমে হামলা চালান এবং বায়তুল মুকাদ্দাস গুঁড়িয়ে দেন (৫৯৭ খ্রিষ্টপূর্ব)। সেখানকার সমস্ত আলামত তিনি মুছে দেন এবং চল্লিশ হাজারেরও বেশি ইহুদিদেরকে বন্দি করে ব্যাবিলনে নিয়ে যান। প্রায় চল্লিশ মতান্তরে সত্তর বছর এরা ব্যাবিলনে দাসবৃত্তি করতে বাধ্য হয়। একপর্যায়ে তারা নিজেদের জাতিগত ভাষা হিব্রু ভাষাও ভুলে যায়। বংশাবলি দ্বিতীয় পুস্তকের ছত্রিশতম অধ্যায়ে বুখতে নসর এর জেরুজালেম অভিযানের ঘটনা সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আর তাঁহার লোকেরা ঈশ্বরের গৃহ পোড়াইয়া দিল, যিরূশালেমের প্রাচীর ভগ্ন করিল, এবং তথাকার সকল অট্টালিকা অগ্নি দ্বারা পোড়াইয়া দিল, তথাকার সমস্ত মনোরম পাত্র বিনষ্ট করিল। আর তিনি খড়া হইতে রক্ষাপ্রাপ্ত অবশিষ্ট লোকদিগকে বাবিলে লইয়া গেলেন; তাহাতে পারস্য-রাজ্য স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত লোকেরা তাঁহার ও তাঁহার সন্তানদের দাস থাকিল।²³¹
ইহুদিরা পারস্য সম্রাটের সহযোগিতায় ব্যাবিলন শাসকের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে নিজেদের দেশে ফিরে আসে। এরপর তাদের পণ্ডিতগণ নতুনভাবে তাওরাত সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে যাজক ইষ্রার যথেষ্ট অবদান ছিল। ইষ্রার পুস্তকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, তিনি ইহুদি ধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। একইভাবে হারিয়ে যাওয়া তাওরাতকে তিনি ফিরিয়ে এনেছেন। এ ছাড়াও তিনি তাওরাতে অ্যাসিরিয়ান শব্দ প্রবেশ ঘটিয়েছেন। কিন্তু ইষ্রা কীভাবে নতুনভাবে তাওরাত সংকলন করেছিলেন এ ব্যাপারে খ্রিষ্টান আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। অনেকেই বলে থাকেন, তিনি ইতিপূর্বে এগুলো আদ্যোপান্ত পাঠ করেছিলেন। পরে নবি নহমিয় এর সহযোগিতায় তিনি এটিকে সংকলন করেন। উল্লেখ্য, নহমিয় হাইকল নির্মাণেও ইষ্রার সহযোগী ছিলেন। খ্রিষ্টান লেখক কিটোসহ অনেকেরই মত হলো, ইষ্রা পুরো তাওরাত মুখস্থ জানতেন। নিজ স্মৃতিশক্তি থেকেই তিনি এটাকে পুনর্বার সংকলন করেন।
তৃতীয় মত হলো, ইষ্রা একশ বিশ জন পণ্ডিতকে নিয়ে একটি পরিষদ গঠন করে দিয়েছিলেন। এটাই পরবর্তীতে মহান গির্জা (The great church) নামে পরিচিতি লাভ করে। এদের সবার দায়িত্ব ছিল তাওরাত সংকলন করা, কপি করা, পড়া এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। হাফেজ ইবনে হাজম বলেন, ইষ্রা কর্তৃক তাওরাত লিপিবদ্ধ করার ঘটনাটি বায়তুল মুকাদ্দাস বিরান হওয়ার সত্তর বছরেরও অধিক পরে সংগঠিত হয়েছিল। তাদের কিতাবগুলো সাক্ষ্য দেয় যে বন্দিদশা থেকে ফিরে আসার প্রায় চল্লিশ বছর পর ইষ্রা এটি লিখেন। এ সময় তাদের মধ্যে কোনো নবি ছিল না। ছিল না কোনো কুব্বা কিংবা তাবুত।... তখন থেকেই মূলত তাওরাতের প্রচার প্রসার ঘটতে থাকে। তবে এই প্রচার-প্রসার ছিল খুবই দুর্বল পন্থায়।²³²
এ কথা স্পষ্ট যে ব্যাবিলনের বন্দিদশা থেকে ফিলিস্তিনে ফিরে এসে তারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুনরায় ইহুদি জাতিসত্তার সংরক্ষণে মনোনিবেশ করে। ভিন্ন জাতি কর্তৃক জুলুম-অত্যাচারের অভিজ্ঞতা তাদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর ১৭০ খ্রিষ্টপূর্বে তৃতীয়বারের মতো তাওরাত হারিয়ে যায়। মেসিডোনিয়া সম্রাট এন্টিওকাস এপিফানেস এসময় জেরুজালেমে অভিযান চালায়। হাইকলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয় এবং সেখানে রক্ষিত সমস্ত পুস্তক ও চিহ্ন নিশ্চিহ্ন করে ফেলে। অতঃপর সত্তর খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টাইটাসের জেরুজালেম অভিযানে চতুর্থবারের মতো তাওরাত বিলুপ্ত হয়। টাইটাস বাইতুল মুকাদ্দাস পোড়াতে চায়নি। তিনি লোকদেরকে আগুন নেভাতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয় না। বাইতুল মুকাদ্দাসের অভ্যন্তরে রক্ষিত তরবারি, স্বর্ণালঙ্কার ও যাবতীয় পুস্তকসহ পুড়ে যায়।²³³
টাইটাসের অভিযানের পর অবশিষ্ট ইহুদিরা একত্রিত হয়। সত্তর খ্রিষ্টাব্দে তারা রোমান সাম্রাজ্য আক্রমণ করে। কিন্তু যুদ্ধে তাদেরকে পরাস্ত হতে হয়। এতে করে রোমান হুকুমত প্রচণ্ড রেগে যায় এবং জেরুজালেমের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করে। এই বাহিনীটি ইহুদিদের সমস্ত চিহ্ন মুছে দেয়। ৪০০ খ্রিষ্টাব্দে রোমের উত্তর দিক থেকে পৌত্তলিকদের আগমন ঘটে। তারা রোমানদের সমস্ত উপনিবেশগুলোতে হামলা চালায়। ৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে ইরান-শাহ পারভেজ জেরুজালেম আক্রমণ করেন। নব্বই হাজারেরও বেশি ইহুদিকে তিনি হত্যা করেন। পবিত্র স্থানগুলোকে গুঁড়িয়ে দেন এবং ধর্মীয় পুস্তকগুলো পুড়িয়ে ফেলেন। এই হলো ইহুদিদের তাওরাতের গল্প। ইতিহাসবিদগণ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, ষোড়শ শতাব্দীর সূচনালগ্নে যখন ইহুদিরা স্পেন থেকে বিতাড়িত হয় তখন মুসলিমরাই তাদের সাথে সদাচারের পরিচয় দেয় এদেরকে সাবাতিয়ান ইহুদি বা দোনমেহ (Donmeh) বলা হয়।²³⁴
টিকাঃ
২২৮. রহবিয়াম বিন সুলাইমান যখন শাসনক্ষমতা অধিষ্ঠিত হন তখন তার বয়স ছিল ষোলো বছর। নবি সুলাইমান আলাইহিস সালামের ওফাতের পর সে সতেরো বছর রাজত্ব করেছিল। পুরো রাজত্বকালে সে শুধু কুফরি করে গিয়েছে। এমনকি তার অনুসারীসহ মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়েছে। অধীনদের মধ্যে বিরোধিতা করার মতো কেউ ছিল না। রহবিয়াম কুফরির ওপরেই মৃত্যুবরণ করে। এরপর বনি ইসরাইলের যত রাজা আসে তাদের অধিকাংশি প্রকাশ্যে কুফরি করত। মুসা আলাইহিস সালামের শরিয়তের প্রতিপালন তারা করত না। ধর্মীয় কিতাবগুলোকেও তারা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতো না।
২২৯. রাজাবলি ১ম, অধ্যায়: ১৪, অনুচ্ছেদ: ২৫-২৬।
২৩০. রাজাবলি ২য়, অধ্যায়: ২২, অনুচ্ছেদ: ৮-১১।
২৩১. বংশাবলি ২য়, অধ্যায়: ৩৬, অনুচ্ছেদ: ১৯-২০।
২৩২. আল-ফসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়াই ওয়ান নিহাল, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৯৭
২৩৩. দিরাসাতুন মুকারিনাতুন লি আদইয়ানিল আলম, পৃষ্ঠা: ৩৭৬
২৩৪. দোনমেহ একটি তুর্কি শব্দ। এর অর্থ হলো ফিরে যাওয়া। ইতিহাস বলছে ১৬২৬ খ্রিষ্টাব্দে তুরস্কে সাবাত জেফি নামক এক ইহুদি জন্মগ্রহণ করে। তার পরিবারের মূল নিবাস ছিল স্পেন। এই ব্যক্তি এবং তার কিছু অনুসারী প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দেয়। কিন্তু তারা আন্তরিকভাবে ইসলামের অনুসারী ছিল না। এ ধরনের কপট আচরণের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের ক্ষতি সাধনে সমর্থ হয়। ইতিহাসে এরা দোনমেহ এবং সাবাতিয়ান ইহুদি নামে পরিচিত।
📄 মূলনীতিগুলো হলো
এ কথা স্পষ্ট যে ব্যাবিলনের বন্দিদশা থেকে ফিলিস্তিনে ফিরে এসে তারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুনরায় ইহুদি জাতিসত্তার সংরক্ষণে মনোনিবেশ করে। ভিন্ন জাতি কর্তৃক জুলুম-অত্যাচারের অভিজ্ঞতা তাদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে। এজন্য তারা কিছু মূলনীতি প্রণয়ন করে। তাওরাত থেকে এই মূলনীতিগুলো সহজেই অনুমান করা যায়। মূলনীতিগুলো হলো-
১। আল্লাহ তাআলা একক সত্তা। তার কোনো শরিক নেই। তারা তার নাম রাখে যিহোভা। এবং ইনি হলেন বনি ইসরাইলের প্রভু। তার দায়িত্ব হচ্ছে বনি ইসরাইলকে শত্রুদের থেকে রক্ষা করা।
২। মুসা আলাইহিস সালামের আনীত শরিয়ত বনি ইসরাইলের জন্য খাস।
৩। মুসা আলাইহিস সালাম একজন নবির সুসংবাদ দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুত নবি বনি ইসরাইলের ত্রাণকর্তা হবেন এবং তিনি হবেন ইসহাক এর বংশধর।
৪। অন্যান্য জাতিগুলো বনি ইসরাইলের সেবক।
৫। ইসরাইলিরা অন্য জাতির সাথে মিশে যাওয়া কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্য জাতি থেকে নিজেদের বংশকে পবিত্র রাখা প্রত্যেক ইসরাইলির কর্তব্য।
এইসব বিচ্ছিন্নতাকামি ও সাম্প্রদায়িক মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে নতুন তাওরাত লিপিবদ্ধ হয়। এরপর তাদের প্রবীণদের সামনে উপস্থাপন করা হলে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কেননা এভাবেই ইহুদি জাতীয়তাবাদের সংরক্ষণ করা সম্ভবপর হবে।