📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 ২। আরামীয় ভাষা

📄 ২। আরামীয় ভাষা


খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে অ্যাসিরিয়ান ও ব্যাবিলিয়নরা ফিলিস্তিনে প্রতিষ্ঠিত ইহুদি রাজ্য এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো দখল করে নেয়। তখন আরামীয় ভাষাটি ছিল ইরাক অঞ্চলের ব্যাবিলিয়নদের একাডেমিক ভাষা। তাদের হাত ধরে বিজিত অঞ্চলগুলোতে এ ভাষা চালু হয়। এ সময় রচিত পুস্তকসমূহে এই ভাষাটি ব্যবহৃত হয়। এমন পুস্তকের মধ্যে রয়েছে ইষ্রার পুস্তকের কয়েকটি অধ্যায়, দানিয়ালের পুস্তক ও যিরমিয়ের পুস্তক। একইভাবে এ সময় ইহুদিদের মিশনা পুস্তকটিকেও আরামীয় ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয় এবং নাম দেওয়া হয় গিমারা। মিশনা এবং গিমারার পর আরেকটি পুস্তকের প্রকাশ ঘটে যার নাম তালমুদ। পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বিপজ্জনক ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই তালমুদকে। অচিরেই আমরা পৃথক একটি অধ্যায়ে এটি সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 ৩। ইউনানি বা গ্রিক ভাষা

📄 ৩। ইউনানি বা গ্রিক ভাষা


এটি ইউনানি শহরগুলোর লেখ্য ও কথ্য ভাষা। পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকার ইউনানি উপনিবেশগুলোতে ও এই ভাষার প্রচলন ছিল। অন্য দুটি ভাষার তুলনায় এটিকে বেশ নতুনই বলা চলে। ২৮৪-২৪৭ খ্রিষ্টপূর্ব সময়ে পুরাতন নিয়ম হিব্রু ভাষা থেকে এ ভাষায় অনূদিত হয়। ইহুদি রাব্বি ইলিয়াসরের নেতৃত্বে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার ৭২ জন ইহুদি পাদরি ৭২ দিনে এই অনুবাদ কর্মটি সম্পাদন করেন। টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাস (Ptolemy 2nd Philadelphus) এর নির্দেশে তারা এই অনুবাদ কর্মটি করেছিলেন। পুরাতন নিয়মের এই অনুবাদকে সেপটুয়েজিন্ট (Septuagint) বলা হয়। সেপ্টয়েজিন্ট শব্দটি ল্যাটিন। এর অর্থ হলো ৭০ জনের অনুবাদ। মূলত অনুবাদকের সংখ্যার দিকে লক্ষ রেখে এই নামকরণ করা হয়। এই গ্রিক অনুবাদ থেকেই মূলত পুরাতন নিয়ম ল্যাটিন ভাষাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষায় অনূদিত হয়। এ অনুবাদটি সম্পর্কে কিছু আলোচনা সামনে আসবে। এই নুসখাগুলোর কোনটিকে গ্রহণ করা হবে এ নিয়ে ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইহুদিরা হিব্রু বাইবেলকে প্রাধান্য দিলেও খ্রিস্টানরা গ্রিক বাইবেলকে সামনে রাখে এবং গুরুত্ব দেয় বেশি।¹⁹⁵

টিকাঃ
১৯৫. কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, পৃষ্ঠা: ৭৬৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px