📄 মোট সংখ্যা ১৭ টি
এই পুস্তকগুলি ছোট ছোট নবিদের উপদেশাবলিতে পরিপূর্ণ। এগুলোতে অষ্টম থেকে দ্বিতীয় খ্রিষ্টপূর্ব শতাব্দীর সময়ে বনি ইসরাইলের ধর্মীয় অধঃপতনের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। এ পুস্তকগুলি স্বয়ং নবিগণ রচনা করেছেন দাবি করা হলেও ইতিহাসবিদরা এই মতের সাথে একমত নন। এমনকি ধারাবাহিকভাবে এই পুস্তকগুলি নবিদের থেকে বর্ণিত হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বনি ইসরাইলের আল্লাহর হুকুম থেকে দূরে সরে যাওয়া, ইবাদত-বন্দেগিতে নিষ্ঠার অভাব প্রভৃতি ফুটে উঠেছে এসব পুস্তকে। পুস্তকগুলোতে আরও আছে যে, বনি ইসরাইল যদি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, জুলুম অবাধ্যতা ও ঘুষের আদান-প্রদান ত্যাগ না করে তাহলে অচিরেই তারা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে। নিচে পুস্তকগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।
📄 ১. যিশাইয়
যিশাইয় শব্দের অর্থ হলো, প্রভু অন্তরঙ্গ বানিয়ে নিয়েছেন। যিশাইয় ছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর ব্যক্তি। ইহুদি ধর্মগ্রন্থ মতে তিনি প্রচুর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। এমনকি তারা তাকে পুরাতন নিয়মের মহান নবিদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। পুরাতন নিয়মের এই পুস্তকটি তার নামে নামকরণ করা হয় এবং তাকেই এর রচয়িতা হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু গবেষকগণ বলছেন এটি তার রচনা নয়। কেননা এর সূচি ও আলোচ্য বিষয় দেখলেই বোঝা যায় এখানে অন্য কারও হাতের ছাপ রয়েছে।
📄 ২. যিরমিয়
ইনি হিল্কিয়ের পুত্র বিন্যামিন প্রদেশের অনাথোৎ নিবাসী পুরোহিতদের একজন। তার নামের অর্থ হচ্ছে প্রভু গোড়াপত্তন করেছেন বা প্রভু স্থির রাখবেন। প্রচলিত তাওরাতের ভাষ্যমতে তিনি বনি-ইসরাইলের বড় নবিদের মধ্যে একজন। তিনি শাসক, যাজক ও স্বীয় জাতির পক্ষ থেকে প্রচণ্ড বিরোধিতার মুখোমুখি হন। তথাপি শেষ পর্যন্ত তিনিই বিজয়ী হন।¹⁷⁷ তার নবুওয়তের সময়কালের ব্যাপ্তি ছিল আঠারো বছর। খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগ এবং ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুর ভাগে রাজত্বকারী সম্রাট যিশোয় এর সময়ে তিনি তাঁর দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। যিরমিয় এর পুস্তক অধ্যয়ন করলে বুঝা যায় বনি ইসরাইল সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল। এরপরও তারা কামনা করত, তারা প্রভুর ঘরের উত্তরাধিকারী হবে। যেমন বলা হয়েছে,
হে বিন্যামীন-সন্তানগণ, তোমরা যিরূশালেমের মধ্য হইতে পলায়ন করো, তকোয় নগরে তৃরী বাজাও, বৈৎ-হক্কেরমে ধ্বজা তুল, কেননা উত্তরদিক হইতে অমঙ্গল ও মহাধ্বংস উকি মারিতেছে। সুন্দরী সুখভোগিনী সিয়োন-কন্যাকে আমি সংহার করিব। মেষপালকগণ আপন আপন পাল সঙ্গে লইয়া তাহার কাছে আসিবে; তাহারা তাহার বিরুদ্ধে চারিদিকে আপন আপন তাম্বু স্থাপন করিবে, প্রত্যেকে আপন আপন স্থানে পাল চরাইবে। তাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়োজন কর; উঠ, আমরা মধ্যাহ্নকালে যাত্রা করি। ধিক্ আমাদিগকে! কেননা দিবাবসান হইতেছে, সন্ধ্যাকালের ছায়া দীর্ঘ হইতেছে। উঠ, আমরা রাত্রিযোগে যাত্রা করি, তাহার অট্টালিকা সকল নষ্ট করি। বস্তুত বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলিয়াছেন, তোমরা বৃক্ষ কাটিয়া যিরূশালেমের বিরুদ্ধে জাঙ্গাল বাঁধ; সেই নগর প্রতিফল পাইবে; তাহার ভিতরে সকলই উপদ্রব। যেমন উনুই আপন জল নির্গত করে, তেমনি সে আপন দুষ্টতা নির্গত করে; তাহার মধ্যে দৌরাত্ম্য ও লুটের শব্দ শুনা যায়; পীড়া ও আঘাত নিয়ত আমার দৃষ্টিগোচর রহিয়াছে।¹⁷⁸
টিকাঃ
১৭৭. যিরমিয়, অধ্যায়: ১, অনুচ্ছেদ: ২-১০।
১৭৮. যিরমিয়, অধ্যায়: ৭, অনুচ্ছেদ: ১-৭।
📄 ৩. যিরমিয় এর বিলাপ
জেরুজালেম ধ্বংস এবং অবরোধকালীন সময়ে যোদ্ধাদের ক্ষুৎপিপাসায় কাতরতার বর্ণনা নিয়ে এই পুস্তক রচিত হয়। এই বিলাপ গাঁথায় যিরমিয় ঘোষণা করেন যে, ইহুদি জাতির ভুলের কারণে এই দুর্যোগ আপতিত হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার সাথে তাদের উদ্ধত্য, অনুগত করতে অস্বীকৃতি প্রভৃতি কারণে এ বিপদ তাদের ওপর চেপে বসেছে। গ্রিক বাইবেলে এই পুস্তকের সূচনাতে বলা হয়েছে, বনি ইসরাইলের বন্দিদশা এবং জেরুজালেম এর ধ্বংস হওয়ার পর যিরমিয় বসে বসে কাঁদতে লাগলেন এবং জেরুজালেমের জন্য এই শোক গাঁথা গাইতে লাগলেন।
জেরুজালেম ধ্বংসের পর ৫৮৬ খ্রিষ্টপূর্বে এই পুস্তকটি রচনা করা হয় বলে ধারণা করা হয়। হিব্রু বাইবেলে এটিকে পুরাতন নিয়মের তৃতীয় অংশ তথা কেতুবেম এ উপদেশক এর পুস্তক এরপর ইস্টের আগে এটিকে স্থান দেওয়া হয়েছে।
যিরমিয় বলেন-
ইহার কারণ তাহার ভাববাদিগণের পাপ ও তাহার যাজকগণের অপরাধ; কেননা তাহারা তাহার মধ্যে ধার্মিকগণের রক্তপাত করিত। তাহারা অন্ধগণের ন্যায় পথে পথে ঘুরিয়া বেড়াইয়াছে, রক্তে কলুষিত হইয়াছে লোকেরা তাহাদের বস্ত্র স্পর্শ করিতে পারে না।¹⁷⁹
তিনি আরও বলেন,
আমার নগরীর সমস্ত কন্যার নিমিত্ত আমার চক্ষু আমার প্রাণকে আর্দ্র করে।¹⁸⁰
টিকাঃ
১৭৯. বিলাপ, অধ্যায়: ৪, অনুচ্ছেদ: ১৩-১৪।
১৮০. বিলাপ, অধ্যায়: ৩, অনুচ্ছেদ: ৫১।