📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 তিন. রূতের বিবরণ

📄 তিন. রূতের বিবরণ


রুত মোয়াবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে সুন্দরী রমণী। মূলত রুত ছিলেন একজন মোয়াবি রমণী যিনি নিজ পিতা, পরিবার এবং জাতিকে ছেড়ে বনি ইসরাইলের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। যিহূদার বংশের জনৈক পুরুষের সাথে তাঁর বিবাহ হয় এবং তাদের বংশধারা থেকেই দাউদ আলাইহিস সালামের জন্ম হয়। কথিত আছে, রুত হলেন দাউদ আলাইহিস সালামের দাদি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইহুদিরা পিতামাতা উভয়ে ইহুদি না হলে তাকে নিজেদের জাতির অন্তর্ভুক্ত করে না। কিন্তু রুতের ক্ষেত্রে তাদের আচরণটা ছিল সম্পূর্ণই ভিন্ন।

এই পুস্তকটি মূলত রাজাগণের আলোচনায় প্রবেশ এর ভূমিকাস্বরূপ। তথাপি ইহুদি জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে একজন মোয়াবিয় নারীর ত্যাগ তিতিক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে পুস্তকটির এই নামকরণ করা হয়। কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস থেকে সংক্ষিপ্তাকারে রুতের ঘটনাটি নিম্নে তুলে ধরা হলো।

ইবরানিদের মাঝে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে ইলিমেলক নামক এক ব্যক্তি সপরিবারে মোয়াবে চলে যায় এবং সেখানেই বসতি স্থাপন করে। কিছুদিন পর সে নিজের স্ত্রী নয়মি এবং দুই ছেলেকে রেখে মৃত্যুবরণ করে। ছেলে দুটি দুজন মোয়াবীয় রমণীকে বিয়ে করে। কিছুদিন পর ছেলে দুটিও মারা যায়। ইত্যবসরে নয়মি জানতে পারেন যে, তাদের দেশে দুর্ভিক্ষের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। তখন সে নিজ দেশে ফিরে যেতে মনস্থ করে। পুত্রবধূদ্বয়কে ডেকে নিজ নিজ পিতৃগৃহে চলে যেতে পীড়াপীড়ি করতে থাকে। তার পীড়াপীড়িতে একজন আরফা নামক পুত্রবধূ যেতে রাজি হয় এবং পিতৃগৃহে চলে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় পুত্রবধূ রুত, সে কোনোমতেই শাশুড়িকে ছেড়ে পিতৃগৃহে চলে যেতে সম্মত হয় না। তার পক্ষ থেকে শাশুড়ির প্রতি পরম আন্তরিকতা প্রকাশ পায়।¹⁶²

এরপর রুত নয়মির সাথে বেথেলহেমে প্রবেশ করেন। পুস্তকে রুতের ঘটনাবলি অত্যন্ত সম্মান ও ভক্তির সাথে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে রুতের সাথে যিহুদা গোত্রীয় বোয়স এর বিবাহ হয়। তাদের ঘরে ওবেদ নামক একটি পুত্র সন্তানের জন্ম নেয়। রুতের বিবরণের ভাষ্য অনুযায়ী এই ওবেদ হলেন দাউদ আলাইহিস সালামের দাদা। পুস্তকটি কবে রচিত হয়েছে তা নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন এটি শমুয়েল রচনা করেছেন। অনেকের মতে এটি যিহিস্কেল এর রচনা। আবার কারও কারও মতে এটি ইষ্রা রচনা করেছেন।

টিকাঃ
১৬২. কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, ৩৯১,। পাঠক চাইলে রুতের বিবরণের সাথে ঘটনাটি মিলিয়ে নিতে পারেন।

রুত মোয়াবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে সুন্দরী রমণী। মূলত রুত ছিলেন একজন মোয়াবি রমণী যিনি নিজ পিতা, পরিবার এবং জাতিকে ছেড়ে বনি ইসরাইলের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। যিহূদার বংশের জনৈক পুরুষের সাথে তাঁর বিবাহ হয় এবং তাদের বংশধারা থেকেই দাউদ আলাইহিস সালামের জন্ম হয়। কথিত আছে, রুত হলেন দাউদ আলাইহিস সালামের দাদি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইহুদিরা পিতামাতা উভয়ে ইহুদি না হলে তাকে নিজেদের জাতির অন্তর্ভুক্ত করে না। কিন্তু রুতের ক্ষেত্রে তাদের আচরণটা ছিল সম্পূর্ণই ভিন্ন।

এই পুস্তকটি মূলত রাজাগণের আলোচনায় প্রবেশ এর ভূমিকাস্বরূপ। তথাপি ইহুদি জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে একজন মোয়াবিয় নারীর ত্যাগ তিতিক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে পুস্তকটির এই নামকরণ করা হয়। কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস থেকে সংক্ষিপ্তাকারে রুতের ঘটনাটি নিম্নে তুলে ধরা হলো।

ইবরানিদের মাঝে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে ইলিমেলক নামক এক ব্যক্তি সপরিবারে মোয়াবে চলে যায় এবং সেখানেই বসতি স্থাপন করে। কিছুদিন পর সে নিজের স্ত্রী নয়মি এবং দুই ছেলেকে রেখে মৃত্যুবরণ করে। ছেলে দুটি দুজন মোয়াবীয় রমণীকে বিয়ে করে। কিছুদিন পর ছেলে দুটিও মারা যায়। ইত্যবসরে নয়মি জানতে পারেন যে, তাদের দেশে দুর্ভিক্ষের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। তখন সে নিজ দেশে ফিরে যেতে মনস্থ করে। পুত্রবধূদ্বয়কে ডেকে নিজ নিজ পিতৃগৃহে চলে যেতে পীড়াপীড়ি করতে থাকে। তার পীড়াপীড়িতে একজন আরফা নামক পুত্রবধূ যেতে রাজি হয় এবং পিতৃগৃহে চলে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় পুত্রবধূ রুত, সে কোনোমতেই শাশুড়িকে ছেড়ে পিতৃগৃহে চলে যেতে সম্মত হয় না। তার পক্ষ থেকে শাশুড়ির প্রতি পরম আন্তরিকতা প্রকাশ পায়।¹⁶²

এরপর রুত নয়মির সাথে বেথেলহেমে প্রবেশ করেন। পুস্তকে রুতের ঘটনাবলি অত্যন্ত সম্মান ও ভক্তির সাথে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে রুতের সাথে যিহুদা গোত্রীয় বোয়স এর বিবাহ হয়। তাদের ঘরে ওবেদ নামক একটি পুত্র সন্তানের জন্ম নেয়। রুতের বিবরণের ভাষ্য অনুযায়ী এই ওবেদ হলেন দাউদ আলাইহিস সালামের দাদা। পুস্তকটি কবে রচিত হয়েছে তা নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন এটি শমুয়েল রচনা করেছেন। অনেকের মতে এটি যিহিস্কেল এর রচনা। আবার কারও কারও মতে এটি ইষ্রা রচনা করেছেন।

টিকাঃ
১৬২. কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, ৩৯১,। পাঠক চাইলে রুতের বিবরণের সাথে ঘটনাটি মিলিয়ে নিতে পারেন।

রুত মোয়াবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে সুন্দরী রমণী। মূলত রুত ছিলেন একজন মোয়াবি রমণী যিনি নিজ পিতা, পরিবার এবং জাতিকে ছেড়ে বনি ইসরাইলের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। যিহুদার বংশের জনৈক পুরুষের সাথে তাঁর বিবাহ হয় এবং তাদের বংশধারা থেকেই দাউদ আলাইহিস সালামের জন্ম হয়। কথিত আছে, রুত হলেন দাউদ আলাইহিস সালামের দাদি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইহুদিরা পিতামাতা উভয়ে ইহুদি না হলে তাকে নিজেদের জাতির অন্তর্ভুক্ত করে না। কিন্তু রুতের ক্ষেত্রে তাদের আচরণটা ছিল সম্পূর্ণই ভিন্ন।

এই পুস্তকটি মূলত রাজাগণের আলোচনায় প্রবেশ এর ভূমিকাস্বরূপ। তথাপি ইহুদি জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে একজন মোয়াবিয় নারীর ত্যাগ তিতিক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে পুস্তকটির এই নামকরণ করা হয়। কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস থেকে সংক্ষিপ্তাকারে রুতের ঘটনাটি নিম্নে তুলে ধরা হলো।

ইবরানিদের মাঝে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে ইলিমেলক নামক এক ব্যক্তি সপরিবারে মোয়াবে চলে যায় এবং সেখানেই বসতি স্থাপন করে। কিছুদিন পর সে নিজের স্ত্রী নয়মি এবং দুই ছেলেকে রেখে মৃত্যুবরণ করে। ছেলে দুটি দুজন মোয়াবীয় রমণীকে বিয়ে করে। কিছুদিন পর ছেলে দুটিও মারা যায়। ইত্যবসরে নয়মি জানতে পারেন যে, তাদের দেশে দুর্ভিক্ষের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। তখন সে নিজ দেশে ফিরে যেতে মনস্থ করে। পুত্রবধূদ্বয়কে ডেকে নিজ নিজ পিতৃগৃহে চলে যেতে পীড়াপীড়ি করতে থাকে। তার পীড়াপীড়িতে একজন আরফা নামক পুত্রবধূ যেতে রাজি হয় এবং পিতৃগৃহে চলে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় পুত্রবধূ রুত, সে কোনোমতেই শাশুড়িকে ছেড়ে পিতৃগৃহে চলে যেতে সম্মত হয় না। তার পক্ষ থেকে শাশুড়ির প্রতি পরম আন্তরিকতা প্রকাশ পায়।¹⁶²

এরপর রুত নয়মির সাথে বেথেলহেমে প্রবেশ করেন। পুস্তকে রুতের ঘটনাবলি অত্যন্ত সম্মান ও ভক্তির সাথে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে রুতের সাথে যিহুদা গোত্রীয় বোয়স এর বিবাহ হয়। তাদের ঘরে ওবেদ নামক একটি পুত্র সন্তানের জন্ম নেয়। রুতের বিবরণের ভাষ্য অনুযায়ী এই ওবেদ হলেন দাউদ আলাইহিস সালামের দাদা। পুস্তকটি কবে রচিত হয়েছে তা নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন এটি শমুয়েল রচনা করেছেন। অনেকের মতে এটি যিহিস্কেল এর রচনা। আবার কারও কারও মতে এটি ইষ্রা রচনা করেছেন।

টিকাঃ
১৬২. কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, ৩৯১। পাঠক চাইলে রুতের বিবরণের সাথে ঘটনাটি মিলিয়ে নিতে পারেন।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 চার, পাঁচ, ছয় ও সাত. শমুয়েল ও রাজাবলি

📄 চার, পাঁচ, ছয় ও সাত. শমুয়েল ও রাজাবলি


সমুয়েল ইবরানি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নাম। বলা হয়ে থাকে, মুসা আলাইহিস সালামের পর তিনিই ইবরানিদের প্রথম নবি এবং সর্বশেষ বিচারক। ইহুদিদের কাছে তার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কেননা, তিনি ফিলিস্তিনিদের হাত থেকে ইহুদি জাতিকে রক্ষা করেছিলেন এবং লুণ্ঠিত হওয়া পবিত্র তাবুত (Ark of covenant) ফিরিয়ে এনেছিলেন।

দীর্ঘকাল বিচারকার্য পরিচালনা করে তিনি বার্ধক্যে উপনীত হন। এরপর তিনি নিজের দুই ছেলেকে বিচারকার্যের দায়িত্ব অর্পণ করেন। কিন্তু পুত্রদ্বয় নিজেদের কাজে ইনসাফের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তারা ঘুষের লেনদেনেও জড়িয়ে পড়ে।¹⁶³ এরপর বনি-ইসরাইলের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ শমুয়েল এর কাছে আসেন। তারা তাকে জানান, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তাদের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তারা শমুয়েলের কাছে আবেদন জানান যাতে শত্রুর সাথে যুদ্ধ করার জন্য একজন বাদশা নিযুক্ত করা হয়। তাদের সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা একজন বাদশা নিযুক্ত করলেন কুরআনের ভাষায় যার নাম হচ্ছে তালুত। কুরআনে বলা হয়েছে-

وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا.

আর তাদের নবি তাদেরকে বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তালুতকে তোমাদের জন্য বাদশা হিসেবে প্রেরণ করলেন। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৪৭]

শমুয়েল এর পুস্তকে তার নাম বিবৃত হয়েছে সৌল।¹⁶⁴ তালুত সৈন্যসমাবেশ ঘটালেন। তার প্রথম প্রতিপক্ষ ছিল ফিলিস্তিনিরা, যাদের নেতৃত্বে ছিল জালুত নামক এক বীর। ইবরানিদের ভাষায় তার নাম হচ্ছে গিলিয়াড। তালুতের বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন যিশয় পুত্র দাউদ আলাইহিস সালাম। যুদ্ধে তিনি জালুতকে পরাজিত করেন। ফিলিস্তিনিরাও পরাজিত হয়। দাউদের বীরত্বে সৌল খুশি হন এবং নিজ কন্যা মিখলকে তার সাথে বিবাহ দেন। এরই মাধ্যমে দাউদ ও সৌল এর মধ্যে হৃদ্যতার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। কিন্তু এই সম্পর্ক পরবর্তীতে তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সৌল দাউদের রাজত্বের বিরোধিতা করেছিলেন। পরিণতিতে তাকে এবং তার সন্তানদেরকে জীবন দিতে হয়। এরপর ইসরাইলিদের রাজত্ব দাউদ আলাইহিস সালামের হাতে অর্পিত হয়। এদিকে ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে-

وَآتَاهُ اللهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُ مِمَّا يَشَاءُ.

আর আল্লাহ দাউদকে রাজ্য ও প্রজ্ঞা দান করলেন এবং যা ইচ্ছা হয় তা শিক্ষা দিলেন। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫১]

এরপর দাউদ আলাইহিস সালামের পুত্র সুলাইমান আলাইহিস সালাম পিতার রাজত্বের উত্তরাধিকারী হন। সুলাইমান আলাইহিস সালামের পর ইসরাইলিরা দুটি সাম্রাজ্যে বিভক্ত হয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ফলে মিশরে ফিরাউনদের দাত্রিংশ রাজ পরিবারের সম্রাট প্রথম শশাঙ্ক জেরুজালেমের ওপর দখলদারিত্ব কায়েম করতে সক্ষম হয় এবং শহরের অধিকাংশ মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।

এ চারটি পুস্তকে সুলাইমান আলাইহিস সালামের শাসনকালের চিত্রায়ন অতিরঞ্জন করা হয়েছে। তার প্রজ্ঞা, রাজ্য পরিচালনার বর্ণনা এখানে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি সুলাইমান আলাইহিস সালামের বিশাল স্থাপত্যকীর্তি, বিভিন্ন প্রাসাদ নির্মাণ, জেরুজালেমের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ প্রভৃতির বর্ণনাও পুস্তকগুলোতে সন্নিবেশিত হয়েছে।

সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রজ্ঞা ও তার সুনিপুণ হাতে রাজ্য পরিচালনার বিষয়ে আমরা একমত। তিনি বনি ইসরাইলের জন্য আল্লাহর মনোনীত একজন নবি ছিলেন। কিন্তু ইহুদি গ্রন্থগুলো তার এই স্থাপত্যকীর্তি ও নির্মাণযজ্ঞ নিয়ে যে অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিয়েছে তার সাথে আমরা একমত নই। বিশেষ করে ফারাও ও ফিনিশীয়দের স্থাপত্য কীর্তির তুলনায় তার নির্মাণযজ্ঞ খুব বেশি আহামরি কিছু নয়। পশ্চিমা গবেষকগণ ইহুদি গ্রন্থগুলোর এমন অতিরঞ্জিত বর্ণনার প্রচণ্ড সমালোচনা করেছেন। তাদের দৃষ্টিতে এগুলো এতই অতিরঞ্জিত যার কোনো সদুত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। গুস্তাভ লি বোন তার আল-ইয়াহুদ ফিল হাদারাতিল উলা গ্রন্থে এবং এইচ জি ওয়েলস তার মাআলিমু তারিখিল ইনসানিয়্যাহ (এ আউটলাইন অব হিস্ট্রি) গ্রন্থে এসব বর্ণনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এই চারটি পুস্তকে ঘুরেফিরে এগুলোই আলোচিত হয়েছে। শমুয়েল এর পুস্তকদ্বয় প্রকৃতপক্ষে একটি পুস্তক ছিল। হিব্রু বাইবেলেও এভাবেই রয়েছে ১৫১৬-১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দে ভেনিস সংস্করণে এটিকে দুটি পুস্তকে ভাগ করা হয়। আর রাজাবলি প্রথম থেকে উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজা সৌল এবং রাজাবলি দ্বিতীয় থেকে উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজা দাউদ আলাইহিস সালাম।

টিকাঃ
১৬৩. সমুয়েল প্রথম, অধ্যায় ৮, অনুচ্ছেদ: ১; অধ্যায় ৮, অনুচ্ছেদ: ৪।
১৬৪. সমুয়েলের ৮, ৯, ১০, ১১তম অধ্যায়ে তার বিস্তারিত ঘটনা বিবরণ রয়েছে।

সমুয়েল ইবরানি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নাম। বলা হয়ে থাকে, মুসা আলাইহিস সালামের পর তিনিই ইবরানিদের প্রথম নবি এবং সর্বশেষ বিচারক। ইহুদিদের কাছে তার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কেননা, তিনি ফিলিস্তিনিদের হাত থেকে ইহুদি জাতিকে রক্ষা করেছিলেন এবং লুণ্ঠিত হওয়া পবিত্র তাবুত (Ark of covenant) ফিরিয়ে এনেছিলেন।

দীর্ঘকাল বিচারকার্য পরিচালনা করে তিনি বার্ধক্যে উপনীত হন। এরপর তিনি নিজের দুই ছেলেকে বিচারকার্যের দায়িত্ব অর্পণ করেন। কিন্তু পুত্রদ্বয় নিজেদের কাজে ইনসাফের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তারা ঘুষের লেনদেনেও জড়িয়ে পড়ে।¹⁶³ এরপর বনি-ইসরাইলের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ শমুয়েল এর কাছে আসেন। তারা তাকে জানান, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তাদের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তারা শমুয়েলের কাছে আবেদন জানান যাতে শত্রুর সাথে যুদ্ধ করার জন্য একজন বাদশা নিযুক্ত করা হয়। তাদের সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা একজন বাদশা নিযুক্ত করলেন কুরআনের ভাষায় যার নাম হচ্ছে তালুত। কুরআনে বলা হয়েছে-

وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا.

আর তাদের নবি তাদেরকে বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তালুতকে তোমাদের জন্য বাদশা হিসেবে প্রেরণ করলেন। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৪৭]

শমুয়েল এর পুস্তকে তার নাম বিবৃত হয়েছে সৌল।¹⁶⁴ তালুত সৈন্যসমাবেশ ঘটালেন। তার প্রথম প্রতিপক্ষ ছিল ফিলিস্তিনিরা, যাদের নেতৃত্বে ছিল জালুত নামক এক বীর। ইবরানিদের ভাষায় তার নাম হচ্ছে গিলিয়াড। তালুতের বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন যিশয় পুত্র দাউদ আলাইহিস সালাম। যুদ্ধে তিনি জালুতকে পরাজিত করেন। ফিলিস্তিনিরাও পরাজিত হয়। দাউদের বীরত্বে সৌল খুশি হন এবং নিজ কন্যা মিখলকে তার সাথে বিবাহ দেন। এরই মাধ্যমে দাউদ ও সৌল এর মধ্যে হৃদ্যতার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। কিন্তু এই সম্পর্ক পরবর্তীতে তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সৌল দাউদের রাজত্বের বিরোধিতা করেছিলেন। পরিণতিতে তাকে এবং তার সন্তানদেরকে জীবন দিতে হয়। এরপর ইসরাইলিদের রাজত্ব দাউদ আলাইহিস সালামের হাতে অর্পিত হয়। এদিকে ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে-

وَآتَاهُ اللهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُ مِمَّا يَشَاءُ.

আর আল্লাহ দাউদকে রাজ্য ও প্রজ্ঞা দান করলেন এবং যা ইচ্ছা হয় তা শিক্ষা দিলেন। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫১]

এরপর দাউদ আলাইহিস সালামের পুত্র সুলাইমান আলাইহিস সালাম পিতার রাজত্বের উত্তরাধিকারী হন। সুলাইমান আলাইহিস সালামের পর ইসরাইলিরা দুটি সাম্রাজ্যে বিভক্ত হয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ফলে মিশরে ফিরাউনদের দাত্রিংশ রাজ পরিবারের সম্রাট প্রথম শশাঙ্ক জেরুজালেমের ওপর দখলদারিত্ব কায়েম করতে সক্ষম হয় এবং শহরের অধিকাংশ মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।

এ চারটি পুস্তকে সুলাইমান আলাইহিস সালামের শাসনকালের চিত্রায়ন অতিরঞ্জন করা হয়েছে। তার প্রজ্ঞা, রাজ্য পরিচালনার বর্ণনা এখানে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি সুলাইমান আলাইহিস সালামের বিশাল স্থাপত্যকীর্তি, বিভিন্ন প্রাসাদ নির্মাণ, জেরুজালেমের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ প্রভৃতির বর্ণনাও পুস্তকগুলোতে সন্নিবেশিত হয়েছে।

সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রজ্ঞা ও তার সুনিপুণ হাতে রাজ্য পরিচালনার বিষয়ে আমরা একমত। তিনি বনি ইসরাইলের জন্য আল্লাহর মনোনীত একজন নবি ছিলেন। কিন্তু ইহুদি গ্রন্থগুলো তার এই স্থাপত্যকীর্তি ও নির্মাণযজ্ঞ নিয়ে যে অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিয়েছে তার সাথে আমরা একমত নই। বিশেষ করে ফারাও ও ফিনিশীয়দের স্থাপত্য কীর্তির তুলনায় তার নির্মাণযজ্ঞ খুব বেশি আহামরি কিছু নয়। পশ্চিমা গবেষকগণ ইহুদি গ্রন্থগুলোর এমন অতিরঞ্জিত বর্ণনার প্রচণ্ড সমালোচনা করেছেন। তাদের দৃষ্টিতে এগুলো এতই অতিরঞ্জিত যার কোনো সদুত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। গুস্তাভ লি বোন তার আল-ইয়াহুদ ফিল হাদারাতিল উলা গ্রন্থে এবং এইচ জি ওয়েলস তার মাআলিমু তারিখিল ইনসানিয়্যাহ (এ আউটলাইন অব হিস্ট্রি) গ্রন্থে এসব বর্ণনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এই চারটি পুস্তকে ঘুরেফিরে এগুলোই আলোচিত হয়েছে। শমুয়েল এর পুস্তকদ্বয় প্রকৃতপক্ষে একটি পুস্তক ছিল। হিব্রু বাইবেলেও এভাবেই রয়েছে ১৫১৬-১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দে ভেনিস সংস্করণে এটিকে দুটি পুস্তকে ভাগ করা হয়। আর রাজাবলি প্রথম থেকে উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজা সৌল এবং রাজাবলি দ্বিতীয় থেকে উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজা দাউদ আলাইহিস সালাম।

টিকাঃ
১৬৩. সমুয়েল প্রথম, অধ্যায় ৮, অনুচ্ছেদ: ১; অধ্যায় ৮, অনুচ্ছেদ: ৪।
১৬৪. সমুয়েলের ৮, ৯, ১০, ১১তম অধ্যায়ে তার বিস্তারিত ঘটনা বিবরণ রয়েছে।

সমুয়েল ইবরানি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নাম। বলা হয়ে থাকে, মুসা আলাইহিস সালামের পর তিনিই ইবরানিদের প্রথম নবি এবং সর্বশেষ বিচারক। ইহুদিদের কাছে তার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কেননা, তিনি ফিলিস্তিনিদের হাত থেকে ইহুদি জাতিকে রক্ষা করেছিলেন এবং লুণ্ঠিত হওয়া পবিত্র তাবুত (Ark of covenant) ফিরিয়ে এনেছিলেন।

দীর্ঘকাল বিচারকার্য পরিচালনা করে তিনি বার্ধক্যে উপনীত হন। এরপর তিনি নিজের দুই ছেলেকে বিচারকার্যের দায়িত্ব অর্পণ করেন। কিন্তু পুত্রদ্বয় নিজেদের কাজে ইনসাফের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তারা ঘুষের লেনদেনেও জড়িয়ে পড়ে।¹⁶³

এরপর বনি-ইসরাইলের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ শমুয়েল এর কাছে আসেন। তারা তাকে জানান, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তাদের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। তারা শমুয়েলের কাছে আবেদন জানান যাতে শত্রুর সাথে যুদ্ধ করার জন্য একজন বাদশা নিযুক্ত করা হয়। তাদের সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা একজন বাদশা নিযুক্ত করলেন কুরআনের ভাষায় যার নাম হচ্ছে তালুত। কুরআনে বলা হয়েছে—

وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا.

আর তাদের নবি তাদেরকে বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তালুতকে তোমাদের জন্য বাদশা হিসেবে প্রেরণ করলেন। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৪৭]

শমুয়েল এর পুস্তকে তার নাম বিবৃত হয়েছে সৌল।¹⁶⁴ তালুত সৈন্যসমাবেশ ঘটালেন। তার প্রথম প্রতিপক্ষ ছিল ফিলিস্তিনিরা, যাদের নেতৃত্বে ছিল জালুত নামক এক বীর। ইবরানিদের ভাষায় তার নাম হচ্ছে গিলিয়াড। তালুতের বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন যিশয় পুত্র দাউদ আলাইহিস সালাম। যুদ্ধে তিনি জালুতকে পরাজিত করেন। ফিলিস্তিনিরাও পরাজিত হয়। দাউদের বীরত্বে সৌল খুশি হন এবং নিজ কন্যা মিখলকে তার সাথে বিবাহ দেন। এরই মাধ্যমে দাউদ ও সৌল এর মধ্যে হৃদ্যতার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। কিন্তু এই সম্পর্ক পরবর্তীতে তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সৌল দাউদের রাজত্বের বিরোধিতা করেছিলেন। পরিণতিতে তাকে এবং তার সন্তানদেরকে জীবন দিতে হয়। এরপর ইসরাইলিদের রাজত্ব দাউদ আলাইহিস সালামের হাতে অর্পিত হয়। এদিকে ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে—

وَآتَاهُ اللهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُ مِمَّا يَشَاءُ.

আর আল্লাহ দাউদকে রাজ্য ও প্রজ্ঞা দান করলেন এবং যা ইচ্ছা হয় তা শিক্ষা দিলেন। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫১]

এরপর দাউদ আলাইহিস সালামের পুত্র সুলাইমান আলাইহিস সালাম পিতার রাজত্বের উত্তরাধিকারী হন। সুলাইমান আলাইহিস সালামের পর ইসরাইলিরা দুটি সাম্রাজ্যে বিভক্ত হয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ফলে মিশরে ফিরাউনদের দাত্রিংশ রাজ পরিবারের সম্রাট প্রথম শশাঙ্ক জেরুজালেমের ওপর দখলদারিত্ব কায়েম করতে সক্ষম হয় এবং শহরের অধিকাংশ মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।

এ চারটি পুস্তকে সুলাইমান আলাইহিস সালামের শাসনকালের চিত্রায়ন অতিরঞ্জন করা হয়েছে। তার প্রজ্ঞা, রাজ্য পরিচালনার বর্ণনা এখানে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি সুলাইমান আলাইহিস সালামের বিশাল স্থাপত্যকীর্তি, বিভিন্ন প্রাসাদ নির্মাণ, জেরুজালেমের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ প্রভৃতির বর্ণনাও পুস্তকগুলোতে সন্নিবেশিত হয়েছে।

সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রজ্ঞা ও তার সুনিপুণ হাতে রাজ্য পরিচালনার বিষয়ে আমরা একমত। তিনি বনি ইসরাইলের জন্য আল্লাহর মনোনীত একজন নবি ছিলেন। কিন্তু ইহুদি গ্রন্থগুলো তার এই স্থাপত্যকীর্তি ও নির্মাণযজ্ঞ নিয়ে যে অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিয়েছে তার সাথে আমরা একমত নই। বিশেষ করে ফারাও ও ফিনিশীয়দের স্থাপত্য কীর্তির তুলনায় তার নির্মাণযজ্ঞ খুব বেশি আহামরি কিছু নয়। পশ্চিমা গবেষকগণ ইহুদি গ্রন্থগুলোর এমন অতিরঞ্জিত বর্ণনার প্রচণ্ড সমালোচনা করেছেন। তাদের দৃষ্টিতে এগুলো এতই অতিরঞ্জিত যার কোনো সদুত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। গুস্তাভ লি বোন তার আল-ইয়াহুদ ফিল হাদারাতিল উলা গ্রন্থে এবং এইচ জি ওয়েলস তার মাআলিমু তারিখিল ইনসানিয়্যাহ (এ আউটলাইন অব হিস্ট্রি) গ্রন্থে এসব বর্ণনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এই চারটি পুস্তকে ঘুরেফিরে এগুলোই আলোচিত হয়েছে। শমুয়েল এর পুস্তকদ্বয় প্রকৃতপক্ষে একটি পুস্তক ছিল। হিব্রু বাইবেলে এভাবেই রয়েছে ১৫১৬-১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দে ভেনিস সংস্করণে এটিকে দুটি পুস্তকে ভাগ করা হয়। আর রাজাবলি প্রথম থেকে উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজা সৌল এবং রাজাবলি দ্বিতীয় থেকে উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজা দাউদ আলাইহিস সালাম।

টিকাঃ
১৬৩. সমুয়েল প্রথম, অধ্যায় ৮, অনুচ্ছেদ: ১; অধ্যায় ৮, অনুচ্ছেদ: ৪।
১৬৪. সমুয়েলের ৮, ৯, ১০, ১১তম অধ্যায়ে তার বিস্তারিত ঘটনা বিবরণ রয়েছে।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 আট ও নয়, বংশাবলি ১ম ও ২য়

📄 আট ও নয়, বংশাবলি ১ম ও ২য়


অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কারণে বোঝা যায় দুটি পুস্তক প্রকৃতপক্ষে একটি পুস্তকই ছিল। গ্রিক বাইবেলের অনুবাদকগণ এটিকে দুই ভাগে ভাগ করেন। পরবর্তীতে এই বিভাজনটি সর্বজন সমাদৃত হয়। পুস্তক দুটিকে শমুয়েল এর পুস্তকদ্বয় এর সম্পূরক বলা চলে। এর আলোচ্য বিষয়কে আমরা চার ভাগে ভাগ করতে পারি।

এক. আদম ও তার বংশধর।

দুই. সৌলের মৃত্যু এবং দাউদ এর রাজত্ব।

তিন. সুলাইমান এর শাসনকাল।

চার. সুলাইমানের মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের ভাঙন।

সম্ভাব্য খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে এই পুস্তক রচনা করা হয়। এটি রচনা করতে গিয়ে আদিপুস্তক থেকে নিয়ে রাজাবলি পর্যন্ত পুস্তকগুলোর সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। আমি জানি না কোন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই পুস্তক রচনা করা হয়েছে। কেননা, ইহুদিদের ইতিহাসের নতুন কোনো আলোচনাই এতে স্থান পায়নি। আমার এও বুঝে আসে না যে, কীসের ভিত্তিতে এটিকে তারা পবিত্র গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করে? এ পুস্তককে সর্বোচ্চ বিভিন্ন জাতির ইতিহাস হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কারণে বোঝা যায় দুটি পুস্তক প্রকৃতপক্ষে একটি পুস্তকই ছিল। গ্রিক বাইবেলের অনুবাদকগণ এটিকে দুই ভাগে ভাগ করেন। পরবর্তীতে এই বিভাজনটি সর্বজন সমাদৃত হয়। পুস্তক দুটিকে শমুয়েল এর পুস্তকদ্বয় এর সম্পূরক বলা চলে। এর আলোচ্য বিষয়কে আমরা চার ভাগে ভাগ করতে পারি।

এক. আদম ও তার বংশধর।

দুই. সৌলের মৃত্যু এবং দাউদ এর রাজত্ব।

তিন. সুলাইমান এর শাসনকাল।

চার. সুলাইমানের মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের ভাঙন।

সম্ভাব্য খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে এই পুস্তক রচনা করা হয়। এটি রচনা করতে গিয়ে আদিপুস্তক থেকে নিয়ে রাজাবলি পর্যন্ত পুস্তকগুলোর সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। আমি জানি না কোন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই পুস্তক রচনা করা হয়েছে। কেননা, ইহুদিদের ইতিহাসের নতুন কোনো আলোচনাই এতে স্থান পায়নি। আমার এও বুঝে আসে না যে, কীসের ভিত্তিতে এটিকে তারা পবিত্র গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করে? এ পুস্তককে সর্বোচ্চ বিভিন্ন জাতির ইতিহাস হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কারণে বোঝা যায় দুটি পুস্তক প্রকৃতপক্ষে একটি পুস্তকই ছিল। গ্রিক বাইবেলের অনুবাদকগণ এটিকে দুই ভাগে ভাগ করেন। পরবর্তীতে এই বিভাজনটি সর্বজন সমাদৃত হয়। পুস্তক দুটিকে শমুয়েল এর পুস্তকদ্বয় এর সম্পূরক বলা চলে। এর আলোচ্য বিষয়কে আমরা চার ভাগে ভাগ করতে পারি।

এক. আদম ও তার বংশধর।

দুই. সৌলের মৃত্যু এবং দাউদ এর রাজত্ব।

তিন. সুলাইমান এর শাসনকাল।

চার. সুলাইমানের মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের ভাঙন।

সম্ভাব্য খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে এই পুস্তক রচনা করা হয়। এটি রচনা করতে গিয়ে আদিপুস্তক থেকে নিয়ে রাজাবলি পর্যন্ত পুস্তকগুলোর সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। আমি জানি না কোন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই পুস্তক রচনা করা হয়েছে। কেননা, ইহুদিদের ইতিহাসের নতুন কোনো আলোচনাই এতে স্থান পায়নি। আমার এও বুঝে আসে না যে, কীসের ভিত্তিতে এটিকে তারা পবিত্র গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করে? এ পুস্তককে সর্বোচ্চ বিভিন্ন জাতির ইতিহাস হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 দশ ও এগারো, ইষ্রা ও নহমিয়

📄 দশ ও এগারো, ইষ্রা ও নহমিয়


ইষ্রা ইবরানি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে সাহায্য। ইষ্রা ছিলেন পারস্য সম্রাটের প্রধান পুরোহিত। ব্যাবিলনীয় বন্দিদশার সময়ে তিনি ইহুদিদের ব্যাপারে সম্রাটের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ইহুদিদের বিষয়ে তিনি সম্রাটকে আশ্বস্ত করতে সক্ষম হন। সম্রাট তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং জেরুজালেমে ফিরে যাওয়া এবং ফিলিস্তিনে তাদের নিজস্ব শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার অনুমতি দেন। এটি ছিল ৪৫৮-৩৯৮ খ্রিষ্টপূর্ব সময় কালের ঘটনা। জেরুজালেম পৌঁছে ইষ্রা বুখতে নসর কর্তৃক ধ্বংস হয়ে যাওয়া হাইকল পুনর্নির্মাণ-কাজে হাত দেন। পাশাপাশি লেবীয়দের সহযোগিতায় মুসা আলাইহিস সালাম ৫ পুস্তক নতুনভাবে রচনা এবং লোকজনকে এগুলো শিক্ষা দেওয়ার কাজ শুরু করেন। ইহুদিরা তার সমস্ত সংস্কার কার্যক্রম এবং তার সংকলিত তাওরাত সাদরে গ্রহণ করে। কেননা ইষ্রা ছিলেন ইহুদিদের কল্যাণকামী ও একনিষ্ঠ ব্যক্তি। এর ফলে তিনি যা ইচ্ছা তাই বলে মুসা আলাইহিস সালামের দিকে সম্বন্ধ করতেন। কারণ, তার এই নিষ্ঠা ও কল্যাণকামিতার দ্বারা তিনি ইহুদিদের মাঝে বিশেষ স্থান করে নিতে সক্ষম হন। ইহুদিরাও তার কথা বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেয়। এমনকি অনেকে তাকে ঈশ্বর পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এদিকে ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে,

وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرُ ابْنُ اللهِ.

আর ইহুদিরা বলে, উজায়ের আল্লাহর পুত্র। [সুরা তওবা, আয়াত: ৩০]

নহমিয় হলেন গরবুক এর পুত্র। তিনি ব্যাবিলন থেকে ইহুদিদের সাথে আগমন করেন। ইষ্রার সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তার মহান কর্মযজ্ঞের দিকে তাকিয়ে পুস্তকটি এই নামে নামকরণ করা হয়। মূলত ইষ্রা ও নহমিয় পুস্তকদ্বয় বংশাবলি পুস্তকদ্বয়ের অংশবিশেষ ছিল। পরবর্তী সময় এটিকে স্বতন্ত্র পুস্তক হিসেবে রূপদান করা হয়। হিব্রু বাইবেলে অদ্যাবধি ইষ্রা ও নহমিয়কে একটি পুস্তক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইষ্রা ইবরানি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে সাহায্য। ইষ্রা ছিলেন পারস্য সম্রাটের প্রধান পুরোহিত। ব্যাবিলনীয় বন্দিদশার সময়ে তিনি ইহুদিদের ব্যাপারে সম্রাটের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ইহুদিদের বিষয়ে তিনি সম্রাটকে আশ্বস্ত করতে সক্ষম হন। সম্রাট তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং জেরুজালেমে ফিরে যাওয়া এবং ফিলিস্তিনে তাদের নিজস্ব শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার অনুমতি দেন। এটি ছিল ৪৫৮-৩৯৮ খ্রিষ্টপূর্ব সময় কালের ঘটনা। জেরুজালেম পৌঁছে ইষ্রা বুখতে নসর কর্তৃক ধ্বংস হয়ে যাওয়া হাইকল পুনর্নির্মাণ-কাজে হাত দেন। পাশাপাশি লেবীয়দের সহযোগিতায় মুসা আলাইহিস সালাম ৫ পুস্তক নতুনভাবে রচনা এবং লোকজনকে এগুলো শিক্ষা দেওয়ার কাজ শুরু করেন। ইহুদিরা তার সমস্ত সংস্কার কার্যক্রম এবং তার সংকলিত তাওরাত সাদরে গ্রহণ করে। কেননা ইষ্রা ছিলেন ইহুদিদের কল্যাণকামী ও একনিষ্ঠ ব্যক্তি। এর ফলে তিনি যা ইচ্ছা তাই বলে মুসা আলাইহিস সালামের দিকে সম্বন্ধ করতেন। কারণ, তার এই নিষ্ঠা ও কল্যাণকামিতার দ্বারা তিনি ইহুদিদের মাঝে বিশেষ স্থান করে নিতে সক্ষম হন। ইহুদিরাও তার কথা বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেয়। এমনকি অনেকে তাকে ঈশ্বর পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এদিকে ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে,

وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرُ ابْنُ اللهِ.

আর ইহুদিরা বলে, উজায়ের আল্লাহর পুত্র। [সুরা তওবা, আয়াত: ৩০]

নহমিয় হলেন গরবুক এর পুত্র। তিনি ব্যাবিলন থেকে ইহুদিদের সাথে আগমন করেন। ইষ্রার সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তার মহান কর্মযজ্ঞের দিকে তাকিয়ে পুস্তকটি এই নামে নামকরণ করা হয়। মূলত ইষ্রা ও নহমিয় পুস্তকদ্বয় বংশাবলি পুস্তকদ্বয়ের অংশবিশেষ ছিল। পরবর্তী সময় এটিকে স্বতন্ত্র পুস্তক হিসেবে রূপদান করা হয়। হিব্রু বাইবেলে অদ্যাবধি ইষ্রা ও নহমিয়কে একটি পুস্তক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইয়া ইবরানি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে সাহায্য। ইয়া ছিলেন পারস্য সম্রাটের প্রধান পুরোহিত। ব্যাবিলনীয় বন্দিদশার সময়ে তিনি ইহুদিদের ব্যাপারে সম্রাটের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ইহুদিদের বিষয়ে তিনি সম্রাটকে আশ্বস্ত করতে সক্ষম হন। সম্রাট তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং জেরুজালেমে ফিরে যাওয়া এবং ফিলিস্তিনে তাদের নিজস্ব শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার অনুমতি দেন। এটি ছিল ৪৫৮-৩৯৮ খ্রিষ্টপূর্ব সময় কালের ঘটনা। জেরুজালেম পৌঁছে ইয়া বুখতে নসর কর্তৃক ধ্বংস হয়ে যাওয়া হাইকল পুনর্নির্মাণ-কাজে হাত দেন। পাশাপাশি লেবীয়দের সহযোগিতায় মুসা আলাইহিস সালাম ৫ পুস্তক নতুনভাবে রচনা এবং লোকজনকে এগুলো শিক্ষা দেওয়ার কাজ শুরু করেন। ইহুদিরা তার সমস্ত সংস্কার কার্যক্রম এবং তার সংকলিত তাওরাত সাদরে গ্রহণ করে। কেননা ইয়া ছিলেন ইহুদিদের কল্যাণকামী ও একনিষ্ঠ ব্যক্তি। এর ফলে তিনি যা ইচ্ছা তাই বলে মুসা আলাইহিস সালামের দিকে সম্বন্ধ করতেন। কারণ, তার এই নিষ্ঠা ও কল্যাণকামিতার দ্বারা তিনি ইহুদিদের মাঝে বিশেষ স্থান করে নিতে সক্ষম হন। ইহুদিরাও তার কথা বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেয়। এমনকি অনেকে তাকে ঈশ্বর পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এদিকে ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে,

وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرُ ابْنُ اللهِ.

আর ইহুদিরা বলে, উজায়ের আল্লাহর পুত্র। [সুরা তওবা, আয়াত: ৩০]

নহমিয় হলেন গরবুক এর পুত্র। তিনি ব্যাবিলন থেকে ইহুদিদের সাথে আগমন করেন। ইয়ার সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তার মহান কর্মযজ্ঞের দিকে তাকিয়ে পুস্তকটি এই নামে নামকরণ করা হয়। মূলত ইয়া ও নহমিয় পুস্তকদ্বয় বংশাবলি পুস্তকদ্বয়ের অংশবিশেষ ছিল। পরবর্তী সময় এটিকে স্বতন্ত্র পুস্তক হিসেবে রূপদান করা হয়। হিব্রু বাইবেলে অদ্যাবধি ইয়া ও নহমিয়কে একটি পুস্তক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px