📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 পুস্তকের আলোচ্য বিষয়

📄 পুস্তকের আলোচ্য বিষয়


যিহোশূয় হইতে লইয়া শমুয়েল পর্যন্ত বনি ইসরাইলের নেতাগণকে বিচারক হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই পুস্তকে বনি-ইসরাইলের বিচারকগণ, তাদের সময়কাল এবং বিচারকার্যে তাদের ঘুষের লেনদেনের আলোচনা বিবৃত হয়েছে। এদের পরেই মূলত বনি ইসরাইলের বাদশা হিসেবে মনোনীত করা হয় তালুতকে। তালুত ছিলেন তাদের প্রথম রাজা।

তাওরাত সংকলকগণ বিচারকদের সময়কাল নিয়ে একমত হতে পারেননি। এই পুস্তকে বলা হয়েছে, তাদের সময়কাল ছিল চারশ পঞ্চাশ বছর। আবার অপর দিকে বলা হচ্ছে এদের সময়কাল শুরু হয়েছিল ১১৩০ খ্রিষ্টপূর্বে আর শেষ হয়েছিল ১০২০ খ্রিষ্টপূর্বে।

একইভাবে এই পুস্তকের রচয়িতা ব্যাপারেও ইহুদি পণ্ডিতগণ একমত হতে পারেননি। তাদের অনেকেই বলছেন এটি শেষ বিচারক শমুয়েল রচনা করেছেন। এ মতটি মেনে নিলে বলতে হয়, পুস্তকটি বিচারকগণের যুগ শেষ হওয়ার পর লিপিবদ্ধ হয়েছে। তারমানে এই দাঁড়াল যে, দীর্ঘ শতাব্দীকালব্যাপী এই পুস্তকটি কোনো ধরনের সূত্র ছাড়া শুধু শ্রুতিকথার ওপর নির্ভর করে চলে এসেছে। এতে করে এই পুস্তকের ওপর আস্থাটা রাখা সম্ভব নয়। এই পুস্তকের একটি অনুচ্ছেদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, পুস্তকটি অনেক বিলম্বে রচিত হয়েছে। ওই সময়ে ইস্রায়েলের মধ্যে রাজা ছিল না, যাহার দৃষ্টিতে যাহা ভালো বোধ হইত, সে তাহাই করিত।¹⁶⁰

এখান থেকে বোঝা যায়, পুস্তকটি রাজাদের যুগে লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং এর রচয়িতা অত্যন্ত দুঃখভরে ইহুদিদের জুলুম, অবাধ্যতা এবং তাদের পরিচালনার জন্য কোনো রাজা না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

পুস্তকের আলোচ্য বিষয়ঃ
এই পুস্তকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলো বনি-ইসরাইলের ধর্মবিমুখতা। কমপক্ষে সাত বারের বেশি এই বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। বনি ইসরাইল যখন দ্বীন থেকে দূরে সরে যেত তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তি দিতেন। এরপর তারা কান্নাকাটি করে তওবা করলে আল্লাহ তাআলা এই বিচারকগণের হাতে তাদেরকে নিস্তার দিতেন। এটাই হলো এই পুস্তকের মৌলিক শিক্ষা। বলা হয়েছে-

ইস্রায়েল-সন্তানগণ সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যাহা মন্দ, তাহাই করিতে লাগিল; এবং বাল দেবগণের সেবা করিতে লাগিল। আর যিনি তাহাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, যিনি তাহাদিকে মিশর দেশ হইতে বাহির করিয়া আনিয়াছিলেন, সেই সদাপ্রভুকে ত্যাগ করিয়া অন্য দেবগণের, অর্থাৎ আপনাদের চতুর্দিকস্থিত লোকদের দেবগণের অনুগামী হইয়া তাহাদের কাছে প্রণিপাত করিতে লাগিল। এইরূপে সদাপ্রভুকে অসন্তুষ্ট করিল। তাহারা সদাপ্রভুকে ত্যাগ করিয়া বাল দেবের ও অষ্টারোৎ দেবীদের সেবা করিত।¹⁶¹

টিকাঃ
১৬০. বিচারকর্তৃগণ, অধ্যায়: ১৭, অনুচ্ছেদ: ৬।
১৬১. বিচারকর্তৃগণ, অধ্যায়: ২, অনুচ্ছেদ: ১১; অধ্যায়: ৩, অনুচ্ছেদ: ১২; অধ্যায়: ৪, অনুচ্ছেদ: ১; অধ্যায়: ৬, অনুচ্ছেদ: ১; অধ্যায়: ১০, অনুচ্ছেদ: ৬।

যিহোশূয় হইতে লইয়া শমুয়েল পর্যন্ত বনি ইসরাইলের নেতাগণকে বিচারক হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই পুস্তকে বনি-ইসরাইলের বিচারকগণ, তাদের সময়কাল এবং বিচারকার্যে তাদের ঘুষের লেনদেনের আলোচনা বিবৃত হয়েছে। এদের পরেই মূলত বনি ইসরাইলের বাদশা হিসেবে মনোনীত করা হয় তালুতকে। তালুত ছিলেন তাদের প্রথম রাজা।

তাওরাত সংকলকগণ বিচারকদের সময়কাল নিয়ে একমত হতে পারেননি। এই পুস্তকে বলা হয়েছে, তাদের সময়কাল ছিল চারশ পঞ্চাশ বছর। আবার অপর দিকে বলা হচ্ছে এদের সময়কাল শুরু হয়েছিল ১১৩০ খ্রিষ্টপূর্বে আর শেষ হয়েছিল ১০২০ খ্রিষ্টপূর্বে।

একইভাবে এই পুস্তকের রচয়িতা ব্যাপারেও ইহুদি পণ্ডিতগণ একমত হতে পারেননি। তাদের অনেকেই বলছেন এটি শেষ বিচারক শমুয়েল রচনা করেছেন। এ মতটি মেনে নিলে বলতে হয়, পুস্তকটি বিচারকগণের যুগ শেষ হওয়ার পর লিপিবদ্ধ হয়েছে। তারমানে এই দাঁড়াল যে, দীর্ঘ শতাব্দীকালব্যাপী এই পুস্তকটি কোনো ধরনের সূত্র ছাড়া শুধু শ্রুতিকথার ওপর নির্ভর করে চলে এসেছে। এতে করে এই পুস্তকের ওপর আস্থাটা রাখা সম্ভব নয়। এই পুস্তকের একটি অনুচ্ছেদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, পুস্তকটি অনেক বিলম্বে রচিত হয়েছে। ওই সময়ে ইস্রায়েলের মধ্যে রাজা ছিল না, যাহার দৃষ্টিতে যাহা ভালো বোধ হইত, সে তাহাই করিত।¹⁶⁰

এখান থেকে বোঝা যায়, পুস্তকটি রাজাদের যুগে লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং এর রচয়িতা অত্যন্ত দুঃখভরে ইহুদিদের জুলুম, অবাধ্যতা এবং তাদের পরিচালনার জন্য কোনো রাজা না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

পুস্তকের আলোচ্য বিষয়ঃ
এই পুস্তকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলো বনি-ইসরাইলের ধর্মবিমুখতা। কমপক্ষে সাত বারের বেশি এই বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। বনি ইসরাইল যখন দ্বীন থেকে দূরে সরে যেত তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তি দিতেন। এরপর তারা কান্নাকাটি করে তওবা করলে আল্লাহ তাআলা এই বিচারকগণের হাতে তাদেরকে নিস্তার দিতেন। এটাই হলো এই পুস্তকের মৌলিক শিক্ষা। বলা হয়েছে-

ইস্রায়েল-সন্তানগণ সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যাহা মন্দ, তাহাই করিতে লাগিল; এবং বাল দেবগণের সেবা করিতে লাগিল। আর যিনি তাহাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, যিনি তাহাদিকে মিশর দেশ হইতে বাহির করিয়া আনিয়াছিলেন, সেই সদাপ্রভুকে ত্যাগ করিয়া অন্য দেবগণের, অর্থাৎ আপনাদের চতুর্দিকস্থিত লোকদের দেবগণের অনুগামী হইয়া তাহাদের কাছে প্রণিপাত করিতে লাগিল। এইরূপে সদাপ্রভুকে অসন্তুষ্ট করিল। তাহারা সদাপ্রভুকে ত্যাগ করিয়া বাল দেবের ও অষ্টারোৎ দেবীদের সেবা করিত।¹⁶¹

টিকাঃ
১৬০. বিচারকর্তৃগণ, অধ্যায়: ১৭, অনুচ্ছেদ: ৬।
১৬১. বিচারকর্তৃগণ, অধ্যায়: ২, অনুচ্ছেদ: ১১; অধ্যায়: ৩, অনুচ্ছেদ: ১২; অধ্যায়: ৪, অনুচ্ছেদ: ১; অধ্যায়: ৬, অনুচ্ছেদ: ১; অধ্যায়: ১০, অনুচ্ছেদ: ৬।

যিহোশুয় থেকে নিয়ে শমুয়েল পর্যন্ত বনি ইসরাইলের নেতাগণকে বিচারক হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ সময়ে বনি ইসরাইলের কোনো বাদশা ছিল না। এসব বিচারকদের মান্য করা তাদের ওপর আবশ্যক করে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক বিচারক তার গোত্রের দায়িত্বশীল হলেও তারা কার্যত যাযাবর গোত্রপ্রধানের মতো ছিলেন না। তারা বিচারের মজলিস কায়েম করতেন। এই বিচারকগণের যুগের সূচনা হয়েছিল যিহোশুয় এর পর থেকে। আর সমাপ্তি ঘটে সর্বশেষ বিচারক শমুয়েল এর মাধ্যমে। বিচারকগণ পুস্তকের ভাষায় এই সময়কালের ব্যাপ্তি ছিল চারশ পঞ্চাশ বছর।¹⁰⁷

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতপক্ষে এই সময়কাল একশ পঞ্চাশ বছরের বেশি হবে না। কেননা, মুসা আলাইহিস সালাম বনি ইসরাইলকে নিয়ে মিশর থেকে বের হয়েছিলেন ১২১০ খ্রিষ্টপূর্বে। ইউশা ইবনে নুনের ইন্তেকাল হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১১৩০ সালে। তখন থেকে বিচারকগণের যুগের সূচনা হয়ে ১০২০ খ্রিষ্টপূর্বে শেষ হয়। সুতরাং স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে এই সময়কাল কোনোমতেই চারশ পঞ্চাশ বছর নয়।

বিচারকগণ পুস্তকের রচয়িতাদের ভুলের অন্যতম কারণ হলো তারা প্রত্যেক বিচারকের জন্য চল্লিশ বছর করে সময়কাল হিসেব করেছেন যা বাস্তবসম্মত নয়। তা ছাড়া একই সময়ে একাধিক বিচারক বিদ্যমান ছিলেন। কিন্তু লিপিকারগণ প্রত্যেকের সময়কে আলাদা আলাদা হিসেব করেছেন। তাই প্রকৃত সময় থেকে তাদের হিসেবের অঙ্কটা অনেক বড় হয়ে গিয়েছে।¹⁰⁸

এই সময়ে ইহুদি চিন্তা-চেতনা ও জীবনযাপন এর ভিত্তি স্থাপিত হয়। যাযাবর জাতিটি বিভিন্ন শহর ও গ্রামে স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে। শহুরে জীবনধারাতে অভ্যস্থ হয়ে উঠতে শুরু করে। ছুতার কর্ম, মৃৎশিল্পসহ বিভিন্ন পেশা ও শিল্পে তারা দক্ষ হয়ে উঠে। আর এই সবের পেছনে তাদের শিক্ষকের ভূমিকা পালন করে পূর্ব থেকে এখানে বসবাসরত কানানিরা। এতৎসত্ত্বেও তাদের অগ্রসরতা ছিল খুবই ধীরগতির। যদ্দরুণ বনি ইসরাইলের প্রতাপশালী সম্রাট আল্লাহর নবি সুলাইমান আলাইহিস সালাম বাহির থেকে নির্মাণকুশলী ও শ্রমিক আনতে বাধ্য হন।¹⁰⁹

পুস্তকের আলোচ্য বিষয়ঃ
এই পুস্তকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলো বনি-ইসরাইলের ধর্মবিমুখতা। কমপক্ষে সাত বারের বেশি এই বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। বনি ইসরাইল যখন দ্বীন থেকে দূরে সরে যেত তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শাস্তি দিতেন। এরপর তারা কান্নাকাটি করে তওবা করলে আল্লাহ তাআলা এই বিচারকগণের হাতে তাদেরকে নিস্তার দিতেন। এটাই হলো এই পুস্তকের মৌলিক শিক্ষা। বলা হয়েছে—

ইস্রায়েল-সন্তানগণ সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যাহা মন্দ, তাহাই করিতে লাগিল; এবং বাল দেবগণের সেবা করিতে লাগিল। আর যিনি তাহাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, যিনি তাহাদিকে মিশর দেশ হইতে বাহির করিয়া আনিয়াছিলেন, সেই সদাপ্রভুকে ত্যাগ করিয়া অন্য দেবগণের, অর্থাৎ আপনাদের চতুর্দিকস্থিত লোকদের দেবগণের অনুগামী হইয়া তাহাদের কাছে প্রণিপাত করিতে লাগিল। এইরূপে সদাপ্রভুকে অসন্তুষ্ট করিল। তাহারা সদাপ্রভুকে ত্যাগ করিয়া বাল দেবের ও অষ্টারোৎ দেবীদের সেবা করিত।¹⁶¹

টিকাঃ
১০৭. প্রেরিত, অধ্যায়: ১৩, অনুচ্ছেদ: ১৯-২০।
১০৮. ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৮-৯।
১০৯. আল-ইয়াহুদ ফি তারিখিল হাদারাতিল উলা, পৃষ্ঠা: ১৫।
১৬০. বিচারকর্তৃগণ, অধ্যায়: ১৭, অনুচ্ছেদ: ৬।
১৬১. বিচারকর্তৃগণ, অধ্যায়: ২, অনুচ্ছেদ: ১১; অধ্যায়: ৩, অনুচ্ছেদ: ১২; অধ্যায়: ৪, অনুচ্ছেদ: ১; অধ্যায়: ৬, অনুচ্ছেদ: ১; অধ্যায়: ১০, অনুচ্ছেদ: ৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px