📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 পুরাতন নিয়ম

📄 পুরাতন নিয়ম


ইহুদিদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

এক. তাওরাত (Law)

দুই. নবিয়েম / নবিগণের পুস্তক (Prophets)

তিন. কেতুবেম / পবিত্র সহিফাসমূহ (Hagiographa)

এই তিন প্রকার গ্রন্থের সমষ্টিকে তারা সংক্ষেপে তানখ (TANAKH) বলে থাকে। মূলত গ্রন্থটির তিনটি অংশের অদ্যাক্ষরের সমন্বয়ে তানখ শব্দটি গঠিত। খ্রিষ্টানরা অবশ্য এই সমষ্টির নাম দিয়েছে পুরাতন নিয়ম (Old testament)। মূলত তাদের ধর্মীয় গ্রন্থকে তারা দু’পর্বে ভাগ করে থাকে, যার প্রথম অংশ হচ্ছে এই পুরাতন নিয়ম বা ওল্ড টেস্টামেন্ট। আর দ্বিতীয় অংশ হলো নতুন নিয়ম (New Testament)। এখানে নিয়ম বা বিধি বলতে উদ্দেশ্য হচ্ছে, সেসব প্রতিশ্রুতি যা আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানের ওপর ধার্য করেছেন। সুতরাং পুরাতন নিয়ম বলতে উদ্দেশ্য হলো প্রাচীন প্রতিশ্রুতি। আর নতুন নিয়ম থেকে উদ্দেশ্য হলো, যে প্রতিশ্রুতি ঈসা- আলাইহিস সালাম- থেকে নেওয়া হয়েছিল। পুরাতন ও নতুন উভয় নিয়মকে সম্মিলিতভাবে বাইবেল বলা হয়।

এটি মূলত ইউনানী শব্দ বিবিলিয়া (Bibilia) থেকে নির্গত। এর অর্থ হচ্ছে, এক ধরনের মিশরীয় চামড়া যা প্রাচীনকালে লেখালিখির কাজে ব্যবহৃত হতো। খ্রিষ্টানরা বাইবেল শব্দের সাথে পরে Saera তথা 'পবিত্র' শব্দটি জুড়ে দেয়। ফলে এর নাম দাঁড়ায় পবিত্র বাইবেল। ইহুদি পোল করিন্থিয়ানস [১২০] বাসীদের কাছে লিখিত তার দ্বিতীয় পত্রে প্রথম পুরাতন নিয়ম বা ওল্ড টেস্টামেন্ট শব্দটি ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য, পোল ইহুদি হলেও ঈসা আলাইহিস সালামের ঊর্ধ্বগমনের পর সে নিজেকে ঈসা আলাইহিস সালামের অনুসারী বলে দাবি করে। আর নতুন নিয়ম তথা নিউ টেস্টামেন্ট শব্দের প্রথম ব্যবহার করেন মথি। [১২১] অবশ্য তাদের ধারণা মথি এটা ঈসা আলাইহিস সালাম থেকে শুনেই লিপিবদ্ধ করেছেন।

পুরাতন নিয়মের অধিকাংশ পুস্তক ইবরানি বা হিব্রু ভাষায় রচিত। হিব্রু হলো একটি সেমিটিক ভাষা। বিভিন্ন দিক থেকে এটি আরবির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আরামীয় ভাষাতেও পুরাতন নিয়মের কয়েকটি অনুচ্ছেদ পাওয়া যায়। এটিও হিব্রুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি ভাষা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মূল ভাষায় রচিত পুরাতন নিয়মের কোনো কপির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় সবই ভিন্ন ভিন্ন ভাষার অনুবাদ। [১২২]

বর্তমান হিব্রু পুরাতন নিয়মের যে মূল পাঠটি আমাদের সামনে রয়েছে তা মূলত মাসুরি লিপি (Massoretic Text) থেকে কপিকৃত। ইহুদি পণ্ডিতগণ ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে ফিলিস্তিনের অন্যতম প্রাচীন শহর তাইবেরিয়াসে এটি সংকলন করেন। ছাপার অক্ষরে হিব্রু ভাষায় পুরাতন নিয়ম প্রথম প্রকাশিত হয় ১৪৮৮ খ্রিষ্টাব্দে। এরপর ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয়বারের মতো এটি ছাপানো হয়। এখান থেকেই পুরাতন নিয়ম জার্মান ভাষায় অনুবাদ করা হয়। বর্তমানে এটিই বহুল প্রচারিত পুরাতন নিয়ম।

এখান থেকে বোঝা যায়, পুরাতন নিয়ম দীর্ঘ ছয় শতাব্দী যাবৎ সংযোজন-বিয়োজন, পরিবর্তন-পরিবর্ধন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে এটি কখনো কখনো লিখিত আকারে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছেছে। আবার কখনো শুধু মৌখিক চর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। লিখিত কোনো কপি ছিল না।

ফরাসি গবেষক মরিস বুকাইলি বলেন, এই পুস্তিকাগুলি দীর্ঘ নয় শতাব্দীব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় রচিত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে শুধু জনশ্রুতি ও লোককথার ওপর ভিত্তি করে এগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়। এমনকি নিত্যনতুন ঘটনা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে এগুলোকে সংশোধন ও সংস্কার করা হয়। [১২৩]

এসময় ইহুদি পণ্ডিতগণ এই পুস্তকগুলিকে বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে যুগোপযোগী করে তোলারও চেষ্টা করেন। থমাস বলেন, "ইহুদি আলেমরা ১৮টি স্থানে তাওরাতের মূল টেক্সট পরিবর্তন করে দিয়েছেন, যা বর্তমানে 'পণ্ডিতদের সংস্করণ' নামে পরিচিত।” [১২৪]

এই ১৮ স্থানকে তারা সরাসরি পরিবর্তিত বলে স্বীকার করেন। এর বাইরে হাজারেরও অধিক স্থান এমন আছে যেগুলোর ব্যাপারে তাদের পণ্ডিতদের বক্তব্য হলো, এগুলো উৎকৃষ্ট নয়, এসব এভাবে না হয়ে ওভাবে হওয়া উচিত ছিল। কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস প্রণেতা বলেন, "মাসুরিগণ বিভিন্ন অধ্যায়ে সংশয়পূর্ণ অনুচ্ছেদগুলো টীকাতে লিপিবদ্ধ করেছে এবং এগুলো গ্রহণীয় কিংবা বর্জনীয় হওয়ার বিষয়টি ইহুদি পণ্ডিতগণের গবেষণার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।” [১২৫]

পুরাতন নিয়মের পুস্তক-সংখ্যা নিয়ে খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন উপদলের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। প্রোটেস্ট্যান্টদের মতে এর সংখ্যা ৩৯টি। বক্ষ্যমাণ আলোচনায় আমরা এগুলো নিয়েই পর্যালোচনা করব। অপরদিকে ক্যাথলিকদের মতে এই সংখ্যা ৪৬। তারা নহমিয়ের পুস্তকের পর যিহুদা ও তোবিয়াস নামক দুটি পুস্তিকা বৃদ্ধি করে। একইভাবে পরমগীত এর পর যিশুইয় ইবনে সিরাখ ও প্রজ্ঞা নামক দুটি পুস্তক, যিরমিয় এর গীত এর পর বারুখ এবং মালাখি এর পর ম্যাকাবি ১ম ও ২য় পুস্তকগুলি সংযোজন করে। আবার এদিকে অর্থোডক্স এবং ইঞ্জিলিয়গণ মনে করেন, ৫৩টি পুস্তক মিলেই পুরাতন নিয়ম সমৃদ্ধ। এগুলো ছাড়াও পুরাতন নিয়মের পুস্তকসংখ্যা নিয়ে আরও বিভিন্ন মত রয়েছে।

পুরাতন নিয়মের ৩৯টি পুস্তক নিম্নরূপ:
১। আদিপুস্তক ২। যাত্রাপুস্তক ৩। লেবীয় পুস্তক ৪। গণনাপুস্তক ৫। দ্বিতীয় বিবরণ ৬। যিহোশুয় ৭। বিচারকগণের পুস্তক ৮। রুতের বিবরণ ৯। শমুয়েল ১ম ১০। শমুয়েল ২য় ১১। রাজাবলি ১ম ১২। রাজাবলি ২য় ১৩। বংশাবলি ১ম ১৪। বংশাবলি ২য় ১৫। ইজরা ১৬। নহমিয় ১৭। ইস্টের ১৮। ইয়োব ১৯। গীত ২০। হিতোপদেশ ২১। উপদেশক ২২। পরমগীত ২৩। যিশাইয় ২৪। যিরমিয় ২৫। বিলাপ ২৬। যিহিস্কেল ২৭। দানিয়াল ২৮। হোশেয় ২৯। যোয়েল ৩০। আমোষ ৩১। ওবদিয় ৩২। যোনা ৩৩। মীখা ৩৪। নহম ৩৫। হবকূম ৩৬। সফনিয় ৩৭। হগয় ৩৮। সখরিয় ৩৯। মালাখি

ইহুদিরা এগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে। এক. নামুস। অর্থাৎ মুসা আলাইহিস সালামের পাঁচ পুস্তক। দুই. নবিগণের পুস্তক। তিন. পবিত্র সহিফাসমূহ।

প্রথম. নামুস তথা মুসা আলাইহিস সালামের পাঁচ পুস্তক। এগুলোকে সেমিটিক ভাষায় তাওরাহ বলা হয় যার অর্থ হচ্ছে শরিয়ত বা বিধিবিধান। নামুস শব্দের অর্থও বিধিবিধান। এটি মূলত গ্রিক শব্দ। সুতরাং নামুস থেকে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে রীতিনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক বিধিবিধানসম্বলিত শরিয়ত যা মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহির মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে প্রণয়ন করেছেন। এদিকে ইঙ্গিত করে ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন— মনে করিও না যে, আমি ব্যবস্থা (নামুস) কিংবা নবিগণকে লোপ করিতে আসিয়াছি; আমি তাহা লোপ করিতে আসি নাই, বরং পূর্ণ করিতে আসিয়াছি। [১২৬]

মুসা আলাইহিস সালামের শরিয়তে প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত কিছু প্রথার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কিসাসের বিধান অর্থাৎ হত্যার বিনিময়ে হত্যা। যেমন আদিপুস্তকে বলা হয়েছে— যে কেহ মনুষ্যর রক্তপাত করিবে, মনুষ্য কর্তৃক তাহার রক্তপাত করা যাইবে; কেননা ঈশ্বর আপন প্রতিমূর্তিতে মনুষ্যকে নির্মাণ করিয়াছেন। [১২৭] এরকম আরেকটি বিধান হলো ব্যভিচারিণীকে পুড়িয়ে হত্যা করা যেমন আদিপুস্তকেই বলা হচ্ছে— প্রায় তিন মাস পরে কেহ যিহূদাকে কহিল, তোমার পুত্রবধূ তামর ব্যভিচারিণী হইয়াছে, আরও দেখো, ব্যভিচারহেতু তাহার গর্ভ হইয়াছে। তখন যিহূদা কহিল, তাহাকে বাহিরে আনিয়া পোড়াইয়া দেও। [১২৮]

ব্যবস্থাবেত্তাগণ অর্থাৎ যারা এই শরিয়তের ব্যাখ্যা করত, তারা ছিল ঈসা আলাইহিস সালামের সবচেয়ে বড় শত্রু। কেননা, তারা ইহুদিদের মাঝে এই শরিয়তের ব্যাখ্যার দায়িত্বকে নিজেদের পেশা বানিয়ে নিয়েছিল। মসিহ আলাইহিস সালামের আত্মপ্রকাশকে তারা নিজেদের পেশার জন্য হুমকি মনে করতে শুরু করে। একারণে মসিহ আলাইহিস সালাম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তাদের নিন্দা করেন। যেমন লুকের সুসমাচারে বলা হয়েছে— তখন ব্যবস্থাবেত্তাদের একজন উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিল, হে গুরু, এই কথা বলিয়া আপনি আমাদেরও অপমান করিতেছেন। তিনি কহিলেন, হ্যাঁ ব্যবস্থাবেত্তারা, ধিক তোমাদিগকেও, কেননা তোমরা মনুষ্যদের উপরে দুর্বহ বোঝা চাপাইয়া দিয়া থাকো, কিন্তু আপনার একটি অঙ্গুলি দিয়া সেই সকল বোঝা স্পর্শ করো না। [১২৯] এদিকেই ইঙ্গিত করে কুরআনে বলা হয়েছে—

যাদেরকে তাওরাত দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধার মতো, যে কেবল পুস্তক বহন করে। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে, তাদের দৃষ্টান্ত কতই না নিকৃষ্ট! আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। [সুরা জুমুআ, আয়াত : ৫]

ইহুদি এবং খ্রিষ্টান উভয়ে বিশ্বাস করে এই নামুস তথা শরিয়ত হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি। মুসা আলাইহিস সালাম একজন রাসুল এবং এই শরিয়তের বাহক মাত্র। পরবর্তীতে অবশ্য তাদের এ ধারণায় কিছুটা পরিবর্তন আসে। বলা হয়ে থাকে— সৃষ্টির সূচনা থেকে নিয়ে ইহুদিদের কানানে প্রবেশসংক্রান্ত আলোচনা স্থান পাওয়া পুস্তকগুলি মুসা আলাইহিস সালাম লিপিবদ্ধ করেছেন। তাওরাতের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে— ‘পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, এই কথা স্মরণার্থে পুস্তকে লিখ, এবং যিহোশূয়ের কর্ণগোচরে শুনাইয়া দেও; কেননা আমি আকাশের নিচে হইতে অমালেকের নাম নিঃশেষে লোপ করিব।’ [১৩০] এ কথার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমালেকাদের পরাজয়। অন্যস্থানে বলা হয়েছে— মোশি সদাপ্রভুর আজ্ঞায় তাহাদের যাত্রা অনুসারে সেই উত্তরণ-স্থানগুলির বিবরণ লিখিলেন। তাহাদের যাত্রা অনুসারে উত্তরণ-স্থান সকলের বিবরণ এই। [১৩১] আরেক জায়গায় বলা হয়েছে— পরে মোশি এই ব্যবস্থা (তাওরাত) লিখিলেন, এবং লেবি-বংশজাত যাজকগণ, যাহারা সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুক বহন করিত, তাহাদিগকে ও ইস্রায়েলের সমস্ত প্রাচীনবর্গকে সমর্পণ করিলেন। [১৩২]

ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বিশ্বাসের বাইরে আধুনিক বায়োলজিক্যাল গবেষণা বলছে, এই পুস্তকগুলি এক্সোডাস তথা মিসর ত্যাগের সূচনা থেকে নিয়ে কানানে প্রবেশ পর্যন্ত প্রায় তিন শতাব্দী যাবৎ লেখা হয়েছে। আর মুসা আলাইহিস সালাম কানানে প্রবেশ এর পূর্বেই ইন্তেকাল করেন যেমনটি তাওরাতে বর্ণিত হয়েছে। তখন সদাপ্রভুর দাস মোশি সদাপ্রভুর বাক্যানুসারে সেই স্থানে মোয়াব দেশে মরিলেন। আর তিনি মোয়াব দেশে বৈৎ-পিয়োরের সম্মুখস্থ উপত্যকাতে তাঁহাকে কবর দিলেন; কিন্তু তাঁহার কবরস্থান অদ্যাপি কেহ জানে না। [১৩৩]

মৃত্যুকালে মুসা আলাইহিস সালামের বয়স হয়েছিল একশ বিশ বছর। এ বয়সেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি ছিল সতেজ ও তীক্ষ্ম। মুসা আলাইহিস সালামের মৃত্যুতে বনি ইসরাইল মোয়াবে ত্রিশ দিন শোক প্রকাশ করে ক্রন্দন করে। [১৩৪]

এই ঘটনা পর্যালোচনা করতে গিয়ে হাফেজ ইবনে হাযম লিখেছেন— তাদের তাওরাতের সর্বশেষ অধ্যায় হচ্ছে এটি। এই অধ্যায়টি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে, তাদের কাছে রক্ষিত এই তাওরাত আসল তাওরাত নয়। এটি একটি বিকৃত ও বিচ্যুত তাওরাত। এটি সংকলিত ইতিহাস, যা সংকলন করেছেন কোনো গণ্ডমূর্খ ব্যক্তি মনগড়া চিন্তা থেকে। এটি কখনোই আল্লাহ তাআলার নাজিলকৃত তাওরাত হতে পারে না। কেননা এটি মুসা আলাইহিস সালামের ওপর নাজিলকৃত তাওরাত যদি হতো তাহলে সেখানে মুসা আলাইহিস সালাম মৃত্যু ও দাফনের আলোচনা স্থান পেতো না। তিনি আরও বলেন, এখানে যে বলা হলো 'অদ্যপি তার কবর কেউ চিনে না' এ বাক্যটিও আমার পূর্বকথাকে সমর্থন করে এবং বোঝা যায়, এটি মুসা আলাইহিস সালামের ওফাতের দীর্ঘকাল পরে রচিত হয়েছে। [১৩৫]

এ ছাড়াও এর বিভিন্ন অংশের শরিয়তের অংশ হওয়া নিয়ে ইহুদিদের মতানৈক্য এ কথা প্রমাণ করে যে, এগুলো মুসা আলাইহিস সালামের লেখা নয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহিও নয়। গবেষকগণ মনে করেন, পুরাতন নিয়মে প্রথম অংশ তাওরাত লিপিবদ্ধ হয় ৪০০ খ্রিষ্টপূর্বে। দ্বিতীয় অংশ নবিগণের পুস্তক লিপিবদ্ধ হয় ২০০ খ্রিষ্টপূর্বে এবং তৃতীয় অংশ পবিত্র সহিফাগুলো লিপিবদ্ধ হয় ৯০ খ্রিষ্টাব্দে। যদি এর পুরোটা মুসা আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে হতো কিংবা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হতো তাহলে তাদের আলিমগণ এটির শরিয়ত হওয়ার ব্যাপারে দ্বিধা করতেন না।

টিকাঃ
১২০. করিন্থিয়ানস হলো গ্রিসের একটি নগরী। ৫৩ খ্রিস্টাব্দে পোল খ্রিস্টবাদের দাওয়াত নিয়ে সেখানে সফর করেছিল।
১২১. মথি, অধ্যায়: ২৬, অনুচ্ছেদ: ১৮।
১২২. কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, পৃষ্ঠা: ৭৬৩
১২৩. দিরাসাত ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ, পৃষ্ঠা: ২৩
১২৪. হিস্ট্রি অফ দা ইংলিশ বাইবেল, পৃষ্ঠা: ১৪
১২৫. কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, পৃষ্ঠা: ৭৬৩
১২৬. মথি, অধ্যায়: ৫, অনুচ্ছেদ: ১৭।
১২৭. আদিপুস্তক, অধ্যায়: ৯, অনুচ্ছেদ: ৬।
১২৮. আদিপুস্তক, অধ্যায়: ৩৮, অনুচ্ছেদ: ২৪।
১২৯. লুক, অধ্যায়: ১১, অনুচ্ছেদ: ৪৫-৪৬।
১৩০. যাত্রাপুস্তক, অধ্যায়: ১৭, অনুচ্ছেদ: ১৪।
১৩১. গণনা পুস্তক, অধ্যায়: ৩৩, অনুচ্ছেদ: ২।
১৩২. দ্বিতীয় বিবরণ, অধ্যায়: ৩১, অনুচ্ছেদ: ৯।
১৩৩. দ্বিতীয় বিবরণ, অধ্যায় ৩৪, অনুচ্ছেদ: ৫-৬।
১৩৪. আল-ফসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়াই ওয়ান নিহাল, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৮৬
১৩৫. আল-ফসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়াই ওয়ান নিহাল, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৮৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px