📄 ১১। নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তান দাবি করা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بَشَرٌ مِمَّنْ خَلَقَ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهুমَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ .
ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা বলে, আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন। আপনি বলুন, তবে তিনি তোমাদেরকে পাপের বিনিময়ে কেন শাস্তি দান করবেন? বরং তোমরাও অন্যান্য সৃষ্ট মানবের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষ। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করেন। নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তাতে আল্লাহরই আধিপত্য রয়েছে এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ১৮]
অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন- ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ وَغَرَّهُمْ فِي دِينِهِم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ .
তা এজন্য যে, তারা বলে থাকে যে, দোজখের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতেগোনা কয়েকদিনের জন্য স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোঁকা খেয়েছে। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ২৪]
আরেক আয়াতে তিনি বলেন- قُلْ إِنْ كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِنْدَ اللَّهِ خَالِصَةً مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ .
বলে দিন, যদি আখেরাতের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে-অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা করো, যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো। [সুরা বাকারা, আয়াত: ৯৪]
📄 ১২। অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ হরণ
পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছে-
وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا .
আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করত অন্যায়ভাবে। বস্তুত আমি কাফেরদের জন্য তৈরি করে রেখেছি বেদনাদায়ক আজাব। [সুরা নিসা, আয়াত: ১৬১]
আরেক আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে- سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ
এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ৪২]
📄 ১৩। যুদ্ধক্ষেত্রে কাপুরুষতা
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
لَنْ يَضُرُّوكُمْ إِلَّا أَذًى وَإِنْ يُقَاتِلُوكُمْ يُوَلُّوكُمُ الْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنْصَرُونَ . ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذُّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوا إِلَّا بِحَبْلٍ مِنَ اللَّهِ وَحَبْلٍ مِنَ النَّاسِ وَবَاءُوا بِغَضَبٍ مِنَ اللهِ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الْمَسْكَنَةُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللهِ وَيَقْتُلُونَ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٌّ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ .
সামান্য কষ্ট দেওয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোনো-ই ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমাদের সাথে লড়াই করে, তাহলে তারা পশ্চাৎপসরণ করবে। অতঃপর তাদের সাহায্য করা হবে না। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কিংবা মানুষের প্রতিশ্রুতি ব্যতীত ওরা যেখানেই অবস্থান করেছে সেখানেই তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ওরা উপার্জন করেছে আল্লাহর গজব। ওদের ওপর চাপানো হয়েছে গলগ্রহতা। তা এজন্যে যে, ওরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অনবরত অস্বীকার করেছে এবং নবিগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। তার কারণ, ওরা নাফরমানি করেছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১২-১১৩]
📄 ১৪। দুনিয়াপ্রীতি
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَنْ يُعَمَّرَ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ .
আপনি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভি দেখবেন। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়। অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে। [সুরা বাকারা, আয়াত: ৯৬]
কুরআন অবতরণকালে এটাই ছিল ইহুদিদের অবস্থা। বর্তমান ইহুদিরা এর চেয়েও নিকৃষ্ট।