📄 বনি ইসরাইলের মিশরে অবস্থানকাল
কথিত আছে, বনি ইসরাইল মিশরে চারশ ত্রিশ বছর বসবাস করেছিল। কিন্তু এই তথ্য সঠিক নয়। হাফেজ ইবনে হাযাম এই সংখ্যাটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “বনি ইসরাইলের মিশরে চারশ ত্রিশ বছর অবস্থানের তথ্যটি যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি চরম ভিত্তিহীন তথ্য। কেননা পূর্বেই বলা হয়েছে, কহাৎ ইবনে লেবি স্বীয় দাদা ইয়াকুব ও বাপ-চাচাদের সাথেই মিশরে আগমন করেন। তিনি সর্বমোট বয়স পেয়েছিলেন একশ তেত্রিশ বছর। আর বনি ইসরাইলকে নিয়ে মিশর থেকে বের হওয়ার সময় মুসা আলাইহিস সালামের বয়স ছিল আশি বছর। এই তথ্যগুলো তাদের কাছে সংরক্ষিত কথিত তাওরাতেই রয়েছে। এখন যদি ধরে নেওয়া হয়, মিশরে প্রবেশের সময় কহাৎ এর বয়স ছিল এক মাস বা তারও কম এবং ইমরানের জন্ম কহাৎ এর মৃত্যুর পরেও হয়। একইভাবে মুসা আলাইহিস সালামের জন্মও ইমরানের মৃত্যুর পর হয় তাহলে সাকুল্যে সময়কাল দাঁড়ায় তিনশ পঞ্চাশ বছর। তাহলে তাদের দাবিকৃত চারশ ত্রিশ বছরের মধ্যে অবশিষ্ট আশি বছর কোথায়? তাদের কারও কারও দাবির প্রেক্ষিতে বাবা ও ভাইদের আগমনের পূর্বে ইউসুফ আলাইহিস সালামের মিশরে অবস্থানকালও যদি যোগ করা হয় তাও সংখ্যাটি চারশ ত্রিশ হয় না। কেননা ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন মিশরে আসেন তখন তার বয়স ছিল সতেরো। আর ইয়াকুব আলাইহিস সালাম যখন পরিবার নিয়ে মিশরে আগমন করেন তখন ইউসুফ আলাইহিস সালামের বয়স ছিল উনচল্লিশ। সুতরাং ভাইদের পূর্বে তিনি বাইশ বছর মিশরে ছিলেন। তিনশ পঞ্চাশের সাথে এই বাইশ বছর যোগ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় তিনশ বাহাত্তর বছর। এরপরও আটান্ন বছরের ঘাটতি থেকে যায় যা কোনভাবেই মিলানো সম্ভব না।" এরপর তিনি বলেন, “এটি লোকমুখে চর্চিত একটি ভিত্তিহীন আষাঢ়ে গল্প। সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী কেউই এই সংখ্যাটি বিশ্বাস করবে না।” শেষে তিনি বলেন, “ইসরাইলি গ্রন্থগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হলো ইয়াকুব আলাইহিস সালাম পরিবারসহ মিশরে প্রবেশ থেকে নিয়ে মুসা আলাইহিস সালাম কর্তৃক ইসরাইলিদের নিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত সময়কাল হলো সাকুল্যে দুইশ সতেরো বছর।”[৮০]
টিকাঃ
৮০. আল-ফসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়াই ওয়ান নিহাল, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৫৯।