📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 মিশর ত্যাগের তারিখ

📄 মিশর ত্যাগের তারিখ


মুসা আলাইহিস সালামের সময়কাল এবং বনি ইসরাইলকে নিয়ে মিশর ত্যাগের তারিখ নির্ণয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

১। মিশরীয় ইতিহাসবিদ ম্যানিথো (খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০) এর মতে তার সময়কালের ছয় শতাব্দী পূর্বে বনি ইসরাইলের মিশর ত্যাগের ঘটনা ঘটেছিল। ম্যানিথোর এই মতটি উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ব্যাপকাকারে গ্রহণযোগ্য ছিল। তিনি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন যে, মিশরীয় হেক্সোস সম্রাট এ শতাব্দীতেই মিশর থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। কিন্তু আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা এই মতের সাথে একমত নয়।

২। দ্বিতীয় মত হলো, মুসা আলাইহিস সালাম ছিলেন বাদশাহ তৃতীয় থোথমোস (১৪৯০-১২৩৬ খ্রিষ্টপূর্ব) এর সামসময়িক। আর মিশর ত্যাগের ঘটনা ঘটে দ্বিতীয় আমুন হোতেফ (১৪৩৬-১৪১১ খ্রিষ্টপূর্ব) এর সময়ে।

৩। তৃতীয় মত হলো, মিসর ত্যাগের ঘটনা দ্বিতীয় র‍্যামেসিস (১২৯০-১২২৩ খ্রিষ্টপূর্ব) এর সময়ে সংঘটিত হয়।

৪। চতুর্থ মত হলো, এটি সংঘটিত হয়েছিল সম্রাট মানেফতাহ (১২২৩-১২১১ খ্রিষ্টপূর্ব) এর শাসনামলে। মিশরীয় বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ফলকের সুবাদে শেষোক্ত মতটির সমর্থন পাওয়া যায়। এগুলোর খোদাই করা তথ্যানুসারে সম্রাট মানেফতাহ বনি ইসরাইলকে সমূলে উচ্ছেদ করেছিলেন। [৭৯]

টিকাঃ
৭৯. আহমদ বদরি, মাওয়াকিবুশ শামস, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৯১২। ফরাসি বিজ্ঞানী মরিস বুকাইলি তার বিখ্যাত গ্রন্থ কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানে এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, "দীর্ঘায়ু লাভ করা দ্বিতীয় র‍্যামেসিস এক্সোডাসের ফিরাউন না হওয়াটাই সুনিশ্চিত। তার পরবর্তী মানেফস্তাহ-ই হলো সেই ফিরাউন যে ইবরানিদের তাড়াতে গিয়ে মারা যায়।"

📘 ইহুদি ও খ্রিষ্টান জাতির ইতিহাস 📄 বনি ইসরাইলের মিশরে অবস্থানকাল

📄 বনি ইসরাইলের মিশরে অবস্থানকাল


কথিত আছে, বনি ইসরাইল মিশরে চারশ ত্রিশ বছর বসবাস করেছিল। কিন্তু এই তথ্য সঠিক নয়। হাফেজ ইবনে হাযাম এই সংখ্যাটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “বনি ইসরাইলের মিশরে চারশ ত্রিশ বছর অবস্থানের তথ্যটি যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি চরম ভিত্তিহীন তথ্য। কেননা পূর্বেই বলা হয়েছে, কহাৎ ইবনে লেবি স্বীয় দাদা ইয়াকুব ও বাপ-চাচাদের সাথেই মিশরে আগমন করেন। তিনি সর্বমোট বয়স পেয়েছিলেন একশ তেত্রিশ বছর। আর বনি ইসরাইলকে নিয়ে মিশর থেকে বের হওয়ার সময় মুসা আলাইহিস সালামের বয়স ছিল আশি বছর। এই তথ্যগুলো তাদের কাছে সংরক্ষিত কথিত তাওরাতেই রয়েছে। এখন যদি ধরে নেওয়া হয়, মিশরে প্রবেশের সময় কহাৎ এর বয়স ছিল এক মাস বা তারও কম এবং ইমরানের জন্ম কহাৎ এর মৃত্যুর পরেও হয়। একইভাবে মুসা আলাইহিস সালামের জন্মও ইমরানের মৃত্যুর পর হয় তাহলে সাকুল্যে সময়কাল দাঁড়ায় তিনশ পঞ্চাশ বছর। তাহলে তাদের দাবিকৃত চারশ ত্রিশ বছরের মধ্যে অবশিষ্ট আশি বছর কোথায়? তাদের কারও কারও দাবির প্রেক্ষিতে বাবা ও ভাইদের আগমনের পূর্বে ইউসুফ আলাইহিস সালামের মিশরে অবস্থানকালও যদি যোগ করা হয় তাও সংখ্যাটি চারশ ত্রিশ হয় না। কেননা ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন মিশরে আসেন তখন তার বয়স ছিল সতেরো। আর ইয়াকুব আলাইহিস সালাম যখন পরিবার নিয়ে মিশরে আগমন করেন তখন ইউসুফ আলাইহিস সালামের বয়স ছিল উনচল্লিশ। সুতরাং ভাইদের পূর্বে তিনি বাইশ বছর মিশরে ছিলেন। তিনশ পঞ্চাশের সাথে এই বাইশ বছর যোগ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় তিনশ বাহাত্তর বছর। এরপরও আটান্ন বছরের ঘাটতি থেকে যায় যা কোনভাবেই মিলানো সম্ভব না।" এরপর তিনি বলেন, “এটি লোকমুখে চর্চিত একটি ভিত্তিহীন আষাঢ়ে গল্প। সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী কেউই এই সংখ্যাটি বিশ্বাস করবে না।” শেষে তিনি বলেন, “ইসরাইলি গ্রন্থগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হলো ইয়াকুব আলাইহিস সালাম পরিবারসহ মিশরে প্রবেশ থেকে নিয়ে মুসা আলাইহিস সালাম কর্তৃক ইসরাইলিদের নিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত সময়কাল হলো সাকুল্যে দুইশ সতেরো বছর।”[৮০]

টিকাঃ
৮০. আল-ফসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়াই ওয়ান নিহাল, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৫৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px