📄 বনু হানাফীর প্রতিনিধিদলের আগমন এবং তাদের সাথে ছিল মুসায়লামা কায্যাব
ইবন ইসহাক বলেন: বনু হানাফী গোত্রের প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আসেন, যাদের সাথে মুসায়লামা কায্যাবও ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করে এবং নিজেদের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা চায়।
📄 মুসায়লামার নবুওয়াত দাবি
ইবন ইসহাক বলেন: মুসায়লামা কায্যাব বনু হানাফীর প্রতিনিধিদলের সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আসার পর নবুওয়াতের দাবি করে। সে নিজেকে আল্লাহর রাসূল হিসেবে দাবি করে এবং কুরআনের অনুরূপ কিছু আয়াত তৈরি করার চেষ্টা করে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে একজন মিথ্যাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেন।
📄 তাঈ গোত্রের প্রতিনিধিদলে যায়দ খায়লের আগমন
ইবন ইসহাক বলেন: তাঈ গোত্রের প্রতিনিধিদলে যায়দ খাইল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আসেন। তিনি ছিলেন তার গোত্রের একজন সম্মানিত নেতা এবং একজন কবি। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে 'যায়দ আল-খাইর' (কল্যাণময় যায়দ) উপাধি দেন।
ইমাম আল-বায়হাকী ও ইমাম আবু নুআইম (আল-আসবাহানী ) বর্ণনা করেন,
إِنَّهُ كَانَ يَهُودِيٌّ سَكَنَ مَكَّةَ لِلتِّجَارَةِ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ التَّيْ وُلِدَ فِيْهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ، قَالَ : يَا مَعْشِرَ يَهُودٍ طَلَعَ نَجْمُ أَحْمَدَ الذِي يُوْلَدُ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ.
'ওই সময়টায় এক ইহুদি ব্যবসার কাজে মক্কায় অবস্থান করছিলেন। যখন হযরত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শুভ-আবির্ভাবের রাতটি ঘনিয়ে এলো তখন তিনি বললেন, ওহে ইহুদি জাতি! মহামানব আহমদের তারকা উদিত হয়েছে, আজ রাতেই তিনি জন্মলাভ করবেন।[1]
وَعَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: كَانَ يَهُودِيٌّ قَدْ سَكَنَ مَكَّةَ، فَلَمَا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الَّتِي وَلَدَ فِيْهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ، قَالَ : يَا مَعْشِرَ قُرَيْشٍ ! هَلْ وَلَدَ فِيْكُم مَوْلُودٌ؟ قَالُوا: لَا نَعْلَمُ، قَالَ: انْظُرُوْا فَإِنَّهُ وَلَدَ فَي هَذِهِ اللَّيْلَةِ نَبِيُّ هِذِهِ الْأُمَّةِ، بَيْنَ كَتَفَيْهِ عَلَامَةٌ، فَانْصَرَفُوْا، فَسَأَلُوْا، فَقِبْلَ لَهُمْ: وَلَدَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ غُلَامٌ، فَذَهَبَ الْيَهُودِيُّ مَعَهُمْ إِلَى أُمِّهِ، فَأَخْرَجَتْهُ لَهُمْ، فَلَمَّا رَأَى الْيَهُودِيُّ الْعَلَامَةَ خَرَّ مُغْشِيًّا عَلَيْهِ، وَقَالَ: ذَهَبَتِ النُّبُوَّةُ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ يَا مَعْشِرَ قُرَيْشٍ ! أَمَّا وَاللَّهُ لَيَسْطُونَ بِكُمْ سُطْوَةٌ، يَخْرُجُ خَبْرُهَا مِنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ.
'হযরত আয়িশা বলেন, সে-সময় এক ইহুদি মক্কায় অবস্থান করছিলেন। যখন হযরত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শুভ-আবির্ভাবের রাতটি ঘনিয়ে এলো তখন তিনি বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আজ কি তোমাদের বংশে কোনো নবজাতকের জন্ম হয়েছে? তারা বলল, না। তিনি বললেন, দেখ দেখ, নিশ্চয় আজ রাতে জন্ম নেবেন এ-জাতির নবী; তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে এর নিদর্শন রয়েছে। একথা শুনে কুরাইশের লোকেরা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো এবং খবরাখবর নিতে লাগলো। অতঃপর খবর পাওয়া গেল, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের ঘরে এক নবজাতক জন্ম নিয়েছে। কুরাইশের লোকজনকে সাথে নিয়ে ইহুদি তাঁর মায়ের কাছে হাজির হলেন। মাতা আমিনা তাঁর সদ্যোজাত শিশুটিকে দেখাতে সম্মত হন। ইহুদি নুবুওয়াতের নিদর্শন দেখে চমকে গেলেন এবং বলে ওঠলেন, ইসরাইলের বংশে নুবুওয়তের ধারা শেষ হয়ে গেছে। হে কুরাইশ সম্প্রদায়! খোদার কসম! এই শিশুটির মাধ্যমে গোটা পৃথিবীতে তোমরা সুউচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে। তাঁর জীবনাদর্শ সমগ্র দুনিয়ায় বিস্তার লাভ করবে।”
এটি ইমাম ইয়াকুব ইবনে সুফ্যান হাসান স্তরের সনদে বর্ণনা করেছেন। ফতহুল বারীতে এমনটিই বর্ণিত হয়েছে।[2]
নবী করীম -এর জন্ম মুহূর্তে কিসরার রাজপ্রাসাদে প্রবল কম্পনের সৃষ্টি, এর চৌদ্দটা ইট খসে পড়া, রাজকীয় লেক শুকিয়ে যাওয়া এবং পারস্য অগ্নিশিখা নিভে যাওয়া-যে-অগ্নিশিখা হাজার বছর থেকে কেউ নেভায়নি। এ-ধরনের ঘটনাবলিও বেশ বিস্ময়কর। এ-প্রসঙ্গে আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন, এটি একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা।[3]
চৌদ্দটা ইট খসে পড়ার মধ্যে খসে পড়া ইটের সমপরিমাণ তারা এ সাম্রাজ্যে রাজত্ব করতে পারবে—এমন ইঙ্গিত নিহিত ছিলো। বাস্তবত (নবী করীম -এর জীবদ্দশায়) চার বছরে তাদের দশজন সম্রাট রাজত্ব করে এবং অন্যরা হযরত ওসমান (ইবনে আফফান )-এর খিলাফত পর্যন্ত সময়ে ক্ষমতায় ছিলো। একথা আল-মাওয়াহিবুল লুদুনিয়ায় উল্লেখ রয়েছে।
'এছাড়াও আকাশের নিরাপত্তার জন্য শিহাব নামক অগ্নিগোলক মোতায়েন, শয়তানের আনাগোনার পথ রুদ্ধ করে দেওয়া এবং ওৎপেতে ঊর্ধ্বজগতের বার্তা শোনার ক্ষেত্রে শয়তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।”[4]
নবী করীম বিশেষ অঙ্গব্যবচ্ছিন্ন তথা খতনাকৃত এবং ডিম্বক নাড়ি তথা নাভিকর্তিত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। যেমনটি হযরত আবু হুরায়রা থেকে[5] এবং হযরত (আবদুল্লাহ) ইবনে ওমর[6] কর্তৃক নবী করীম থেকে ইমাম ইবনে আসাকিরের নিকট বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও আল- আওসাত গ্রন্থে ইমাম আত-তাবারানী, ইমাম আবু নুআইম (আল- আসবাহানী), ইমাম খতীব আল-বগদাদী ও ইমাম ইবনে আসাকির একাধিক বর্ণনাভঙ্গিতে বর্ণনা করেছেন,[7]
عَنْ أَنَسِ اللهِ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: مِنْ كَرَامَتِي عَلَى رَبِّي أَنِّي وُلِدْتُ مَحْتُوْنًا، وَلَمْ يَرَ أَحَدٌ سَوْءَتِي.
‘হযরত আনাস (ইবনে মালিক) থেকে বর্ণিত আছে, নবী করীম ইরশাদ করেন, 'খতনাকৃত অবস্থায় আমি জন্মলাভ করেছি- এটি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমাকে প্রদত্ত বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার একটি এবং কেউ আমার লজ্জাস্থান দেখেনি।
আল-মুখতারা গ্রন্থে গ্রন্থগার এটিকে বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন।[8] ইমাম আল-হাকিম আল-মুস্তাদরিক গ্রন্থে বলেছেন,
تَوَاتَرَتِ الْأَخْبَارُ أَنَّهُ وُلِدَ مَخْتُوْنًا.
'নবী করীম আলায়হিস সালাতু ওয়াস সালাম খতনাকৃত অবস্থায় জন্ম নেওয়ার বিষয়ক বর্ণনাসমূহ ধারাবাহিক সূত্রপরম্পরা স্তরের।’[9]
তাওয়াওতুর বলতে তিনি হয়তো সিরাতগ্রন্থসমূহে এ-ধরনের বর্ণনার প্রসিদ্ধি ও আধিক্যের বিষয়টি বুঝিয়েছেন, এখানে মুহাদ্দিসগণের ব্যবহৃত সনদের বিশেষ পরিভাষাটি উদ্দেশ্য করেননি। কারণ অনেক মুহাদ্দিস এটিকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিষয়টিকে ইমাম ইবনে কাইয়িম (আল-জওযিয়া) বেশ স্পষ্ট করেছেন, 'এটি নবী করীম-এর একক বৈশিষ্ট্য নয়, কারণ অনেক মানুষই তো খতনাকৃত অবস্থায় জন্ম নেয়।’[10]
ইমাম ইবনে দুরায়দ-এর আল-বিশাহ গ্রন্থে এসেছে, قَالَ ابْنُ الْكَلْبِيُّ : بَلَغْنَا أَنَّ آدَمَ خُلِقَ مَحْتُوْنًا، وَاثْنَيْ عَشَرَ نَبِيًّا مِّنْ بَعْدِهِ خُلِقُوا مُحْسِنِينَ آخِرُهُمْ مُحَمَّدٌ .
'হযরত ইবনুল কলবী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে, হযরত আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে খতনাকৃত অবস্থায়। তাঁর পরবর্তীতে আরও ১২ জন নবীকে খতনাকৃত অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছে আর হযরত মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ ছিলেন সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ জন।’[11]
বলা হয়ে থাকে যে, أَنَّهُ خَتَنَهُ جَدُّهُ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ يَوْمَ سَابِعِهِ، وَصَنَعَ لَهُ مَأْدُبَةٌ، وَسَمَاهُ مُحَمَّدًا.
'নবী করীম-এর জন্মের সপ্তম দিন দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর খতনা করান এবং (আকীকা উপলক্ষ্যে) ভোজানুষ্ঠানের আয়োজন করেন আর 'মুহাম্মদ' নামকরণ করেন।’[12]
কারো মতে إِنَّ جَبْرِيلَ خَتَنَهُ حِيْنَ طَهَّرَ قَلْبَهُ.
নবী করীম -এর বক্ষবিদারণের সময় হযরত জিবরাইল তাঁর খতনা করিয়েছিলেন।[13]
ইমাম আয-যাহাবী বলেছেন, এই মতটি প্রত্যাখ্যাত।[14]
ফায়িদা
জেনে রাখুন! ছেলেদের পুরুষাঙ্গের মাথার অতিরিক্ত চামড়া কেটে ফেলা এবং মেয়েদের যোনীপথের অগ্রভাগে বাহুল্য চামড়াটি কেটে নেয়াকে খতনা বলা হয়। ছেলেদের খতনাকে اِعْذَارٌ -বিন্দুবিহীন ও সবিন্দু-সহকারে এবং মেয়েদের খতনাকে خِفَاضٌ-সবিন্দু খ, সবিন্দু ও ৮-সহকারে বলা হয়।
আলিমদের মাঝে খতনা ওয়াজিব কি সুন্নাত এ-বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। অধিকাংশ আলিমদের মতে খতনা সুন্নাত, ওয়াজিব নয়। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক (ইবনে আনাস) ও কিছু ইমাম আশ-শাফিয়ী-এর অনুসারী এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আশ-শাফিয়ী -এর মতে খতনা ওয়াজিব। মালিকী মতাবলম্ববীদের দাবিও এমনটি। কিছু ইমাম আশ-শাফিয়ী-এর অনুসারীর মতে ছেলেদের খতনা ওয়াজিব এবং মেয়েদের সুন্নাত।
খতনাকে যারা সুন্নাত বলেন তাঁরা নিম্ন হাদীস দিয়ে দলিল দেন:
عَنْ أَبِي الْمَلِيْحِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ أَبِيْهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: «الْخِتَانُ سُنَّةٌ لِلرِّجَالِ، تُكْرُمَةٌ لِلنِّسَاءِ».
'আবুল মালীহ ইবনে উসামা থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম ইরশাদ করেছেন, 'ছেলেদের খতনা সুন্নাত এবং মেয়েদের জন্য পছন্দনীয়।'
এটি ইমাম আহমদ (ইবনে হাম্বল) তাঁর মুসনদে এবং ইমাম আল-বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।[15]
এর জবাবে যারা ওয়াজিব হওয়ার প্রবক্তা তারা বলেন, এখানে সুন্নাত শব্দটি ওয়াজিবের সাথে বিপরীত এমনটা উদ্দেশ্য নয়। বরং এখানে সুন্নাত বলতে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি বোঝানো হয়েছে। খতনা ওয়াজিব হবার সপক্ষে তারা আল্লাহ তাআলার এই ইরশাদ দ্বারা দলিল পেশ করেন:
أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا
'ইবরাহীমের দীন অনুসরণ করুন, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন।[16]
সহীহ আল-বুখারী ও (সহীহ) মুসলিমের হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে,
عَنْ أَنْ هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «اخْتَنَ إِبْرَاهِيمُ وَهُوَ ابْنُ ثَمَانِينَ سَنَةٌ بِالْقَدُّومِ.
'হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন, হযরত ইবরাহীম-এর আশি বছর বয়সে খতনা করিয়েছেন।'[17]
ইমাম আবু দাউদ-কর্তৃক খতনা ওয়াজিব হওয়ার পক্ষে নবী করীম -এর একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে,
أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ، وَاخْتَنْ».
'তোমার থেকে কুফরের চিহ্ন বিদূরিত করো এবং খতনা করো।'[18]
এছাড়া ইমাম আল-কাফ্ফালও খতনা ওয়াজিব হওয়ার যুক্তি উপস্থাপন করেছেন যে, পুরুষাঙ্গের উপরি অংশের চামড়াটি রেখে দেওয়া হলে এর ভেতরে নাপাকির জটলা বাঁধবে। যার ফলে সালাত শুদ্ধ হয় না, তাই এটা কেটে ফেলতে হবে।
খতনা করার সময় নিয়ে ফিকহবিদগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
খতনা ওয়াজিব হওয়ার প্রবক্তাগণ বলেন, যেহেতু প্রাপ্তবয়স্ক হলেই শরীয়া-বিধান প্রযোজ্য হয় তাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেই খতনা ওয়াজিব।
কোনো কোনো ইমাম আশ-শাফিয়ী -এর অনুসারী বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগে সন্তান-সন্ততির খতনা করানো অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব।
যারা খতনাকে সুন্নাত বলেছেন তাদের অভিমত সুস্পষ্ট, প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগেই খতনা করার উপযুক্ত সময়। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক হলে লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা ওয়াজিব, যা সুন্নাতের কারণে কোনোভাবেই পরিহার করা যাবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞানী।
নবী করীম -এর জন্মসাল নিয়ে বেশ মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। তবে আমুল ফিল'ই[19] তাঁর জন্মসাল-এ-ব্যাপারে অধিকাংশ একমত। হযরত (আবদুল্লাহ) ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য ওলামা এ-বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এর বিপরীত সবগুলো মতই ধারণাপ্রসূত।
প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, হস্তিবাহিনী ঘটনার পঞ্চাশ দিন পর নবী করীম -এর জন্ম হয়েছে ইমাম আস-সুহায়লী ও তাঁর অনুগামীরা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।[20]
ইমাম আদ-দিময়াতী তাঁর আখিরাইন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ঘটনার ৫৫ দিন পর নবী করীম জন্মলাভ করেছেন।
অনুরূপভাবে তাঁর জন্মের মাস নিয়েও বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। অধিকাংশ ইতিহাসবিদদের মতে, রবিউল আউওয়াল মাসেই তিনি ভূমিষ্ট হয়েছেন। ইমাম ইবনুল জওযী এ-ব্যাপারে ইতিহাসবিদগণ একমত বলে দাবি করেছেন।[21]
একইভাবে মাসের কোন দিনে তিনি জন্মলাভ করেছেন তা নিয়েও মতভিন্নতা রয়েছে। কারো কারো মতে, কোনো দিন-তারিখ নির্ধারিত নয়। তবে রবিউল আউওয়ালের কোনো এক সোমবারে নবী করীম জন্মলাভ করেছেন। পক্ষান্তরে অধিকাংশ ওলামার মত হলো, তারিখটা সুনির্দিষ্ট, তবে কারো মতে ২ রবিউল আউওয়াল আর কারো মতে আটই রবিউল আউওয়াল নবী করীম জন্মলাভ করেছেন।
শায়খ কুতুবউদ্দীন আল-কাস্তালানী বলেছেন, অধিকাংশ মুহাদ্দিসও এ-ধরনের মত পোষণ করেন। ইবনে আব্বাস ও জুবায়র ইবনে মুতয়িম থেকে এমনটিই বর্ণিত হয়েছে। এ-বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশই এই অভিমতটি গ্রহণ করেছেন। শায়খ আল-হামীদী ও তাঁর শায়খ ইবনে হাযমও এই মতকে সমর্থন করেছেন।
ইমাম আল-কুযায়ী উনওয়ানুল ম'আরিফ গ্রন্থে লিখেছেন, সকল সিরাত-বিশেষজ্ঞের ঐকমত্য রয়েছে এ-মতের ওপর।
ইমাম আয-যুহরী হযরত মুহাম্মদ ইবনে জুবায়র ইবনে মুতয়িম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জুবায়র ইবনে মুতয়িম বংশসূত্র ও আরব-ইতিহাসে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি।[22]
কেউ কেউ বলেন, দশই রবিউল আউওয়াল নবী করীম ধরাপৃষ্টে আগমন করেন। আবার কারো মতে, বারই রবিউল আউওয়াল। এ-মতটি প্রসিদ্ধ। মক্কাবাসী এখনো এই তারিখে নবী করীম-এর জন্মের জায়গাটি পরিদর্শন করে থাকেন।[23]
ইমাম আত-তীবী বলেন, বারই রবিউল আউওয়ালই নবী করীম -এর জন্ম-এ-ব্যাপারে সর্বজন স্বীকৃত।[24] ইমাম আত-তীবী এর 'সর্বজন স্বীকৃত' এ-বক্তব্যে উপরে আমাদের আলোচিত বর্ণনাসমূহের কারণে কিছুটা মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
নবী করীম -এর জন্ম-মুহূর্ত নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ কথা হলো নবী করীম সোমবারে জন্মলাভ করেন।
عَنْ قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيُّ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْإِثْنَيْنِ. قَالَ: ذَاكَ يَوْمَ وُلِدْتُ فِيهِ، وَأُنْزِلَتْ عَلَى فِيهِ النُّبُوَةُ .
'হযরত কাতাদা আল-আনসারী থেকে বর্ণিত আছে, সোমবারের সিয়াম সম্পর্কে নবী করীম-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, 'এদিন আমার জন্ম এবং এই দিনই আমাকে নুবুওয়াতের মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে।'
এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।[25] এ-থেকে স্পষ্ট বোঝা গেলো নবী করীম দিনেই জন্মলাভ করেছেন।
الْبَيْتِ بِثَلَاثِ خِصَالٍ نَعْرِفُهُ: فَقَدْ آتَى عَلَيْهِنَّ مِنْهَا : أَنْهُ طَلَعَ نَجْمَهُ الْبَارِحَةَ، وَأَنَّهُ وُلِدَ الْيَوْمَ، وَأَنَّ اسْمَهُ مُحَمَّدٌ.
'হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মারুয যাহরান এলাকায় একজন ধর্মগুরু বসবাস করতেন। তিনি সিরিয়া অধিবাসী ছিলেন, নাম ছিলো ইসা। তিনি প্রায় বলতেন, হে মক্কার অধিবাসীরা! তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তির আগমন আসন্ন সমগ্র আরব যার আদর্শ অনুসরণ করবে এমনকি অনারব বিশ্বও তাঁর অনুসারী হবে, এখন তাঁর আগমনের সময়। তখনকার দিনে আরবে যেকোনো নবজাতকের জন্ম হলে লোকেরা সেই যাজকের কাছে সদ্যপ্রসূত শিশু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। যেদিন হযরত রাসূলুল্লাহ -এর শুভাগমনের উষালগ্ন ঘনিয়ে এলো। সেদিন যথারীতি আবদুল মুত্তালিব বের হলেন, ইসার কাছে পৌছে তাঁকে আহ্বান করলেন। ইসা তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করলেন এবং বললেন, তোমাকে স্বাগতম! তোমার বংশেই সেই শিশুটির জন্ম হয়েছে; সোমবারে যিনি জন্ম করবেন বলে আমি ইতঃপূর্বে ঘোষণা করেছিলাম। সোমবারেই তিনি নুবুওয়াতপ্রাপ্ত হবেন এবং সোমবারেই তাঁর ইন্তিকাল হবে। আবদুল মুত্তালিব জানালেন, আজ রাত দিনের ঊষালগ্নে আমার ঘরে এক শিশুর জন্ম হয়েছে। ইসা জিজ্ঞেস করলেন, নবজাতকের কী নাম রেখেছেন? আবদুল মুত্তালিব বললেন, মুহাম্মদ। ইসা বললেন, আল্লাহর কসম! এই শিশুটির ব্যাপারে আমার আকাঙ্ক্ষা ছিলো তিনি তোমাদের বংশে জন্ম নেবেন। তিনটি বৈশিষ্ট দ্বারা আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি: প্রথমত তাঁর জন্মের সিতারা গতকাল উদিত হয়েছে, দ্বিতীয়ত আজই তাঁর জন্ম হয়েছে এবং তৃতীয়ত তাঁর নাম রাখা হয়েছে মুহাম্মদ।'[26]
ইমাম আবু জাফর ইবনে আবু শায়বা এটি বর্ণনা করেছেন। এক দুর্বল-সূত্রে ইমাম আবু নুআইম (আল-আসবাহানী) ও তাঁর দালায়িল গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম উদয়ের সময় জন্মলাভ করেন।
غَفْرٌ হলো তিনটি ছোট তারকাবিশেষ যাদের কাছাকাছি চাঁদ পরিভ্রমণ করে।
আর মুসনদে এসেছে:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: وُلِدَ ﷺ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ، وَاسْتُنْبِي يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَخَرَجَ مِنْ مَّكَّةَ مُهَاجِرًا إِلَى الْمَدِينَةِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَرَفَعَ الْحَجَرَ يَوْمَ . الاثنين.
'হযরত (আবদুল্লাহ) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সোমবারেই নবী করীম জন্মলাভ করেছেন, সোমবারেই তিনি নুবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সোমবারেই তিনি মক্কা থেকে মদীনার পথে হিজরত করেন, সোমবারেই হাজরে আসওয়াদ পুনঃস্থাপন করা হয়।'[27]
অনুরূপভাবে মক্কা-বিজয় ও সুরা আল-মায়িদা নাযিল—এসব ঘটনা - সোমবারেই সংঘটিত হয়।
একথা সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, দিনের ঊষালগ্নে নবী করীম জন্মলাভ করেছিলেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: كَانَ بِمَرِّ الظَّهْرَانِ رَاهِبٌ يُسَمَّى عِيْصَى مِنْ أَهْلِ الشَّامِ، وَكَانَ يَقُولُ: يُوْشِكُ أَنْ يُوْلِدَ فِيكُمْ يَا * أَهْلَ مَكَّةَ ! مَوْلُوْدُ يَدِيْنُ لَهُ الْعَرَبُ وَيَمْلِكُ الْعَجَمُ، هَذَا زَمَانُهُ. فَكَانَ لَا يُوْلَدُ بِمَكَّةَ مَوْلُودٌ إِلَّا سَأَلَ عَنْهُ، فَلَمَّا كَانَ صَبِيْحَا الْيَوْمِ الَّذِي وُلِدَ فِيْهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خَرَجَ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ حَتَّى أَتَى عِبْدًا، فَنَادَى: فَأَشْرَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ لَهُ عِيْصَى : كُنْ أَبَاهَ، فَقَدْ وُلِدَ فِيكُمْ ذَلِكَ الْمَوْلُوْدُ الَّذِي كُنْتُ أَحَدَّثُكُمْ عَنْهُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ، وَيُبْعَثُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ، وَيَمُوْتُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ. قَالَ: وُلِدَ لِي اللَّيْلَةُ مَعَ الصُّبْحِ مَوْلُودٌ. قَالَ: فَمَا سَمَّيْتَهُ؟ قَالَ: مُحَمَّدًا. قَالَ: وَاللَّهُ لَقَدْ كُنْتُ أَشْتَهِي أَنْ يَكُوْنَ هَذَا الْمَوْلُودَ فِيْكُمْ أَهْلَ
সচরাচর নবীদের জন্ম এই মুহূর্তটিতেই হয়ে থাকে। সময়টি সৌরমাসের মাস তথা বসন্তকাল ছিলো। আর তখন তার কুড়িটি দিন অতিবাহিত হচ্ছিলো।[28]
কেউ কেউ হযরত আয়িশা -এর উদ্ধৃতি দিয়ে নবী করীম-এর জন্ম রাতে বলেও দাবি করেছেন।[29]
শায়খ বদরুদ্দীন আয-যারকাশী বলেন, বিশুদ্ধ মতে নবী করীম আলায়হিস সালাতু ওয়াস সালাম জন্ম হয়েছে দিনে। তিনি বলেন, (নবী করীম -এর জন্মের সময়) তারকা-পতন বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে সেসব বর্ণনাকে ইমাম ইবনে দিহয়া দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ এই প্রেক্ষাপটে তাঁর জন্ম রাতের বেলা হয়েছিলো বলেই প্রতীয়মান হয়। অতএব তারকা-পতনের অজুহাত সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, নুবুওয়াতের সময়কালে অলৌকিক ঘটনা একটি স্বাভাবিক বিষয় আর তার অংশ হিসেবে দিনের বেলা তারকা পতন হওয়া সম্ভব।
অধম বান্দা বলেন, এও সম্ভব যে, তারকা-পতন রাতেই হয়েছিলো আর নবী করীম-এর জন্ম হয়েছে ভোরবেলা। ঐতিহাসিকদের বক্তব্যে নবী করীম-এর জন্মের রাতে তারকা-পতন কিংবা অগ্নিগোলা নিক্ষেপ এ-অতিরিক্তাংশের তাৎপর্য এটিই।[30]
অতঃপর আমরা যদি বলি, নবী করীম যে-রাতে জন্ম হয়েছেন সে-রাতটি নিশ্চয় কদরের রাতের চেয়েও অধিক তাৎপর্যমণ্ডিত। কেননা নবী করীম -এর জন্মের রাতটি তাঁর আবির্ভাবের রাত আর কদরের রাত হচ্ছে তাঁরই উদ্দেশ্যে প্রদত্ত। যেটি মহাসত্তার আবির্ভাবের কারণে মাহাত্ম্যপূর্ণ হয়েছে।
সেটিই অধিক তাৎপর্যমণ্ডিত তাঁর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত এ-কারণে যেটি মাহাত্মপূর্ণ হয়েছে তার চেয়ে।
আরও একটি কারণ হচ্ছে কদরের রাতটি মাহাত্ম্যপূর্ণ হয়েছে ফেরেশতাদের অবতরণে, অন্যদিকে নবী করীম -এর জন্মের রাতটি মাহাত্ম্যপূর্ণ হয়েছে স্বয়ং তাঁর আগমনে।
আরও একটি কারণ হচ্ছে কদরের রাতের তাৎপর্য শুধু উম্মতে মুহাম্মদ -এর জন্য আর নবী করীম -এর পবিত্র জন্মের তাৎপর্য সমগ্র অস্তিত্বের জন্য। নবী করীম -কে আল্লাহ সমগ্র বিশ্বজাহানের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর কারণেই নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলবাসী সকল সৃষ্টিকুলের ওপর সাধারণভাবে নিয়মাত দান করেছেন।'[31]
টিকাঃ
[1] (ক) আল-বায়হাকী, দালায়িলুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১০৯-১১০, হাদীস: ৪৬; (খ) আবু নুআইম আল-আসবাহানী, দালায়িলুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ৭৫, হাদীস: ৩৫, হযরত হাসান ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত
[2] ইবনে হাজর আল-আসকলানী, ফতহুল বারী, খ. ৬. পৃ. ৫৮৩
[3] (ক) আল-বায়হাকী, দালায়িলুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১২৬-১২৭, হাদীস: ৬১; (খ) আবু নুআইম আল-আসবাহানী, দালায়িলুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১৩৮, হাদীস: ৮২; (গ) আল-খারায়িতী, হাওয়াতিফুল জিনান, পৃ. ৫৭, হাদীস: ১৪; (ঘ) ইবনে আসাকির, তারিখু দামিশক, খ. ৩৭, পৃ. ৩৬১, হাদীস: ৪৪০৪; হানি ইবন হুরায়রা বলেন, لَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الَّتِي وُلِدَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ - - ارْتَجَسَ إِيْوَانُ كِسْرَى، وَسَقَطَتْ مِنْهُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ شُرُفَةً وَحَمَدَتْ نَارُ فَارِسٍ، وَلَمْ تَحْمَدْ قَبْلَ ذَلِكَ بِأَلْفِ عَامٍ، وَغَاضَتْ بُحَيْرَةُ سَاوَةَ. "যে রাতটিতে আল্লাহর রাসুল জন্মলাভ করেন ওই রাতে কিসরার রাজপ্রাসাদে প্রবল কম্পনের সৃষ্টি হয়, এর চৌদ্দটি ইট খসে পড়ে, পারস্য অগ্নিশিখা নিভে যাওয়া- যে অগ্নিশিখা হাজার বছর থেকে কেউ নেভায় নি এবং রাজকীয় লেক শুকিয়ে যাওয়া।' ইবনে সাইয়িদুন নাস, উয়ুন আল-আসর ফি ফুনুন আল-মাগাযি ওয়া আশ-শামাইল ওয়া আস- সিয়ার, খ. ১, পৃঃ ৩৬
[4] আল-কাস্তাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৮০-৮১
[5] ইবনে আসাকির, প্রাগুক্ত, খ. ৩, পৃ. ৪১২, হাদীস: ৭৬১ (আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবীজি খতনাকৃত অবস্থায় জন্মলাভ করেন।)
[6] ইবনে আসাকির, প্রাগুক্ত, খ. ৩, পৃ. ৪১৪, হাদীস: ৭৬৫ (ইবন ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ইরশাদ করেছেন, 'আমি খতনাকৃত ও নাভিকর্তিত অবস্থায় জন্মলাভ করেছি।')
[7] (ক) আত-তাবারানী, আল-মু'জামুল আওসাত, খ. ৬, পৃ. ১৮৮, হাদীস: ৬১৪; (খ) আবু নুআইম আল-আসবাহানী, দালাইপুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১৫৪, হাদীস: ৯۱; (গ) আল-খতীবুল বগদাদী, তারিখ বঙ্গদাদ, খ. ২, পৃ. ১৭৯, হাদীস: ২৩২; (ঘ) ইবনে আসাকির, তারিখু দামিশক, খ. ৩. পৃ. ৪১৩, হাদীস: ৭৬২
[8] যিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসী, আল-আহাদীসুল মুখতারা, খ. ৫, পৃ. ২৩৩, হাদীসঃ ১৮৬৪
[9] আল-হাকিম, প্রাগুক্ত, খ. ২, পৃ. ৬৫৭, হাদীস: ৪১৭৭
[10] ইবনে কাইয়িম আল-জাওযিয়া, তুহফাতুল মাওদুদ, পৃ. ২০৪, হাদীস: ৪১৭৭
[11] আল-কাস্স্সাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৮২
[12] ইবনে আবদুল বারর, আত-তামহীদ, খ. ২১, পৃ. ৬১ ও খ. ২৩, পৃ. ১৪০; হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত
[13] (ক) আত-তাবারানী, আল-মু'জামুল আওসাত, খ. ৬, পৃ. ৭০, হাদীসঃ ৫৮২১; (খ) আবু নুআইম আল-আসবাহানী, দালারিপুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১৫৫, হাদীস: ৯৩; হযরত আবু বাকারা আস-সাকাফী থেকে বর্ণিত
[14] আয-যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, খ. ১, পৃ. ৩৭
[15] (ক) আল-বায়হাকী, আস-সুনানুস সগীর, খ. ৩, পৃ. ৩৪৫, হাদীস: ২৭১৭; (খ) আল-বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা, খ. ৮, পৃ. ৫৬৩, হাদীস: ১৭৫৬৫, ১৭৫৬৬, ১৭৫৬৭ ও ১৭৫৬৮
[16] আল-কুরআন, সুরা আন-নাহল, ১৬:১২৩
[17] (ক) আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ৪, পৃ. ১৪০, হাদীস: ৩৩৫৬ ও খ. ৮, পৃ. ৬৬, হাদীস: ৬২৯৮; (খ) মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ৪, পৃ. ১৮৯৩, হাদীস: ১৫১
[18] আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনদ, খ. ২৪, পৃ. ১৬৩, হাদীস: ১৫৪৩২; হযরত কুলায়ব আল-জাহনী থেকে বর্ণিত
[19] আবরাহার হস্তিবাহিনী-কর্তৃক কাবা শরীফ আক্রান্ত হবার বছরকে আম আল-ফিল হস্তির বছর বলা হয়।
[20] আস-সুহায়লী, প্রাগুক্ত, খ. ২, পৃ. ৯৮; সনটি ছিল ৫৭০ খ্রি.
[21] ইবনুল জওযী, তাসকীহ কুহমি আহলিল আসর, পৃ. ১৪
[22] আল-কাস্স্তালানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৮৩-৮৪
[23] অবশ্য বর্তমান অবস্থা কিছুটা ভিন্ন
[24] আত-তীবী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৩৭১৩
[25] মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ২, পৃ. ৮১৯, হাদীস: ১৯৭, হাদীসটি হযরত কাতাদা থেকে নয়, বর্ণিত হয়েছে হযরত আবু কাতাদা আল-আনসারী থেকে।
[26] ইবনে কাসীর, আস-সীরাতুন্নাওয়াবিয়া, খ. ১, পৃ. ২২২
[27] আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনদ, খ. ৪, পৃ. ৩০৪, হাদীস: ২৫০৬
[28] আল-কাস্তাল্লানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৮৭
[29] ইবনে হাজর আল-আসকলানী, ফতহুল বারী, খ. ৬, পৃ. ৫৮৩
[30] আল-বায়হাকী, দালারিপুন নুবুওয়াত, খ. ১, পৃ. ১১০-১১১, হাদীস: ৪৭; বর্ণিত হয়েছে, عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أُمِّي، أَنَّهَا شَهِدَتْ وِلَادَةَ أَمَنَةٌ بِنْتِ وَهْبٍ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَيْلَةً. ولكنته. قَالَتْ: فَمَا شَيْءٌ أَنظُرُ إِلَيْهِ فِي الْبَيْتِ إِلَّا نُورٌ، وَإِنْ لَأَنظُرُ إِلَى النُّجُومِ تَدْنُو حَتَّى إِنْ لَأَقْوْلُ: لَيَقْعُنَ علي. 'ওমসান ইবনু আবু আল-আস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার মাতা আমার কাছে কানা করেছেন যে, তিনি আমিনা বিনতে ওয়াহব-কর্তৃক আল্লাহর রাসূল ﷺ এর জন্মের রাতটি সাক্ষী। তিনি আরও বলেন, আমি ঘরের ভেতর যে দিকেই তাকাই শুধু নুরই দেখছিলাম আর নক্ষত্ররাজিকে দেখলাম ঢলে পড়ছে এমনকি আমি নিশ্চতভাবেই একথা বলতে পারি যে, নক্ষত্রগুলো আমার ওপর এসে পড়েছে।'
[31] আল-কাস্স্তান্নানী, প্রাগুক্ত, খ. ১, পৃ. ৮৭-৮৮
📄 আদী ইব্ন হাতিম (রা)-এর বৃত্তান্ত
ইবন ইসহাক বলেন: আদী ইবন হাতিম (রা) ছিলেন একজন খ্রিস্টান এবং তার গোত্রের একজন নেতা। তিনি initially ইসলাম গ্রহণ করতে দ্বিধা করেন, কিন্তু পরে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর দাওয়াত শুনে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি একজন সম্মানিত সাহাবী হিসেবে পরিচিত হন এবং মুসলিমদের একজন সাহসী যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেন।