📄 প্রতিনিধিদলের নেতৃবর্গ
রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বনূ আমিরের প্রতিনিধিদল উপস্থিত হলো। এ দলে ছিল আমির ইব্ন তুফায়ল, আরবাদ ইবন কায়স ইব্ন জাযা ইব্ন খালিদ ইব্ন জা'ফর ও জাব্বার ইব্ন সালমা ইবন মালিক ইব্ন জা'ফর। এরা তিনজন ছিল দলের অসৎ নেতা।
📄 আমির কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আতর্কিত আক্রমণ চালানোর চক্রান্ত
আল্লাহ্র দুশমন আমির ইব্ন তুফায়ল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উপর অতর্কিত হামলা চালানোর দুরভিসন্ধি নিয়ে তার নিকট উপস্থিত হলো। তার দলের লোক তাকে বলেছিল: হে আমির! সবলোক ইসলাম গ্রহণ করেছে, তুমিও ইসলাম গ্রহণ কর। সে উত্তর দেয়, আল্লাহর কসম! আমি শপথ করেছি, যতক্ষণ না গোটা আরব আমার বশ্যতা স্বীকার করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হব না। আর আমি কিনা এই কুরায়শ যুবকের পেছনে পেছনে চলব? এরপর সে আরবাদকে বললো: আমরা যখন লোকটির সামনে উপস্থিত হব, তখন আমি কৌশলে তার চেহারা তোমার দিক হতে ঘুরিয়ে দেব। বাস, এটা যখন করব, তখন সুযোগ বুঝে তুমি তার উপর তরবারি চালিয়ে দিও। সেমতে তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলো। আমির ইন তুফায়ল বললো: হে মুহাম্মদ! আপনি আমার সাথে একান্তে মিলিত হোন। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন: না, আল্লাহ্র কসম! যাবৎ না তুমি এক আল্লাহর উপর ঈমান আন। সে আবার বললো : হে মুহাম্মদ! আপনি আমার সঙ্গে একান্তে মিলিত হোন। এভাবে সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে কথাবার্তা বলতে লাগলো এবং আরবাদকে যে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল তজ্জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো। কিন্তু আরবাদ তার কিছুই করছিল না। আমির তার অবস্থা দেখে আবার বললো : হে মুহাম্মদ! আপনি আমার সাথে একান্তে মিলিত হোন! রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : কখনই নয়, যাবৎ না তুমি এক আল্লাহর উপর ঈমান আনবে, যার কোন শরীক নেই। যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার কথা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন সে বললো : আল্লাহর কসম! আমি আপনার বিরুদ্ধে পদাতিক ও অশ্বারোহী সৈন্য দিয়ে গোটা এলাকা ছেয়ে ফেলব। সে উঠে গেলে পরে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : হে আল্লাহ্! আমির ইব্ন তুফায়লের বিরুদ্ধে তুমি আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাও।
রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট হতে তারা বের হয়ে যাওয়ার পর আমির ইব্ন তুফায়ল আরবাদকে ধিক্কার দিয়ে বললো, হে আরবাদ! আমি তোমাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম তুমি তার কী করলে? আল্লাহর কসম! ভূ-পৃষ্ঠে তুমিই একমাত্র লোক, যাকে আমি ভয় করি। আল্লাহর কসম! আজকের পর তোমাকে আর ভয় করব না। আরবাদ বললো : তুমি পিতাহারা হও। আমার ব্যাপারে জলদি সিদ্ধান্ত নিও না। আল্লাহর কসম! যতবারই আমি তোমার নির্দেশ কার্যকর করতে চেয়েছি, ততবারই তার ও আমার মাঝে তুমি এসে পড়েছ। তখন তোমাকে ছাড়া আর কাউকে দেখতে পাইনি। আমি কি তোমার উপরেই তরবারি চালাব?
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বদ দু'আয় আমিরের মৃত্যু
এরপর এ প্রতিনিধি দলটি স্বদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। পথিমধ্যে আল্লাহ্ তা'আলা আমির ইব্ন তুফায়লের ঘাড়ে প্লেগ সৃষ্টি করলেন। ফলে বনূ সালূলের এক নারীর গৃহে তার মৃত্যু ঘটল। মৃত্যুকালে সে বলছিল। হে বনূ আমির, আমি প্লেগের ফোঁড়ায় আক্রান্ত হয়ে বনূ সালূলের এক নারীর ঘরে প্লেগাক্রান্ত উটের মত মারা যাচ্ছি?
ইবন হিশام বলেন : অন্য বর্ণনায় আছে, সে বলছিল : উটের মত প্লেগের ফোঁড়ায় আক্রান্ত হলাম আর সালূল গোত্রীয় মহিলার ঘরে পড়ে মৃত্যুবরণ করলাম!
📄 বজ্রপাতে আরবাদের মৃত্যু
ইবন ইসহাক বলেন : আমিরকে দাফন করে তার সাথীরা সামনে অগ্রসর হল। এভাবে তারা যখন বনূ আমিরের এলাকায় পৌঁছল। তখন ছিল শীতকাল। সম্প্রদায়ের লোক এসে জিজ্ঞাসা করলো : হে আরবাদ! তোমার পিছনের খবর কী? সে বললো : কিছুই নয়, আল্লাহর কসম! সে আমাদেরকে এমন একটা কিছুর ইবাদত করতে আহবান জানাল, যা এখন আমার সামনে থাকলে তীর মেরে খতম করে দিতাম। এই উক্তির পর সে এক কি দুই দিন পর বের হলো। এ সময় একটি উট তার সাথে ছিল, যা তার পেছনে পেছনে চলছিল। আল্লাহ্ তার ও তার উটের উপর বজ্রপাত করলেন। তা তাদের জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিল। আরবাদ ইব্ন কায়স ছিল লাবীদ ইব্ন রবী'আর বৈপিত্রেয় ভাই।
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনায় ছিলেন, তখন আরবাদ ইবন কায়স ইয়ামামায় এক বজ্রপাতে মারা যান। এটি ছিল আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তার উপর শাস্তি, কারণ সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল।
টিকাঃ
১. ইবন হিশাম বলেন: হারিসা ইবন সা'দ ইবন কায়স ইবন হুতাইত, যিনি আমের ইবন তুফায়লের মামা ছিলেন। তিনি আরবাদকে হত্যা করেছিলেন।