📄 যিবারকান ইন্ন বাদরের কয়েকটি কবিতা
ইব্ন হিশام বলেন: কাব্য-সাহিত্যে পারদর্শী বনূ তামীমের এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেন, যিবারকান ইব্ন বাদর যখন বনূ তামীমের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আগমন করেন, তখন তিনি তাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন:
আমরা আপনার নিকট এসেছি, যাতে মানুষ আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করতে পারে—যখন বাৎসরিক পর্বে তারা একত্র হয় সমাবেশে (তারা যাতে উপলব্ধি করতে পারে) যে, আমরাই সর্বক্ষেত্রে সব মানুষের শীর্ষস্থানীয় এবং হিজায মুলুকে দারিমের¹ মত আর কেউ নাই।
আমরা চিহ্নধারী উন্নাসিক সৈনিকদের হটিয়ে দেই আর মুণ্ডুপাত করি সব দর্পিত বীর যোদ্ধার।
নাজদ বা আজমের কোন অঞ্চলে আমরা যত যুদ্ধাভিযান চালাই, তাতে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-চতুর্থাংশ পাই আমরাই।
যিবারকানের কবিতার জবাবে হাসান (রা)-এর দ্বিতীয় কবিতা।
এরপর হযরত হাসান ইবন সাবিত (রা) দাঁড়িয়ে তার জবাব দিলেন। তিনি বললেন:
প্রাচীন আভিজাত্য, আতিথেয়তা, রাজকীয় মর্যাদা এবং বড় বড় দায়-দায়িত্ব গ্রহণ ছাড়া আর কিসে গৌরব?
আমরা সাহায্য করেছি ও আশ্রয় দিয়েছি নবী মুহাম্মদকে তা মাআদ বংশ পসন্দ করুক, আর নাই করুক।
(আশ্রয় দিয়েছি) এমন এক গোত্রে, যারা আজম জগতের অন্তর্গত জাবিয়াতুল-জাওলানের পার্শ্বে আভিজাত্য ও প্রাচুর্যে অদ্বিতীয়।
তিনি যখন আসলেন আমাদের দেশে, তখন আমরা তাঁর সাহায্য করলাম আমাদের তরবারি দিয়ে যতসব বিদ্রোহী ও অত্যাচারীর বিরুদ্ধে।
আমরা আমাদের পুত্র-কন্যাদের তার প্রহরায় নিযুক্ত করেছি। গনীমতের যে হিস্যা আমরা পাই, তাতে তাঁর জন্য আমাদের অন্তর খুশী।
আমরা তীক্ষ্ণ তরবারি চালাতে থাকি মানুষের উপরে। ফলে, তারা দলে দলে ছুটে আসছে তাঁর দীনের দিকে।
আমরাই জন্ম দিয়েছি কুরায়শের মহান ব্যক্তিকে¹ জন্ম দিয়েছি আমরা বনু হাশিমের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের নবীকে।
হে বনূ দারিম! তোমরা অহংকার করো না, কেননা মহৎ চরিত্রমালার বর্ণনাকালে তোমাদের গৌরব এক বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
তোমাদের জননী তোমাদের হারিয়ে ফেলুক, তোমরা আমাদের উপর বড়াই কর, অথচ আমাদের সামনে তোমরা গোলাম-বাঁদী সমতুল্য সেবক।
তোমরা যদি নিজেদের রক্ত হিফাযত করার জন্য, এবং নিজেদের অর্থ-সম্পদকে গনীমতরূপে বণ্টন করা হতে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এসে থাক, তা হলে আল্লাহ্র কোন সমকক্ষ দাঁড় করিও না আর ইসলাম গ্রহণ কর এবং আজমীদের মত পোশাক পরিচ্ছেদ ব্যবহার করা ছেড়ে দাও।
টিকাঃ
১. দারিম বনূ তামীমের অধঃস্তন পুরুষ, যার থেকে একটি শাখাগোত্রের সৃষ্টি হয়েছে।
১. এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাঁর মা ছিলেন আনসার সম্প্রদায়ের কন্যা।
📄 প্রতিনিধি দলটির ইসলাম গ্রহণ
ইবন ইসহাক বলেন: হাসান ইবন সাবিত (রা) যখন তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আকরা ইবন হাবিস বলে উঠলেন: আমার পিতার কসম! ইনি তো এমন এক ব্যক্তি, যার পক্ষে আল্লাহর সাহায্য নিয়োজিত। তাঁর বক্তা নিঃসন্দেহে আমাদের বক্তা অপেক্ষা বলিষ্ঠতর। তাঁর কবি আমাদের কবি অপেক্ষা অনেক বড়। তাদের আওয়ায আমাদের আওয়ায অপেক্ষা মধুর। আলাপ-আলোচনা শেষ হওয়ার পর প্রতিনিধি দলটি ইসলাম গ্রহণ করলো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের মূল্যবান উপহার দিলেন।
📄 কায়সের নিন্দায় ইব্ন আহতাম-এর কবিতা
প্রতিনিধি দলের লোকেরা আমর ইব্ন আহতামকে পিছনে রেখে এসেছিল। সে ছিল বয়সে তাদের সবার ছোট। কায়স ইবন আসিম ছিল আমর ইব্ন আহতামের উপর অসন্তুষ্ট। সে বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের হাওদায় একটি নওজোয়ান আছে। এই বলে সে তাকে খানিকটা তাচ্ছিল্য করলো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকেও দলের অন্যদের সমান উপহার দিলেন। আমর ইব্ন আহতামের কানে যখন কায়সের উক্তি পৌঁছলো, তখন সে তার নিন্দা করে বললো:
ظللت مفترش الهلباء تشتمني * عند الرسول فلم تصدق ولم تصب
سدناكم سوددا رهوا وسوددكم * باد نوات جذه مقع على الذنب
তুমি তো উল্টে পড়ে গেছ! আমাকে গালি দাও রাসূলের সামনে! সাচ্চা নও তুমি, বলনি সঠিক কথা।
আমরা তোমাদের শাসন করেছি দীর্ঘকাল। আর তোমাদের সর্দারী সে তো লেজ গুটিয়ে বসে দাঁত দেখানোই সার!
ইবন হিশাম বলেন: এর পরে আরও একটি শ্লোক আছে, কিন্তু অশ্লীল বলে তার উল্লেখ করলাম না।
ইবন ইসহাক বলেন: এ প্রতিনিধি দল সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে :
إِنَّ الَّذِيْنَ يُنَادُوْنَكَ مِنْ وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ
'যারা ঘরের পেছন হতে তোমাকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকে তাদের অধিকাংশই নির্বোধ (৪৯:৪)।