📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুনাফিকদের সম্পর্কে যা নাযিল হয়

📄 মুনাফিকদের সম্পর্কে যা নাযিল হয়


এরপর আল্লাহ্ তা'আলা মুনাফিকদের প্রসংগ উল্লেখপূর্বক তাঁর নবী (সা)-কে বলেন:
لَوْ كَانَ عَرَضًا قَرِيبًا وَسَفَرًا قَاصِدًا لَّاتَّبَعُوكَ وَلَٰكِنْ بَعُدَتْ عَلَيْهِمُ ٱلشُّقَّةُ ۚ وَسَيَحْلِفُونَ بِٱللَّهِ لَوِ ٱسْتَطَعْنَا لَخَرَجْنَا مَعَكُمْ يُهْلِكُونَ أَنفُسَهُمْ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّهُمْ لَكَٰذِبُونَ .
'আশু সম্পদ লাভের সম্ভাবনা থাকলে ও সফর সহজ হলে তারা নিশ্চয়ই তোমার অনুসরণ করত, কিন্তু তাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হল। তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, আমাদের ক্ষমতা থাকলে আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের সঙ্গে বের হতাম। তারা নিজদেরকেই ধ্বংস করে। তারা যে মিথ্যাচারী তা তো আল্লাহ্ জানেন' (৯: ৪২)। অর্থাৎ তাদের ক্ষমতা আছে। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
عَفَا اللَّهُ عَنْكَ لِمَ أَذِنْتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ ... لَوْ خَرَجُوا فِيكُمْ مَّا زَادُوكُمْ إِلا خَبَالاً ولا أَوْضَعُوا خِلالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ .
'আল্লাহ্ তোমাকে ক্ষমা করেছেন। কারা সত্যবাদী তা তোমার নিকট স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এবং কারা মিথ্যবাদী তা না জানা পর্যন্ত তুমি কেন তাদেরকে অব্যাহতি দিলে? (যারা আল্লাহতে ও শেষ দিবসে ঈমান আনে তারা নিজ সম্পদ ও জীবন দ্বারা জিহাদে অব্যাহতি পাওয়ার প্রার্থনা তোমার নিকট করে না। আল্লাহ্ মুত্তাকীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। তোমার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করে কেবল তারাই যারা আল্লাহ্ ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে না। আর যাদের চিত্ত সংশয়যুক্ত, তারা তো আপন সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। তারা বের হতে চাইলে তারা নিশ্চয়ই তজ্জন্য প্রস্তুতির ব্যবস্থা করত, কিন্তু তাদের অভিযাত্রা আল্লাহর মনঃপূত ছিল না। সুতরাং তিনি তাদেরকে বিরত রাখেন এবং তাদেরকে বলা হয়, যারা বসে আছে তাদের সাথে বসে থাক)। তারা তোমাদের সাথে বের হলে তোমাদের বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করত এবং তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যে ছুটাছুটি করত। তোমাদের মধ্যে তাদের কথা শুনবার লোক আছে। আল্লাহ্ জালিমদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত' (৯: ৪৩-৪৭)।
ইবন হিশাম বলেন : أَوْضَعُوا خِلالَكُمْ অর্থ তোমাদের ব্যুহাভ্যন্তরে ছুটাছুটি করত। الايضاع -বিশেষ ধরনের চলন, যা হাঁটা অপেক্ষা দ্রুত। আজদা' ইবন মালিক হামদানী বলেন:
بصطادك الوحد المدل بشأوه * بشريج بين الشد والايضاع
'ঘোড়াটি তার অগ্রগামিতা দ্বারা তোমার জন্য শিকার করে আনবে বুনো গরু। তার সে গতি দৌড় ও দুল্কির মাঝামাঝি ধরনের।'
এটি তার একটি কাসিদার অংশবিশেষ।
ইব্ন ইসহাক বলেন: সম্ভ্রান্ত লোকদের মধ্যে যারা তাঁর নিকট যুদ্ধ হতে অব্যাহতি প্রার্থনা করেছিলেন, তাদের মধ্যে আমার নিকট পৌছা বর্ণনামতে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায়্য ইব্‌ন সাল্‌ল ও জাদ্দ ইব্‌ন কায়স উল্লেখযোগ্য। তারা ছিল আপন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্মানী লোক। আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে বিরত রাখেন। কারণ, তিনি জানতেন তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে বের হলে তাঁর সৈন্যদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। তাঁর সৈন্যদের মাঝে এমন কিছু লোক ছিল, যারা তাদের ভাল বাসত এবং তারা তাদের যা বলতো, তা মানতো। যেহেতু তাদের মাঝে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত ছিল। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ - لَقَدِ ابْتَغُوا الْفِتْنَةَ مِنْ قَبْلُ .
'তোমাদের মধ্যে তাদের কথা শোনবার লোক আছে। আল্লাহ্ জালিমদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত'। পূর্বেও তারা ফিত্না সৃষ্টি করতে চেয়েছিল' (৯: ৪৭-৪৮)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সাদাকা পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে যা নাযিল হয়

📄 সাদাকা পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে যা নাযিল হয়


সাদাকা পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে যা নাযিল হয়।
এরপর সাদাকা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তা কাদের জন্য? আল্লাহ্ তা'আলা তাদের নাম বিবৃত করতে গিয়ে বলেন:
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسْكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ.
'সাদাকা তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তদসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত-আকর্ষণ করা হয়-তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্তদের, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহ্র বিধান। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়' (৯:৬০)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নবীকে ক্লেশ দানকারীদের সম্পর্কে যা নাযিল হয়

📄 নবীকে ক্লেশ দানকারীদের সম্পর্কে যা নাযিল হয়


এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে তাদের প্রতারণা এবং তাঁকে তাদের ক্লেশদান সম্পর্কে নাযিল হয় :
وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَّكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ.
'এবং তাদের মধ্যে এমন লোক আছে, যারা নবীকে ক্লেশ দেয় এবং বলে, সে তো কর্ণপাতকারী। বল, তার কান তোমাদের জন্য যা মংগল তাই শোনে। সে আল্লাহতে ঈমান আনে এবং মু'মিনদেরকে বিশ্বাস করে। তোমাদের মধ্যে যারা মু'মিন সে তাদের জন্য রহমত এবং যারা আল্লাহর রাসূলকে ক্লেশ দেয়, তাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি'। (৯: ৬১)। এ উক্তি যে করত আমার নিকট পৌছা বর্ণনামতে তার নাম নাবতাল ইব্‌ন হারিস। সে ছিল বনু আমর ইব্‌ন আওফের লোক। তার সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। সে বলতো: মুহাম্মদ তো কর্ণপাতকারী, কেউ তাকে কিছু বললেই বিশ্বাস করে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: قُلْ أُذُنُ خَيْرِ لَكُمْ অর্থাৎ তিনি তোমাদের জন্য যা মংগল তাই শোনেন ও বিশ্বাস করেন। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَن يُرْضُوهُ إِنْ كَانُوا مُؤْمِنِينَ .
'তারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমাদের নিকট আল্লাহ্ শপথ করে। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল এরই বেশী হকদার যে, তারা তাদেরকেই সন্তুষ্ট করবে, যদি তারা মু'মিন হয়'। (৯: ৬২)। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ ..... إِن نُعْفُ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةً .
'এবং তুমি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করেছিলাম। বল, তোমরা কি আল্লাহ্, তার নিদর্শন ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রূপ করছিলে? (দোষ স্খালনের চেষ্টা করো না। তোমরা ঈমান আনার পর কুফরী করেছ)। তোমাদের মধ্যে কোন দলকে ক্ষমা করলেও অন্য দলকে শাস্তি দিব। (কারণ তারা অপরাধী) (৯: ৬৫-৬৬)। এ উক্তি করেছিল ওয়াদী'আ ইব্‌ন সাবিত। সে ছিল বনূ আম্ম ইব্‌ন আওফের শাখা বনূ উমাইয়া ইব্‌ন যায়দের লোক। আর যাকে ক্ষমা করা হয়েছিল, আমার নিকট পৌছা বর্ণনা মতে তার নাম মুখাশিন ইবন হুমায়্যির আশজা'ঈ। বনূ সালিমার মিত্র। কারণ তিনি তাদের কিছু উক্তির প্রতিবাদ করেছিলেন।
এভাবে তাদের কাহিনী বিবৃত হয়ে এ আয়াতে এসে শেষ হয়েছে:
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ وَمَأ وَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ - يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَعْنَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولَهُ مِنْ فَضْلِهِ ..... من ولي ولا نَصِيرٍ .
'হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর ও তাদের প্রতি কঠোর হও। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। তা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল! তারা আল্লাহ্ শপথ করে যে, তারা কিছু বলেনি। কিন্তু তারা তো কুফরীর কথা বলেছে এবং ইসলাম গ্রহণের পর তারা কাফির হয়েছে; তারা যা সংকল্প করেছিল তা পায়নি। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল নিজ কৃপায় তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছিলেন বলেই বিরোধিতা করেছিল। (তারা তওবা করলে তা তাদের জন্য ভাল হবে, কিন্তু তারা মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ্ ইহলোক ও পরলোকে তাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন)। পৃথিবীতে তাদের কোন অভিভাবক অথবা সাহায্যকারী নেই' (৯: ৭৩-৭৪)।
এ উক্তি করেছিল জুলাস ইব্‌ন সুওয়ায়দ ইব্‌ন সামিত। তারই পরিবারের উমায়র ইব্‌ন সা'দ নামক এক ব্যক্তি তা বলে দেন। কিন্তু সে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে, এরূপ কথা সে বলেনি। এরপর যখন তাদের সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়, তখন সে তা থেকে বিরত হয় ও তওবা করে। পরে তার অবস্থা ও তওবা, আমার প্রাপ্ত বর্ণনা অনুযায়ী, ভাল হয়েছিল।
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَمِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللهُ لَئِنْ أَتَانَا مِنْ فَضْلِهِ لَنَصَّدَّ فَنَّ وَلَنَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِحِينَ
'তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করেছিল, আল্লাহ্ নিজ কৃপায় আমাদের দান করলে আমরা নিশ্চয়ই সাদাকা দিব এবং সৎ কর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব' (৯: ৭৫)। তাদের মধ্যে আল্লাহ্র নিকট এ অঙ্গীকার করেছিল ছা'লাবা ইব্‌ন হাতিম ও মু'আত্তিব ইব্‌ন কুশায়র। তারা ছিল বনূ আম্ম ইব্‌ন আওফের লোক।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায়্য-এর জানাযার সালাত আদায় করার কারণে যা নাযিল হয়

📄 আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায়্য-এর জানাযার সালাত আদায় করার কারণে যা নাযিল হয়


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট যুহরী (র) উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন উত্তা (র) হতে এবং তিনি ইব্‌ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি উমর ইবন খাত্তাব (রা)-কে বলতে শুনেছি, আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়্য-এর মৃত্যু হলে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে তার জানাযা পড়ার জন্য ডাকা হল। তিনি তাতে সাড়া দিলেন। যখন তিনি জানাযা পড়ার জন্য তার বরাবর দাঁড়ালেন, তখন আমি ঘুরে গিয়ে তার সামনাসামনি দাঁড়ালাম এবং বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আল্লাহর দুশমন আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়্য ইবন সালূলের জানাযা পড়বেন? অথচ সে অমুক দিন এই বলেছিল, অমুক দিন এই বলেছিল? আমি গুনে গুনে দেখাতে লাগলাম সে কোন দিন কি বলেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) শুনছিলেন আর মুচকি হাসছিলেন। আমি যখন এভাবে বলেই যেতে থাকলাম, তখন তিনি বললেন: উমর সরে যাও, আল্লাহর পক্ষ হতে আমি এখতিয়ার লাভ করেছি এবং আমি তাই গ্রহণ করেছি। আমাকে বলা হয়েছে:
اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْلَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ .
'তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর-একই কথা। তুমি সত্তরবার তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ্ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না' (৯: ৮০)।
আমি যদি জানতাম সত্তর বারের বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে ক্ষমা করা হবে, তবে তাও করতাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। এমনি কি তার শবযানের সাথে হেঁটে হেঁটে কবর পর্যন্ত গেলেন এবং দাফন শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকলেন।
উমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে আমার সে দুঃসাহসিক আচরণের জন্য আমি নিজের প্রতি বিস্মিত হই। বস্তুতঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই প্রকৃত অবস্থা ভাল জানেন। কিন্তু আল্লাহ্র কসম, ক্ষণিকের মধ্যেই এ আয়াত দু'টি নাযিল হয়:
وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِّنْهُمْ مَّاتَ أَبَدًا وَلا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ .
'তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও তার জন্য জানাযার সালাত আদায় করবে না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবে না। তারা তো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছিল এবং পাপাচারী অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে' (৯: ৮৪)।
এর পরে স্বীয় ওফাত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (সা) আর কোন মুনাফিকের জানাযা পড়েননি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00