📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওয়াদিল-মুশাক্কাক ও তার জলাশয়ের বৃত্তান্ত

📄 ওয়াদিল-মুশাক্কাক ও তার জলাশয়ের বৃত্তান্ত


পথে একটি ক্ষুদ্র পাহাড়ী ঝর্ণা ছিল। দুই তিন জন সওয়ারীরই প্রয়োজন মেটাতে পারত এর পানি। মুশাক্কাফ উপত্যকায় এটা প্রবাহিত ছিল। রাসূলাল্লাহ্ (সা) বললেন: উক্ত উপত্যকায় আমাদের মধ্যে যারা আগে পৌঁছবে, তারা যেন আমাদের না পৌঁছান পর্যন্ত কিছুতেই যেখানে থেকে পানি না তোলে।
একদল মুনাফিক সেখানে আগে আগে পৌঁছে গেল। তারা সে ঝর্ণার পানি পান করে ফেললো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে পৌঁছে দেখলেন, তাতে কিছুই নাই। তিনি বললেন: কে এ ঝর্ণায় আমাদের আগে পৌঁছেছিল? বলা হলো: অমুক অমুক, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এর পানি পান করতে নিষেধ করিনি, যতক্ষণ না আমি এসে পৌঁছি? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের প্রতি লা'নত করলেন এবং তাদেরকে বদ দু'আ করলেন। এরপর তিনি তাতে নেমে পাথরের নীচে হাত রাখলেন। তাঁর হাতে আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা অনুযায়ী পানি নেমে আসল। তিনি সে পানি পাথরের গায়ে ঢেলে দিলেন এবং পাথরটির গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছানুরূপ দু'আ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে বজ্রধ্বনির মত শব্দ করে সেখানে থেকে পানির ফোয়ারা ছুটলো। যারা সে শব্দ নিজ কানে শুনেছেন, তারা এরূপ বর্ণনা করেছেন। লোকেরা সে পানি পান করলো এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটালো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা বা তোমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে, তারা শোনবে, আশেপাশের সবগুলো উপত্যকা অপেক্ষা, এই উপত্যকা বেশী উর্বর হবে।

পথে একটি ক্ষুদ্র পাহাড়ী ঝর্ণা ছিল। দুই তিন জন সওয়ারীরই প্রয়োজন মেটাতে পারত এর পানি। মুশাক্কাফ উপত্যকায় এটা প্রবাহিত ছিল। রাসূলাল্লাহ্ (সা) বললেন: উক্ত উপত্যকায় আমাদের মধ্যে যারা আগে পৌঁছবে, তারা যেন আমাদের না পৌঁছান পর্যন্ত কিছুতেই যেখানে থেকে পানি না তোলে।
একদল মুনাফিক সেখানে আগে আগে পৌঁছে গেল। তারা সে ঝর্ণার পানি পান করে ফেললো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে পৌঁছে দেখলেন, তাতে কিছুই নাই। তিনি বললেন: কে এ ঝর্ণায় আমাদের আগে পৌঁছেছিল? বলা হলো: অমুক অমুক, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এর পানি পান করতে নিষেধ করিনি, যতক্ষণ না আমি এসে পৌঁছি? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের প্রতি লা'নত করলেন এবং তাদেরকে বদ দু'আ করলেন। এরপর তিনি তাতে নেমে পাথরের নীচে হাত রাখলেন। তাঁর হাতে আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা অনুযায়ী পানি নেমে আসল। তিনি সে পানি পাথরের গায়ে ঢেলে দিলেন এবং পাথরটির গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছানুরূপ দু'আ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে বজ্রধ্বনির মত শব্দ করে সেখানে থেকে পানির ফোয়ারা ছুটলো। যারা সে শব্দ নিজ কানে শুনেছেন, তারা এরূপ বর্ণনা করেছেন। লোকেরা সে পানি পান করলো এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটালো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা বা তোমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে, তারা শোনবে, আশেপাশের সবগুলো উপত্যকা অপেক্ষা, এই উপত্যকা বেশী উর্বর হবে。

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুল-বিজাদায়নের ওফাত, দাফন ও তাঁর এরূপ নামকরণের কারণ

📄 যুল-বিজাদায়নের ওফাত, দাফন ও তাঁর এরূপ নামকরণের কারণ


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্‌ন ইবরাহীম ইব্‌ন হারিস তায়মী (রা) বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) বর্ণনা করতেন:
তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে থাকা কালে একদিন মাঝরাতে আমি উঠলাম। সহসা দেখলাম শিবিরের এক পাশে আগুনের শিখা। আমি বিষয়টি কী তা দেখার জন্য সেখানে গেলাম। গিয়ে দেখি সেখানে রাসূলুল্লাহ্ (সা), আবূ বকর ও উমর (রা) উপস্থিত। আরও দেখি আবদুল্লাহ্ যুল-বিজাদায়ন মুযানী ইন্তিকাল করেছেন। তাঁরা তাঁর জন্য কবর খনন করছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) কবরের মধ্যে এবং আবূ বকর ও উমর (রা) ভিতরের লাশ নামিয়ে দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলছিলেন: তোমাদের ভাইকে আমার নিকটবর্তী করে দাও। তারা তাকে ভিতরে নামিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে শুইয়ে দিয়ে এই দু'আ পাঠ করলেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ رَاضِبًا عَنْهُ فَارْضَ عَنْهُ
'হে আল্লাহ! আমি তো এর প্রতি খুশি ছিলাম। তুমিও এর প্রতি খুশি থাক।'
আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) বলতেন: হায়, আমিই যদি সেই কবরের বাসিন্দা হতাম!
ইব্‌ন হিশাম বলেন: তার নাম যুল-বিজাদায়ন হওয়ার কারণ ছিল যে, তিনি ইসলামের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। তার পরিবারবর্গ এতে থাকে বাধা দেয়। তারা তাকে নানাভাবে কষ্ট দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে একটি বিজাদ পরিয়ে ছেড়ে দেয়। বিজাদ হচ্ছে এক প্রকার মোটা খসখসে কম্বল। তিনি সেই অবস্থায় তাদের হাত থেকে পালিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট চলে আসেন। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছাকাছি পৌঁছেন, তখন তিনি কম্বলটি দুই টুকরা করে একটুকরা পরিধান করেন এবং একটুকরা গায়ে জড়ান। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হন। এ কারণেই তার নাম হয় যুল-বিজাদায়ন (দুই কম্বল ওয়ালা) বিজাদ (البجاد)-এর এক অর্থ المسح। অর্থাৎ চট।
ইন হিশাম বলেন: ইমরাউল-কায়সের কবিতায় আছে:
كأن أبانا في عranin ودقه * كبير أناس في بجاد مزمل
প্রথম বৃষ্টির মাঝে আবান¹ যেন চট জড়ান এক বিশাল মানুষ。

টিকাঃ
১. পাহাড়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তাবৃক সম্পর্কে আবূ রূহমের বর্ণনা

📄 তাবৃক সম্পর্কে আবূ রূহমের বর্ণনা


ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন শিহাব যুহরী (র) ইব্‌ন উকায়মা লায়সী (র) হতে এবং তিনি আবূ রুহ্ম গিফারীর ভাতিজা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বায়'আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবু রুম কুলসূম ইবন হুমায়ন (রা)-কে বলতে শুনেছেন:
আমি তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে শরীক ছিলাম। একদিন রাতে আমি তাঁর সংগে সফররত ছিলাম। আমরা যখন আল্-আখদারে পৌঁছি, তখন আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে তন্দ্রালু করে দেন। আমি ছিলাম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পাশাপাশি। তন্দ্রা দূরে হতেই দেখি, আমার সওয়ারী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সওয়ারীর একেবারেই নিকট দিয়ে চলছে। আমি ভয়ে শিউরে উঠলাম যে, নাজানি জিনের কাঁটা তাঁর পায়ে লেগে যায়। আমি আমার উটটি দূরে নিয়ে যেতে লাগলাম, কিন্তু ইতোমধ্যে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। আমরা তখনও পথে। রাত তখন গভীর। সহসা আমার সওয়ারী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সওয়ারীকে ধাক্কা দিল। জিনের কাঁটা তাঁর পায়ে লেগে গেল। তাঁর উহ্ শব্দ শুনে আমার ঘুম ভেঙে গেল। তখন আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন। তিনি বললেন: চল। এরপর তিনি আমার কাছে জিজ্ঞাসা করলেন: গিফার গোত্রের কে কে যুদ্ধে শরীক হয়নি। আমি তাদের নাম বললাম। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন: সেই লাল বর্ণের দীর্ঘাঙ্গী লোকগুলোর খবর কি, যাদের খাটো খাটো দাড়ি? আমি জানালাম: তারা পেছনে রয়েছে। আবার জিজ্ঞাসা করলেন: কৃষ্ণাঙ্গ, বেঁটেও কোঁকড়ান চুলাবিশিষ্ট লোকগুলোর খবর কি? আমি বললাম আল্লাহ্র কসম! আমাদের মধ্যে এমন লোক কারা, তা আমি জানি না। তিনি বললেন: হ্যাঁ, ওই শাবাকাতুশ্ শাদাখে¹ যাদের উট আছে। তাঁর একথা শুনে আমার মনে পড়লো বনূ গিফার গোত্রে এরূপ লোক আছে, তবে তখনও তাদের সনাক্ত করতে পারলাম না। পরেই মনে পড়লো, এরা আসলাম গোত্রের একদল লোক এবং আমাদের মিত্র ছিল।
আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তারা আসলাম গোত্রের লোক এবং আমাদের মিত্র। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তারা নিজেরা যখন বাদ রয়ে গেল, তখন কোন উদ্যমী ব্যক্তিকে আল্লাহর পথে যোগদান করার জন্য কেন নিজেদের উটে বহন করালো না? শোন, যারা আমার সঙ্গে যোগদান করা হতে বিরত থাকলে আমি বেশি কষ্ট পাই, তাদের মধ্যে প্রথম হচ্ছে কুরায়শ মুহাজির, তারপরে আনসার এবং তার পরে গিফার ও আসলাম গোত্রের লোক。

টিকাঃ
১. বনূ আসলামের একটি জলাশয়ের নাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তাবুক যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তনকালে মসজিদ-ই যিরার প্রসংগ

📄 তাবুক যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তনকালে মসজিদ-ই যিরার প্রসংগ


ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। যূ-আওয়ান নামক স্থানে পৌঁছে তিনি বিশ্রাম নিলেন। এটা মদীনার হতে এক প্রহরের ব্যবধানে অবস্থিত একটি শহর। তিনি যখন তাবুক যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন মসজিদ-ই যিরারের উদ্যোক্তরা তাঁর নিকট এসে আরয করেছিল: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা অসুস্থ, অভাবগ্রস্ত, বর্ষা রাত ও শৈত্য রজনীর জন্য একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের ইচ্ছা আপনি এসে মসজিদটি উদ্বোধন করে দিন।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : انى على جناح سفر وحال شغل আমি একটি সফরের মুখোমুখী এবং অত্যন্ত ব্যস্ত। কিংবা রাসূলুল্লাহ্ (সা) এমনই কিছু বলেছিলেন। তারপর বললেন: অভিযান শেষে যদি ফিরে আসি, তা হলে ইনশাআল্লাহ্ তোমাদের ওখানে যাব এবং সে মসজিদে তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করবো।
ইবন ইসহাক বলেন তিনি যখন যু-আওয়ানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন তাঁর নিকট মসজিদ-ই যিরারের সংবাদ পৌঁছলো। তিনি বনূ সালিম ইব্‌ন আওফের মালিক ইব্‌ন দুষ্টুম এবং বনু আজলানের মান ইব্‌ন আদী অথবা তার ভাই আসিম ইব্‌ন আদীকে ডেকে বললেন: তোমরা এই জালিমদের মসজিদে যাও এবং মসজিদটি ধ্বংস কর ও জ্বালিয়ে দাও।
তাঁরা দু'জন দ্রুত বের হয়ে পড়লেন। যখন মালিক ইব্‌ন দুখশুমের গোত্র বনূ সালিম ইব্‌ন আওফে এসে পৌঁছলেন, তখন মালিক (রা) মা'ন (রা)-কে বললেন: একটু অপেক্ষা কর। আমি বাড়ি থেকে আগুন নিয়ে আসি। তিনি বাড়ি গিয়ে খেজুর গাছের বাকলে আগুন ধরিয়ে নিয়ে আসলেন। এরপর উভয়ে ছুটে চললেন। তারা মসজিদের ভেতরে ঢুকে তাতে আগুন লাগিয়ে দিলেন এবং মসজিদ ধ্বংস করলেন। তখন অপরাধীচক্র মসজিদের ভিতরে ছিল। তারা সবাই ছত্রভংগ হয়ে গেল। তাদের সম্পর্কে কুরআন মাজীদের এ আয়াত নাযিল হয়:
وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدا ضراراً وكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ
'যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন, কুফরী ও মু'মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে" (৯: ১০৭)।
এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিল বারজন লোক। নিম্নে তাদের পরিচয় দেওয়া হলো:
খিযাম ইব্‌ন খালিদ। সে ছিল বনূ আমর ইব্‌ন আওফের শাখা বনু উবায়দ ইব্‌ন যায়দের লোক। বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তৈরি মসজিদটি তার বাড়িতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
সা'লাবা ইব্‌ন হাতিব। সে ছিল বনূ উমাইয়া ইন্ন যায়দের লোক।
মু'আত্তিব ইব্‌ন কুশায়র। সে ছিল বনু দুবায়'আ ইবন যায়দের লোক।
আবূ হাবীবা ইব্‌ন আয'আর। সেও ছিল বনূ দুবায়'আ, ইন্ন যায়দের একজন।
সাহল ইবন হুনায়ফের ভাই আব্বাদ ইব্‌ন হুনায়ফ। সে ছিল বনূ আমর ইব্‌ন আওফের লোক।
জারিয়া ইন্ন আমির, তার দুই পুত্র মুজাম্মি' ইব্‌ন জারিয়া ও যায়দ ইব্‌ন জারিয়া এবং নাবতাল ইবন হারিস। এরা ছিল দুবায়'আ গোত্রের লোক।
বাহ্যাজ, বিজাদ ইবন উসমান। এরাও দুবায়'আ গোত্রের লোক ছিল।
ওয়াদী'আ ইব্‌ন সাবিত। সে ছিল আবু লুবাবা ইব্‌ন আবদুল মুনযিরের গোত্র বনু উমাইয়া ইবন যায়দের একজন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00