📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) এবং দু'মা-এর উকায়দির

📄 খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) এবং দু'মা-এর উকায়দির


এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে ডেকে দু'মা-এর উকায়দিরের বিরুদ্ধে পাঠালেন। এই উকায়দির ইবন আবদুল মালিক ছিল কানদার এক ব্যক্তি। সে ছিল কানদার রাজা এবং ধর্ম-বিশ্বাসে খ্রিস্টান।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ (রা)-কে বললেন: তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে রত অবস্থায় পাবে।
খালিদ (রা) রওনা হয়ে গেলেন। তিনি এক পরিষ্কার জ্যোৎস্না-স্নাত রাতে উকায়দিরের দুর্গের নিকট চোখে দেখার দূরত্বে উপনীত হলেন। উকায়দির তখন সস্ত্রীক প্রাসাদের ছাদে বসে প্রকৃতির অপরূপ শোভা উপভোগ করছিল। এমনি সময়ে একটি বুনো গরুকে দেখা গেল প্রাসাদের ফটকে শিং দিয়ে অনবরত গুঁতোচ্ছে। উকায়দিরের পত্নী তাকে বললো: এমন দৃশ্য আর কখনও দেখেছ? সে বললো: কসম আল্লাহ্ কখনও নয়। তার স্ত্রী বললো: ওটাকে কে ছেড়েছে? সে বললো: ওটা কারো ছাড়া নয়। এরপর সে ছাদ থেকে নেমে আসলো। তার নির্দেশে ঘোড়ায় জিন পরানো হলো এবং সে তাতে চেপে বসলো। তার পরিবারের কতিপয় লোকও তার সাথে অশ্বারোহণ করলো। তাদের মধ্যে তার ভাই হাসানও ছিল। তারা তার সাথে ছোট ছোট বর্শা হাতে বের হয়ে পড়লো। পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রেরিত অশ্বারোহীরা তাদের গতিরোধ করলো। তারা উকায়দিরকে পাকড়াও করলো এবং তার ভাইকে হত্যা করলো। উকায়দিরের গায়ে ছিল স্বর্ণ খচিত রেশমী জুব্বা। খালিদ তা খুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তিনি নিজে উকায়দিরকে নিয়ে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইবন উমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি উকায়দিরের জুববাটি দেখেছি, যখন সেটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে নিয়ে আসা হয়। মুসলিমগণ সেটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলেন এবং মুগ্ধ হচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এতেই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছ? আল্লাহ্র কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, জান্নাতে সা'দ ইব্‌ন মু'আযের রুমালও এর চাইতে উৎকৃষ্ট।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর খালিদ (রা) উকায়দিরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার প্রাণ ভিক্ষা দেন এবং জিযয়া আদায়ের শর্তে তার সাথে সন্ধি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেন এবং সে তার নিবাসে ফিরে যায়।
খালিদ (রা)-কে লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এই উক্তি যে, 'তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে পাবে', এর উল্লেখপূর্বক এবং যা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উক্তির সত্যতা প্রমাণের জন্য সে রাতে গরুটি এনেছিল। বুজায়র ইব্‌ন বুজারা নামক তাঈ গোত্রীয় এক ব্যক্তি নিম্নের কবিতাটি রচনা করেছিলেন।
تَبَارَكَ سَائِقُ الْبَقَرَاتِ اَنی * رَاَيْتُ اللهَ يَهْدِىْ كُلَّ هَادِىْ
فَمَنْ يَكُ حَائِدا عَنْ ذِىْ تَبُوْكَ * فَاَنَا قَدْ اَمَرَنَا بِالْجِهَادِ
গরুকে যিনি বের করে এনেছিলেন, বরকতময় তিনি। আমি তো দেখি আল্লাহ্ পথ দেখান সকল পথের দিশারীকে।
তাবুক-অভিযাত্রী হতে কেউ যদি চায় সরে যেতে— যাক না; আমরা তো আদিষ্ট হয়েছি জিহাদের জন্য।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) দশ দিনের মত তাবুকে অবস্থায় করেন। তিনি যেখানে থেকে আর সামনে অগ্রসর হলেন না, বরং মদীনায় ফিরে চললেন。

এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে ডেকে দু'মা-এর উকায়দিরের বিরুদ্ধে পাঠালেন। এই উকায়দির ইবন আবদুল মালিক ছিল কানদার এক ব্যক্তি। সে ছিল কানদার রাজা এবং ধর্ম-বিশ্বাসে খ্রিস্টান।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ (রা)-কে বললেন: তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে রত অবস্থায় পাবে।
খালিদ (রা) রওনা হয়ে গেলেন। তিনি এক পরিষ্কার জ্যোৎস্না-স্নাত রাতে উকায়দিরের দুর্গের নিকট চোখে দেখার দূরত্বে উপনীত হলেন। উকায়দির তখন সস্ত্রীক প্রাসাদের ছাদে বসে প্রকৃতির অপরূপ শোভা উপভোগ করছিল। এমনি সময়ে একটি বুনো গরুকে দেখা গেল প্রাসাদের ফটকে শিং দিয়ে অনবরত গুঁতোচ্ছে। উকায়দিরের পত্নী তাকে বললো: এমন দৃশ্য আর কখনও দেখেছ? সে বললো: কসম আল্লাহ্ কখনও নয়। তার স্ত্রী বললো: ওটাকে কে ছেড়েছে? সে বললো: ওটা কারো ছাড়া নয়। এরপর সে ছাদ থেকে নেমে আসলো। তার নির্দেশে ঘোড়ায় জিন পরানো হলো এবং সে তাতে চেপে বসলো। তার পরিবারের কতিপয় লোকও তার সাথে অশ্বারোহণ করলো। তাদের মধ্যে তার ভাই হাসানও ছিল। তারা তার সাথে ছোট ছোট বর্শা হাতে বের হয়ে পড়লো। পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রেরিত অশ্বারোহীরা তাদের গতিরোধ করলো। তারা উকায়দিরকে পাকড়াও করলো এবং তার ভাইকে হত্যা করলো। উকায়দিরের গায়ে ছিল স্বর্ণ খচিত রেশমী জুব্বা। খালিদ তা খুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তিনি নিজে উকায়দিরকে নিয়ে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইবন উমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি উকায়দিরের জুববাটি দেখেছি, যখন সেটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে নিয়ে আসা হয়। মুসলিমগণ সেটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলেন এবং মুগ্ধ হচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এতেই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছ? আল্লাহ্র কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, জান্নাতে সা'দ ইব্‌ন মু'আযের রুমালও এর চাইতে উৎকৃষ্ট।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর খালিদ (রা) উকায়দিরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার প্রাণ ভিক্ষা দেন এবং জিযয়া আদায়ের শর্তে তার সাথে সন্ধি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেন এবং সে তার নিবাসে ফিরে যায়।
খালিদ (রা)-কে লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এই উক্তি যে, 'তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে পাবে', এর উল্লেখপূর্বক এবং যা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উক্তির সত্যতা প্রমাণের জন্য সে রাতে গরুটি এনেছিল। বুজায়র ইব্‌ন বুজারা নামক তাঈ গোত্রীয় এক ব্যক্তি নিম্নের কবিতাটি রচনা করেছিলেন।
تَبَارَكَ سَائِقُ الْبَقَرَاتِ اَنی * رَاَيْتُ اللهَ يَهْدِىْ كُلَّ هَادِىْ
فَمَنْ يَكُ حَائِدا عَنْ ذِىْ تَبُوْكَ * فَاَنَا قَدْ اَمَرَنَا بِالْجِهَادِ
গরুকে যিনি বের করে এনেছিলেন, বরকতময় তিনি। আমি তো দেখি আল্লাহ্ পথ দেখান সকল পথের দিশারীকে।
তাবুক-অভিযাত্রী হতে কেউ যদি চায় সরে যেতে— যাক না; আমরা তো আদিষ্ট হয়েছি জিহাদের জন্য।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) দশ দিনের মত তাবুকে অবস্থায় করেন। তিনি যেখানে থেকে আর সামনে অগ্রসর হলেন না, বরং মদীনায় ফিরে চললেন。

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওয়াদিল-মুশাক্কাক ও তার জলাশয়ের বৃত্তান্ত

📄 ওয়াদিল-মুশাক্কাক ও তার জলাশয়ের বৃত্তান্ত


পথে একটি ক্ষুদ্র পাহাড়ী ঝর্ণা ছিল। দুই তিন জন সওয়ারীরই প্রয়োজন মেটাতে পারত এর পানি। মুশাক্কাফ উপত্যকায় এটা প্রবাহিত ছিল। রাসূলাল্লাহ্ (সা) বললেন: উক্ত উপত্যকায় আমাদের মধ্যে যারা আগে পৌঁছবে, তারা যেন আমাদের না পৌঁছান পর্যন্ত কিছুতেই যেখানে থেকে পানি না তোলে।
একদল মুনাফিক সেখানে আগে আগে পৌঁছে গেল। তারা সে ঝর্ণার পানি পান করে ফেললো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে পৌঁছে দেখলেন, তাতে কিছুই নাই। তিনি বললেন: কে এ ঝর্ণায় আমাদের আগে পৌঁছেছিল? বলা হলো: অমুক অমুক, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এর পানি পান করতে নিষেধ করিনি, যতক্ষণ না আমি এসে পৌঁছি? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের প্রতি লা'নত করলেন এবং তাদেরকে বদ দু'আ করলেন। এরপর তিনি তাতে নেমে পাথরের নীচে হাত রাখলেন। তাঁর হাতে আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা অনুযায়ী পানি নেমে আসল। তিনি সে পানি পাথরের গায়ে ঢেলে দিলেন এবং পাথরটির গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছানুরূপ দু'আ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে বজ্রধ্বনির মত শব্দ করে সেখানে থেকে পানির ফোয়ারা ছুটলো। যারা সে শব্দ নিজ কানে শুনেছেন, তারা এরূপ বর্ণনা করেছেন। লোকেরা সে পানি পান করলো এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটালো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা বা তোমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে, তারা শোনবে, আশেপাশের সবগুলো উপত্যকা অপেক্ষা, এই উপত্যকা বেশী উর্বর হবে।

পথে একটি ক্ষুদ্র পাহাড়ী ঝর্ণা ছিল। দুই তিন জন সওয়ারীরই প্রয়োজন মেটাতে পারত এর পানি। মুশাক্কাফ উপত্যকায় এটা প্রবাহিত ছিল। রাসূলাল্লাহ্ (সা) বললেন: উক্ত উপত্যকায় আমাদের মধ্যে যারা আগে পৌঁছবে, তারা যেন আমাদের না পৌঁছান পর্যন্ত কিছুতেই যেখানে থেকে পানি না তোলে।
একদল মুনাফিক সেখানে আগে আগে পৌঁছে গেল। তারা সে ঝর্ণার পানি পান করে ফেললো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে পৌঁছে দেখলেন, তাতে কিছুই নাই। তিনি বললেন: কে এ ঝর্ণায় আমাদের আগে পৌঁছেছিল? বলা হলো: অমুক অমুক, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এর পানি পান করতে নিষেধ করিনি, যতক্ষণ না আমি এসে পৌঁছি? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের প্রতি লা'নত করলেন এবং তাদেরকে বদ দু'আ করলেন। এরপর তিনি তাতে নেমে পাথরের নীচে হাত রাখলেন। তাঁর হাতে আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা অনুযায়ী পানি নেমে আসল। তিনি সে পানি পাথরের গায়ে ঢেলে দিলেন এবং পাথরটির গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছানুরূপ দু'আ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে বজ্রধ্বনির মত শব্দ করে সেখানে থেকে পানির ফোয়ারা ছুটলো। যারা সে শব্দ নিজ কানে শুনেছেন, তারা এরূপ বর্ণনা করেছেন। লোকেরা সে পানি পান করলো এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটালো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা বা তোমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে, তারা শোনবে, আশেপাশের সবগুলো উপত্যকা অপেক্ষা, এই উপত্যকা বেশী উর্বর হবে。

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুল-বিজাদায়নের ওফাত, দাফন ও তাঁর এরূপ নামকরণের কারণ

📄 যুল-বিজাদায়নের ওফাত, দাফন ও তাঁর এরূপ নামকরণের কারণ


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্‌ন ইবরাহীম ইব্‌ন হারিস তায়মী (রা) বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) বর্ণনা করতেন:
তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে থাকা কালে একদিন মাঝরাতে আমি উঠলাম। সহসা দেখলাম শিবিরের এক পাশে আগুনের শিখা। আমি বিষয়টি কী তা দেখার জন্য সেখানে গেলাম। গিয়ে দেখি সেখানে রাসূলুল্লাহ্ (সা), আবূ বকর ও উমর (রা) উপস্থিত। আরও দেখি আবদুল্লাহ্ যুল-বিজাদায়ন মুযানী ইন্তিকাল করেছেন। তাঁরা তাঁর জন্য কবর খনন করছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) কবরের মধ্যে এবং আবূ বকর ও উমর (রা) ভিতরের লাশ নামিয়ে দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলছিলেন: তোমাদের ভাইকে আমার নিকটবর্তী করে দাও। তারা তাকে ভিতরে নামিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে শুইয়ে দিয়ে এই দু'আ পাঠ করলেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ رَاضِبًا عَنْهُ فَارْضَ عَنْهُ
'হে আল্লাহ! আমি তো এর প্রতি খুশি ছিলাম। তুমিও এর প্রতি খুশি থাক।'
আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) বলতেন: হায়, আমিই যদি সেই কবরের বাসিন্দা হতাম!
ইব্‌ন হিশাম বলেন: তার নাম যুল-বিজাদায়ন হওয়ার কারণ ছিল যে, তিনি ইসলামের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। তার পরিবারবর্গ এতে থাকে বাধা দেয়। তারা তাকে নানাভাবে কষ্ট দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে একটি বিজাদ পরিয়ে ছেড়ে দেয়। বিজাদ হচ্ছে এক প্রকার মোটা খসখসে কম্বল। তিনি সেই অবস্থায় তাদের হাত থেকে পালিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট চলে আসেন। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছাকাছি পৌঁছেন, তখন তিনি কম্বলটি দুই টুকরা করে একটুকরা পরিধান করেন এবং একটুকরা গায়ে জড়ান। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হন। এ কারণেই তার নাম হয় যুল-বিজাদায়ন (দুই কম্বল ওয়ালা) বিজাদ (البجاد)-এর এক অর্থ المسح। অর্থাৎ চট।
ইন হিশাম বলেন: ইমরাউল-কায়সের কবিতায় আছে:
كأن أبانا في عranin ودقه * كبير أناس في بجاد مزمل
প্রথম বৃষ্টির মাঝে আবান¹ যেন চট জড়ান এক বিশাল মানুষ。

টিকাঃ
১. পাহাড়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তাবৃক সম্পর্কে আবূ রূহমের বর্ণনা

📄 তাবৃক সম্পর্কে আবূ রূহমের বর্ণনা


ইবন ইসহাক বলেন: ইব্‌ন শিহাব যুহরী (র) ইব্‌ন উকায়মা লায়সী (র) হতে এবং তিনি আবূ রুহ্ম গিফারীর ভাতিজা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বায়'আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবু রুম কুলসূম ইবন হুমায়ন (রা)-কে বলতে শুনেছেন:
আমি তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে শরীক ছিলাম। একদিন রাতে আমি তাঁর সংগে সফররত ছিলাম। আমরা যখন আল্-আখদারে পৌঁছি, তখন আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে তন্দ্রালু করে দেন। আমি ছিলাম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পাশাপাশি। তন্দ্রা দূরে হতেই দেখি, আমার সওয়ারী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সওয়ারীর একেবারেই নিকট দিয়ে চলছে। আমি ভয়ে শিউরে উঠলাম যে, নাজানি জিনের কাঁটা তাঁর পায়ে লেগে যায়। আমি আমার উটটি দূরে নিয়ে যেতে লাগলাম, কিন্তু ইতোমধ্যে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। আমরা তখনও পথে। রাত তখন গভীর। সহসা আমার সওয়ারী রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সওয়ারীকে ধাক্কা দিল। জিনের কাঁটা তাঁর পায়ে লেগে গেল। তাঁর উহ্ শব্দ শুনে আমার ঘুম ভেঙে গেল। তখন আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন। তিনি বললেন: চল। এরপর তিনি আমার কাছে জিজ্ঞাসা করলেন: গিফার গোত্রের কে কে যুদ্ধে শরীক হয়নি। আমি তাদের নাম বললাম। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন: সেই লাল বর্ণের দীর্ঘাঙ্গী লোকগুলোর খবর কি, যাদের খাটো খাটো দাড়ি? আমি জানালাম: তারা পেছনে রয়েছে। আবার জিজ্ঞাসা করলেন: কৃষ্ণাঙ্গ, বেঁটেও কোঁকড়ান চুলাবিশিষ্ট লোকগুলোর খবর কি? আমি বললাম আল্লাহ্র কসম! আমাদের মধ্যে এমন লোক কারা, তা আমি জানি না। তিনি বললেন: হ্যাঁ, ওই শাবাকাতুশ্ শাদাখে¹ যাদের উট আছে। তাঁর একথা শুনে আমার মনে পড়লো বনূ গিফার গোত্রে এরূপ লোক আছে, তবে তখনও তাদের সনাক্ত করতে পারলাম না। পরেই মনে পড়লো, এরা আসলাম গোত্রের একদল লোক এবং আমাদের মিত্র ছিল।
আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তারা আসলাম গোত্রের লোক এবং আমাদের মিত্র। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তারা নিজেরা যখন বাদ রয়ে গেল, তখন কোন উদ্যমী ব্যক্তিকে আল্লাহর পথে যোগদান করার জন্য কেন নিজেদের উটে বহন করালো না? শোন, যারা আমার সঙ্গে যোগদান করা হতে বিরত থাকলে আমি বেশি কষ্ট পাই, তাদের মধ্যে প্রথম হচ্ছে কুরায়শ মুহাজির, তারপরে আনসার এবং তার পরে গিফার ও আসলাম গোত্রের লোক。

টিকাঃ
১. বনূ আসলামের একটি জলাশয়ের নাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00