📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুনাফিকদের পক্ষ হতে মুসলিমদের মনে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা

📄 মুনাফিকদের পক্ষ হতে মুসলিমদের মনে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা


ইবন ইসহাক বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাবুকের পথে, তখন বনূ আমর ইব্‌ন আওফের লোক ওয়াদী'আ ইব্‌ন সাবিত ও বনূ সালিমা গোত্রের মিত্র বনূ আশজা গোত্রের মুখাশিন ইবন হুমায়্যির, ইবন হিশামের মতে মাশী ইবন হুমায়িয়র-এরা সহ একদন মুনাফিক তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করে পরস্পর বলতে থাকে, তোমরা কি মনে কর বনূ-আসফারের সাথে যুদ্ধ করা আরবদের পারস্পরিক হানাহানির মত? আল্লাহ্র কসম! আগামীকাল তোমাদের সাথে আমরা নির্ঘাত রশি দ্বারা বাঁধা থাকব। তারা এসব বলত মুসলিমদের মনে ত্রাস ও ভীতি সঞ্চার করার উদ্দেশ্যে। মুখাশিন ইবন হুমায়্যির বলল: আল্লাহর কসম! তোমাদের এসব উক্তির কারণে আমাদের সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাযিল হওয়া হতে যদি নিষ্কৃতি পেতাম এবং তার বদলে আমাদের প্রত্যেককে একশ'টি করে দোরা মারা হত, সেটাই আমার পসন্দ ছিল।
আমার মাঝে পৌঁছা বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)-কে বললেন: ওই লোকগুলোকে পাকড়াও কর। ওরা তো ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ওরা যেসব উক্তি করেছে সে সম্পর্কে ওদের জিজ্ঞাস কর। যদি অস্বীকার করে, তা হলে বলো, তোমরা তো এই কথা বলেছ।
তখন আম্মার (রা) তাদের কাছে চলে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) যা বলেছেন তা তাদের বললেন। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট অজুحات পেশ করার জন্য আসলো এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর উটনীর পাশে দণ্ডায়মান ছিলেন। ওয়াদী'আ ইবন সাবিত তার পেটে বাধা রশি ধরে বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। এ সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন : وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لِيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوْضُ وَنَلْعَبُ "আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম।"
তখন মুখাশিন ইবন হুমায়্যির বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমার নাম এবং আমার পিতার নাম পাল্টিয়ে দিন। উক্ত আয়াতে যাকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে। সে হলো এই মুখশিন ইবন হুমায়িয়র। তার নাম রাখা হয় আবদুর রহমান। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দু'আ করেন, যাতে এমন স্থানে শাহাদত লাভ করেন, যা কেউ জানতে না পারে। তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। তার কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি。

ইবন ইসহাক বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাবুকের পথে, তখন বনূ আমর ইব্‌ন আওফের লোক ওয়াদী'আ ইব্‌ন সাবিত ও বনূ সালিমা গোত্রের মিত্র বনূ আশজা গোত্রের মুখাশিন ইবন হুমায়্যির, ইবন হিশামের মতে মাশী ইবন হুমায়িয়র-এরা সহ একদন মুনাফিক তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করে পরস্পর বলতে থাকে, তোমরা কি মনে কর বনূ-আসফারের সাথে যুদ্ধ করা আরবদের পারস্পরিক হানাহানির মত? আল্লাহ্র কসম! আগামীকাল তোমাদের সাথে আমরা নির্ঘাত রশি দ্বারা বাঁধা থাকব। তারা এসব বলত মুসলিমদের মনে ত্রাস ও ভীতি সঞ্চার করার উদ্দেশ্যে। মুখাশিন ইবন হুমায়্যির বলল: আল্লাহর কসম! তোমাদের এসব উক্তির কারণে আমাদের সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাযিল হওয়া হতে যদি নিষ্কৃতি পেতাম এবং তার বদলে আমাদের প্রত্যেককে একশ'টি করে দোরা মারা হত, সেটাই আমার পসন্দ ছিল।
আমার মাঝে পৌঁছা বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)-কে বললেন: ওই লোকগুলোকে পাকড়াও কর। ওরা তো ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ওরা যেসব উক্তি করেছে সে সম্পর্কে ওদের জিজ্ঞাস কর। যদি অস্বীকার করে, তা হলে বলো, তোমরা তো এই কথা বলেছ।
তখন আম্মার (রা) তাদের কাছে চলে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) যা বলেছেন তা তাদের বললেন। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট অজুহাত পেশ করার জন্য আসলো এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর উটনীর পাশে দণ্ডায়মান ছিলেন। ওয়াদী'আ ইবন সাবিত তার পেটে বাধা রশি ধরে বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। এ সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন : وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لِيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوْضُ وَنَلْعَبُ "আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম।"
তখন মুখাশিন ইবন হুমায়্যির বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমার নাম এবং আমার পিতার নাম পাল্টিয়ে দিন। উক্ত আয়াতে যাকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে। সে হলো এই মুখশিন ইবন হুমায়িয়র। তার নাম রাখা হয় আবদুর রহমান। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দু'আ করেন, যাতে এমন স্থানে শাহাদত লাভ করেন, যা কেউ জানতে না পারে। তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। তার কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি。

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আয়লার অধিপতির সাথে সন্ধি

📄 আয়লার অধিপতির সাথে সন্ধি


রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাবুক পৌঁছলেন, তখন আয়লা-অধিপতি ইউহান্না ইব্‌ন রু'বা তাঁর সংগে সাক্ষাত করে সন্ধির প্রস্তাব দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে সন্ধি স্থাপন করলেন। ইউহান্না জিযিয়া-কর আদায় করলো। জারবা' ও আযরুহবাসীরাও তাঁর সংগে সাক্ষাত করল এবং তাঁকে জিযিয়া কর দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের জন্য নিরাপত্তানামা লিখে দিয়েছিলেন, যা তাদের কাছে রক্ষিত আছে।
তিনি ইউহান্না ইব্‌ন রু'বাকে যে নিরাপত্তানামা লিখে দিয়েছিলেন, তা ছিল নিম্নরূপ:
بسم الله الرحمن الرحيم هذه أمنة من الله ومحمد النبي رسول الله ليحنة بن رؤبة واهل ايلة سفنهم وسيارتهم في البر والبحر لهم ذمة الله وذمة محمد النبى ومن كان معهم من اهل الشام واهل اليمن واهل البحر فمن احدث منهم حدثا فانه لا يحول ماله دون نفسه وانه طيب لمن اخذه من الناس وانه لا يحل ان يمنعوا ماء يردونه ولا طريقا يريدونه من بر او بحر .
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটা আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূল, নবী মুহাম্মদের পক্ষ হতে ইউহান্না ইব্‌ন রু'বা ও আয়লাবাসীকে প্রদত্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। তাদের জল ও স্থলের জাহাজ ও যানবাহনের ব্যাপারে এ নিশ্চয়তা প্রযোজ্য। তাদের জন্য আল্লাহ্ ও নবী মুহাম্মদের যিম্মাদারী সাব্যস্ত হলো। শাম, ইয়ামান ও সমুদ্র-দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে থাকবে, তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে কেউ কোন অঘটন ঘটালে তার অর্থ-সম্পদ তাবে রক্ষা করতে পারবে না। যে ব্যক্তি তা দখলী করবে, তা তার জন্য হালাল হয়ে যাবে। তারা যে কোন পানি ব্যবহার করতে চাইবে এবং জল-স্থলের যে কোনও পথে যাতায়াত করবে, তাতে তাদেরকে বাধা প্রদান করার অবকাশ থাকবে না।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাবুক পৌঁছলেন, তখন আয়লা-অধিপতি ইউহান্না ইব্‌ন রু'বা তাঁর সংগে সাক্ষাত করে সন্ধির প্রস্তাব দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে সন্ধি স্থাপন করলেন। ইউহান্না জিযিয়া-কর আদায় করলো। জারবা' ও আযরুহবাসীরাও তাঁর সংগে সাক্ষাত করল এবং তাঁকে জিযিয়া কর দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের জন্য নিরাপত্তানামা লিখে দিয়েছিলেন, যা তাদের কাছে রক্ষিত আছে।
তিনি ইউহান্না ইব্‌ন রু'বাকে যে নিরাপত্তানামা লিখে দিয়েছিলেন, তা ছিল নিম্নরূপ:
بسم الله الرحمن الرحيم هذه أمنة من الله ومحمد النبي رسول الله ليحنة بن رؤبة واهل ايلة سفنهم وسيارتهم في البر والبحر لهم ذمة الله وذمة محمد النبى ومن كان معهم من اهل الشام واهل اليمن واهل البحر فمن احدث منهم حدثا فانه لا يحول ماله دون نفسه وانه طيب لمن اخذه من الناس وانه لا يحل ان يمنعوا ماء يردونه ولا طريقا يريدونه من بر او بحر .
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটা আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূল, নবী মুহাম্মদের পক্ষ হতে ইউহান্না ইব্‌ন রু'বা ও আয়লাবাসীকে প্রদত্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। তাদের জল ও স্থলের জাহাজ ও যানবাহনের ব্যাপারে এ নিশ্চয়তা প্রযোজ্য। তাদের জন্য আল্লাহ্ ও নবী মুহাম্মদের যিম্মাদারী সাব্যস্ত হলো। শাম, ইয়ামান ও সমুদ্র-দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে থাকবে, তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে কেউ কোন অঘটন ঘটালে তার অর্থ-সম্পদ তাবে রক্ষা করতে পারবে না। যে ব্যক্তি তা দখলী করবে, তা তার জন্য হালাল হয়ে যাবে। তারা যে কোন পানি ব্যবহার করতে চাইবে এবং জল-স্থলের যে কোনও পথে যাতায়াত করবে, তাতে তাদেরকে বাধা প্রদান করার অবকাশ থাকবে না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) এবং দু'মা-এর উকায়দির

📄 খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) এবং দু'মা-এর উকায়দির


এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে ডেকে দু'মা-এর উকায়দিরের বিরুদ্ধে পাঠালেন। এই উকায়দির ইবন আবদুল মালিক ছিল কানদার এক ব্যক্তি। সে ছিল কানদার রাজা এবং ধর্ম-বিশ্বাসে খ্রিস্টান।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ (রা)-কে বললেন: তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে রত অবস্থায় পাবে।
খালিদ (রা) রওনা হয়ে গেলেন। তিনি এক পরিষ্কার জ্যোৎস্না-স্নাত রাতে উকায়দিরের দুর্গের নিকট চোখে দেখার দূরত্বে উপনীত হলেন। উকায়দির তখন সস্ত্রীক প্রাসাদের ছাদে বসে প্রকৃতির অপরূপ শোভা উপভোগ করছিল। এমনি সময়ে একটি বুনো গরুকে দেখা গেল প্রাসাদের ফটকে শিং দিয়ে অনবরত গুঁতোচ্ছে। উকায়দিরের পত্নী তাকে বললো: এমন দৃশ্য আর কখনও দেখেছ? সে বললো: কসম আল্লাহ্ কখনও নয়। তার স্ত্রী বললো: ওটাকে কে ছেড়েছে? সে বললো: ওটা কারো ছাড়া নয়। এরপর সে ছাদ থেকে নেমে আসলো। তার নির্দেশে ঘোড়ায় জিন পরানো হলো এবং সে তাতে চেপে বসলো। তার পরিবারের কতিপয় লোকও তার সাথে অশ্বারোহণ করলো। তাদের মধ্যে তার ভাই হাসানও ছিল। তারা তার সাথে ছোট ছোট বর্শা হাতে বের হয়ে পড়লো। পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রেরিত অশ্বারোহীরা তাদের গতিরোধ করলো। তারা উকায়দিরকে পাকড়াও করলো এবং তার ভাইকে হত্যা করলো। উকায়দিরের গায়ে ছিল স্বর্ণ খচিত রেশমী জুব্বা। খালিদ তা খুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তিনি নিজে উকায়দিরকে নিয়ে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইবন উমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি উকায়দিরের জুববাটি দেখেছি, যখন সেটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে নিয়ে আসা হয়। মুসলিমগণ সেটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলেন এবং মুগ্ধ হচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এতেই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছ? আল্লাহ্র কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, জান্নাতে সা'দ ইব্‌ন মু'আযের রুমালও এর চাইতে উৎকৃষ্ট।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর খালিদ (রা) উকায়দিরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার প্রাণ ভিক্ষা দেন এবং জিযয়া আদায়ের শর্তে তার সাথে সন্ধি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেন এবং সে তার নিবাসে ফিরে যায়।
খালিদ (রা)-কে লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এই উক্তি যে, 'তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে পাবে', এর উল্লেখপূর্বক এবং যা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উক্তির সত্যতা প্রমাণের জন্য সে রাতে গরুটি এনেছিল। বুজায়র ইব্‌ন বুজারা নামক তাঈ গোত্রীয় এক ব্যক্তি নিম্নের কবিতাটি রচনা করেছিলেন।
تَبَارَكَ سَائِقُ الْبَقَرَاتِ اَنی * رَاَيْتُ اللهَ يَهْدِىْ كُلَّ هَادِىْ
فَمَنْ يَكُ حَائِدا عَنْ ذِىْ تَبُوْكَ * فَاَنَا قَدْ اَمَرَنَا بِالْجِهَادِ
গরুকে যিনি বের করে এনেছিলেন, বরকতময় তিনি। আমি তো দেখি আল্লাহ্ পথ দেখান সকল পথের দিশারীকে।
তাবুক-অভিযাত্রী হতে কেউ যদি চায় সরে যেতে— যাক না; আমরা তো আদিষ্ট হয়েছি জিহাদের জন্য।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) দশ দিনের মত তাবুকে অবস্থায় করেন। তিনি যেখানে থেকে আর সামনে অগ্রসর হলেন না, বরং মদীনায় ফিরে চললেন。

এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে ডেকে দু'মা-এর উকায়দিরের বিরুদ্ধে পাঠালেন। এই উকায়দির ইবন আবদুল মালিক ছিল কানদার এক ব্যক্তি। সে ছিল কানদার রাজা এবং ধর্ম-বিশ্বাসে খ্রিস্টান।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ (রা)-কে বললেন: তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে রত অবস্থায় পাবে।
খালিদ (রা) রওনা হয়ে গেলেন। তিনি এক পরিষ্কার জ্যোৎস্না-স্নাত রাতে উকায়দিরের দুর্গের নিকট চোখে দেখার দূরত্বে উপনীত হলেন। উকায়দির তখন সস্ত্রীক প্রাসাদের ছাদে বসে প্রকৃতির অপরূপ শোভা উপভোগ করছিল। এমনি সময়ে একটি বুনো গরুকে দেখা গেল প্রাসাদের ফটকে শিং দিয়ে অনবরত গুঁতোচ্ছে। উকায়দিরের পত্নী তাকে বললো: এমন দৃশ্য আর কখনও দেখেছ? সে বললো: কসম আল্লাহ্ কখনও নয়। তার স্ত্রী বললো: ওটাকে কে ছেড়েছে? সে বললো: ওটা কারো ছাড়া নয়। এরপর সে ছাদ থেকে নেমে আসলো। তার নির্দেশে ঘোড়ায় জিন পরানো হলো এবং সে তাতে চেপে বসলো। তার পরিবারের কতিপয় লোকও তার সাথে অশ্বারোহণ করলো। তাদের মধ্যে তার ভাই হাসানও ছিল। তারা তার সাথে ছোট ছোট বর্শা হাতে বের হয়ে পড়লো। পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রেরিত অশ্বারোহীরা তাদের গতিরোধ করলো। তারা উকায়দিরকে পাকড়াও করলো এবং তার ভাইকে হত্যা করলো। উকায়দিরের গায়ে ছিল স্বর্ণ খচিত রেশমী জুব্বা। খালিদ তা খুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তিনি নিজে উকায়দিরকে নিয়ে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইবন উমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি উকায়দিরের জুববাটি দেখেছি, যখন সেটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে নিয়ে আসা হয়। মুসলিমগণ সেটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলেন এবং মুগ্ধ হচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এতেই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছ? আল্লাহ্র কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, জান্নাতে সা'দ ইব্‌ন মু'আযের রুমালও এর চাইতে উৎকৃষ্ট।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর খালিদ (রা) উকায়দিরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার প্রাণ ভিক্ষা দেন এবং জিযয়া আদায়ের শর্তে তার সাথে সন্ধি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেন এবং সে তার নিবাসে ফিরে যায়।
খালিদ (রা)-কে লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এই উক্তি যে, 'তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে পাবে', এর উল্লেখপূর্বক এবং যা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উক্তির সত্যতা প্রমাণের জন্য সে রাতে গরুটি এনেছিল। বুজায়র ইব্‌ন বুজারা নামক তাঈ গোত্রীয় এক ব্যক্তি নিম্নের কবিতাটি রচনা করেছিলেন।
تَبَارَكَ سَائِقُ الْبَقَرَاتِ اَنی * رَاَيْتُ اللهَ يَهْدِىْ كُلَّ هَادِىْ
فَمَنْ يَكُ حَائِدا عَنْ ذِىْ تَبُوْكَ * فَاَنَا قَدْ اَمَرَنَا بِالْجِهَادِ
গরুকে যিনি বের করে এনেছিলেন, বরকতময় তিনি। আমি তো দেখি আল্লাহ্ পথ দেখান সকল পথের দিশারীকে।
তাবুক-অভিযাত্রী হতে কেউ যদি চায় সরে যেতে— যাক না; আমরা তো আদিষ্ট হয়েছি জিহাদের জন্য।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) দশ দিনের মত তাবুকে অবস্থায় করেন। তিনি যেখানে থেকে আর সামনে অগ্রসর হলেন না, বরং মদীনায় ফিরে চললেন。

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওয়াদিল-মুশাক্কাক ও তার জলাশয়ের বৃত্তান্ত

📄 ওয়াদিল-মুশাক্কাক ও তার জলাশয়ের বৃত্তান্ত


পথে একটি ক্ষুদ্র পাহাড়ী ঝর্ণা ছিল। দুই তিন জন সওয়ারীরই প্রয়োজন মেটাতে পারত এর পানি। মুশাক্কাফ উপত্যকায় এটা প্রবাহিত ছিল। রাসূলাল্লাহ্ (সা) বললেন: উক্ত উপত্যকায় আমাদের মধ্যে যারা আগে পৌঁছবে, তারা যেন আমাদের না পৌঁছান পর্যন্ত কিছুতেই যেখানে থেকে পানি না তোলে।
একদল মুনাফিক সেখানে আগে আগে পৌঁছে গেল। তারা সে ঝর্ণার পানি পান করে ফেললো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে পৌঁছে দেখলেন, তাতে কিছুই নাই। তিনি বললেন: কে এ ঝর্ণায় আমাদের আগে পৌঁছেছিল? বলা হলো: অমুক অমুক, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এর পানি পান করতে নিষেধ করিনি, যতক্ষণ না আমি এসে পৌঁছি? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের প্রতি লা'নত করলেন এবং তাদেরকে বদ দু'আ করলেন। এরপর তিনি তাতে নেমে পাথরের নীচে হাত রাখলেন। তাঁর হাতে আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা অনুযায়ী পানি নেমে আসল। তিনি সে পানি পাথরের গায়ে ঢেলে দিলেন এবং পাথরটির গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছানুরূপ দু'আ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে বজ্রধ্বনির মত শব্দ করে সেখানে থেকে পানির ফোয়ারা ছুটলো। যারা সে শব্দ নিজ কানে শুনেছেন, তারা এরূপ বর্ণনা করেছেন। লোকেরা সে পানি পান করলো এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটালো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা বা তোমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে, তারা শোনবে, আশেপাশের সবগুলো উপত্যকা অপেক্ষা, এই উপত্যকা বেশী উর্বর হবে।

পথে একটি ক্ষুদ্র পাহাড়ী ঝর্ণা ছিল। দুই তিন জন সওয়ারীরই প্রয়োজন মেটাতে পারত এর পানি। মুশাক্কাফ উপত্যকায় এটা প্রবাহিত ছিল। রাসূলাল্লাহ্ (সা) বললেন: উক্ত উপত্যকায় আমাদের মধ্যে যারা আগে পৌঁছবে, তারা যেন আমাদের না পৌঁছান পর্যন্ত কিছুতেই যেখানে থেকে পানি না তোলে।
একদল মুনাফিক সেখানে আগে আগে পৌঁছে গেল। তারা সে ঝর্ণার পানি পান করে ফেললো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে পৌঁছে দেখলেন, তাতে কিছুই নাই। তিনি বললেন: কে এ ঝর্ণায় আমাদের আগে পৌঁছেছিল? বলা হলো: অমুক অমুক, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এর পানি পান করতে নিষেধ করিনি, যতক্ষণ না আমি এসে পৌঁছি? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের প্রতি লা'নত করলেন এবং তাদেরকে বদ দু'আ করলেন। এরপর তিনি তাতে নেমে পাথরের নীচে হাত রাখলেন। তাঁর হাতে আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা অনুযায়ী পানি নেমে আসল। তিনি সে পানি পাথরের গায়ে ঢেলে দিলেন এবং পাথরটির গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর তিনি আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছানুরূপ দু'আ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে বজ্রধ্বনির মত শব্দ করে সেখানে থেকে পানির ফোয়ারা ছুটলো। যারা সে শব্দ নিজ কানে শুনেছেন, তারা এরূপ বর্ণনা করেছেন। লোকেরা সে পানি পান করলো এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটালো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা বা তোমাদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে, তারা শোনবে, আশেপাশের সবগুলো উপত্যকা অপেক্ষা, এই উপত্যকা বেশী উর্বর হবে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00