📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ যর (রা)-এর বৃত্তান্ত

📄 আবূ যর (রা)-এর বৃত্তান্ত


ইবন ইসহাক বলেন: কোন কোন লোকের ধারণা যায়দ পরবর্তীতে তওবা করেছিল। আবার কারও মতে সে মৃত্যু পর্যন্ত অপরাধী হিসাবে সন্দেহযুক্ত ছিল।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সামনে অগ্রসর হতে থাকলেন। এক এক একজন লোক তার থেকে পশ্চাদপদ হতে থাকতো, আর সাহাবায়ে কিরাম বলতেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! অমুকে পেছনে রয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলতেন: রাখ তাকে। তার মাঝে যদি কোন কল্যাণ থাকে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তোমাদের সাথে মিলিয়ে দিবেন। আর যদি এর বিপরীত হয়, তা হলে তো আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তার অনাচার হতে শান্তি দিলেন। এক পর্যায়ে বলা হলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আবূ যর তো পিছনে পড়ে গেছে। তার উটটি ধীর গতি সম্পন্ন। তিনি বললেন: রেখে দাও। তার মাঝে যদি ভাল কিছু থাকে, তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে শীঘ্রই তোমাদের সাথে মিলিয়ে দিবেন। আর এর বিপরীত হলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তো তার আপد থেকে নিষ্কৃতি দিলেন। আবূ যার (রা) তার উটের পিঠে পিছনে পড়ে গেলেন। তার উট তাকে নিয়ে ধীর গতিতে চলছিল। শেষে তিনি মাল-পত্র নিজের পিঠে তুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পথের চিহ্ন অনুসরণ করে পায়ে হেঁটে অগ্রসর হলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) পথিমধ্যে আবার যখন যাত্রা বিরতি করলেন, তখন একজন মুসলিম তাকিয়ে দেখলেন একজন লোক আসছে। তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ওই লোকটি পথে একাকী হেঁটে আসছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আবু যরই যেন হয়। লোকেরা ভাল করে তাকালো। তারপর বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম, সে আবূ যর-ই। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আল্লাহ্ আবু যরকে রহম করুন। যে নিঃসঙ্গ চলে। নিঃসঙ্গ অবস্থায়ই তার মৃত্যু হবে এবং তার হাশরও হবে নিঃসঙ্গ অবস্থায়।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বুরায়দা ইব্‌ন সুফ্য়ান আসলামী (রা) মুহাম্মদ ইব্‌ন কা'ব কুরাজী (রা) হতে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাসউদ (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: উসমান (রা) যখন আবু যর (রা)-কে রাব্যায় পাঠিয়ে ছিলেন এবং সেখানে তার আয়ু ফুরিয়ে এল, তখন তাঁর নিকট তার স্ত্রী ও গোলাম ছাড়া কেউ ছিল না। তিনি তাদের দু'জনকে ওসীয়ত করলেন: তোমরা আমাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে রাস্তার মোড়ে রেখে দিও। প্রথম যে কাফেলার সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবে, তাদের বলবে, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবু যর। আপনারা তাঁর দাফনকার্যে আমাদের সাহায্য করুন। তাঁর ইন্তিকাল হয়ে গেলে তারা ওসীয়ত অনুযায়ী কাজ করলো। তারা তাঁকে রাস্তার মোড়ে রেখে ছিল। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন מסעוד একদল ইরাকবাসীকে নিয়ে উমরার উদ্দেশ্যে আসছিলেন। রাস্তার মোড়ে জানাযার জন্য রাখা লাশ দেখে তারা শিউরে উঠলেন। তাদের উট লাশটি প্রায় পিষ্ট করতে যাচ্ছিল। আবূ যর (রা)-এর গোলাম তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে বললো, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবূ যর। আপনারা তার দাফনকার্যে আমাদের সাহায্য করুন। একথা শুনতেই আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন מסעוד (রা) চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। তিনি তখন বলছিলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) সত্যই বলেছিলেন, আবু যর! তুমি নিঃসঙ্গ চলবে, নিঃসঙ্গ মারা যাবে এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় তোমার হাশর হবে। তখন তিনিও তাঁর সঙ্গীগণ দ্রুত সওয়ারী হতে নেমে গেলেন। এরপর ইব্‌ন מסעוד (রা) তাদের নিকট তাবুকের পথে আবূ যর (রা)-এর যা ঘটেছিল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে যা বলেছিলেন, তা বর্ণনা করলেন।

ইবন ইসহাক বলেন: কোন কোন লোকের ধারণা যায়দ পরবর্তীতে তওবা করেছিল। আবার কারও মতে সে মৃত্যু পর্যন্ত অপরাধী হিসাবে সন্দেহযুক্ত ছিল।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সামনে অগ্রসর হতে থাকলেন। এক এক একজন লোক তার থেকে পশ্চাদপদ হতে থাকতো, আর সাহাবায়ে কিরাম বলতেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! অমুকে পেছনে রয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলতেন: রাখ তাকে। তার মাঝে যদি কোন কল্যাণ থাকে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তোমাদের সাথে মিলিয়ে দিবেন। আর যদি এর বিপরীত হয়, তা হলে তো আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তার অনাচার হতে শান্তি দিলেন। এক পর্যায়ে বলা হলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আবূ যর তো পিছনে পড়ে গেছে। তার উটটি ধীর গতি সম্পন্ন। তিনি বললেন: রেখে দাও। তার মাঝে যদি ভাল কিছু থাকে, তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে শীঘ্রই তোমাদের সাথে মিলিয়ে দিবেন। আর এর বিপরীত হলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তো তার আপদ থেকে নিষ্কৃতি দিলেন। আবূ যার (রা) তার উটের পিঠে পিছনে পড়ে গেলেন। তার উট তাকে নিয়ে ধীর গতিতে চলছিল। শেষে তিনি মাল-পত্র নিজের পিঠে তুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পথের চিহ্ন অনুসরণ করে পায়ে হেঁটে অগ্রসর হলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) পথিমধ্যে আবার যখন যাত্রা বিরতি করলেন, তখন একজন মুসলিম তাকিয়ে দেখলেন একজন লোক আসছে। তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ওই লোকটি পথে একাকী হেঁটে আসছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আবু যরই যেন হয়। লোকেরা ভাল করে তাকালো। তারপর বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম, সে আবূ যর-ই। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আল্লাহ্ আবু যরকে রহম করুন। যে নিঃসঙ্গ চলে। নিঃসঙ্গ অবস্থায়ই তার মৃত্যু হবে এবং তার হাশরও হবে নিঃসঙ্গ অবস্থায়।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বুরায়দা ইব্‌ন সুফ্য়ান আসলামী (রা) মুহাম্মদ ইব্‌ন কা'ব কুরাজী (রা) হতে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাসউদ (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: উসমান (রা) যখন আবু যর (রা)-কে রাব্যায় পাঠিয়ে ছিলেন এবং সেখানে তার আয়ু ফুরিয়ে এল, তখন তাঁর নিকট তার স্ত্রী ও গোলাম ছাড়া কেউ ছিল না। তিনি তাদের দু'জনকে ওসীয়ত করলেন: তোমরা আমাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে রাস্তার মোড়ে রেখে দিও। প্রথম যে কাফেলার সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবে, তাদের বলবে, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবু যর। আপনারা তাঁর দাফনকার্যে আমাদের সাহায্য করুন। তাঁর ইন্তিকাল হয়ে গেলে তারা ওসীয়ত অনুযায়ী কাজ করলো। তারা তাঁকে রাস্তার মোড়ে রেখে ছিল। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাসউদ একদল ইরাকবাসীকে নিয়ে উমরার উদ্দেশ্যে আসছিলেন। রাস্তার মোড়ে জানাযার জন্য রাখা লাশ দেখে তারা শিউরে উঠলেন। তাদের উট লাশটি প্রায় পিষ্ট করতে যাচ্ছিল। আবূ যর (রা)-এর গোলাম তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে বললো, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবূ যর। আপনারা তার দাফনকার্যে আমাদের সাহায্য করুন। একথা শুনতেই আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাসউদ (রা) চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। তিনি তখন বলছিলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) সত্যই বলেছিলেন, আবু যর! তুমি নিঃসঙ্গ চলবে, নিঃসঙ্গ মারা যাবে এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় তোমার হাশর হবে। তখন তিনিও তাঁর সঙ্গীগণ দ্রুত সওয়ারী হতে নেমে গেলেন। এরপর ইব্‌ন মাসউদ (রা) তাদের নিকট তাবুকের পথে আবূ যর (রা)-এর যা ঘটেছিল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে যা বলেছিলেন, তা বর্ণনা করলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুনাফিকদের পক্ষ হতে মুসলিমদের মনে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা

📄 মুনাফিকদের পক্ষ হতে মুসলিমদের মনে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা


ইবন ইসহাক বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাবুকের পথে, তখন বনূ আমর ইব্‌ন আওফের লোক ওয়াদী'আ ইব্‌ন সাবিত ও বনূ সালিমা গোত্রের মিত্র বনূ আশজা গোত্রের মুখাশিন ইবন হুমায়্যির, ইবন হিশামের মতে মাশী ইবন হুমায়িয়র-এরা সহ একদন মুনাফিক তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করে পরস্পর বলতে থাকে, তোমরা কি মনে কর বনূ-আসফারের সাথে যুদ্ধ করা আরবদের পারস্পরিক হানাহানির মত? আল্লাহ্র কসম! আগামীকাল তোমাদের সাথে আমরা নির্ঘাত রশি দ্বারা বাঁধা থাকব। তারা এসব বলত মুসলিমদের মনে ত্রাস ও ভীতি সঞ্চার করার উদ্দেশ্যে। মুখাশিন ইবন হুমায়্যির বলল: আল্লাহর কসম! তোমাদের এসব উক্তির কারণে আমাদের সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাযিল হওয়া হতে যদি নিষ্কৃতি পেতাম এবং তার বদলে আমাদের প্রত্যেককে একশ'টি করে দোরা মারা হত, সেটাই আমার পসন্দ ছিল।
আমার মাঝে পৌঁছা বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)-কে বললেন: ওই লোকগুলোকে পাকড়াও কর। ওরা তো ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ওরা যেসব উক্তি করেছে সে সম্পর্কে ওদের জিজ্ঞাস কর। যদি অস্বীকার করে, তা হলে বলো, তোমরা তো এই কথা বলেছ।
তখন আম্মার (রা) তাদের কাছে চলে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) যা বলেছেন তা তাদের বললেন। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট অজুحات পেশ করার জন্য আসলো এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর উটনীর পাশে দণ্ডায়মান ছিলেন। ওয়াদী'আ ইবন সাবিত তার পেটে বাধা রশি ধরে বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। এ সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন : وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لِيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوْضُ وَنَلْعَبُ "আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম।"
তখন মুখাশিন ইবন হুমায়্যির বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমার নাম এবং আমার পিতার নাম পাল্টিয়ে দিন। উক্ত আয়াতে যাকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে। সে হলো এই মুখশিন ইবন হুমায়িয়র। তার নাম রাখা হয় আবদুর রহমান। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দু'আ করেন, যাতে এমন স্থানে শাহাদত লাভ করেন, যা কেউ জানতে না পারে। তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। তার কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি。

ইবন ইসহাক বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাবুকের পথে, তখন বনূ আমর ইব্‌ন আওফের লোক ওয়াদী'আ ইব্‌ন সাবিত ও বনূ সালিমা গোত্রের মিত্র বনূ আশজা গোত্রের মুখাশিন ইবন হুমায়্যির, ইবন হিশামের মতে মাশী ইবন হুমায়িয়র-এরা সহ একদন মুনাফিক তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করে পরস্পর বলতে থাকে, তোমরা কি মনে কর বনূ-আসফারের সাথে যুদ্ধ করা আরবদের পারস্পরিক হানাহানির মত? আল্লাহ্র কসম! আগামীকাল তোমাদের সাথে আমরা নির্ঘাত রশি দ্বারা বাঁধা থাকব। তারা এসব বলত মুসলিমদের মনে ত্রাস ও ভীতি সঞ্চার করার উদ্দেশ্যে। মুখাশিন ইবন হুমায়্যির বলল: আল্লাহর কসম! তোমাদের এসব উক্তির কারণে আমাদের সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাযিল হওয়া হতে যদি নিষ্কৃতি পেতাম এবং তার বদলে আমাদের প্রত্যেককে একশ'টি করে দোরা মারা হত, সেটাই আমার পসন্দ ছিল।
আমার মাঝে পৌঁছা বর্ণনামতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)-কে বললেন: ওই লোকগুলোকে পাকড়াও কর। ওরা তো ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ওরা যেসব উক্তি করেছে সে সম্পর্কে ওদের জিজ্ঞাস কর। যদি অস্বীকার করে, তা হলে বলো, তোমরা তো এই কথা বলেছ।
তখন আম্মার (রা) তাদের কাছে চলে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) যা বলেছেন তা তাদের বললেন। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট অজুহাত পেশ করার জন্য আসলো এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর উটনীর পাশে দণ্ডায়মান ছিলেন। ওয়াদী'আ ইবন সাবিত তার পেটে বাধা রশি ধরে বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। এ সম্পর্কেই আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন : وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لِيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوْضُ وَنَلْعَبُ "আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম।"
তখন মুখাশিন ইবন হুমায়্যির বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমার নাম এবং আমার পিতার নাম পাল্টিয়ে দিন। উক্ত আয়াতে যাকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে। সে হলো এই মুখশিন ইবন হুমায়িয়র। তার নাম রাখা হয় আবদুর রহমান। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দু'আ করেন, যাতে এমন স্থানে শাহাদত লাভ করেন, যা কেউ জানতে না পারে। তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। তার কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি。

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আয়লার অধিপতির সাথে সন্ধি

📄 আয়লার অধিপতির সাথে সন্ধি


রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাবুক পৌঁছলেন, তখন আয়লা-অধিপতি ইউহান্না ইব্‌ন রু'বা তাঁর সংগে সাক্ষাত করে সন্ধির প্রস্তাব দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে সন্ধি স্থাপন করলেন। ইউহান্না জিযিয়া-কর আদায় করলো। জারবা' ও আযরুহবাসীরাও তাঁর সংগে সাক্ষাত করল এবং তাঁকে জিযিয়া কর দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের জন্য নিরাপত্তানামা লিখে দিয়েছিলেন, যা তাদের কাছে রক্ষিত আছে।
তিনি ইউহান্না ইব্‌ন রু'বাকে যে নিরাপত্তানামা লিখে দিয়েছিলেন, তা ছিল নিম্নরূপ:
بسم الله الرحمن الرحيم هذه أمنة من الله ومحمد النبي رسول الله ليحنة بن رؤبة واهل ايلة سفنهم وسيارتهم في البر والبحر لهم ذمة الله وذمة محمد النبى ومن كان معهم من اهل الشام واهل اليمن واهل البحر فمن احدث منهم حدثا فانه لا يحول ماله دون نفسه وانه طيب لمن اخذه من الناس وانه لا يحل ان يمنعوا ماء يردونه ولا طريقا يريدونه من بر او بحر .
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটা আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূল, নবী মুহাম্মদের পক্ষ হতে ইউহান্না ইব্‌ন রু'বা ও আয়লাবাসীকে প্রদত্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। তাদের জল ও স্থলের জাহাজ ও যানবাহনের ব্যাপারে এ নিশ্চয়তা প্রযোজ্য। তাদের জন্য আল্লাহ্ ও নবী মুহাম্মদের যিম্মাদারী সাব্যস্ত হলো। শাম, ইয়ামান ও সমুদ্র-দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে থাকবে, তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে কেউ কোন অঘটন ঘটালে তার অর্থ-সম্পদ তাবে রক্ষা করতে পারবে না। যে ব্যক্তি তা দখলী করবে, তা তার জন্য হালাল হয়ে যাবে। তারা যে কোন পানি ব্যবহার করতে চাইবে এবং জল-স্থলের যে কোনও পথে যাতায়াত করবে, তাতে তাদেরকে বাধা প্রদান করার অবকাশ থাকবে না।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন তাবুক পৌঁছলেন, তখন আয়লা-অধিপতি ইউহান্না ইব্‌ন রু'বা তাঁর সংগে সাক্ষাত করে সন্ধির প্রস্তাব দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে সন্ধি স্থাপন করলেন। ইউহান্না জিযিয়া-কর আদায় করলো। জারবা' ও আযরুহবাসীরাও তাঁর সংগে সাক্ষাত করল এবং তাঁকে জিযিয়া কর দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের জন্য নিরাপত্তানামা লিখে দিয়েছিলেন, যা তাদের কাছে রক্ষিত আছে।
তিনি ইউহান্না ইব্‌ন রু'বাকে যে নিরাপত্তানামা লিখে দিয়েছিলেন, তা ছিল নিম্নরূপ:
بسم الله الرحمن الرحيم هذه أمنة من الله ومحمد النبي رسول الله ليحنة بن رؤبة واهل ايلة سفنهم وسيارتهم في البر والبحر لهم ذمة الله وذمة محمد النبى ومن كان معهم من اهل الشام واهل اليمن واهل البحر فمن احدث منهم حدثا فانه لا يحول ماله دون نفسه وانه طيب لمن اخذه من الناس وانه لا يحل ان يمنعوا ماء يردونه ولا طريقا يريدونه من بر او بحر .
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটা আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূল, নবী মুহাম্মদের পক্ষ হতে ইউহান্না ইব্‌ন রু'বা ও আয়লাবাসীকে প্রদত্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। তাদের জল ও স্থলের জাহাজ ও যানবাহনের ব্যাপারে এ নিশ্চয়তা প্রযোজ্য। তাদের জন্য আল্লাহ্ ও নবী মুহাম্মদের যিম্মাদারী সাব্যস্ত হলো। শাম, ইয়ামান ও সমুদ্র-দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে থাকবে, তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে কেউ কোন অঘটন ঘটালে তার অর্থ-সম্পদ তাবে রক্ষা করতে পারবে না। যে ব্যক্তি তা দখলী করবে, তা তার জন্য হালাল হয়ে যাবে। তারা যে কোন পানি ব্যবহার করতে চাইবে এবং জল-স্থলের যে কোনও পথে যাতায়াত করবে, তাতে তাদেরকে বাধা প্রদান করার অবকাশ থাকবে না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) এবং দু'মা-এর উকায়দির

📄 খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) এবং দু'মা-এর উকায়দির


এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে ডেকে দু'মা-এর উকায়দিরের বিরুদ্ধে পাঠালেন। এই উকায়দির ইবন আবদুল মালিক ছিল কানদার এক ব্যক্তি। সে ছিল কানদার রাজা এবং ধর্ম-বিশ্বাসে খ্রিস্টান।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ (রা)-কে বললেন: তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে রত অবস্থায় পাবে।
খালিদ (রা) রওনা হয়ে গেলেন। তিনি এক পরিষ্কার জ্যোৎস্না-স্নাত রাতে উকায়দিরের দুর্গের নিকট চোখে দেখার দূরত্বে উপনীত হলেন। উকায়দির তখন সস্ত্রীক প্রাসাদের ছাদে বসে প্রকৃতির অপরূপ শোভা উপভোগ করছিল। এমনি সময়ে একটি বুনো গরুকে দেখা গেল প্রাসাদের ফটকে শিং দিয়ে অনবরত গুঁতোচ্ছে। উকায়দিরের পত্নী তাকে বললো: এমন দৃশ্য আর কখনও দেখেছ? সে বললো: কসম আল্লাহ্ কখনও নয়। তার স্ত্রী বললো: ওটাকে কে ছেড়েছে? সে বললো: ওটা কারো ছাড়া নয়। এরপর সে ছাদ থেকে নেমে আসলো। তার নির্দেশে ঘোড়ায় জিন পরানো হলো এবং সে তাতে চেপে বসলো। তার পরিবারের কতিপয় লোকও তার সাথে অশ্বারোহণ করলো। তাদের মধ্যে তার ভাই হাসানও ছিল। তারা তার সাথে ছোট ছোট বর্শা হাতে বের হয়ে পড়লো। পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রেরিত অশ্বারোহীরা তাদের গতিরোধ করলো। তারা উকায়দিরকে পাকড়াও করলো এবং তার ভাইকে হত্যা করলো। উকায়দিরের গায়ে ছিল স্বর্ণ খচিত রেশমী জুব্বা। খালিদ তা খুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তিনি নিজে উকায়দিরকে নিয়ে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইবন উমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি উকায়দিরের জুববাটি দেখেছি, যখন সেটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে নিয়ে আসা হয়। মুসলিমগণ সেটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলেন এবং মুগ্ধ হচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এতেই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছ? আল্লাহ্র কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, জান্নাতে সা'দ ইব্‌ন মু'আযের রুমালও এর চাইতে উৎকৃষ্ট।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর খালিদ (রা) উকায়দিরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার প্রাণ ভিক্ষা দেন এবং জিযয়া আদায়ের শর্তে তার সাথে সন্ধি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেন এবং সে তার নিবাসে ফিরে যায়।
খালিদ (রা)-কে লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এই উক্তি যে, 'তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে পাবে', এর উল্লেখপূর্বক এবং যা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উক্তির সত্যতা প্রমাণের জন্য সে রাতে গরুটি এনেছিল। বুজায়র ইব্‌ন বুজারা নামক তাঈ গোত্রীয় এক ব্যক্তি নিম্নের কবিতাটি রচনা করেছিলেন।
تَبَارَكَ سَائِقُ الْبَقَرَاتِ اَنی * رَاَيْتُ اللهَ يَهْدِىْ كُلَّ هَادِىْ
فَمَنْ يَكُ حَائِدا عَنْ ذِىْ تَبُوْكَ * فَاَنَا قَدْ اَمَرَنَا بِالْجِهَادِ
গরুকে যিনি বের করে এনেছিলেন, বরকতময় তিনি। আমি তো দেখি আল্লাহ্ পথ দেখান সকল পথের দিশারীকে।
তাবুক-অভিযাত্রী হতে কেউ যদি চায় সরে যেতে— যাক না; আমরা তো আদিষ্ট হয়েছি জিহাদের জন্য।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) দশ দিনের মত তাবুকে অবস্থায় করেন। তিনি যেখানে থেকে আর সামনে অগ্রসর হলেন না, বরং মদীনায় ফিরে চললেন。

এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে ডেকে দু'মা-এর উকায়দিরের বিরুদ্ধে পাঠালেন। এই উকায়দির ইবন আবদুল মালিক ছিল কানদার এক ব্যক্তি। সে ছিল কানদার রাজা এবং ধর্ম-বিশ্বাসে খ্রিস্টান।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদ (রা)-কে বললেন: তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে রত অবস্থায় পাবে।
খালিদ (রা) রওনা হয়ে গেলেন। তিনি এক পরিষ্কার জ্যোৎস্না-স্নাত রাতে উকায়দিরের দুর্গের নিকট চোখে দেখার দূরত্বে উপনীত হলেন। উকায়দির তখন সস্ত্রীক প্রাসাদের ছাদে বসে প্রকৃতির অপরূপ শোভা উপভোগ করছিল। এমনি সময়ে একটি বুনো গরুকে দেখা গেল প্রাসাদের ফটকে শিং দিয়ে অনবরত গুঁতোচ্ছে। উকায়দিরের পত্নী তাকে বললো: এমন দৃশ্য আর কখনও দেখেছ? সে বললো: কসম আল্লাহ্ কখনও নয়। তার স্ত্রী বললো: ওটাকে কে ছেড়েছে? সে বললো: ওটা কারো ছাড়া নয়। এরপর সে ছাদ থেকে নেমে আসলো। তার নির্দেশে ঘোড়ায় জিন পরানো হলো এবং সে তাতে চেপে বসলো। তার পরিবারের কতিপয় লোকও তার সাথে অশ্বারোহণ করলো। তাদের মধ্যে তার ভাই হাসানও ছিল। তারা তার সাথে ছোট ছোট বর্শা হাতে বের হয়ে পড়লো। পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রেরিত অশ্বারোহীরা তাদের গতিরোধ করলো। তারা উকায়দিরকে পাকড়াও করলো এবং তার ভাইকে হত্যা করলো। উকায়দিরের গায়ে ছিল স্বর্ণ খচিত রেশমী জুব্বা। খালিদ তা খুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তিনি নিজে উকায়দিরকে নিয়ে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইবন উমর ইব্‌ন কাতাদা (রা) আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি উকায়দিরের জুববাটি দেখেছি, যখন সেটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে নিয়ে আসা হয়। মুসলিমগণ সেটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলেন এবং মুগ্ধ হচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এতেই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছ? আল্লাহ্র কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, জান্নাতে সা'দ ইব্‌ন মু'আযের রুমালও এর চাইতে উৎকৃষ্ট।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর খালিদ (রা) উকায়দিরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার প্রাণ ভিক্ষা দেন এবং জিযয়া আদায়ের শর্তে তার সাথে সন্ধি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেন এবং সে তার নিবাসে ফিরে যায়।
খালিদ (রা)-কে লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর এই উক্তি যে, 'তুমি তাকে বুনো গরু শিকারে পাবে', এর উল্লেখপূর্বক এবং যা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উক্তির সত্যতা প্রমাণের জন্য সে রাতে গরুটি এনেছিল। বুজায়র ইব্‌ন বুজারা নামক তাঈ গোত্রীয় এক ব্যক্তি নিম্নের কবিতাটি রচনা করেছিলেন।
تَبَارَكَ سَائِقُ الْبَقَرَاتِ اَنی * رَاَيْتُ اللهَ يَهْدِىْ كُلَّ هَادِىْ
فَمَنْ يَكُ حَائِدا عَنْ ذِىْ تَبُوْكَ * فَاَنَا قَدْ اَمَرَنَا بِالْجِهَادِ
গরুকে যিনি বের করে এনেছিলেন, বরকতময় তিনি। আমি তো দেখি আল্লাহ্ পথ দেখান সকল পথের দিশারীকে।
তাবুক-অভিযাত্রী হতে কেউ যদি চায় সরে যেতে— যাক না; আমরা তো আদিষ্ট হয়েছি জিহাদের জন্য।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) দশ দিনের মত তাবুকে অবস্থায় করেন। তিনি যেখানে থেকে আর সামনে অগ্রসর হলেন না, বরং মদীনায় ফিরে চললেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00