📄 আবূ খায়সামা ও উমায়র ইবন ওয়াহাব রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে মিলিত হন
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর আলী (রা) মদীনায় ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সফর চালিয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে যাওয়ার পর আবূ খায়সামাও প্রচণ্ড খরতাপের কারণে কয়েকদিনের জন্য পরিবারবর্গের মাঝে ফিরে আসলেন। তিনি এসে দেখলেন, তার দুই স্ত্রী তার একটি বাগানে দুইটি মাচান তৈরি করেছে। তারা পানি ছিটিয়ে নিজ নিজ মাচান ঠাণ্ডা করেছে এবং তার জন্য ঠাণ্ডা পানি ও খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছে। তিনি এসে মাচানের সামনে দাঁড়ালেন এবং দুই পত্নীর দিকে তাকালেন, তার জন্য তাদের ব্যবস্থাদি লক্ষ্য করলেন। তারপর বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তো রোদ, লু-হাওয়া ও তাপের ভেতর, আর আবু খায়সামা শীতল ছায়া, প্রস্তুত খাবার, সুন্দরী স্ত্রী এবং নিজ সম্পত্তির মাঝে অবস্থানরত। এটা কী রকমের ইনসাফ? এরপর বলে উঠলেন: আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কারও মাচানে প্রবেশ করব না। এখনই আবার বের হব এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে গিয়ে মিলব। তোমরা আমার পাথেয় প্রস্তুত করে দাও। তারপর তিনি উটের কাছে আসলেন, তার উপর হাওদা স্থাপন করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উদ্দেশে বের হয়ে পড়লেন। কিন্তু ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাবুকে পৌঁছে গেছেন। তিনি সেখানেই তাঁর সংগে মিলিত হলেন।
এদিকে পথিমধ্যে উমায়র ইবন ওয়াহাব জুহামীর সঙ্গে আবূ খায়সামার সাক্ষাত হয়ে যায়। তিনিও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়েছিলেন। তারা পরস্পরের সফর সঙ্গী হয়ে গেলেন। যখন তাবুকের কাছাকাছি পৌঁছলেন, তখন আবূ খায়সামা (রা) উমায়র ইবন ওয়াহাব (রা)-কে বললেন: আমার তো অপরাধ হয়ে গেছে। যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হই, ততক্ষণে তুমি আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। উমায়র (রা) তাই করলেন। তিনি তাবৃকে অবস্থানরত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছাকাছি যখন পৌঁছলেন, তখন লোকে বললো: ওই যে রাস্তায় এক আগন্তক আরোহীকে দেখা যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: মনে হয় সে আবূ খায়ছামা। তারা বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম, এ তো আবূ খায়সামাই।
আবূ খায়সামা উট বসিয়ে যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বললেন: হে আবু খায়সামা:! তুমি তো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলে।
আবূ খায়সামা পুরো ঘটনা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জানালেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করলেন এবং তার জন্য কল্যাণের দু'আ করলেন।
ইব্ন হিশাম বলেন: আবূ খায়সামা এ সম্পর্কে একটি কবিতাও রচনা করেছেন। তার আসল নাম মালিক ইব্ন কায়স।
আমি যখন মানুষকে দীনের ব্যাপারে কপটতা অবলম্বন করতে দেখলাম, তখন আমি অবলম্বন করলাম এমন নীতি, যা অধিকতর সৌজন্যমূলক ও আবিলতামুক্ত।
আমি আমার ডান হাত দ্বারা বায়'আত গ্রহণ করলাম মুহাম্মদ (সা)-এর নিকট। আমি করিনি কোন অপরাধ, করিনি কোন নিষিদ্ধ বস্তু আত্মসাৎ।
আমি সুন্দরী স্ত্রীকে রেখে আসি মাচানের ভেতর। রেখে আসি উৎকৃষ্ট ফলন্ত খর্জুরবৃক্ষ, যার ফল পেকে কালো বর্ণ ধারণ করছিল।
মুনাফিক ব্যক্তি যখন সন্দেহ পোষণ করে, তখন আমার হৃদয় দীনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, দীন যে দিকে চলে, আমার হৃদয়ও হয় সেই অভিমুখী।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর আলী (রা) মদীনায় ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সফর চালিয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে যাওয়ার পর আবূ খায়সামাও প্রচণ্ড খরতাপের কারণে কয়েকদিনের জন্য পরিবারবর্গের মাঝে ফিরে আসলেন। তিনি এসে দেখলেন, তার দুই স্ত্রী তার একটি বাগানে দুইটি মাচান তৈরি করেছে। তারা পানি ছিটিয়ে নিজ নিজ মাচান ঠাণ্ডা করেছে এবং তার জন্য ঠাণ্ডা পানি ও খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছে। তিনি এসে মাচানের সামনে দাঁড়ালেন এবং দুই পত্নীর দিকে তাকালেন, তার জন্য তাদের ব্যবস্থাদি লক্ষ্য করলেন। তারপর বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তো রোদ, লু-হাওয়া ও তাপের ভেতর, আর আবু খায়সামা শীতল ছায়া, প্রস্তুত খাবার, সুন্দরী স্ত্রী এবং নিজ সম্পত্তির মাঝে অবস্থানরত। এটা কী রকমের ইনসাফ? এরপর বলে উঠলেন: আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কারও মাচানে প্রবেশ করব না। এখনই আবার বের হব এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে গিয়ে মিলব। তোমরা আমার পাথেয় প্রস্তুত করে দাও। তারপর তিনি উটের কাছে আসলেন, তার উপর হাওদা স্থাপন করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উদ্দেশে বের হয়ে পড়লেন। কিন্তু ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাবুকে পৌঁছে গেছেন। তিনি সেখানেই তাঁর সংগে মিলিত হলেন।
এদিকে পথিমধ্যে উমায়র ইবন ওয়াহাব জুহামীর সঙ্গে আবূ খায়সামার সাক্ষাত হয়ে যায়। তিনিও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়েছিলেন। তারা পরস্পরের সফর সঙ্গী হয়ে গেলেন। যখন তাবুকের কাছাকাছি পৌঁছলেন, তখন আবূ খায়সামা (রা) উমায়র ইবন ওয়াহাব (রা)-কে বললেন: আমার তো অপরাধ হয়ে গেছে। যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হই, ততক্ষণে তুমি আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। উমায়র (রা) তাই করলেন। তিনি তাবৃকে অবস্থানরত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছাকাছি যখন পৌঁছলেন, তখন লোকে বললো: ওই যে রাস্তায় এক আগন্তক আরোহীকে দেখা যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: মনে হয় সে আবূ খায়ছামা। তারা বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম, এ তো আবূ খায়সামাই।
আবূ খায়সামা উট বসিয়ে যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বললেন: হে আবু খায়সামা:! তুমি তো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলে।
আবূ খায়সামা পুরো ঘটনা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জানালেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করলেন এবং তার জন্য কল্যাণের দু'আ করলেন।
ইব্ন হিশাম বলেন: আবূ খায়সামা এ সম্পর্কে একটি কবিতাও রচনা করেছেন। তার আসল নাম মালিক ইব্ন কায়স।
আমি যখন মানুষকে দীনের ব্যাপারে কপটতা অবলম্বন করতে দেখলাম, তখন আমি অবলম্বন করলাম এমন নীতি, যা অধিকতর সৌজন্যমূলক ও আবিলতামুক্ত।
আমি আমার ডান হাত দ্বারা বায়'আত গ্রহণ করলাম মুহাম্মদ (সা)-এর নিকট। আমি করিনি কোন অপরাধ, করিনি কোন নিষিদ্ধ বস্তু আত্মসাৎ।
আমি সুন্দরী স্ত্রীকে রেখে আসি মাচানের ভেতর। রেখে আসি উৎকৃষ্ট ফলন্ত খর্জুরবৃক্ষ, যার ফল পেকে কালো বর্ণ ধারণ করছিল।
মুনাফিক ব্যক্তি যখন সন্দেহ পোষণ করে, তখন আমার হৃদয় দীনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, দীন যে দিকে চলে, আমার হৃদয়ও হয় সেই অভিমুখী।
📄 হিজরে যা ঘটে
ইবন ইসহাক বলেন: হিজর অতিক্রমকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে যাত্রা বিরতি করেন। লোকেরা সেখানকার কুয়ার পানি পান করে। সন্ধ্যাকালে সেখান থেকে যাত্রা করার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এ কুয়ার পানি একটুও পান করবে না এবং এর পানি দ্বারা সালাত আদায়ের জন্য ওযূও করবে না। এর পানি দ্বারা আটার যে খামির তৈরি করেছ তা উটকে খাইয়ে দাও। নিজেরা তার থেকে মোটেই খাবে না। আর রাতে সঙ্গী ছাড়া কেউ একাকী বের হবে না। লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশ তামিল করলো, কেবল বনু সাইদার দুই ব্যক্তি ছাড়া। তাদের একজন প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য বের হয় আর অন্যজন বের হয় তার উটের সন্ধানে। যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হয়, সে শ্বাসরোধে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি উটের খোঁজে বের হয়, তাকে দমকা বায়ু উড়িয়ে নিয়ে তাঈ-এর দুই পাহাড়ের মাঝে আছঁড়ে ফেলে। তাদের এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জানানো হলে তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে সঙ্গী ছাড়া একাকী বের হতে নিষেধ করিনি? এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) শ্বাসরোধে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য দু'আ করলেন, ফলে সে রোগ মুক্ত হলো। আর যে ব্যক্তি তাঈ-এর পর্বতদ্বয়ের মাঝে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল, তাঈ গোত্রের লোকেরা তাকে মদীনায় পৌঁছে দেয়, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় ফিরে আসেন।
উপর্যুক্ত ব্যক্তিদ্বয় সম্পর্কিত হাদীস আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু বকর (র)-এর সূত্রে আব্বাস ইব্ন সাহল ইবন সা'দ সাইদী হতে বর্ণিত।
আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর (র) বর্ণনা করেন যে, আব্বাস তার নিকট লোক দু'টির নামও উল্লেখ করেন কিন্তু সেই সাথে তা তাকে আমানত হিসাবে গোপন রাখতেও নির্দেশ দেন, যে কারণে আবদুল্লাহ্ আমার নিকট তাদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন।
ইবন হিশাম বলেন: আমার নিকট যুহরী (র)-এর সূত্রে এ খবর পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন হিজর অতিক্রম করেন, তখন কাপড় দিয়ে নিজের চেহারা ঢেকে নেন এবং সওয়ারীকে দ্রুত হাঁকাতে থাকেন। এরপর তিনি বলেন তোমরা অত্যাচারী সম্প্রদায়ের জনপদে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ করো না। তারা যে শাস্তিতে আক্রান্ত হয়েছিল, সে শান্তি তোমাদের উপরও আপতিত হতে পারে -এ ভয় মনে জাগরূক রাখবে।
ইবন ইসহাক বলেন: সকাল বেলা যখন দেখা গেল কারও কাছে পানি নেই, তখন তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে সে কথা জানালেন। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু'আ করলেন। ফলে আল্লাহ্ তা'আলা এক খণ্ড মেঘ পাঠালেন। তা থেকে বৃষ্টি হলো। তারা সে পানি দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ করলেন এবং প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণও করলেন。
ইবন ইসহাক বলেন: হিজর অতিক্রমকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে যাত্রা বিরতি করেন। লোকেরা সেখানকার কুয়ার পানি পান করে। সন্ধ্যাকালে সেখান থেকে যাত্রা করার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এ কুয়ার পানি একটুও পান করবে না এবং এর পানি দ্বারা সালাত আদায়ের জন্য ওযূও করবে না। এর পানি দ্বারা আটার যে খামির তৈরি করেছ তা উটকে খাইয়ে দাও। নিজেরা তার থেকে মোটেই খাবে না। আর রাতে সঙ্গী ছাড়া কেউ একাকী বের হবে না। লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশ তামিল করলো, কেবল বনু সাইদার দুই ব্যক্তি ছাড়া। তাদের একজন প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য বের হয় আর অন্যজন বের হয় তার উটের সন্ধানে। যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হয়, সে শ্বাসরোধে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি উটের খোঁজে বের হয়, তাকে দমকা বায়ু উড়িয়ে নিয়ে তাঈ-এর দুই পাহাড়ের মাঝে আছঁড়ে ফেলে। তাদের এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জানানো হলে তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে সঙ্গী ছাড়া একাকী বের হতে নিষেধ করিনি? এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) শ্বাসরোধে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য দু'আ করলেন, ফলে সে রোগ মুক্ত হলো। আর যে ব্যক্তি তাঈ-এর পর্বতদ্বয়ের মাঝে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল, তাঈ গোত্রের লোকেরা তাকে মদীনায় পৌঁছে দেয়, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় ফিরে আসেন।
উপর্যুক্ত ব্যক্তিদ্বয় সম্পর্কিত হাদীস আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু বকর (র)-এর সূত্রে আব্বাস ইব্ন সাহল ইবন সা'দ সাইদী হতে বর্ণিত।
আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর (র) বর্ণনা করেন যে, আব্বাস তার নিকট লোক দু'টির নামও উল্লেখ করেন কিন্তু সেই সাথে তা তাকে আমানত হিসাবে গোপন রাখতেও নির্দেশ দেন, যে কারণে আবদুল্লাহ্ আমার নিকট তাদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন।
ইবন হিশাম বলেন: আমার নিকট যুহরী (র)-এর সূত্রে এ খবর পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন হিজর অতিক্রম করেন, তখন কাপড় দিয়ে নিজের চেহারা ঢেকে নেন এবং সওয়ারীকে দ্রুত হাঁকাতে থাকেন। এরপর তিনি বলেন তোমরা অত্যাচারী সম্প্রদায়ের জনপদে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ করো না। তারা যে শাস্তিতে আক্রান্ত হয়েছিল, সে শান্তি তোমাদের উপরও আপতিত হতে পারে -এ ভয় মনে জাগরূক রাখবে।
ইবন ইসহাক বলেন: সকাল বেলা যখন দেখা গেল কারও কাছে পানি নেই, তখন তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে সে কথা জানালেন। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু'আ করলেন। ফলে আল্লাহ্ তা'আলা এক খণ্ড মেঘ পাঠালেন। তা থেকে বৃষ্টি হলো। তারা সে পানি দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ করলেন এবং প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণও করলেন。
📄 ইন্ন লুসায়তের উক্তি
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা (র) মাহমূদ ইব্ন লাবীদ (র) হতে এবং তিনি বনূ আবদুল আশহালের কতিপয় লোক হতে বর্ণনা করেন; আসিম বলেন: আমি মাহমুদকে জিজ্ঞাসা করলাম: তখন কি লোকেরা মুনাফিকদের নিফাক (কপটতা) সম্পর্কে ওয়াকিফহাল ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আল্লাহ্র কসম! এক একজন তার ভাই, পিতা, চাচা এবং খান্দানের লোকদের মাঝে নিফাক উপলব্ধি করতো। এরপর একে অন্যকে বিভ্রমের মাঝে ফেলে দিত।
মাহমূদ বলেন: আমার গোত্রের কতিপয় লোক এমন একজন মুনাফিকের সূত্রে আমাকে জানিয়ে দেন যার নিফাক সুবিদিত ছিল- যে, সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে সাথে থাকতো। তিনি যেখানে যেতেন সেও সেখানে যেত। যখন হিজরের উপরোক্ত ঘটনা ঘটলো এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) দু'আ করলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা একখণ্ড মেঘ পাঠালেন, তা থেকে বৃষ্টি হল এবং মানুষ তাদের পানির চাহিদা মেটাল। এসময় আমরা সে লোকটির কাছে গিয়ে তাতে ধিক্কার দিয়ে বললাম: ওহে, এরপরও কোন সন্দেহ থাকতে পারে? সে বললো: এ তো আকস্মিক ব্যাপার, মেঘ উড়ে যাচ্ছিল, তা থেকে বৃষ্টি হলো।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) চলতে থাকলেন। পথিমধ্যে তার উটনীটি হারিয়ে গেল। সাহাবিগণ তার খোঁজে বের হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে তাঁর একজন সাহাবী উপস্থিত ছিলেন, যার নাম ছিল উমারা ইব্ন হাযম। তিনি আকাবার বায়'আতে ও বদরযুদ্ধে শরীক ছিলেন এবং তিনি ছিলেন আমর ইব্ন হাযমের পুত্রদের চাচা। তার তাঁবুতে যায়দ ইব্ন লুসায়ত কায়নুকায়ী নামক একজন মুনাফিক ছিল।
ইবন হিশাম বলেন: এক বর্ণনা মতে তার পিতার নাম ছিল লুসায়ব।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা (র) মাহমূদ ইব্ন লাবীদ (রা) হতে এবং তিনি বনূ আবদুল আশহালের কতিপয় লোক হতে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেন: যায়দ ইব্ন লুসায়ত তো ছিল উমারার তাবুতে, আর উমারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে। এমতাবস্থায় যায়দ ইব্ন লুসায়ত বললো: মুহাম্মদ না দাবী করে সে আল্লাহ্ নবী এবং সে না আকাশ হতে আসা সংবাদ তোমাদের শোনায়? অথচ দেখ তার উটনী কোথায় তাই সে জানে না। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর পাশে উপবিষ্ট উমারাকে বললেন, একটি লোক বলে: এই মুহাম্মদ লোকটি তোমাদের বলে, সে নাকি একজন নবী এবং তার দাবী মতে সে তোমাদেরকে আকাশের খবর শোনায়, অথচ জানে না তার উটনী কোথায় আছে। আল্লাহর কসম! আমি তো আল্লাহ্ আমাকে যা জানান তার বেশি কিছুই জানি না। এই মাত্র আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে উটনীটির সংবাদ জানিয়ে দিয়েছেন। সেটি এই উপত্যকার অমুক গিরিপথে আছে। একটি গাছে তার লাগাম আটকে গেছে। তোমরা যাও। সেটি নিয়ে এসো। তখনই তারা চলে গেলেন এবং উটনীটি নিয়ে আসলেন।
এ অবস্থা দেখার পর উমারা তার তাঁবুতে ফিরে আসলেন এবং বললেন: আল্লাহ্র কসম! এই মাত্র রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের নিকট একটি আশ্চর্য ব্যাপার বর্ণনা করলেন। এক ব্যক্তির এই উক্তি আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জানিয়ে দিলেন এবং তিনি তা আমাদের নিকট বর্ণনা করলেন। উমারা (রা) যায়দ ইব্ন সুলায়তের উক্তির কথাই বললেন। উমারার তাঁবুর এক ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত ছিল না, সে বললো: আল্লাহ্র কসম! তুমি আসার আগে যায়দই এ উক্তি করেছে।
তখন উমারা অগ্রসর হয়ে যায়দের ঘাড়ে ধাক্কা দিলেন এবং বললেন: আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা আমার দিকে মন দাও। আমার তাঁবুতে এই আপদ এসে জুটেছে। আমি এর সম্পর্কে জানতাম না। ওহে আল্লাহর দুশমন! আমার তাঁবু থেকে তুই বের হয়ে যা। আমার সঙ্গে তুই থাকতে পারবি না。
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা (র) মাহমূদ ইব্ন লাবীদ (র) হতে এবং তিনি বনূ আবদুল আশহালের কতিপয় লোক হতে বর্ণনা করেন; আসিম বলেন: আমি মাহমুদকে জিজ্ঞাসা করলাম: তখন কি লোকেরা মুনাফিকদের নিফাক (কপটতা) সম্পর্কে ওয়াকিফহাল ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আল্লাহ্র কসম! এক একজন তার ভাই, পিতা, চাচা এবং খান্দানের লোকদের মাঝে নিফাক উপলব্ধি করতো। এরপর একে অন্যকে বিভ্রমের মাঝে ফেলে দিত।
মাহমূদ বলেন: আমার গোত্রের কতিপয় লোক এমন একজন মুনাফিকের সূত্রে আমাকে জানিয়ে দেন যার নিফাক সুবিদিত ছিল- যে, সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে সাথে থাকতো। তিনি যেখানে যেতেন সেও সেখানে যেত। যখন হিজরের উপরোক্ত ঘটনা ঘটলো এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) দু'আ করলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা একখণ্ড মেঘ পাঠালেন, তা থেকে বৃষ্টি হল এবং মানুষ তাদের পানির চাহিদা মেটাল। এসময় আমরা সে লোকটির কাছে গিয়ে তাতে ধিক্কার দিয়ে বললাম: ওহে, এরপরও কোন সন্দেহ থাকতে পারে? সে বললো: এ তো আকস্মিক ব্যাপার, মেঘ উড়ে যাচ্ছিল, তা থেকে বৃষ্টি হলো।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) চলতে থাকলেন। পথিমধ্যে তার উটনীটি হারিয়ে গেল। সাহাবিগণ তার খোঁজে বের হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে তাঁর একজন সাহাবী উপস্থিত ছিলেন, যার নাম ছিল উমারা ইব্ন হাযম। তিনি আকাবার বায়'আতে ও বদরযুদ্ধে শরীক ছিলেন এবং তিনি ছিলেন আমর ইব্ন হাযমের পুত্রদের চাচা। তার তাঁবুতে যায়দ ইব্ন লুসায়ত কায়নুকায়ী নামক একজন মুনাফিক ছিল।
ইবন হিশাম বলেন: এক বর্ণনা মতে তার পিতার নাম ছিল লুসায়ব।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আসিম ইব্ন উমর ইব্ন কাতাদা (র) মাহমূদ ইব্ন লাবীদ (রা) হতে এবং তিনি বনূ আবদুল আশহালের কতিপয় লোক হতে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেন: যায়দ ইব্ন লুসায়ত তো ছিল উমারার তাবুতে, আর উমারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে। এমতাবস্থায় যায়দ ইব্ন লুসায়ত বললো: মুহাম্মদ না দাবী করে সে আল্লাহ্ নবী এবং সে না আকাশ হতে আসা সংবাদ তোমাদের শোনায়? অথচ দেখ তার উটনী কোথায় তাই সে জানে না। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর পাশে উপবিষ্ট উমারাকে বললেন, একটি লোক বলে: এই মুহাম্মদ লোকটি তোমাদের বলে, সে নাকি একজন নবী এবং তার দাবী মতে সে তোমাদেরকে আকাশের খবর শোনায়, অথচ জানে না তার উটনী কোথায় আছে। আল্লাহর কসম! আমি তো আল্লাহ্ আমাকে যা জানান তার বেশি কিছুই জানি না। এই মাত্র আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে উটনীটির সংবাদ জানিয়ে দিয়েছেন। সেটি এই উপত্যকার অমুক গিরিপথে আছে। একটি গাছে তার লাগাম আটকে গেছে। তোমরা যাও। সেটি নিয়ে এসো। তখনই তারা চলে গেলেন এবং উটনীটি নিয়ে আসলেন।
এ অবস্থা দেখার পর উমারা তার তাঁবুতে ফিরে আসলেন এবং বললেন: আল্লাহ্র কসম! এই মাত্র রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের নিকট একটি আশ্চর্য ব্যাপার বর্ণনা করলেন। এক ব্যক্তির এই উক্তি আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জানিয়ে দিলেন এবং তিনি তা আমাদের নিকট বর্ণনা করলেন। উমারা (রা) যায়দ ইব্ন সুলায়তের উক্তির কথাই বললেন। উমারার তাঁবুর এক ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত ছিল না, সে বললো: আল্লাহ্র কসম! তুমি আসার আগে যায়দই এ উক্তি করেছে।
তখন উমারা অগ্রসর হয়ে যায়দের ঘাড়ে ধাক্কা দিলেন এবং বললেন: আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা আমার দিকে মন দাও। আমার তাঁবুতে এই আপদ এসে জুটেছে। আমি এর সম্পর্কে জানতাম না। ওহে আল্লাহর দুশমন! আমার তাঁবু থেকে তুই বের হয়ে যা। আমার সঙ্গে তুই থাকতে পারবি না。
📄 আবূ যর (রা)-এর বৃত্তান্ত
ইবন ইসহাক বলেন: কোন কোন লোকের ধারণা যায়দ পরবর্তীতে তওবা করেছিল। আবার কারও মতে সে মৃত্যু পর্যন্ত অপরাধী হিসাবে সন্দেহযুক্ত ছিল।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সামনে অগ্রসর হতে থাকলেন। এক এক একজন লোক তার থেকে পশ্চাদপদ হতে থাকতো, আর সাহাবায়ে কিরাম বলতেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! অমুকে পেছনে রয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলতেন: রাখ তাকে। তার মাঝে যদি কোন কল্যাণ থাকে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তোমাদের সাথে মিলিয়ে দিবেন। আর যদি এর বিপরীত হয়, তা হলে তো আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তার অনাচার হতে শান্তি দিলেন। এক পর্যায়ে বলা হলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আবূ যর তো পিছনে পড়ে গেছে। তার উটটি ধীর গতি সম্পন্ন। তিনি বললেন: রেখে দাও। তার মাঝে যদি ভাল কিছু থাকে, তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে শীঘ্রই তোমাদের সাথে মিলিয়ে দিবেন। আর এর বিপরীত হলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তো তার আপد থেকে নিষ্কৃতি দিলেন। আবূ যার (রা) তার উটের পিঠে পিছনে পড়ে গেলেন। তার উট তাকে নিয়ে ধীর গতিতে চলছিল। শেষে তিনি মাল-পত্র নিজের পিঠে তুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পথের চিহ্ন অনুসরণ করে পায়ে হেঁটে অগ্রসর হলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) পথিমধ্যে আবার যখন যাত্রা বিরতি করলেন, তখন একজন মুসলিম তাকিয়ে দেখলেন একজন লোক আসছে। তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ওই লোকটি পথে একাকী হেঁটে আসছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আবু যরই যেন হয়। লোকেরা ভাল করে তাকালো। তারপর বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম, সে আবূ যর-ই। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আল্লাহ্ আবু যরকে রহম করুন। যে নিঃসঙ্গ চলে। নিঃসঙ্গ অবস্থায়ই তার মৃত্যু হবে এবং তার হাশরও হবে নিঃসঙ্গ অবস্থায়।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বুরায়দা ইব্ন সুফ্য়ান আসলামী (রা) মুহাম্মদ ইব্ন কা'ব কুরাজী (রা) হতে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসউদ (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: উসমান (রা) যখন আবু যর (রা)-কে রাব্যায় পাঠিয়ে ছিলেন এবং সেখানে তার আয়ু ফুরিয়ে এল, তখন তাঁর নিকট তার স্ত্রী ও গোলাম ছাড়া কেউ ছিল না। তিনি তাদের দু'জনকে ওসীয়ত করলেন: তোমরা আমাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে রাস্তার মোড়ে রেখে দিও। প্রথম যে কাফেলার সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবে, তাদের বলবে, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবু যর। আপনারা তাঁর দাফনকার্যে আমাদের সাহায্য করুন। তাঁর ইন্তিকাল হয়ে গেলে তারা ওসীয়ত অনুযায়ী কাজ করলো। তারা তাঁকে রাস্তার মোড়ে রেখে ছিল। আবদুল্লাহ্ ইব্ন מסעוד একদল ইরাকবাসীকে নিয়ে উমরার উদ্দেশ্যে আসছিলেন। রাস্তার মোড়ে জানাযার জন্য রাখা লাশ দেখে তারা শিউরে উঠলেন। তাদের উট লাশটি প্রায় পিষ্ট করতে যাচ্ছিল। আবূ যর (রা)-এর গোলাম তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে বললো, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবূ যর। আপনারা তার দাফনকার্যে আমাদের সাহায্য করুন। একথা শুনতেই আবদুল্লাহ্ ইব্ন מסעוד (রা) চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। তিনি তখন বলছিলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) সত্যই বলেছিলেন, আবু যর! তুমি নিঃসঙ্গ চলবে, নিঃসঙ্গ মারা যাবে এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় তোমার হাশর হবে। তখন তিনিও তাঁর সঙ্গীগণ দ্রুত সওয়ারী হতে নেমে গেলেন। এরপর ইব্ন מסעוד (রা) তাদের নিকট তাবুকের পথে আবূ যর (রা)-এর যা ঘটেছিল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে যা বলেছিলেন, তা বর্ণনা করলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: কোন কোন লোকের ধারণা যায়দ পরবর্তীতে তওবা করেছিল। আবার কারও মতে সে মৃত্যু পর্যন্ত অপরাধী হিসাবে সন্দেহযুক্ত ছিল।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সামনে অগ্রসর হতে থাকলেন। এক এক একজন লোক তার থেকে পশ্চাদপদ হতে থাকতো, আর সাহাবায়ে কিরাম বলতেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! অমুকে পেছনে রয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলতেন: রাখ তাকে। তার মাঝে যদি কোন কল্যাণ থাকে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তোমাদের সাথে মিলিয়ে দিবেন। আর যদি এর বিপরীত হয়, তা হলে তো আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তার অনাচার হতে শান্তি দিলেন। এক পর্যায়ে বলা হলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আবূ যর তো পিছনে পড়ে গেছে। তার উটটি ধীর গতি সম্পন্ন। তিনি বললেন: রেখে দাও। তার মাঝে যদি ভাল কিছু থাকে, তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে শীঘ্রই তোমাদের সাথে মিলিয়ে দিবেন। আর এর বিপরীত হলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তো তার আপদ থেকে নিষ্কৃতি দিলেন। আবূ যার (রা) তার উটের পিঠে পিছনে পড়ে গেলেন। তার উট তাকে নিয়ে ধীর গতিতে চলছিল। শেষে তিনি মাল-পত্র নিজের পিঠে তুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পথের চিহ্ন অনুসরণ করে পায়ে হেঁটে অগ্রসর হলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) পথিমধ্যে আবার যখন যাত্রা বিরতি করলেন, তখন একজন মুসলিম তাকিয়ে দেখলেন একজন লোক আসছে। তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ওই লোকটি পথে একাকী হেঁটে আসছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আবু যরই যেন হয়। লোকেরা ভাল করে তাকালো। তারপর বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম, সে আবূ যর-ই। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আল্লাহ্ আবু যরকে রহম করুন। যে নিঃসঙ্গ চলে। নিঃসঙ্গ অবস্থায়ই তার মৃত্যু হবে এবং তার হাশরও হবে নিঃসঙ্গ অবস্থায়।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট বুরায়দা ইব্ন সুফ্য়ান আসলামী (রা) মুহাম্মদ ইব্ন কা'ব কুরাজী (রা) হতে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসউদ (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: উসমান (রা) যখন আবু যর (রা)-কে রাব্যায় পাঠিয়ে ছিলেন এবং সেখানে তার আয়ু ফুরিয়ে এল, তখন তাঁর নিকট তার স্ত্রী ও গোলাম ছাড়া কেউ ছিল না। তিনি তাদের দু'জনকে ওসীয়ত করলেন: তোমরা আমাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে রাস্তার মোড়ে রেখে দিও। প্রথম যে কাফেলার সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবে, তাদের বলবে, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবু যর। আপনারা তাঁর দাফনকার্যে আমাদের সাহায্য করুন। তাঁর ইন্তিকাল হয়ে গেলে তারা ওসীয়ত অনুযায়ী কাজ করলো। তারা তাঁকে রাস্তার মোড়ে রেখে ছিল। আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসউদ একদল ইরাকবাসীকে নিয়ে উমরার উদ্দেশ্যে আসছিলেন। রাস্তার মোড়ে জানাযার জন্য রাখা লাশ দেখে তারা শিউরে উঠলেন। তাদের উট লাশটি প্রায় পিষ্ট করতে যাচ্ছিল। আবূ যর (রা)-এর গোলাম তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে বললো, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবী আবূ যর। আপনারা তার দাফনকার্যে আমাদের সাহায্য করুন। একথা শুনতেই আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসউদ (রা) চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। তিনি তখন বলছিলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) সত্যই বলেছিলেন, আবু যর! তুমি নিঃসঙ্গ চলবে, নিঃসঙ্গ মারা যাবে এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় তোমার হাশর হবে। তখন তিনিও তাঁর সঙ্গীগণ দ্রুত সওয়ারী হতে নেমে গেলেন। এরপর ইব্ন মাসউদ (রা) তাদের নিকট তাবুকের পথে আবূ যর (রা)-এর যা ঘটেছিল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে যা বলেছিলেন, তা বর্ণনা করলেন।