📄 ক্রন্দনকারী, অজুহাত প্রদর্শনকারী ও পশ্চাদপদদের বৃত্তান্ত
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর কতিপয় ক্রন্দনরত মুসলিম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তারা ছিলেন সংখ্যায় সাতজন এবং আনসার সম্প্রদায় ও বনূ আমর ইব্ আওফের লোক। তাঁরা ছিলেন সালিম ইবন উমায়র (রা), বনু হারিসার উল্কার ইব্ন যায়দ (রা), বনু মাযিন ইব্ন নাজ্জারের আবূ লায়লা আবদুর রহমান ইব্ন কা'ব (রা), বনু সালিমার আমর ইব্ন জামূহ (রা), আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুগাফ্ফাল মুযানী (রা), কারও মতে তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন আমর মুযানী (রা), বনূ ওয়াকিফের হারামী ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) এবং বনূ ফাযারার ইরবায ইবন সারিয়া (রা)।
এঁরা ছিলেন অভাবগ্রস্ত। এঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট সওয়ারী প্রার্থনা করলেন। তিনি বললেন: তোমাদের জন্য কোন বাহন আমি পাচ্ছি না। সুতরাং তাঁরা অর্থ ব্যয়ে অসামর্থজনিত দুঃখে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ফিরে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইয়ামীন ইবন উমায়র ইবন কা'ব নাযরী আবূ লায়লা আবদুর রহমান ইব্ন কা'ব ও আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফ্ফালের সাথে সাক্ষাত করলেন। তখন তারা কাঁদছিলেন। তিনি তাদের বললেন তোমরা কাঁদছ কেন? তারা বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে বাহন চাইতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাঁর কাছে কোন বাহন পাইনি। আমাদের কাছেও এমন কিছু নাই, যদ্দ্বারা তার সঙ্গে যুদ্ধযাত্রার ব্যবস্থা করব। তিনি তাদেরকে নিজের একটি উট দিলেন এবং পথে খাওয়ার কিছু খেজুরও। তাঁরা তাতে সওয়ার হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে বের হয়ে পড়লেন।
ইবন ইসহাক বলেন: মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক অজুহাত পেশ করে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আসলো। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অজুহাত গ্রহণ করলেন না। আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, এরা ছিল বনূ গিফারের লোক।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন এবং সফর শুরু করে দিলেন। কিছু সংখ্যক মুসলিম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যাত্রার সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত তারা তাঁর সাথে বের হতেই পারেন নি, যদিও তাদের মনে কোনরূপ সংশয়-সন্দেহ ছিল না। তাঁরা হচ্ছেন- বনু সালিমার কা'ব ইবন মালিক ইব্ন আবূ কা'ব (রা), বনূ আযর ইব্ন আওফের মুরারা ইবন রাবী (রা), বনূ ওয়াকিফের হিলাল ইবন উমাইয়ার (রা) এবং বনূ সালিম ইব্ন আওফের আবূ খায়সামা (রা)। তাঁরা ছিলেন খাঁটি মুসলিম। তাদের ইসলামের ব্যাপারে কোনরূপ সন্দেহ করা হতো না।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে পড়লেন এবং ছানিয়াতুল বিদাতে ছাউনি ফেললেন।
ইবন হিশাম বলেন: তিনি মুহাম্মদ ইবন মাসলামা আনসারীকে মদীনার ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিযুক্ত করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর কতিপয় ক্রন্দনরত মুসলিম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তারা ছিলেন সংখ্যায় সাতজন এবং আনসার সম্প্রদায় ও বনূ আমর ইব্ আওফের লোক। তাঁরা ছিলেন সালিম ইবন উমায়র (রা), বনু হারিসার উল্কার ইব্ন যায়দ (রা), বনু মাযিন ইব্ন নাজ্জারের আবূ লায়লা আবদুর রহমান ইব্ন কা'ব (রা), বনু সালিমার আমর ইব্ন জামূহ (রা), আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুগাফ্ফাল মুযানী (রা), কারও মতে তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন আমর মুযানী (রা), বনূ ওয়াকিফের হারামী ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) এবং বনূ ফাযারার ইরবায ইবন সারিয়া (রা)।
এঁরা ছিলেন অভাবগ্রস্ত। এঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট সওয়ারী প্রার্থনা করলেন। তিনি বললেন: তোমাদের জন্য কোন বাহন আমি পাচ্ছি না। সুতরাং তাঁরা অর্থ ব্যয়ে অসামর্থজনিত দুঃখে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ফিরে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইয়ামীন ইবন উমায়র ইবন কা'ব নাযরী আবূ লায়লা আবদুর রহমান ইব্ন কা'ব ও আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফ্ফালের সাথে সাক্ষাত করলেন। তখন তারা কাঁদছিলেন। তিনি তাদের বললেন তোমরা কাঁদছ কেন? তারা বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে বাহন চাইতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাঁর কাছে কোন বাহন পাইনি। আমাদের কাছেও এমন কিছু নাই, যদ্দ্বারা তার সঙ্গে যুদ্ধযাত্রার ব্যবস্থা করব। তিনি তাদেরকে নিজের একটি উট দিলেন এবং পথে খাওয়ার কিছু খেজুরও। তাঁরা তাতে সওয়ার হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে বের হয়ে পড়লেন।
ইবন ইসহাক বলেন: মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক অজুহাত পেশ করে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আসলো। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অজুহাত গ্রহণ করলেন না। আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, এরা ছিল বনূ গিফারের লোক।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন এবং সফর শুরু করে দিলেন। কিছু সংখ্যক মুসলিম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যাত্রার সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত তারা তাঁর সাথে বের হতেই পারেন নি, যদিও তাদের মনে কোনরূপ সংশয়-সন্দেহ ছিল না। তাঁরা হচ্ছেন- বনু সালিমার কা'ব ইবন মালিক ইব্ন আবূ কা'ব (রা), বনূ আযর ইব্ন আওফের মুরারা ইবন রাবী (রা), বনূ ওয়াকিফের হিলাল ইবন উমাইয়ার (রা) এবং বনূ সালিম ইব্ন আওফের আবূ খায়সামা (রা)। তাঁরা ছিলেন খাঁটি মুসলিম। তাদের ইসলামের ব্যাপারে কোনরূপ সন্দেহ করা হতো না।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে পড়লেন এবং ছানিয়াতুল বিদাতে ছাউনি ফেললেন।
ইবন হিশাম বলেন: তিনি মুহাম্মদ ইবন মাসলামা আনসারীকে মদীনার ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিযুক্ত করেন।
📄 মুনাফিকরা আলী ইব্ন আবু তালিব (রা)-কে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালায়
আবদুল-আযীয ইব্ন মুহাম্মদ যারাওয়ারদী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তাবুকযাত্রার প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সিবা ইব্ন উরফুতাকে গভর্নর নিযুক্ত করে যান।
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়্য তার দলের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর শিবিরের সন্নিকট যিবাব নামক স্থানে আলাদা শিবির স্থাপন করে। বলা হয়ে থাকে, তার সৈন্যদলের সংখ্যা কম ছিল না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যাত্রা শুরু করলে আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্য মুনাফিক ও সন্দেহবাদীদের সাথে পেছনে থেকে যায়।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-কে তাঁর পরিবারবর্গের মাঝে ছেড়ে যান এবং তাঁকে তাদের মাঝে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। মুনাফিকরা তাঁর ব্যাপারে গুজব রটাতে লাগলো। তারা তাকে বললো: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বোঝা মনে করে থাকেন এবং সে বোঝা লাঘবের জন্যই তাকে মদীনায় ছেড়ে গেছেন। মুনাফিকদের এসব কথা শুনে তিনি অস্ত্র সজ্জিত হয়ে বের হয়ে পড়লেন এবং জুরফে¹ এসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে মিলিত হলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহ্র নবী! মুনাফিকদের ধারণা আপনি আমাকে বোঝা মনে করে থাকেন। তাই বোঝা লাঘবের জন্যই আমাকে রেখে যাচ্ছেন। তিনি বললেন: তারা মিথ্যা বলেছে। আমি বরং তোমাকে তাদের দেখাশোনার জন্য রেখে যাচ্ছি, যাদেরকে আমি মদীনায় রেখে গিয়েছি। কাজেই তুমি ফিরে যাও এবং আমার পরিবারবর্গ এবং তোমার নিজের পরিবারবর্গের তত্ত্বাবধান কর। হে আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, মূসার জন্য যেমন হারুন ছিলেন, তুমিও তেমনি আমার জন্য থাকবে? পার্থক্য এই যে, আমার পর আর কোন নবী নাই। সুতরাং আলী (রা) মদীনায় ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সামনে অগ্রসর হলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ইব্ন ইয়াযীদ ইন্ন রুকানা (র) ইবরাহীম ইবন সা'দ ইব্ন আবী ওয়াক্কাস (র) হতে এবং তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আলীর উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে উপর্যুক্ত কথা বলতে তিনি শুনেছেন।
টিকাঃ
১. মদীনা হতে তিন মাইল দূরে একটি স্থানের নাম।
আবদুল-আযীয ইব্ন মুহাম্মদ যারাওয়ারদী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তাবুকযাত্রার প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সিবা ইব্ন উরফুতাকে গভর্নর নিযুক্ত করে যান।
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়্য তার দলের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর শিবিরের সন্নিকট যিবাব নামক স্থানে আলাদা শিবির স্থাপন করে। বলা হয়ে থাকে, তার সৈন্যদলের সংখ্যা কম ছিল না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যাত্রা শুরু করলে আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্য মুনাফিক ও সন্দেহবাদীদের সাথে পেছনে থেকে যায়।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-কে তাঁর পরিবারবর্গের মাঝে ছেড়ে যান এবং তাঁকে তাদের মাঝে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। মুনাফিকরা তাঁর ব্যাপারে গুজব রটাতে লাগলো। তারা তাকে বললো: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বোঝা মনে করে থাকেন এবং সে বোঝা লাঘবের জন্যই তাকে মদীনায় ছেড়ে গেছেন। মুনাফিকদের এসব কথা শুনে তিনি অস্ত্র সজ্জিত হয়ে বের হয়ে পড়লেন এবং জুরফে¹ এসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে মিলিত হলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহ্র নবী! মুনাফিকদের ধারণা আপনি আমাকে বোঝা মনে করে থাকেন। তাই বোঝা লাঘবের জন্যই আমাকে রেখে যাচ্ছেন। তিনি বললেন: তারা মিথ্যা বলেছে। আমি বরং তোমাকে তাদের দেখাশোনার জন্য রেখে যাচ্ছি, যাদেরকে আমি মদীনায় রেখে গিয়েছি। কাজেই তুমি ফিরে যাও এবং আমার পরিবারবর্গ এবং তোমার নিজের পরিবারবর্গের তত্ত্বাবধান কর। হে আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, মূসার জন্য যেমন হারুন ছিলেন, তুমিও তেমনি আমার জন্য থাকবে? পার্থক্য এই যে, আমার পর আর কোন নবী নাই। সুতরাং আলী (রা) মদীনায় ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সামনে অগ্রসর হলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ইব্ন ইয়াযীদ ইন্ন রুকানা (র) ইবরাহীম ইবন সা'দ ইব্ন আবী ওয়াক্কাস (র) হতে এবং তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আলীর উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে উপর্যুক্ত কথা বলতে তিনি শুনেছেন।
টিকাঃ
১. মদীনা হতে তিন মাইল দূরে একটি স্থানের নাম।
📄 আবূ খায়সামা ও উমায়র ইবন ওয়াহাব রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে মিলিত হন
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর আলী (রা) মদীনায় ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সফর চালিয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে যাওয়ার পর আবূ খায়সামাও প্রচণ্ড খরতাপের কারণে কয়েকদিনের জন্য পরিবারবর্গের মাঝে ফিরে আসলেন। তিনি এসে দেখলেন, তার দুই স্ত্রী তার একটি বাগানে দুইটি মাচান তৈরি করেছে। তারা পানি ছিটিয়ে নিজ নিজ মাচান ঠাণ্ডা করেছে এবং তার জন্য ঠাণ্ডা পানি ও খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছে। তিনি এসে মাচানের সামনে দাঁড়ালেন এবং দুই পত্নীর দিকে তাকালেন, তার জন্য তাদের ব্যবস্থাদি লক্ষ্য করলেন। তারপর বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তো রোদ, লু-হাওয়া ও তাপের ভেতর, আর আবু খায়সামা শীতল ছায়া, প্রস্তুত খাবার, সুন্দরী স্ত্রী এবং নিজ সম্পত্তির মাঝে অবস্থানরত। এটা কী রকমের ইনসাফ? এরপর বলে উঠলেন: আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কারও মাচানে প্রবেশ করব না। এখনই আবার বের হব এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে গিয়ে মিলব। তোমরা আমার পাথেয় প্রস্তুত করে দাও। তারপর তিনি উটের কাছে আসলেন, তার উপর হাওদা স্থাপন করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উদ্দেশে বের হয়ে পড়লেন। কিন্তু ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাবুকে পৌঁছে গেছেন। তিনি সেখানেই তাঁর সংগে মিলিত হলেন।
এদিকে পথিমধ্যে উমায়র ইবন ওয়াহাব জুহামীর সঙ্গে আবূ খায়সামার সাক্ষাত হয়ে যায়। তিনিও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়েছিলেন। তারা পরস্পরের সফর সঙ্গী হয়ে গেলেন। যখন তাবুকের কাছাকাছি পৌঁছলেন, তখন আবূ খায়সামা (রা) উমায়র ইবন ওয়াহাব (রা)-কে বললেন: আমার তো অপরাধ হয়ে গেছে। যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হই, ততক্ষণে তুমি আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। উমায়র (রা) তাই করলেন। তিনি তাবৃকে অবস্থানরত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছাকাছি যখন পৌঁছলেন, তখন লোকে বললো: ওই যে রাস্তায় এক আগন্তক আরোহীকে দেখা যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: মনে হয় সে আবূ খায়ছামা। তারা বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম, এ তো আবূ খায়সামাই।
আবূ খায়সামা উট বসিয়ে যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বললেন: হে আবু খায়সামা:! তুমি তো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলে।
আবূ খায়সামা পুরো ঘটনা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জানালেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করলেন এবং তার জন্য কল্যাণের দু'আ করলেন।
ইব্ন হিশাম বলেন: আবূ খায়সামা এ সম্পর্কে একটি কবিতাও রচনা করেছেন। তার আসল নাম মালিক ইব্ন কায়স।
আমি যখন মানুষকে দীনের ব্যাপারে কপটতা অবলম্বন করতে দেখলাম, তখন আমি অবলম্বন করলাম এমন নীতি, যা অধিকতর সৌজন্যমূলক ও আবিলতামুক্ত।
আমি আমার ডান হাত দ্বারা বায়'আত গ্রহণ করলাম মুহাম্মদ (সা)-এর নিকট। আমি করিনি কোন অপরাধ, করিনি কোন নিষিদ্ধ বস্তু আত্মসাৎ।
আমি সুন্দরী স্ত্রীকে রেখে আসি মাচানের ভেতর। রেখে আসি উৎকৃষ্ট ফলন্ত খর্জুরবৃক্ষ, যার ফল পেকে কালো বর্ণ ধারণ করছিল।
মুনাফিক ব্যক্তি যখন সন্দেহ পোষণ করে, তখন আমার হৃদয় দীনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, দীন যে দিকে চলে, আমার হৃদয়ও হয় সেই অভিমুখী।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর আলী (রা) মদীনায় ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সফর চালিয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে যাওয়ার পর আবূ খায়সামাও প্রচণ্ড খরতাপের কারণে কয়েকদিনের জন্য পরিবারবর্গের মাঝে ফিরে আসলেন। তিনি এসে দেখলেন, তার দুই স্ত্রী তার একটি বাগানে দুইটি মাচান তৈরি করেছে। তারা পানি ছিটিয়ে নিজ নিজ মাচান ঠাণ্ডা করেছে এবং তার জন্য ঠাণ্ডা পানি ও খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছে। তিনি এসে মাচানের সামনে দাঁড়ালেন এবং দুই পত্নীর দিকে তাকালেন, তার জন্য তাদের ব্যবস্থাদি লক্ষ্য করলেন। তারপর বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তো রোদ, লু-হাওয়া ও তাপের ভেতর, আর আবু খায়সামা শীতল ছায়া, প্রস্তুত খাবার, সুন্দরী স্ত্রী এবং নিজ সম্পত্তির মাঝে অবস্থানরত। এটা কী রকমের ইনসাফ? এরপর বলে উঠলেন: আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কারও মাচানে প্রবেশ করব না। এখনই আবার বের হব এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে গিয়ে মিলব। তোমরা আমার পাথেয় প্রস্তুত করে দাও। তারপর তিনি উটের কাছে আসলেন, তার উপর হাওদা স্থাপন করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উদ্দেশে বের হয়ে পড়লেন। কিন্তু ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাবুকে পৌঁছে গেছেন। তিনি সেখানেই তাঁর সংগে মিলিত হলেন।
এদিকে পথিমধ্যে উমায়র ইবন ওয়াহাব জুহামীর সঙ্গে আবূ খায়সামার সাক্ষাত হয়ে যায়। তিনিও রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়েছিলেন। তারা পরস্পরের সফর সঙ্গী হয়ে গেলেন। যখন তাবুকের কাছাকাছি পৌঁছলেন, তখন আবূ খায়সামা (রা) উমায়র ইবন ওয়াহাব (রা)-কে বললেন: আমার তো অপরাধ হয়ে গেছে। যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হই, ততক্ষণে তুমি আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। উমায়র (রা) তাই করলেন। তিনি তাবৃকে অবস্থানরত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছাকাছি যখন পৌঁছলেন, তখন লোকে বললো: ওই যে রাস্তায় এক আগন্তক আরোহীকে দেখা যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: মনে হয় সে আবূ খায়ছামা। তারা বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম, এ তো আবূ খায়সামাই।
আবূ খায়সামা উট বসিয়ে যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বললেন: হে আবু খায়সামা:! তুমি তো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলে।
আবূ খায়সামা পুরো ঘটনা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জানালেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করলেন এবং তার জন্য কল্যাণের দু'আ করলেন।
ইব্ন হিশাম বলেন: আবূ খায়সামা এ সম্পর্কে একটি কবিতাও রচনা করেছেন। তার আসল নাম মালিক ইব্ন কায়স।
আমি যখন মানুষকে দীনের ব্যাপারে কপটতা অবলম্বন করতে দেখলাম, তখন আমি অবলম্বন করলাম এমন নীতি, যা অধিকতর সৌজন্যমূলক ও আবিলতামুক্ত।
আমি আমার ডান হাত দ্বারা বায়'আত গ্রহণ করলাম মুহাম্মদ (সা)-এর নিকট। আমি করিনি কোন অপরাধ, করিনি কোন নিষিদ্ধ বস্তু আত্মসাৎ।
আমি সুন্দরী স্ত্রীকে রেখে আসি মাচানের ভেতর। রেখে আসি উৎকৃষ্ট ফলন্ত খর্জুরবৃক্ষ, যার ফল পেকে কালো বর্ণ ধারণ করছিল।
মুনাফিক ব্যক্তি যখন সন্দেহ পোষণ করে, তখন আমার হৃদয় দীনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, দীন যে দিকে চলে, আমার হৃদয়ও হয় সেই অভিমুখী।
📄 হিজরে যা ঘটে
ইবন ইসহাক বলেন: হিজর অতিক্রমকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে যাত্রা বিরতি করেন। লোকেরা সেখানকার কুয়ার পানি পান করে। সন্ধ্যাকালে সেখান থেকে যাত্রা করার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এ কুয়ার পানি একটুও পান করবে না এবং এর পানি দ্বারা সালাত আদায়ের জন্য ওযূও করবে না। এর পানি দ্বারা আটার যে খামির তৈরি করেছ তা উটকে খাইয়ে দাও। নিজেরা তার থেকে মোটেই খাবে না। আর রাতে সঙ্গী ছাড়া কেউ একাকী বের হবে না। লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশ তামিল করলো, কেবল বনু সাইদার দুই ব্যক্তি ছাড়া। তাদের একজন প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য বের হয় আর অন্যজন বের হয় তার উটের সন্ধানে। যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হয়, সে শ্বাসরোধে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি উটের খোঁজে বের হয়, তাকে দমকা বায়ু উড়িয়ে নিয়ে তাঈ-এর দুই পাহাড়ের মাঝে আছঁড়ে ফেলে। তাদের এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জানানো হলে তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে সঙ্গী ছাড়া একাকী বের হতে নিষেধ করিনি? এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) শ্বাসরোধে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য দু'আ করলেন, ফলে সে রোগ মুক্ত হলো। আর যে ব্যক্তি তাঈ-এর পর্বতদ্বয়ের মাঝে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল, তাঈ গোত্রের লোকেরা তাকে মদীনায় পৌঁছে দেয়, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় ফিরে আসেন।
উপর্যুক্ত ব্যক্তিদ্বয় সম্পর্কিত হাদীস আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু বকর (র)-এর সূত্রে আব্বাস ইব্ন সাহল ইবন সা'দ সাইদী হতে বর্ণিত।
আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর (র) বর্ণনা করেন যে, আব্বাস তার নিকট লোক দু'টির নামও উল্লেখ করেন কিন্তু সেই সাথে তা তাকে আমানত হিসাবে গোপন রাখতেও নির্দেশ দেন, যে কারণে আবদুল্লাহ্ আমার নিকট তাদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন।
ইবন হিশাম বলেন: আমার নিকট যুহরী (র)-এর সূত্রে এ খবর পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন হিজর অতিক্রম করেন, তখন কাপড় দিয়ে নিজের চেহারা ঢেকে নেন এবং সওয়ারীকে দ্রুত হাঁকাতে থাকেন। এরপর তিনি বলেন তোমরা অত্যাচারী সম্প্রদায়ের জনপদে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ করো না। তারা যে শাস্তিতে আক্রান্ত হয়েছিল, সে শান্তি তোমাদের উপরও আপতিত হতে পারে -এ ভয় মনে জাগরূক রাখবে।
ইবন ইসহাক বলেন: সকাল বেলা যখন দেখা গেল কারও কাছে পানি নেই, তখন তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে সে কথা জানালেন। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু'আ করলেন। ফলে আল্লাহ্ তা'আলা এক খণ্ড মেঘ পাঠালেন। তা থেকে বৃষ্টি হলো। তারা সে পানি দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ করলেন এবং প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণও করলেন。
ইবন ইসহাক বলেন: হিজর অতিক্রমকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেখানে যাত্রা বিরতি করেন। লোকেরা সেখানকার কুয়ার পানি পান করে। সন্ধ্যাকালে সেখান থেকে যাত্রা করার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমরা এ কুয়ার পানি একটুও পান করবে না এবং এর পানি দ্বারা সালাত আদায়ের জন্য ওযূও করবে না। এর পানি দ্বারা আটার যে খামির তৈরি করেছ তা উটকে খাইয়ে দাও। নিজেরা তার থেকে মোটেই খাবে না। আর রাতে সঙ্গী ছাড়া কেউ একাকী বের হবে না। লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশ তামিল করলো, কেবল বনু সাইদার দুই ব্যক্তি ছাড়া। তাদের একজন প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য বের হয় আর অন্যজন বের হয় তার উটের সন্ধানে। যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হয়, সে শ্বাসরোধে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি উটের খোঁজে বের হয়, তাকে দমকা বায়ু উড়িয়ে নিয়ে তাঈ-এর দুই পাহাড়ের মাঝে আছঁড়ে ফেলে। তাদের এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জানানো হলে তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে সঙ্গী ছাড়া একাকী বের হতে নিষেধ করিনি? এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) শ্বাসরোধে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য দু'আ করলেন, ফলে সে রোগ মুক্ত হলো। আর যে ব্যক্তি তাঈ-এর পর্বতদ্বয়ের মাঝে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল, তাঈ গোত্রের লোকেরা তাকে মদীনায় পৌঁছে দেয়, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় ফিরে আসেন।
উপর্যুক্ত ব্যক্তিদ্বয় সম্পর্কিত হাদীস আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু বকর (র)-এর সূত্রে আব্বাস ইব্ন সাহল ইবন সা'দ সাইদী হতে বর্ণিত।
আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর (র) বর্ণনা করেন যে, আব্বাস তার নিকট লোক দু'টির নামও উল্লেখ করেন কিন্তু সেই সাথে তা তাকে আমানত হিসাবে গোপন রাখতেও নির্দেশ দেন, যে কারণে আবদুল্লাহ্ আমার নিকট তাদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন।
ইবন হিশাম বলেন: আমার নিকট যুহরী (র)-এর সূত্রে এ খবর পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন হিজর অতিক্রম করেন, তখন কাপড় দিয়ে নিজের চেহারা ঢেকে নেন এবং সওয়ারীকে দ্রুত হাঁকাতে থাকেন। এরপর তিনি বলেন তোমরা অত্যাচারী সম্প্রদায়ের জনপদে ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া প্রবেশ করো না। তারা যে শাস্তিতে আক্রান্ত হয়েছিল, সে শান্তি তোমাদের উপরও আপতিত হতে পারে -এ ভয় মনে জাগরূক রাখবে।
ইবন ইসহাক বলেন: সকাল বেলা যখন দেখা গেল কারও কাছে পানি নেই, তখন তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে সে কথা জানালেন। তিনি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু'আ করলেন। ফলে আল্লাহ্ তা'আলা এক খণ্ড মেঘ পাঠালেন। তা থেকে বৃষ্টি হলো। তারা সে পানি দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ করলেন এবং প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণও করলেন。