📄 মুনাফিকদের অবস্থা
একদল মুনাফিক বললো: তোমরা গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না। জিহাদের প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি, হক ও সত্যের ব্যাপারে সন্দেহ সঞ্চার এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে গুজব রটানোই ছিল তাদের অভিপ্রায়। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করেন:
وَقَالُوا لَا تَنْفِرُوا فِي الْحَرِّ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرَّاً لَوْ كَانُوا يَفْقَهُونَ - فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلًا وَلِيَبْكُوا كَثِيرًا جَزَاء بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ .
"তারা বলল, 'গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না'। বল, 'উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচণ্ডতম'। যদি তারা বুঝত। অতএব, তারা কিঞ্চিৎ হেসে নিক, তারা প্রচুর কাঁদবে, তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ" (৯: ৮১-৮২)।
ইবন হিশام বলেন, আমার নিকট নির্ভরযোগ্য রাবী বর্ণনা করেছেন এমন এক ব্যক্তি হতে, যিনি তার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ইব্ন আবদুর রহমান (র) হতে, তিনি ইসহাক ইব্ন ইবরাহীম ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিসা (র) হতে এবং তিনি তার পিতা হতে দাদার সূত্রে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, কিছু সংখ্যক মুনাফিক সুওয়ায়লিম ইয়াহূদীর বাড়িতে একত্র হয়ে থাকে। তার বাড়িটি ছিল জাসূমের নিকট। সেখানে বসে তারা তাবুকযুদ্ধের ব্যাপারে মানুষকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে যোগদান করা হতে বিরত রাখার ষড়যন্ত্র করছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের প্রতি তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা)-এর নেতৃত্বে একদল সাহাবী পাঠান এবং সুওয়ায়লিমের গৃহ জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তালহা (রা) সে নির্দেশ পালন করলেন। যাহ্হাক ইন্ন খলীফা গৃহের ছাদ হতে লাফিয়ে পড়ে। ফলে তার পা ভেঙে যায় তার সাথীরাও ছাদ থেকে লাফিয়ে নীচে পড়ে। কিন্তু তারা বেঁচে যায়। এ সম্পর্কে যাহ্হাক বলে:
كادت وبيت الله نار محمد * يشيط بها الضحاك وابن ابير
وظلت وقد طبقت كبس سويلم * انوء على رجلي كسيرا ومرفقى
سلام عليكم لا اعود لمثلها * اخاف ومن تشمل به النار يحرق
বায়তুল্লাহ্র কসম! মুহাম্মদের আগুনে যাহ্হাক ও ইবন উবায়রি পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাচ্ছিল প্রায়।
আমি সুওয়ায়লিমের ছোট ঘরের ছাদে চড়লাম এখন আমার অবস্থা এই যে, ভাঙা পা ও কনুইতে ভর করে চলি।
তোমাদের প্রতি সালাম আমি আর এর পুনরাবৃত্তি করব না। আমার আশংকা হয় এ আগুন যাকে স্পর্শ করবে, সে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
📄 বিত্তবানদেরকে অর্থ ব্যয়ে উৎসাহ প্রদান
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সফরের জন্য চেষ্টা চালাতে লাগলেন। লোকজনকেও প্রস্তুত হতে বললেন। বিত্তবানদের উৎসাহ দিলেন, তারা যেন আল্লাহ্র পথে অর্থ ব্যয় করে এবং বাহনের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসে। কতিপয় অর্থশালী ব্যক্তি সওয়াবের আশায় সওয়ারীর ব্যবস্থা করলো। উসমান ইব্ন আফফান (রা) এক্ষেত্রে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেন, যে পরিমাণ আর কেউ করেনি।
ইব্ন হিশام বলেন: আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উসমান ইব্ন আফফান (রা) তাবুকের সংকটকালীন সেনাবাহিনীর জন্য এক হাজার দীনার ব্যয় করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) খুশি হয়ে বলেছিলেন:
اللهم ارض عن عثمان فاني عنه راض
'হে আল্লাহ্! তুমি উসমানের প্রতি খুশী হও। আমি তো তার প্রতি খুশী'।
📄 ক্রন্দনকারী, অজুহাত প্রদর্শনকারী ও পশ্চাদপদদের বৃত্তান্ত
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর কতিপয় ক্রন্দনরত মুসলিম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তারা ছিলেন সংখ্যায় সাতজন এবং আনসার সম্প্রদায় ও বনূ আমর ইব্ আওফের লোক। তাঁরা ছিলেন সালিম ইবন উমায়র (রা), বনু হারিসার উল্কার ইব্ন যায়দ (রা), বনু মাযিন ইব্ন নাজ্জারের আবূ লায়লা আবদুর রহমান ইব্ন কা'ব (রা), বনু সালিমার আমর ইব্ন জামূহ (রা), আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুগাফ্ফাল মুযানী (রা), কারও মতে তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন আমর মুযানী (রা), বনূ ওয়াকিফের হারামী ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) এবং বনূ ফাযারার ইরবায ইবন সারিয়া (রা)।
এঁরা ছিলেন অভাবগ্রস্ত। এঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট সওয়ারী প্রার্থনা করলেন। তিনি বললেন: তোমাদের জন্য কোন বাহন আমি পাচ্ছি না। সুতরাং তাঁরা অর্থ ব্যয়ে অসামর্থজনিত দুঃখে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ফিরে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইয়ামীন ইবন উমায়র ইবন কা'ব নাযরী আবূ লায়লা আবদুর রহমান ইব্ন কা'ব ও আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফ্ফালের সাথে সাক্ষাত করলেন। তখন তারা কাঁদছিলেন। তিনি তাদের বললেন তোমরা কাঁদছ কেন? তারা বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে বাহন চাইতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাঁর কাছে কোন বাহন পাইনি। আমাদের কাছেও এমন কিছু নাই, যদ্দ্বারা তার সঙ্গে যুদ্ধযাত্রার ব্যবস্থা করব। তিনি তাদেরকে নিজের একটি উট দিলেন এবং পথে খাওয়ার কিছু খেজুরও। তাঁরা তাতে সওয়ার হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে বের হয়ে পড়লেন।
ইবন ইসহাক বলেন: মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক অজুহাত পেশ করে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আসলো। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অজুহাত গ্রহণ করলেন না। আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, এরা ছিল বনূ গিফারের লোক।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন এবং সফর শুরু করে দিলেন। কিছু সংখ্যক মুসলিম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যাত্রার সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত তারা তাঁর সাথে বের হতেই পারেন নি, যদিও তাদের মনে কোনরূপ সংশয়-সন্দেহ ছিল না। তাঁরা হচ্ছেন- বনু সালিমার কা'ব ইবন মালিক ইব্ন আবূ কা'ব (রা), বনূ আযর ইব্ন আওফের মুরারা ইবন রাবী (রা), বনূ ওয়াকিফের হিলাল ইবন উমাইয়ার (রা) এবং বনূ সালিম ইব্ন আওফের আবূ খায়সামা (রা)। তাঁরা ছিলেন খাঁটি মুসলিম। তাদের ইসলামের ব্যাপারে কোনরূপ সন্দেহ করা হতো না।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে পড়লেন এবং ছানিয়াতুল বিদাতে ছাউনি ফেললেন।
ইবন হিশাম বলেন: তিনি মুহাম্মদ ইবন মাসলামা আনসারীকে মদীনার ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিযুক্ত করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর কতিপয় ক্রন্দনরত মুসলিম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তারা ছিলেন সংখ্যায় সাতজন এবং আনসার সম্প্রদায় ও বনূ আমর ইব্ আওফের লোক। তাঁরা ছিলেন সালিম ইবন উমায়র (রা), বনু হারিসার উল্কার ইব্ন যায়দ (রা), বনু মাযিন ইব্ন নাজ্জারের আবূ লায়লা আবদুর রহমান ইব্ন কা'ব (রা), বনু সালিমার আমর ইব্ন জামূহ (রা), আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুগাফ্ফাল মুযানী (রা), কারও মতে তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন আমর মুযানী (রা), বনূ ওয়াকিফের হারামী ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) এবং বনূ ফাযারার ইরবায ইবন সারিয়া (রা)।
এঁরা ছিলেন অভাবগ্রস্ত। এঁরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট সওয়ারী প্রার্থনা করলেন। তিনি বললেন: তোমাদের জন্য কোন বাহন আমি পাচ্ছি না। সুতরাং তাঁরা অর্থ ব্যয়ে অসামর্থজনিত দুঃখে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ফিরে গেলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইয়ামীন ইবন উমায়র ইবন কা'ব নাযরী আবূ লায়লা আবদুর রহমান ইব্ন কা'ব ও আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফ্ফালের সাথে সাক্ষাত করলেন। তখন তারা কাঁদছিলেন। তিনি তাদের বললেন তোমরা কাঁদছ কেন? তারা বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে বাহন চাইতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাঁর কাছে কোন বাহন পাইনি। আমাদের কাছেও এমন কিছু নাই, যদ্দ্বারা তার সঙ্গে যুদ্ধযাত্রার ব্যবস্থা করব। তিনি তাদেরকে নিজের একটি উট দিলেন এবং পথে খাওয়ার কিছু খেজুরও। তাঁরা তাতে সওয়ার হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে বের হয়ে পড়লেন।
ইবন ইসহাক বলেন: মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক অজুহাত পেশ করে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আসলো। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অজুহাত গ্রহণ করলেন না। আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, এরা ছিল বনূ গিফারের লোক।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন এবং সফর শুরু করে দিলেন। কিছু সংখ্যক মুসলিম রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে যাত্রার সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত তারা তাঁর সাথে বের হতেই পারেন নি, যদিও তাদের মনে কোনরূপ সংশয়-সন্দেহ ছিল না। তাঁরা হচ্ছেন- বনু সালিমার কা'ব ইবন মালিক ইব্ন আবূ কা'ব (রা), বনূ আযর ইব্ন আওফের মুরারা ইবন রাবী (রা), বনূ ওয়াকিফের হিলাল ইবন উমাইয়ার (রা) এবং বনূ সালিম ইব্ন আওফের আবূ খায়সামা (রা)। তাঁরা ছিলেন খাঁটি মুসলিম। তাদের ইসলামের ব্যাপারে কোনরূপ সন্দেহ করা হতো না।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে পড়লেন এবং ছানিয়াতুল বিদাতে ছাউনি ফেললেন।
ইবন হিশাম বলেন: তিনি মুহাম্মদ ইবন মাসলামা আনসারীকে মদীনার ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিযুক্ত করেন।
📄 মুনাফিকরা আলী ইব্ন আবু তালিব (রা)-কে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালায়
আবদুল-আযীয ইব্ন মুহাম্মদ যারাওয়ারদী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তাবুকযাত্রার প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সিবা ইব্ন উরফুতাকে গভর্নর নিযুক্ত করে যান।
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়্য তার দলের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর শিবিরের সন্নিকট যিবাব নামক স্থানে আলাদা শিবির স্থাপন করে। বলা হয়ে থাকে, তার সৈন্যদলের সংখ্যা কম ছিল না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যাত্রা শুরু করলে আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্য মুনাফিক ও সন্দেহবাদীদের সাথে পেছনে থেকে যায়।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-কে তাঁর পরিবারবর্গের মাঝে ছেড়ে যান এবং তাঁকে তাদের মাঝে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। মুনাফিকরা তাঁর ব্যাপারে গুজব রটাতে লাগলো। তারা তাকে বললো: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বোঝা মনে করে থাকেন এবং সে বোঝা লাঘবের জন্যই তাকে মদীনায় ছেড়ে গেছেন। মুনাফিকদের এসব কথা শুনে তিনি অস্ত্র সজ্জিত হয়ে বের হয়ে পড়লেন এবং জুরফে¹ এসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে মিলিত হলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহ্র নবী! মুনাফিকদের ধারণা আপনি আমাকে বোঝা মনে করে থাকেন। তাই বোঝা লাঘবের জন্যই আমাকে রেখে যাচ্ছেন। তিনি বললেন: তারা মিথ্যা বলেছে। আমি বরং তোমাকে তাদের দেখাশোনার জন্য রেখে যাচ্ছি, যাদেরকে আমি মদীনায় রেখে গিয়েছি। কাজেই তুমি ফিরে যাও এবং আমার পরিবারবর্গ এবং তোমার নিজের পরিবারবর্গের তত্ত্বাবধান কর। হে আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, মূসার জন্য যেমন হারুন ছিলেন, তুমিও তেমনি আমার জন্য থাকবে? পার্থক্য এই যে, আমার পর আর কোন নবী নাই। সুতরাং আলী (রা) মদীনায় ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সামনে অগ্রসর হলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ইব্ন ইয়াযীদ ইন্ন রুকানা (র) ইবরাহীম ইবন সা'দ ইব্ন আবী ওয়াক্কাস (র) হতে এবং তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আলীর উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে উপর্যুক্ত কথা বলতে তিনি শুনেছেন।
টিকাঃ
১. মদীনা হতে তিন মাইল দূরে একটি স্থানের নাম।
আবদুল-আযীয ইব্ন মুহাম্মদ যারাওয়ারদী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তাবুকযাত্রার প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) সিবা ইব্ন উরফুতাকে গভর্নর নিযুক্ত করে যান।
ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়্য তার দলের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর শিবিরের সন্নিকট যিবাব নামক স্থানে আলাদা শিবির স্থাপন করে। বলা হয়ে থাকে, তার সৈন্যদলের সংখ্যা কম ছিল না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যাত্রা শুরু করলে আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্য মুনাফিক ও সন্দেহবাদীদের সাথে পেছনে থেকে যায়।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-কে তাঁর পরিবারবর্গের মাঝে ছেড়ে যান এবং তাঁকে তাদের মাঝে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। মুনাফিকরা তাঁর ব্যাপারে গুজব রটাতে লাগলো। তারা তাকে বললো: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বোঝা মনে করে থাকেন এবং সে বোঝা লাঘবের জন্যই তাকে মদীনায় ছেড়ে গেছেন। মুনাফিকদের এসব কথা শুনে তিনি অস্ত্র সজ্জিত হয়ে বের হয়ে পড়লেন এবং জুরফে¹ এসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে মিলিত হলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহ্র নবী! মুনাফিকদের ধারণা আপনি আমাকে বোঝা মনে করে থাকেন। তাই বোঝা লাঘবের জন্যই আমাকে রেখে যাচ্ছেন। তিনি বললেন: তারা মিথ্যা বলেছে। আমি বরং তোমাকে তাদের দেখাশোনার জন্য রেখে যাচ্ছি, যাদেরকে আমি মদীনায় রেখে গিয়েছি। কাজেই তুমি ফিরে যাও এবং আমার পরিবারবর্গ এবং তোমার নিজের পরিবারবর্গের তত্ত্বাবধান কর। হে আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, মূসার জন্য যেমন হারুন ছিলেন, তুমিও তেমনি আমার জন্য থাকবে? পার্থক্য এই যে, আমার পর আর কোন নবী নাই। সুতরাং আলী (রা) মদীনায় ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা) সামনে অগ্রসর হলেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্ন তালহা ইব্ন ইয়াযীদ ইন্ন রুকানা (র) ইবরাহীম ইবন সা'দ ইব্ন আবী ওয়াক্কাস (র) হতে এবং তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আলীর উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে উপর্যুক্ত কথা বলতে তিনি শুনেছেন।
টিকাঃ
১. মদীনা হতে তিন মাইল দূরে একটি স্থানের নাম।