📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 কা'ব ইব্‌ন যুহায়র ও তার কাসীদা

📄 কা'ব ইব্‌ন যুহায়র ও তার কাসীদা


ইবন ইসহাক বলেন: বুজায়রের পত্র পেয়ে কা'বের জন্য পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে উঠলো। নিজ প্রাণের ব্যাপারে তিনি আশংকাবোধ করলেন। তার আশেপাশের শত্রুরাও তা দেখে কেঁপে উঠলো। তারা বলতে লাগলো : এ তো নিহতই। উপায়ান্তর না দেখে তিনি তার সেই বিখ্যাত কবিতাটি রচনা করলেন, যার মাঝে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রশংসা করেছেন এবং প্রাণের আশংকা ও অপপ্রচারকারী শত্রুদের কেঁপে উঠার কথা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উদ্দেশে বের হয়ে পড়লেন এবং মদীনায় এসে হাযির হলেন। তিনি জুহায়না গোত্রের এক ব্যাক্তির বাড়িতে এসে উঠলেন। তাদের মাঝে পূর্ব পরিচয় ছিল, যেমন আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে। তার সেই বন্ধু তাকে নিয়ে ফজরের সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে সালাত আদায় করলেন। সালাত আদায়ের পর তিনি তাকে ইঙ্গিতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে দেখিয়ে দিলেন। বললেন : ওই যে রাসূলুল্লাহ্। তুমি তার কাছে যাও এবং নিরাপত্তা প্রার্থনা কর। আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, কা'ব উঠে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে গেলেন এবং তাঁর পাশে বসলেন। এরপর তাঁর হাতে হাত রাখলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে চিনতেন না। তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কা'ব তওবা করে ও ইসলাম গ্রহণ করে আপনার নিকট নিরাপত্তার আশার এসেছে। আমি তাকে নিয়ে আসলে আপনি কি তার প্রার্থনা মঞ্জুর করবেন? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমিই কা'ব ইব্‌ন যুহায়র।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার নিকট আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদা (রা) বর্ণনা করেছেন, তখন জনৈক আনসার ব্যক্তি লাফ দিয়ে উঠলো এবং বললো : ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি অনুমতি প্রদান করুন, আমি আল্লাহর এ দুশমনের গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : তুমি তার থেকে নিবৃত্ত হও। কারণ সে পূর্ব অবস্থান পরিত্যাগ করে তওবা করে এসেছে। বর্ণিত আছে, আনসারদের এই ব্যক্তির আচরণে কা'ব গোটা আনসার সম্প্রদায়ের উপর অসন্তুষ্ট হন। কেননা মুহাজিরদের মধ্যে কেউ তার সম্পর্কে কোনরূপ অপ্রিয় উক্তি করেন নি।
রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে কা'ব তাঁর বিখ্যাত এ কবিতায় বলেন:
সু'আদ আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আজ বিরহ বেদনায় আমার অন্তর পীড়িত, লাঞ্ছিত, তার প্রেম-নিগড়ে বন্দী, যা হতে সে মুক্তি পায়নি।
বিদায়ের দিন সু’আদের পরিবারবর্গ তাকে নিয়ে যখন চলে যায়, তখন তাকে মনে হচ্ছিল আনত নয়না কাজল কালো ছোট্ট হরিণীর মত।
সম্মুখ হতে দৃষ্টিগোচর হয় তার সরু কোমর ও ক্ষীণ-উদর। পেছন থেকে ভারী নিতম্ব।
বেঁটে কিংবা অতি লম্বা হওয়ার কোন নিন্দা নেই তার। যখন সে হাসে, হয়ে ওঠে উদ্ভাসিত সারিল দাঁত। যেন গন্ধ-মদিরায় তা বারবার হয়েছে স্নাত।
সে মদিরায় মিশ্রিত করা হয় নির্মল, সুশীতল পানি। আর সে পানিও নুড়ি ভরা উপত্যকা হতে উষাকালে আনা, যার উপর বয়ে যায়, উত্তরা বায়ু।
তার উপর হতে বাতাস উড়িয়ে নেয় সব আবর্জনা প্রভাত মেঘের বরিষণে তার উপর জেগে উঠেছে শুভ্র-সফেদ ছোট ছোট বুদ্বুদ।
হায় আফসোস, সে কী তার প্রেম! যদি সে কেবল রক্ষা করত তার ওয়াদা কিংবা শুনত উপদেশ।
কিন্তু না, এ প্রেম তো তার, যার রক্তে মিশ্রিত আঘাত, মিথ্যা, প্রতারণা ও পরিবর্তন।
তার প্রেম কখনও হয় না স্থায়ী, অশরীরী প্রেতের মত এ যেন তার পোশাক বদল।
সে যে ওয়াদা করে, তা পারে না ধরে রাখতে ঠিক যেমন চালুনি পারে না পানি ধারণ করতে।
কাজেই তার দেওয়া আশা ও ওয়াদায় প্রবঞ্চিত হয়ো না যেন। তার দেখানো আশা আর স্বপ্ন সব মিথ্যা মরীচিকা।
কেবল উরকূবের¹ ওয়াদার সাথেই চলে তার ওয়াদার তুলনা। তার প্রতিশ্রুতি মিথ্যা, নির্জলা।
আমি আশাবাদী, আমার আকাঙ্ক্ষা তার প্রেম তাকে নিয়ে আসবে কাছে। যদিও তোমার পক্ষ হতে আমার জন্য অনুগ্রহের কল্পনা বৃথা।
সু'আদ চলে গেছে এমন দেশে, যেথায় অভিজাত, শক্ত ও দ্রুতগামী সওয়ারী ছাড়া সম্ভব নয়-পৌঁছা।
কিছুতেই সেখানে পারবে না পৌঁছাতে শক্ত-পোক্ত উটনী ছাড়া আর কিছু, শত ক্লান্তি-শ্রান্তি সত্ত্বেও যার তেজ ও গতি থাকে অক্ষুণ্ণ।
এমন সব উটনী, যে ঘামলে ভিজে যায় কানের পিছনের হাড়। ভ্রমণে অভ্যস্ত থাকার কারণে অচেনা চিহ্নহীন পথও যে পাড়ি দেয়- অনায়াসে।
সে উটনী তার সাদা বুনো গরুর চোখের মত চোখ দিয়ে তীর হানে মরুভূমির চিহ্নবিহীন পথের উপর, যখন নুড়ি ভরা পথ ও বালুর স্তূপ সূর্যের খরতাপে জ্বলতে থাকে আগুনের মত।
পরিপুষ্ট তার গ্রীবা, মাংসল পা। জন্মগত ভাবেই জাত বোনদের উপর রয়েছে তার শ্রেষ্ঠত্ব।
মজবুত গর্দান, বৃহৎ গণ্ড, সুগঠিত পুরুষালী দেহ। তার প্রশস্ত বলিষ্ঠ দেহ এবং সুদীর্ঘ পদক্ষেপ।
সামুদ্রিক কচ্ছপের মত শক্ত চামড়া। ক্ষুধার্ত, রৌদ্রদগ্ধ পোকারাও তাতে ফুটাতে পারে না হুল, সে যেন পাহাড়ের এক বিশাল পাথরের টুকরা।
তার ভাই, তার পিতা, খুবই অভিজাত বংশীয়। আর তার চাচা, তার মামাও বটে।
দীর্ঘ গ্রীবা ও পিঠ এবং অত্যন্ত চঞ্চল।
তার উপর কুরাদ (পোকা) হাটতে যায়, কিন্তু তার মসৃণ বুক ও তেলতেলে কোমল তাকে গড়িয়ে দেয় নিমিষে।
বন্য গাধার মত দ্রুতগামী, তার পাঁজর মাংসল।
তার কনুই তার সিনা হতে অনেক ব্যবধানে। তার নাক ও চোয়াল হতে চোখ ও গাল পর্যন্ত চেহারাটি দীর্ঘ একটি পাথর সদৃশ।
পত্রহীন খর্জুর শাখার মত লোমশ লেজটিকে সে ক্ষণে ক্ষণে মারে স্তনের উপর, যা শিথিল হয়ে পড়েনি দোহনের কারণে।
ঈষৎ বাঁকা নাক। তার দু'কানে রয়েছে সুস্পষ্ট আভিজাত্য চক্ষুষ্মানের জন্য। আর গণ্ডদ্বয় কোমল, মসৃণ।
হালকা পায়ে ভীষণ ছোটে, মাটিতে পা ছুঁয়ে যায় আলতো করে। আর সহজেই ধরে ফেলে সামনের উটগুলোকে।
তার পায়ের গোছা তাম্রবর্ণ বর্শার মত। বিক্ষিপ্ত করে দেয় পথের নুড়িগুলো পাথুরে জমি হতে রক্ষার জন্য তার প্রয়োজন হয় জুতা পরিধানের।
তার ঘর্মাক্ত দু' বাহুর দ্রুত সঞ্চালন, যখন মরীচিকা লেপটে রাখে ছোট ছোট পাহাড়গুলো, দিনের খরতাপে গিরগিটিও ভুনা হয়ে যায় এবং সূর্যতাপে তার দেহের উপরিভাগ তপ্ত বালুকায় জ্বলে যেন রুটি হয়ে যায়।
কাফেলার হুদী (উট চালকের বিশেষ সঙ্গীত) গায়ক সকলকে বলে, তোমরা বিশ্রাম নাও।
সবুজ টিড্ডীরাও বিশ্রাম গ্রহণের জন্য নুড়ি ওল্টায় প্রচণ্ড তাপে।
এ অবস্থায় ঠিক দুপুরে তার ঘর্মাক্ত দু'বাহুর দ্রুত সঞ্চালন যেন সেই দীর্ঘাঙ্গিনী, মধ্যবয়স্কা রমণীর হাত সঞ্চালনের মত যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাতে গাল চাপড়িয়ে মাতম করছে, তাকে উত্তেজিত করছে সেই সব শোকাকুল নারী যারা বহু সন্তানহারা, যাদের বাঁচে না সন্তান।
আর সে রমণী চিৎকার করে কাঁদে- ঢিলেঢালা তার দু'বাহু। সংবাদদাতারা যখন তাকে শোনাল মৃত্যুসংবাদ। তার প্রথম সন্তানের, সে হয়ে গেল চেতনহারা। সে তার দু'হাতে বুকের উপর আঘাত করছে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে তার সিনার কাপড়।
আমার উটনীর চারপাশে অশান্তিপ্রিয় লোকগুলো জমায়েত হয়ে বলতে লাগল, হে আবূ সুলামীর পুত্র! তুমি নির্ঘাত কতল হয়ে যাবে।
যেসব বন্ধুর কাছে সাহায্য পাব বলে আশা ছিল, তাদের প্রত্যেকে বললো: তোমাকে দেব না মিথ্যা আশা। বস্তুত আমি বড় ব্যস্ত।
আমি বললাম: তোমরা আমার পথ ছেড়ে দাও, ধ্বংস হোক তোমাদের বাপেরা।
দয়াময় আল্লাহ্ যা ভাগ্যে রেখেছেন তা ঘটবেই সুনিশ্চিত।
সব মায়েরই সন্তান, তা সে যতই দীর্ঘজীবী হোক, এক দিন না একদিন, তাকে উঠতেই হবে শবযানে।
সংবাদ পেয়েছি রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে দিয়েছেন চরমপত্র। কিন্তু তবু আল্লাহ্র রাসূলের কাছে ক্ষমার আশা রাখা যায়।
একটু সবুর (হে রাসূল!) আপনাকে পথ দেখিয়েছেন সেই সত্তা, যিনি আপনাকে উপহার দিয়েছেন কুরআন। তাতে আছে উপদেশ ও সব কিছুর বিশদ বর্ণনা।
আপনি আমাকে শাস্তি দিবেন না চোগলখোরদের কথায়। আমার সম্পর্কে যদিও নানা কথা লোকমুখে, কিন্তু বাস্তবে আমি কোন অপরাধ করিনি।
আমি এমন এক স্থানে উপস্থিত, দেখছি ও শুনছি এমন কিছু যদি কোন হাতিও দাঁড়াত সে স্থানে, আর দেখত ও শুনত তা, তবে সেও কাঁপত ত্রাসে যদি না আল্লাহ্র নির্দেশে রাসূলের পক্ষ হতে ক্ষমা লাভ করতো।
অবশেষে আমি আমার ডান হাত রাখলাম- আমি তা তুলে নেবার নই, সেই প্রতিশোধ গ্রহণকারীর হাতের উপর, যার কথাই প্রকৃত কথা।
আমি যখন তাঁর সঙ্গে কথা বলি, আর বলা হচ্ছিল আমাকে- তুমি অভিযুক্ত, তোমার কৈফিয়ত নেওয়া হবে, তখন তার প্রতি আমার ভয় বেড়ে গেল, সেই সিংহের চেয়েও বেশী, আস্সার অরণ্যের গভীরে যার গুহা, সে অরণ্যের গাছগাছালি নিবিড় ঘন।
উষাকালে সে তার দুই শাবকের জন্য খাদ্যের তালাশে বের হয়। খাদ্য তাদের ধূলোমাখা নরমাংস ছিন্নভিন্ন।
সে যখন তার প্রতিপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন শোভন হয় না তার জন্য সে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল না করে ছেড়ে দেওয়া।
জাউ-এর হিংস্র পশুগুলোও তার ভয়ে পালায়। পদাতিক কাফেলা কখনও চলে না তার উপত্যকায়।
যত বড় বাহাদুরই তার উপত্যকায় যায় একবার। সে নির্ঘাত হয় তার উদরস্থ। তার হাতিয়ার ও পোশাক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে সেখানেই।
রাসূল তো এক জ্যোতি, তার থেকে সংগ্রহ করা হয় আলো। তিনি তো আল্লাহর এক খাপমুক্ত তীক্ষ্ণ তরবারি।
কুরায়শের একটি দলসহ যাদের এক বক্তা মক্কা উপত্যকায় বলেছিল, যখন সে দলটি ইসলাম গ্রহণ করলো—তোমরা চলে যাও, তিনি তাদেরসহ চলে গেলেন।
তারা ছিল না রণক্ষেত্রে দুর্বল, ঢালবিহীন এবং অস্ত্র ও সাহসহারা।
তারা উন্নত নাসিকাবিশিষ্ট বাহাদুর। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে থাকে দাউদ-নির্মিত বর্ম পরে, শুভ্র-সফেদ সুদীর্ঘ সে বর্ম, পরস্পর গ্রন্থিত তার আংটাগুলো, যেন সেগুলো কাফা বৃক্ষের আংটা, এবং অতি মজবুত।
তাদের বর্ম শত্রুকে আঘাত করলে তারা উল্লসিত হয় না। নিজেরা আক্রান্ত হলেও হয় না চিত্ত-চঞ্চল।
সাদা, সুদর্শন উটের মত ধীর গম্ভীর চালে তারা হাঁটে। কৃষ্ণকায় বেঁটে লোকগুলো যখন পলায়ন করে, তখন তাদের রক্ষা করে নিজেদের তরবারি।
বর্শার আঘাত কেবল তাদের বুকেই লাগে। তারা মৃত্যুর হাউজে ডুব দিতে হয় না দ্বিধান্বিত।
ইবন হিশাম বলেন: কবি কাসীদাটি মদীনায় আগমনের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে পাঠ করেন। এর মধ্যে আবূহা আখুহা - হরফ আখুহা - ইয়ামশী - কারাদ - ঈরানাহ্ কাযাফাত - তামারস্সাল আসীব - অপর সূত্রে বর্ণিত।

টিকাঃ
১. আরব দেশের বিখ্যাত ওয়াদা-ভংগকারী, যার ওয়াদা-ভংগ প্রবাদে পরিণত হয়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম 📄 কা'ব আনসাদের প্রশংসা করে খুশি করেন

📄 কা'ব আনসাদের প্রশংসা করে খুশি করেন


ইবন ইসহাক বলেন: আসিম ইবন উমর ইব্‌ন কাতাদা বলেন: কা'ব যখন বললেন তখন এর দ্বারা তিনি আমাদের আনসার সম্প্রদায়কে বোঝাচ্ছিলেন। যেহেতু আমাদের একজন লোক তার প্রতি দুর্ব্যবহার করেছিল সেহেতু তিনি তার প্রশংসা রসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহাবীদের মধ্যে কেবল কুরায়শ মুহাজিরদের মাঝেই সীমিত রেখেছিলেন।
একারণে আনসারগণ তার প্রতি ক্ষুদ্ধ হন। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণের পর আনসারদের প্রশংসায়ও কবিতা রচনা করেন। তাতে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন:
যে ব্যক্তি সম্মানজনক জীবন লাভ করতে চায়, সে যেন (নেক্কার) আনসার অশ্বারোহীদের সাথে থাকে।
তারা পুরুষানুক্রমে সম্মানের অধিকারী, বস্তুত শ্রেষ্ঠ লোকদের বংশধরগণই শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকে।
তারা ভারতীয় তরবারির ডগার মত তীক্ষ্ণ, দীর্ঘ বর্শা চালাতে অত্যন্ত দক্ষ।
তারা ভীষণ যুদ্ধের ঘনঘটায় নবীর জন্য প্রাণ- বিক্রয় করে মৃত্যুর বিনিময়ে।
তারা তাদের ধারাল তরবারি ও সচল বর্শা দ্বারা মানুষকে হটায় তাদের ভ্রান্ত ধর্মাদর্শ হতে।
তারা নিহত কাফিরদের রক্ত দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে এবং এটাকে মনে করে মহা-পুণ্যের কাজ।
তারা শত্রু-নিধনে অভ্যস্ত, যেমন খাফিয়্যা অরণ্যে পুরুষ্টু-গ্রীবা সিংহা শিকার ছিঁড়ে-ফেড়ে খেতে অভ্যস্ত।
তুমি তাদের ওখানে গিয়ে যদি ওঠো, যাতে তারা তোমাকে রক্ষা করে, তা হলে তুমি যেন আশ্রয় নিলে পার্বত্য ছাগলের সুরক্ষিত খোঁয়াড়ে।
বদরযুদ্ধে তারা আলীর¹ উপর তরবারি হানে। ফলে বনূ নিযারের সব লোক হয়ে যায় বিনয় অবনত।
তাদের সম্পর্কে সকলে যদি আমার মত জানতো, তা হলে এ নিয়ে যারা আমার সাথে তর্ক করে- তারাও আমার সমর্থন করতো।
তারা তো এমন সম্প্রদায় যে, দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে রাতের উদ্বিগ্ন অতিথিদের করে সযত্ন সৎকার।
গাস্সানে তাদের মর্যাদা মূল হতেই, কোদাল অক্ষম তার শেকড় উপড়াতে।
ইবন হিশام বলেন: বলা হয়ে থাকে, তিনি যখন بانت سعاد فقلبي اليوم تبول কাসীদাটি আবৃত্তি করেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বলেছিলেন, তুমি এতে আনসারদেরও প্রশংসা যদি করতে! তারা এর উপযুক্ত বটে। তখন কা'ব (রা) এই চরণগুলো রচনা করেন। এগুলো তার একটি কাসীদার অংশবিশেষ।
ইবন হিশাম বলেন: আলী ইব্‌ন যায়দ ইব্‌ন জুদআনের সূত্রে আমার নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বলেন, بانت سعاد فقلبي اليوم متبول শীর্ষক কাসীদাটি কা'ব ইব্‌ন যুহায়র (রা) মসজিদে নববীতে বসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে আবৃত্তি করে,

টিকাঃ
১. এখানে আলী বলতে বন্ কিনানার উর্ধ্বতন পুরুষ আলী ইব্‌ন মাসউদ ইবন মাযিন গাস্স্সানীকে বোঝান হয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية