📄 নিম্নে এরূপ ব্যক্তিবর্গের নাম উল্লেখ করা গেল
ইব্ন হিশাম বলেন: আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি এমন জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁর নিজ সনদে ইব্ন শিহাব যুহরী (র) হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন উত্ত্বা হতে এবং তিনি ইব্ন আব্বাস (রা) হতে যে, কুরায়শ ও অন্যান্য গোত্রের বহু লোক রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট বায়'আত গ্রহণ করেন তিনি জি'রানায় গনীমত বণ্টনের দিন হুনায়নের গনীমত হতে তাদেরকেও অংশ দেন।
বনূ উমাইয়া ইব্ন আব্দ শামসের-আবু সুফিয়ান ইব্ন হাব ইবন উমাইয়া (রা), তুলায়ক ইব্ন সুফিয়ান ইবন উমাইয়া (রা) ও খালিদ ইব্ন আসীদ ইব্ন আবুল 'আয়স ইন্ন উমাইয়া।
বনু আবদুদদার ইব্ন কুসাঈ-এর-শায়বা ইবন উসমান ইব্ন আবূ তালহা ইব্ন আবদুল-উয্যা ইবন উসমান ইব্ন আবদুদদার (রা), আবুস-সানাবিল ইন্ন বা'কাক ইন্ন হারিস ইন্ন উমায়লা ইন্ন সাব্বাক ইন্ন আবদুদদার (রা) ও ইকরিমা ইবন আমির ইবন হাশিম ইবন আব্দ মানাফ ইব্ন আবদুদদার (রা)।
মাখযূম ইব্ন ইয়াকজা গোত্রের-যুহায়র ইবন আবূ উমাইয়া ইবন মুগীরা (রা), হারিস ইবন হিশাম ইবন মুগীরা (রা), খালিদ ইবন হিশাম ইবন মুগীরা (রা) হিশাম ইব্ন ওয়ালীদ ইন্ন মুগীরা (রা), সুফয়ান ইব্ন আবদুল-আসাদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইবন মাখযূম (রা) ও সাইব ইব্ন আবুস সাইব ইব্ন আইয ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইবন মাখযূম (রা)।
বনূ আদী ইব্ন কা'বের-মুতী' ইব্ন আসওয়াদ ইবন হারিসা ইব্ নাদলী (রা) ও আবূ জাম ইবন হুযায়ফা ইন্ন গানিম (রা)।
বনূ জুমাহ ইব্ন আম্রের-সাওয়ান ইবন উমাইয়া ইন্ন খাল্ল্ফ (রা), উহায়হা ইব্ন উমাইয়া ইন্ন খাল্ল্ফ (রা) ও উমায়র ইব্ন ওয়াহাব ইন্ন খাল্ল্ফ (রা)।
বনু সাহমের-আদী ইব্ন কায়স ইন্ন হুযাফা (রা)।
বনু আমির ইব্ন লুআঈ-এর-হুওয়ায়তিব ইব্ন আবদুল-উয্যা ইব্ন আবু কায়স ইন আব্দ উদ্দ (রা) ও হিশাম ইব্ন আম্ম ইন্ন রবী'আ ইবন হারিস ইন্ন হুবায়্যিব।
এরপর অন্যান্য ছোটখাট গোত্রের যেসব লোক বায়'আত গ্রহণ করেছিল তাদের নাম:
বন্ধু বকর ইব্ন আব্দ মানাত ইব্ন কিনানার নাওফাল ইব্ন মু'আবিয়া ইব্ন উরওয়া ইন সাখ্র ইন্ন রায ইব্ন ইয়া'মার ইব্ নুফাসা ইব্ন আদী ইন্ন দীল (রা)।
বনু কায়সের শাখা বনু আমির ইবন সা'সা'আ এবং তারও শাখা বনূ কিলাব ইব্ন রবী'আ ইবন আমির ইবন সা'সা'আর-আলকামা ইব্ন উলাসা ইব্ন আওফ ইব্ন আহওয়াস ইব্ন জা'ফর ইব্ন কিলাব (রা) ও লাবীদ ইব্ন রবী'আ ইব্ন মালিক ইব্ন জা'ফার ইব্ন কিলাব (রা)।
বনু 'আমির ইব্ন রবী'আর—খালিদ ইব্ন হাওযা ইব্ন রবী'আ ইব্ন আম্র ইব্ন আমির ইব্ন রবী'আ ইব্ন আমির ইব্ন সা'সা'আ (রা) ও হারমালা ইব্ন হাওযা ইব্ন রবী'আ ইব্ন আমর (রা)।
বনু নাস্ত্র ইব্ন মু'আবিয়ার—মালিক ইব্ন আওফ ইব্ন সাঈদ ইব্ন ইয়ারবু' (রা)।
বনু সুলায়ম ইব্ন মানসূরের—আব্বাস ইব্ন মিরদাস ইব্ন আবূ আমির (রা)। তিনি বনু হারিস ইব্ন বুহসা ইব্ন সুলায়মের লোক ছিলেন।
বনু গাফ্ফানের শাখা বনু ফাযারার—উয়ায়না ইব্ন হিস্স ইব্ন হুযায়ফা ইব্ন বাদ্র (রা)।
বনু তামীমের শাখা বনু হানজালার—আকরা' ইব্ন হাবিস ইব্ন ইকাল (রা)। তিনি ছিলেন—মুজাশি' ইব্ন দারিম গোত্রীয়।
📄 আনসারের ঘটনা
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্ন ইবরাহীম ইব্ন হারিস তামীমী বর্ণনা করেন যে, সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলেছিলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি উয়ায়না ইব্ন হিস্স ও আকরা' ইব্ন হাবিসকে একশ' করে উট দিয়েছেন, আর জু'আয়ল ইব্ন সুরাকা দামরীকে বাদ রেখেছেন? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: শোন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, নিঃসন্দেহে জু'আয়ল ইব্ন সুরাকা ভূ-পৃষ্ঠের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। বাকি সকলে উয়ায়না ইব্ন হিস্স ও আকরা' ইব্ন হাবিসের সমতুল্য। কিন্তু আমি তাদের হৃদয় আকৃষ্ট করার জন্য দিয়েছি, যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে। আর জু'আয়ল ইব্ন সুরাকাকে তার ইসলামের উপর ছেড়ে দিয়েছি।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আবু উবায়দা ইব্ন মুহাম্মদ ইব্ন আম্মার ইব্ন ইয়াসির (র) আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস ইব্ন নাওফালের আযাদকৃত গোলাম মিকসাম আবুল কাসিম (র) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি ও তালীদ ইব্ন কিলাব লায়সী বের হয়ে পড়লাম এবং আবদুল্লাহ ইব্ন আম্র ইব্ন আস (রা)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করছিলেন। চটি ছিল তাঁর হাতে ঝুলানো। আমরা তাঁকে বললাম: হুনায়নের দিন তামীমী যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে কথা বলছিল, তখন কি আপনি উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ; যুল-খুওয়ায়সিরা নামে বনূ তামীমের একটি লোক এসে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পাশে দাঁড়াল, তিনি তখন মানুষের মাঝে গনীমত বিতরণ করছিলেন। লোকটি বললো: হে মুহাম্মদ! আপনি আজ যা করেছেন আমি দেখেছি। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আচ্ছা, তা তুমি কী দেখলে? সে বললো: দেখলাম, আপনি ন্যায়ের পরিচয় দেননি। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা) ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি তাকে ধিক্কার দিয়ে বললেন: আমার কাছে যদি ন্যায় না থাকে, তা হলে আর কার কাছে থাকবে? তখন উমর ইব্ন খাত্তাব (রা) বলে উঠলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি তাকে হত্যা করব না? তিনি বললেন : না, তাকে ছেড়ে দাও। অদূর ভবিষ্যতে তার একটি দল গড়ে উঠবে, যারা দীনের মাঝে অতিশয় বাড়াবাড়ি করতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত তারা দীন থেকে এভাবে বের হয়ে যাবে, যেভাবে শিকার ভেদ করে তীর বের হয়ে যায়, যে তীরের ফলকে লক্ষ্য করলে কিছু পাওয়া যায় না। এরপর দণ্ডেও কিছু পাওয়া যায় না। তারপর তার পালকেও দৃষ্টিপাত করে কিছু মেলে না। বিদ্ধ হল এবং অন্ত্রের গোবর ও রক্তের ভিতরে দিয়ে বের হয়ে গেল।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার নিকট মুহাম্মদ ইব্ন আলী ইবন হুসায়ন আবূ জা'ফর (র) আবূ উবায়দা (র)-এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনিও লোকটির নাম বলেছেন যুল-খুওয়ায়সিরা।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার নিকট আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ নাজীহ (র)-ও তার পিতার সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইব্ন হিশাম বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা) কুরায়শ ও অন্যান্য আরব গোত্রগুলোকে যা দেওয়ার দিলেন। আনসারদেরকে কিছুই দিলেন না। এ কারণে হাসান ইবন সাবিত (রা) তাঁর প্রতি অনুযোগ করে বলেন:
দুঃখ-বেদনা বেড়ে গেছে, চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে প্রবল ধারায়, যখন সে পানিকে জমা করেছে অশ্রুরান।
এসব বেদনা তো শাম্মা'র জন্য। পরিপুষ্ট তার দেহ, সরু কোমর। কোনরূপ আবিলতা নেই : নেই দুর্বলতা।
এখন ছেড়ে দাও শাম্মার কথা, কারণ তার প্রেম ছিল নিতান্তই তুচ্ছ। নিকৃষ্টতম মিলন তো সেটাই, যা হয় ক্ষণিকের।
বরং রাসূলের কাছে যাও এবং তাঁকে বল, হে মু'মিনদের শ্রেষ্ঠতম আশ্রয়স্থল! যখন মানুষকে গণনা করা হয়— তখন কিসের ভিত্তিতে ডাকা হয় বনূ সুলায়মকে
অথচ তারা সে সম্প্রদায়ের সামনে নিতান্তই তুচ্ছ, যারা দিয়েছে আশ্রয়, করেছে সাহায্য?
আল্লাহ্ তা'আলাই তাদের নাম দিয়েছেন আনসার, যেহেতু তারা সাহায্য করেছে সত্য-সরল দীনের, যখন যুদ্ধের আগুন ছিল প্রজ্বলিত।
তারা আল্লাহ্ পথে ছিল অগ্রগামী, বিপদাপদে ছিল স্থির-অবিচল; হয়নি ভীত ও অস্থির।
সকল মানুষ আপনার ব্যাপারে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাদের উপর। কেবল তরবারি ও বর্শার ডগা ছাড়া আমাদের কোন আশ্রয় নেই।
আমরা প্রতিপক্ষের মুকাবিলা করি বীরত্বের সাথে এক্ষেত্রে কারও প্রতি করি না কৃপা।
আমরা নষ্ট করি না সূরাসমূহের প্রত্যাদেশ। যুদ্ধাপরাধীরা আমাদের মজলিসকে করে না উত্তেজিত
যখন সমরানল লেলিহান হয়ে ওঠে, তখন আমরাও জ্বলে উঠি প্রচণ্ডভাবে।
বদর যুদ্ধে মুনাফিকরা যা চেয়েছিল আমরা তা করি নস্যাৎ। আর আমাদের ভাগে আসে জয়মাল্য।
উহুদ পর্বতের পাদদেশে যে যুদ্ধ হয়, তাতে আমরাই ছিলাম আপনার সৈনিক, যখন মুদার গোত্র গর্বোদ্ধত হয়ে বিভিন্ন সেনাদল করে সংগ্রহ।
আমরা দুর্বল হইনি, ভীত হইনি, পায়নি কেউ আমাদের থেকে কোন স্খলন, যখন আর সকলেরই ঘটেছিল পদস্খলন
ইবন হিশাম বলেন: আমার নিকট যিয়াদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেন ইবন ইসহাক এবং তিনি বলেন, আমার নিকট আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদা (র) মাহমূদ ইব্ন লাবীদ (র) হতে এবং তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) উক্ত মালামাল হতে যখন কুরায়শ ও অন্যান্য আরব গোত্রসমূহকে যা দেওয়ার দিলেন এবং আনসার সম্প্রদায় তা হতে কিছুই পেল না, তখন তাদের অন্তরে ব্যথা লাগে এবং এ নিয়ে তাদের পক্ষ হতে ক্রমে কথা বাড়তে থাকে। এমনকি তাদের এক ব্যক্তি এ পর্যন্ত বলল যে, আল্লাহ্র কসম, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সম্প্রদায়ের সাথে মিলে গিয়েছেন। তখন সা'দ ইবন উবাদা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে সাক্ষাত করলেন এবং তাকে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যুদ্ধলব্ধ মালামালের ক্ষেত্রে আপনি যে নীতি অবলম্বন করেছেন, তাতে আনসারদের এই গোত্রটি আপনার উপর মনে কষ্ট পেয়েছে। আপনি আপনার সম্প্রদায়ের মাঝে তা বণ্টন করেছেন। আরবের অন্যান্য গোত্রেকেও বিপুল পরিমাণ দিয়েছেন। কিন্তু আনসারগণ তা হতে কিছুই পায়নি।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এ ব্যাপারে তোমার কী অভিমত হে সা'দ? তিনি বললো: আমি আমার সম্প্রদায়ের তো একজন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তুমি তোমার সম্প্রদায়কে আমার সামনে সমবেত কর।
আবু সাঈদ (রা) বলেন: সা'দ ইব্ন্ন উবাদা (রা) তখনই বের হয়ে গেলেন এবং আনসারদেরকে সেইস্থানে একত্র করলেন। কিছু সংখ্যক মুহাজিরও সেখানে উপস্থিত হলেন। সা'দ তাদের কিছুই বললেন না। এরপর অন্যান্য সম্প্রদায়ের কিছু লোকও সেখানে আসল, কিন্তু সা'দ (রা) তাদের বের করে দিলেন। সকলে সমবেত হয়ে গেলে সা'দ (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন: আনসারগণ আপনার জন্য সমবেত হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের সামনে উপস্থিত হলেন। তারপর আল্লাহ্ তা'আলার যথাযোগ্য প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপনের পর তিনি বললেন:
يا معشر الانصار ما قالة بلغتني منكم وجدة وجدتموها على في انفسكم ؟ الم أتكم ضلالا فهداكم الله وعالة فاغناكم الله واعداء فالف الله بين قلوبكم ؟
'হে আনসার সম্প্রদায়! এটা তোমাদের কীরূপ উক্তি, যা আমার কানে এসেছে? তোমরা নাকি আমার প্রতি মনে কষ্ট পেয়েছ? আমি কি তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট পাইনি, এরপর আল্লাহ্ তোমাদের সুপথ দেখালেন? তোমরা কি দরিদ্র ছিলে না, এরপর আল্লাহ্ তোমাদের অভাব মোচন করেছেন? তোমরা কি পরস্পর শত্রু ছিলেন না, এরপর আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের অন্তরে ভালবাসা সঞ্চার করেছেন?
আনসারগণ উত্তর দিলেন : بلی الله ورسوله امن وافضل निश्चयই! আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল করুণাময় ও শ্রেষ্ঠতম।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন : الا تجيبونني يا معشر الانصار 'তোমরা কি আমার কথার জবাব দেবে না, হে আনসার সম্প্রদায়?
بما ذا نجيبك يارسول الله لله ولرسوله المن والفضل : Gal freea pata জবাব দেব ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সকল অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন:
اما والله لو شئتم لقلتم فلصدقتم والصدقتم : اتيتنا مكذبا فصدقناك ومخذولا فنصرتك وطريد افاويناك وعائلا فأسيناك أوجدتم يا معشر الانصار في انفسكم في العاعة من الدينا تألفت بها قوما ليسلموا ووكلتكم الى اسلامكم الا ترضون با معشر الانصار ان يذهب الناس بالشاة والبعير وترجعوا برسول الله الى رحالكم فوالذي نفس محمد بيده لولا الهجرة لكنت أمراً من الانصار ولو سلك الناس شعبا وسلكت الانصار شعبا لسلكت شعب الانصار اللهم ارحم الانصار وابناء الانصار وابناء ابناء الانصار -
শোন, আল্লাহ্র কসম! তোমরা ইচ্ছা করলে আমাকে বলতে পার এবং তাতে তোমরা সঠিকই বলবে এবং তা মেনেও নেওয়া হবে; তোমরা বলতে পার : আপনি আমাদের নিকট এসেছেন প্রত্যাখ্যাত হয়ে, আমরাই আপনার উপর ঈমান এনেছি। আপনি অসহায় ছিলেন, আমরা আপনার সাহায্য করেছি। আপনি বিতাড়িত ছিলেন, আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি এবং আপনি নিঃস্ব ছিলেন, আমরা আপনার অভাব দূর করেছি। হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা এই পার্থিব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে গেলে? আমি এর দ্বারা একদল লোককে খুশি করতে চেয়েছি, যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে। তোমাদের ইসলামের প্রতি তো আমার আস্থা আছে। হে আনসার সম্প্রদায়, তোমরা কি এতে খুশি নও যে, আর সব লোক তো ছাগল-উট নিয়ে ফিরে যাচ্ছে, আর তোমরা দেশে ফিরে যাবে আল্লাহ্র রাসূলকে নিয়ে? সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, হিজরতের বিষয়টি না হলে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। সব মানুষ যদি এক পথে চলে, আর আনসারগণ চলে ভিন্ন পথে, তা হলে আমি আনসারদেরই পথে চলব। হে আল্লাহ্! তুমি আনসারদের প্রতি রহমত বর্ষণ কর, আনসারদের সন্তানদের প্রতিও এবং আনসারদের সন্তানদের বংশধরদের প্রতিও।
তাঁর এ ভাষণে আনসারগণ এত কাঁদলেন যে, তাদের দাঁড়ি ভিজে গেল। তারা সমস্বরে বলে উঠলেন : رضينا برسول الله قسما وحظا এই ভাগ ও হিস্যা বণ্টনে আমরা আল্লাহ্ রাসূলকে নিয়েই সন্তুষ্ট। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) চলে গেলেন এবং সভা শেষ হয়ে গেল।
📄 যী'রানা হতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উমরা পালন
রাসূলুল্লাহ্ (সা) কর্তৃক আত্তাব ইব্ন আসীদ (রা)-কে মক্কার গভর্নর নিয়োগ এবং ৮ম হিজরী সনে মুসলিমদের নিয়ে আত্তাব (রা)-এর হজ্জ পালন
ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যী'রানা হতে উমরার উদ্দেশে বের হলেন। গনীমতের অবশিষ্ট মালামাল মারুজ জাহরানের পার্শ্বে মাজান্নায় সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিলেন। উমরা শেষ করে তিনি মদীনায় ফিরে যান এবং আত্তাব ইব্ন আসীদ (রা)-কে মক্কার গভর্নর নিযুক্ত করে যান। মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞান ও কুরআন মজীদ শিক্ষা দেওয়ার জন্য মু'আয ইবন জাবাল (রা)-কে মক্কায় রেখে যান। গনীমতের অবশিষ্ট মালামাল রাসূলুল্লাহ্ (সা) সঙ্গে করে নিয়ে যান।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) কর্তৃক আত্তাব ইব্ন আসীদ (রা)-কে মক্কার গভর্নর নিয়োগ এবং ৮ম হিজরী সনে মুসলিমদের নিয়ে আত্তাব (রা)-এর হজ্জ পালন
ইব্ন হিশام বলেন: যায়দ ইব্ন আসলাম (র) হতে আমার নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আত্তাব ইব্ন আসীদ (রা)-কে মক্কার গভর্নর নিযুক্ত করে যাওয়ার সময় তার জন্য দৈনিক এক দিরহাম ভাতা নির্ধারণ করে যান। আত্তাব লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, হে লোকসকল! যার এক দিরহামের খিদে ছিল আল্লাহ্ তার কলিজার সে বিদে মিটিয়ে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমার জন্য দৈনিক এক দিরহাম ভাতা ঠিক করে দিয়েছেন। কারও কাছে আমার আর কোন প্রয়োজন নেই।
ইব্ন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উমরা পালিত হয়েছিল যুলকাদা মাসে। তিনি ফুলকান্দার শেষে কিংবা যিলহাজ্জায় মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন।
ইব্ন হিশাম বলেন: আবূ আমর মাদানীর ধারণা মতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) যুলকাদার ছয়দিন বাকী থাকতে মদীনায় ফিরে আসেন।
ইব্ন ইসহাক বলেন: সে বছর লোকেরা আরবদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী হজ্জ পালন করে। মুসলিমদের নিয়ে আত্তাব ইব্ন আসীদ (রা) সে বছর হজ্জ আদায় করেন। এটা ছিল হিজরী ৮ম সন। তায়েফবাসী তাদের শিরকের উপরই বিদ্যমান থাকলো এবং ৮ম হিজরী যুলকাদায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মদীনা প্রত্যাবর্তন হতে ৯ম হিজরীর রমযান পর্যন্ত তাদের তায়েফ দুর্গেই অবস্থানরত থাকলো।