📄 যাহ্হাক ইন্ন সুফ্যানের কবিতা ও তার কারণ
ইবন ইসহাক বলেন: বনূ সাকীফ মারওয়ান ইবন কায়স দাওসীর পরিবারবর্গকে আটক করেছিল। মারওয়ান ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং বনু সাকীফের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সহযোগিতা করেছিলেন। বনূ সাকীফের বক্তব্য হচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মারওয়ান ইব্ন কায়সকে বলেছিলেন: হে মারওয়ান! তুমি নিজ লোকদের বদলে কায়স গোত্রের যে ব্যক্তির সাথে প্রথম সাক্ষাত হয়, তাকে পাকড়াও কর। ঘটনাক্রমে উবায়্য ইবন মালিক কুশায়রীর সাথেই তার প্রথম সাক্ষাত হয়। তিনি তাকে পাকড়াও করেন এবং বলেন, তাঁর পরিবারবর্গকে তাঁর হাতে হস্তান্তর না করলে তাকে ছাড়া হবে না। যাহ্হাক ইব্ন সুফ্য়ান কিলাবী উদ্যোগ নিয়ে এ বিষয়ে বনূ সাকীফের সাথে আলোচনা করলো। তারা মারওয়ানের পরিবারবর্গকে তার কাছে পাঠিয়ে দিল। তিনিও উবায়্য ইবন মালিককে মুক্তি দিলেন। একবার যাহ্হাক ইব্ন সুফয়ান ও উবায়্য ইব্ন মালিকের মাঝে কোন এক বিষয়ে মনোমালিন্য দেখা দিয়েছিল। তখন যাহ্হাক নিম্নের কবিতাটি আবৃত্তি করে:
হে উবায়্য ইবন মালিক! তুমি আমার অনুগ্রহ ভুলে যাচ্ছ? যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমাকে করছিলেন উপেক্ষা।
মারওয়ান ইব্ন কায়স তোমাকে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিল। অত্যন্ত অপমানজনকভাবে, যেভাবে টেনে নেওয়া হয় কোন নীচ ও ইতর ব্যক্তিকে।
এরপর তোমার বিরুদ্ধে আসল বনূ সাকীফের এমন একটি দল, যাদের কাছে কোন দুষ্কৃতিকারী আসলে তারা তাকে মদদ জোগায়।
তারা এককালে তোমার প্রভু ছিল, কিন্তু শেষতক তাদের বুদ্ধি-বিবেক তোমার ব্যাপারে পাল্টে গেল।
(আমি তোমাকে মুক্ত করি) যখন তোমার মন হতাশ হয়ে পড়েছিল।
📄 তায়েফ যুদ্ধের শহীদান
ইবন ইসহাক বলেন: তায়েফের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে শরীক থেকে যেসব মুসলিম শাহাদতবরণ করেন, নিম্নে তাদের নাম উল্লেখ করা হলো:
কুরায়শ গোত্রের শাখা বনু উমাইয়া ইব্ন আব্দ শাসের সাঈদ ইব্ন সাঈদ ইব্ন আস ইবন উমাইয়া (রা) এবং তাদের মিত্র আসাদ ইব্ন আওস গোত্রীয় উরফতা ইবন জান্নাব (রা)।
ইবন হিশام বলেন: উরফুতার পিতার নাম হুবাবও বলা হয়ে থাকে।
ইবন ইসহাক বলেন: তায়ম ইব্ন মুরা গোত্রের আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবু বকর সিদ্দীক (রা)। তিনি একটি তীরবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং তারই ফলে মদীনায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ওফাতের পর ইন্তিকাল করেন।
বনূ মাখযূমের আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ উমাইয়া ইব্ন মুগীরা। তিনি এ যুদ্ধে একটি তীরবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
বনূ আদী ইব্ন কা'বের মিত্র আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমির ইবন রবী'আ (রা)।
বনূ সাহম ইব্ন আয়ের সাইব ইবন-হারিছ ইব্ন কায়স ইব্ন আদী (রা) ও তার ভাই আবদুল্লাহ্ ইবন হারিছ (রা)।
এবং বনূ সা'দ ইব্ন লায়ছের জুলায়হা ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা)।
📄 আরও আনসারদের মধ্যে শাহাদত লাভ করেন নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ
আর আনসারদের মধ্যে শাহাদত লাভ করেন নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ
বনূ সালিমা-এর সাবিত ইন-জাযা' (রা)।
বন্ মাযিন ইব্ নাজ্জার-এর হারিস ইন সাহল ইব্ন আবূ সা'সা'আ (রা)।
বনূ সাঈদা-এর মুনযির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা)।
এবং আওস গোত্রীয় রুকায়ম ইন্ন সাবিত ইন্ন ছালাবা ইন্ন যায়দ ইব্ন লাওযান ইন্ন মু'আবিয়া (রা)।
সুতরাং তায়েফে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মোট বারজন সাহাবী শাহাদত লাভ করেন। তন্মধ্যে সাতজন কুরায়শ গোত্রের, চারজন আনসার সম্প্রদায়ের এবং একজন বনূ লায়ছের।
📄 হুনায়ন ও তায়েফ সম্পর্কে বুজায়র ইবন যুহায়রের কাসীদা
তায়েফের যুদ্ধ ও অবরোধের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন, তখন হুনায়ন ও তায়েফের স্মরণে বুজায়র ইব্ন যুহায়র ইব্ন আবূ সুলামী বলেন:
হুনায়ন, আওতাস ও আব্রাকে যুদ্ধ চলে একটির পর আরেকটি।
হাওয়াযিন বিভ্রান্তিবশত সংগ্রহ করে বিশাল বাহিনী, কিন্তু তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল ছিন্নভিন্ন পাখির মত।
তারা আমাদের হাত থেকে একটি স্থানও রক্ষা করতে পারলো না, কেবল তাদের প্রাচীর ও গর্ত ছাড়া।
আমরা তাদের মুখোমুখি হই, যাতে তারা বের হয়ে আসে, কিন্তু তারা অবরুদ্ধ ফটকের ভিতর দুর্গের আশ্রয় নিল।
অবশেষে নিরুপায় হয়ে তাদের ফিরে আসতেই হলো মৃত্যুবাহী চকমকে অস্ত্রধারী রণোন্মত্ত বিশাল বাহিনীর সামনে।
হরিৎ বর্ণ ঘননিবদ্ধ সে বাহিনীকে যদি নিক্ষেপ করা হত হাদান পর্বতের উপর, তা হলে তা হয়ে যেত সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন।
তারা হেলেদুলে চলছিল ঠিক হারাস ঘাসের উপর বিচরণকারী বাঘের মত।
যেন আমরা একপাল অশ্ব, যারা পেছনের পা সামনের পায়ের স্থানে একই সাথে করে স্থাপিত, আর ক্ষণে বিচ্ছন্ন হয়, আবার শ্রেণীবদ্ধ।
তারা ছিল এমন সব সুদৃঢ় বর্মে সজ্জিত যে, অশ্বারূঢ় অবস্থায় তাদের মনে হচ্ছিল একটা জলাশয়ের মত, বাতাসে যার পানি তরঙ্গায়িত।
সে বর্মের বাড়তি অংশ আমাদের জুতা স্পর্শ করছিল আর তা ছিল দাউদ ও মুহাররিক পরিবারের হাতে বোনা।