📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তায়েফের কতিপয় গোলাম মুসলিমদের নিকট আত্মসমপর্ণ করে

📄 তায়েফের কতিপয় গোলাম মুসলিমদের নিকট আত্মসমপর্ণ করে


তায়েফে অবস্থানকালে কতিপয় অবরুদ্ধ গোলাম দুর্গ ত্যাগ করে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে সাক্ষাত করে এবং ইসলামে দীক্ষিত হয়। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের আযাদ করে দেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমি যার প্রতি সন্দেহ করি না, এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ্ ইবন মুকাদ্দাম হতে এবং তিনি বনূ সাকীফের কতিপয় লোক হতে। তারা বলেছে, তায়েফবাসী ইসলাম গ্রহণ করার পর তাদের একদল লোক যে সকল গোলাম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে কথা বলে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: না; তারা আল্লাহ্ কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত। তাদের সম্পর্কে যারা কথা বলেছিল তাদের একজন ছিল হারিস ইন কালদা। ইবন হিশাম বলেন: উপরিউক্ত গোলামদের মধ্যে যারা আত্মসমর্পণ করেছিল, ইব্‌ন ইসহাক তাদের নামও উল্লেখ করেছেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যাহ্হাক ইন্ন সুফ্যানের কবিতা ও তার কারণ

📄 যাহ্হাক ইন্ন সুফ্যানের কবিতা ও তার কারণ


ইবন ইসহাক বলেন: বনূ সাকীফ মারওয়ান ইবন কায়স দাওসীর পরিবারবর্গকে আটক করেছিল। মারওয়ান ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং বনু সাকীফের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সহযোগিতা করেছিলেন। বনূ সাকীফের বক্তব্য হচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মারওয়ান ইব্‌ন কায়সকে বলেছিলেন: হে মারওয়ান! তুমি নিজ লোকদের বদলে কায়স গোত্রের যে ব্যক্তির সাথে প্রথম সাক্ষাত হয়, তাকে পাকড়াও কর। ঘটনাক্রমে উবায়্য ইবন মালিক কুশায়রীর সাথেই তার প্রথম সাক্ষাত হয়। তিনি তাকে পাকড়াও করেন এবং বলেন, তাঁর পরিবারবর্গকে তাঁর হাতে হস্তান্তর না করলে তাকে ছাড়া হবে না। যাহ্হাক ইব্‌ন সুফ্য়ান কিলাবী উদ্যোগ নিয়ে এ বিষয়ে বনূ সাকীফের সাথে আলোচনা করলো। তারা মারওয়ানের পরিবারবর্গকে তার কাছে পাঠিয়ে দিল। তিনিও উবায়্য ইবন মালিককে মুক্তি দিলেন। একবার যাহ্হাক ইব্‌ন সুফয়ান ও উবায়্য ইব্‌ন মালিকের মাঝে কোন এক বিষয়ে মনোমালিন্য দেখা দিয়েছিল। তখন যাহ্হাক নিম্নের কবিতাটি আবৃত্তি করে:
হে উবায়্য ইবন মালিক! তুমি আমার অনুগ্রহ ভুলে যাচ্ছ? যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমাকে করছিলেন উপেক্ষা।
মারওয়ান ইব্‌ন কায়স তোমাকে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিল। অত্যন্ত অপমানজনকভাবে, যেভাবে টেনে নেওয়া হয় কোন নীচ ও ইতর ব্যক্তিকে।
এরপর তোমার বিরুদ্ধে আসল বনূ সাকীফের এমন একটি দল, যাদের কাছে কোন দুষ্কৃতিকারী আসলে তারা তাকে মদদ জোগায়।
তারা এককালে তোমার প্রভু ছিল, কিন্তু শেষতক তাদের বুদ্ধি-বিবেক তোমার ব্যাপারে পাল্টে গেল।
(আমি তোমাকে মুক্ত করি) যখন তোমার মন হতাশ হয়ে পড়েছিল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তায়েফ যুদ্ধের শহীদান

📄 তায়েফ যুদ্ধের শহীদান


ইবন ইসহাক বলেন: তায়েফের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে শরীক থেকে যেসব মুসলিম শাহাদতবরণ করেন, নিম্নে তাদের নাম উল্লেখ করা হলো:
কুরায়শ গোত্রের শাখা বনু উমাইয়া ইব্‌ন আব্দ শাসের সাঈদ ইব্‌ন সাঈদ ইব্‌ন আস ইবন উমাইয়া (রা) এবং তাদের মিত্র আসাদ ইব্‌ন আওস গোত্রীয় উরফতা ইবন জান্নাব (রা)।
ইবন হিশام বলেন: উরফুতার পিতার নাম হুবাবও বলা হয়ে থাকে।
ইবন ইসহাক বলেন: তায়ম ইব্‌ন মুরা গোত্রের আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবু বকর সিদ্দীক (রা)। তিনি একটি তীরবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং তারই ফলে মদীনায় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ওফাতের পর ইন্তিকাল করেন।
বনূ মাখযূমের আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ উমাইয়া ইব্‌ন মুগীরা। তিনি এ যুদ্ধে একটি তীরবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
বনূ আদী ইব্‌ন কা'বের মিত্র আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমির ইবন রবী'আ (রা)।
বনূ সাহম ইব্‌ন আয়ের সাইব ইবন-হারিছ ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন আদী (রা) ও তার ভাই আবদুল্লাহ্ ইবন হারিছ (রা)।
এবং বনূ সা'দ ইব্‌ন লায়ছের জুলায়হা ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আরও আনসারদের মধ্যে শাহাদত লাভ করেন নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ

📄 আরও আনসারদের মধ্যে শাহাদত লাভ করেন নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ


আর আনসারদের মধ্যে শাহাদত লাভ করেন নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ
বনূ সালিমা-এর সাবিত ইন-জাযা' (রা)।
বন্ মাযিন ইব্‌ নাজ্জার-এর হারিস ইন সাহল ইব্‌ন আবূ সা'সা'আ (রা)।
বনূ সাঈদা-এর মুনযির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা)।
এবং আওস গোত্রীয় রুকায়ম ইন্ন সাবিত ইন্ন ছালাবা ইন্ন যায়দ ইব্‌ন লাওযান ইন্ন মু'আবিয়া (রা)।
সুতরাং তায়েফে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মোট বারজন সাহাবী শাহাদত লাভ করেন। তন্মধ্যে সাতজন কুরায়শ গোত্রের, চারজন আনসার সম্প্রদায়ের এবং একজন বনূ লায়ছের।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00