📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তায়েফ্রের পথে

📄 তায়েফ্রের পথে


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) নাঙ্গাতুল-ইয়ামানিয়া,¹ কারণ, মুলায়হ হয়ে নিয়্যা-এর অন্তর্গত বুহরাতুর-রুগা পৌঁছান। তিনি এখানে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে সালাত আদায় করেন।
ইবন ইসহাক বলেন: আম্র ইব্‌ন শু'আয়ব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, বুহরাতুর-রুগায় অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) একটি খুনের কিসাস গ্রহণ করেন। ইসলামে এটাই ছিল সর্বপ্রথম কিসাস। বনূ লায়সের এক ব্যক্তি বনূ হুযায়লের একটি লোককে হত্যা করেছিল। তিনি -- তিন ব্যক্তির বদলে হত্যা করেন। লিয়‍্যায় অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নির্দেশে মালিক ইব্‌ন আওফের দুর্গ ধ্বংস করা হয়। এরপর তিনি যায়কার পথে অগ্রসর হন। চলার পথে তিনি স্থানটির নাম জিজ্ঞাসা করেন। বলা হলো : এর নাম যায়কা অর্থাৎ সঙ্কট। তিনি বললেন: বরং এর নাম ইউস্না অর্থাৎ স্বস্তি। এরপর তিনি সে স্থান অতিক্রম করে नाते পৌছিলেন। সেখানে তিনি সাদিরা নামক একটি বৃক্ষের নীচে বিশ্রাম নিলেন। এটা ছিল সাকীফ গোত্রীয় জনৈক ব্যক্তির সম্পত্তির নিকটবর্তী। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বলে পাঠালেন, হয় তুমি বের হয়ে আস, নয়ত আমরা তোমার বাগান ধ্বংস করে দেব। সে বের হতে অস্বীকার করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার বাগানটি ধ্বংস করার নির্দেশ দিলেন।

টিকাঃ
১. নায়লাতুল-ইয়ামানিয়া, কারণ, মুলায়হ্, নিয়্যা ও বুহরাতু'র-রুগা, তায়েফের অন্তর্গত কতগুলো স্থানের নাম।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ সাকীফের সাথে আবু সুফিয়ান ইব্‌ হাব ও মুগীরা (রা)-এর আলোচনা

📄 বনূ সাকীফের সাথে আবু সুফিয়ান ইব্‌ হাব ও মুগীরা (রা)-এর আলোচনা


আবু সুফিয়ান ইব্‌ন হারব ও মুগীরা ইব্‌ন শু'বা (রা) তায়েফে গিয়ে বনূ সাকীফকে ডাক দিয়ে বললেন: তোমরা আমাদের নিরাপত্তা দিলে তোমাদের সাথে আলাপ করতে পারি। তারা তাদের নিরাপত্তা দিল। তারা কুরায়শ ও বনূ কিনানার নারীদের বের হয়ে তাদের কাছে চলে আসতে বললো। তাদের আশংকা ছিল তাদেরকে বন্দী করা হতে পারে। কিন্তু সে নারীগণ তাদের সাথে চলে যেতে অস্বীকার করলো। তাদের মধ্যে একজন ছিল আবু সুফিয়ানের কন্যা আমিনা। সে উরওয়া ইবন মাসউদের বিবাহ বন্ধনে ছিল। উরওয়ার পুত্র দাউদ তারই গর্ভজাত সন্তান।
ইব্‌ন হিশাম বলেন: কারও মতে দাউদের মা ছিল আবূ সুফিয়ানের কন্যা মায়মূনা এবং সে ছিল উরওয়া ইব্‌ন মাসউদের পুত্র আবূ মুরা'র পত্নী। আবূ মুরার পুত্র দাউদ তার গর্ভে জন্মগ্রহণ করে।
ইবন ইসহাক বলেন: অনুরূপ আরেকজন স্ত্রীলোক ছিল সুওয়ায়দ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন ছা'লাবার কন্যা ফিরাসিয়্যা। তার গর্ভজাত সন্তান ছিল আবদুর রাহমান ইব্‌ন কারিব। অনুরূপ ফুকায়মিয়‍্যা উমায়মা বিন্ত নাসী উমাইয়া ইব্‌ন কাল্ ও তাদের সাথে যেতে অসম্মতি জানায়।
তারা সকলে অস্বীকার করলে পরে ইব্‌ন আসওয়াদ ইবন মাস'উদ তাদেরকে বললো: হে আবু সুফিয়ান ও মুগীরা! তোমরা যে উদ্দেশ্যে এসেছ তার চাইতে উত্তম কোন কিছুর প্রস্তাব তোমাদের কাছে রাখতে পারি কি? দেখ, আসওয়াদ ইবন মাসউদের পুত্রদের সম্পত্তি কোথায় তা তোমরা জান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সে সম্পত্তি ও তায়েফের মাঝখানে 'আকীক উপত্যকায় অবস্থানরত ছিলেন। আসওয়াদের পুত্রদের সে সম্পত্তি অপেক্ষা বেশী লাভজনক, জীবন নির্বাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বসবাসোপযোগী কোন সম্পত্তি আর নেই। মুহাম্মদ যদি তার ধ্বংস সাধন করেন, তবে আর কখনও তা আবাদ হবে না। কাজেই, তোমরা গিয়ে এ বিষয়ে তার সাথে আলোচনা কর। হয় তিনি তা নিজের জন্য রেখে দিন, নয়ত আল্লাহ্ তা'আলা ও আত্মীয়বর্গের জন্য তা ছেড়ে দিন। তাঁর ও আমাদের মাঝে যে আত্মীয়তার বন্ধন আছে, তা তো ভুলে যাওয়ার নয়। বর্ণনাকারীদের ধারণা, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সে সম্পত্তি তাদের জন্য রেখে দিয়েছিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ বকর (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেন

📄 আবূ বকর (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেন


আমার নিকট এ সংবাদ পৌছেছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-কে বললেন, তখন তিনি বনূ সাকীফকে অবরোধ করে ছিলেন, হে আবু বকর! আমি স্বপ্নে দেখেছি মাখন ভরা একটি পেয়ালা আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়, কিন্তু একটি মোরগ তাতে ঠোকর দেওয়ায় সবটুকু মাখন পেয়ালা হতে পড়ে যায়। আবূ বকর (রা) বললেন: আমার ধারণা আপনি এ অভিযানে বাঞ্ছিত ফল লাভ করতে পারবেন না। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: আমিও তাই মনে করি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুসলিমদের বিদায় ও তার কারণ

📄 মুসলিমদের বিদায় ও তার কারণ


এরপর উসমান (রা)-এর স্ত্রী খুওয়ায়লা বিন্ত হাকীম ইবন উমাইয়া ইবন হারিসা ইব্‌ন আওকাস সুলামিয়‍্যা বললো: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্ তা'আলা যদি আপনার হাতে তায়েফ বিজিত করেন, তা হলে বাদিয়া বিন্ত গায়লান ইবন মাজ'ঊন ইবন সালামার অলংকারগুলো কিংবা ফারি'আ বিন্ত আকীলের অলংকারগুলো আমাকে দিবেন। এরা দু'জন বনূ সাকীফের স্ত্রীলোকদের মধ্যে সব চাইতে বেশী অলংকার পরতো।
আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বলেছিলেন: হে খুওয়ায়লা! আমাকে যদি বনূ সাকীফের সাথে যুদ্ধ করার অনুমতিই দেওয়া না হয়? খুওয়ায়লা সেখান থেকে বের হয়ে আসার পর উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর নিকট সে কথা ব্যক্ত করে। উমর (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে সাক্ষাত করলেন এবং বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! খুওয়ায়লা আমার কাছে একথা কী বলল, সে বলে আপনি নাকি তার কাছে এরূপ বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমি তো বলেছি। উমর (রা) বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা কি আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণের অনুমতি দেননি? তিনি বললেন না। উমর (রা) বললেন: তা হলে আমি কি ফিরে চলার ঘোষণা দেব? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন উমর (রা) ফিরে চলার ঘোষণা দিলেন।
সকলে যখন সামান-পত্র গুটিয়ে ফেললো, তখন সাঈদ ইবন উবায়দ ইব্‌ন উসায়দ ইব্‌ন আবূ আমর ইব্‌ন ইলাজ চীৎকার করে বললো: শোন হে! গোত্রটি প্রতিষ্ঠিত থাকল। উয়ায়না ইব্‌ন হিস্স বললো: হ্যাঁ, আল্লাহ্র কসম! এরা অভিজাত ও মর্যাদাবান। জনৈক মুসলিম একথা শুনে তাকে বললো: আল্লাহ্ তোমাকে ধ্বংস করুন, হে উয়ায়না! রাসূলুল্লাহ্ (সা) হতে আত্মরক্ষা করতে পারার কারণে তুমি মুশরিকদের প্রশংসা করছ? অথচ তুমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাহায্য করার জন্যই এসেছিলে। সে বললো: আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সাথে থেকে বনূ সাকীফের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসিনি বরং আমার অভিপ্রায় ছিল মুহাম্মদ (সা) তায়েফ জয় করবেন। আমি বনূ সাকীফের একটি মেয়ে লাভ করব এবং তার সাথে মিলিত হব। হয়ত তার গর্ভে আমার কোন সন্তান জন্মলাভ করবে। বনূ সাকীফ অত্যন্ত মেধাবী সম্প্রদায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00