📄 ইন্ন ইসহাক বলেন : আব্বাস ইন্ন মিরদাস আরও বলেন
আমরা আল্লাহ্র রাসূলকে সাহায্য করেছি— তাঁর পক্ষ হয়ে, ক্রোধ-দৃপ্ত সহস্র বীরসহ, আর বর্মহীন যোদ্ধাদের তো কোন হিসাবই ছিল না।
আমরা বর্শাগ্রে বহন করি পতাকা তাঁর, মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে তাঁর সাহায্যকারী রক্ষা করে সে ঝাণ্ডা, আমরা করি তা রক্তে রঞ্জিত, হুনায়নের যুদ্ধে সেটাই হয় তার রঙ, যেদিন সাওয়ান ছোঁড়ে বর্শা তার।
আমরা ইসলাম রক্ষায় ছিলাম তাঁর দক্ষিণ বাহু, আমাদেরই উপর ছিল পতাকার ভার ও তা ওড়ানোর দায়িত্ব।
আমরা ছিলাম শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁর দেহরক্ষী।
তিনি তাঁর ব্যাপারে আমাদের পরামর্শ নিতেন, আমরাও নিতাম পরামর্শ তাঁর।
তিনি আমাদের ডেকে নেন তাঁর অন্তরংগ ও অগ্রগণ্য করে, আর আমরা ছিলাম তাঁর সাহায্যকারী, তাঁর অপ্রিয়দের হতে।
আল্লাহ্ তাঁর নবী মুহাম্মদকে দিন উত্তম প্রতিদান এবং তাকে শক্তিশালী করুন আপন সাহায্যে; বস্তুত আল্লাহ্ই তাঁর সাহায্যকারী।
ইবন হিশাম বলেন : وكنا على الاسلام হতে শেষ পর্যন্ত জনৈক বাক্যবিশারদ আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি এর পূর্ববর্তী حملنا له في عامل الرمع راية শ্লোকটি সম্পর্কে নিজ অজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার পূর্বে শ্লোক : وشاهره وكان لنا عقد اللواء ونحن خضبناه এবং দমা فهو لونه আমাকে আবৃত্তি করে শোনান।
ইবন ইসহাক বলেন: আব্বাস ইব্ন মিরদাস আরও বলেন: কে সকল সম্প্রদায়কে পৌঁছে দেবে এ বার্তা যে, মুহাম্মদ আল্লাহ্র রাসূল, যেখানেই যান পান সঠিক পথের দিশা।
তিনি ডাক দিলেন আল্লাহকে এবং যাচনা করলেন এক আল্লাহ্রই সাহায্য। ফলে তিনি ওয়াদা পূর্ণ করলেন আর করলেন অনুগ্রহ।
আমরা যাত্রা করলাম এবং কুদায়দে গিয়ে মুহাম্মদের সঙ্গে মিলিত হলাম। আল্লাহ্ পক্ষ হতে তিনি আমাদের জন্য করলেন এক মজবুত সংকল্প।
তারা প্রভাতকালে আমাদের সম্পর্কে পড়লো সন্দেহে, অবশেষে প্রভাত থাকতেই তারা স্পষ্ট দেখলো একদল জোয়ান আর ঋজু বর্শা।
সওয়ার তাজী ঘোড়ার উপর। আমাদের দেহে বাঁধা বর্ম। আর একদল ছিল পদাতিক, স্রোতধারার মত বহমান বিশাল বাহিনী।
যদি জানতে চাও বলি, গোত্র-শ্রেষ্ঠ তো সুলায়ম, আর তাদের মধ্যে আছে এমন কিছু লোক যারা নিজেদের সুলায়ম গোত্রীয় বলে পরিচয় দেয়।
আর আনসারদের একটি বাহিনী, যারা তাকে পরিত্যাগ করেনি, করেছে সদা তাঁর আনুগত্য, কোন কথা করেনি তাঁর অমান্য।
তুমি যদি খালিদকে দলনেতা নিযুক্ত করে থাক, করে থাক তাকে অগ্রগামী, সে তো অগ্রগামী হয়েছে একটি বাহিনী নিয়ে। আল্লাহ্ তাকে দেখিয়েছেন সঠিক পথ।
আর তুমি তো তার আমীর রয়েছই। তাঁর দ্বারা জালিমকে তুমি সত্যের পক্ষে কর শায়েস্তা।
আমি মুহাম্মদের কাছে শপথ করেছিলাম সত্য সঠিক। লাগাম-বদ্ধ সহস্র সৈন্য দিয়ে আমি তা করেছি রক্ষা।
মু'মিনদের নবী বললেন: অগ্রসর হও তোমরা, আসলে অগ্রগামী থাকার প্রতি আমাদের ছিল দারুণ আগ্রহ।
আমরা রাত কাটালাম মুসতাদীর কুয়ার পাশে। আমাদের ছিল না কোন শঙ্কা, ছিল প্রাণচাঞ্চল্য ও কঠিন সংকল্প।
আমরা তোমার আনুগত্য করলাম, শেষতক সব লোক করল আত্মসমর্পণ এবং ইয়ালামলামবাসীদের¹ প্রতি উষাকালে করলাম আক্রমণ।
সাদা-কালো রক্তিমাভ ঘোড়াটি হারিয়ে গেল ভীড়ের মধ্যে दलনেতা ঘোড়াটি চিহ্নিত করতে না পারা পর্যন্ত শান্তি পেলেন না।
আমরা ওদের আক্রমণ করলাম প্রাতঃতাড়িত বুনো হাঁসের মত। তুমি থাকলে দেখতে, তারা প্রত্যেকে ভাইকে ছেড়ে আপনাকে বাঁচাতে ব্যস্ত।
এভাবে সকাল থেকে রণব্যস্ত থাকলাম। অবশেষে সন্ধ্যাকালে হুনায়ন ত্যাগ করলাম। তখন তার নালাগুলোতে বহমান রক্তের ধারা।
তুমি ইচ্ছা করলেই সেখানে দেখতে পাবে ইতস্ততঃ পড়ে আছে তাজী ঘোড়া সব, তাদের পতিত সওয়ারগণ, আর ভাঙা বর্শা।
হাওয়াযিন তাদের মালামাল রক্ষা করেছিল আমাদের থেকে। বড়ই আশাবাদী ছিল তারা আমরা ব্যর্থমনোরথ হব, সাফল্য লাভে হব বঞ্চিত!
📄 যামযাম ইবন হারিস আরও বলেন
হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে যামযাম ইবন হারিস ইন জুশাম ইব্ আব্দ ইব্ন হাবীব ইবন মালিক ইব্ন আওফ ইব্ন ইয়াকজা ইব্ন উমাইয়া সুলামী নিম্নের কবিতাটি আবৃত্তি করেন। বনূ সাকীফ কিনানা ইবন হাকাম ইব্ন্ন খালিদ ইব্ন শারীদকে হত্যা করেছিল, যার প্রতিশোধ স্বরূপ তিনি সাকীফ গোত্রীয় মিহজান ও তার এক চাচাত ভাইকে হত্যা করেন। তিনি বলেন: আমরা ঘোড়া ছুটালাম ধীরে জুরাশ'-এর যায়্যার' ও ফাম্বাসীর দিকে- সিংহ-শাবকদের সাথে লড়াই করার লক্ষ্যে এবং আমাদের পূর্বে ধ্বংস করা হয়নি এমন দেব মন্দিরগুলোর উদ্দেশে।
তোমরা যদি গর্ব করে থাক ইব্ন শারীদকে হত্যা করে, তবে শোন, আমি ওয়াজজে' একদল বিলাপকারিণীর পর রেখে এসেছি আরেকদল বিলাপকারিণী।
ইব্ন শারীদের বদলে আমি তাদের দু'জনকে হত্যা করেছি। তাকে ধোঁকা দিয়েছে তোমাদের আশ্রয়, অথচ সে নিন্দিত ব্যক্তি ছিল না।
আমাদের বল্লম নিপাত করেছে ছাকীফের বহু লোককে, আর আমাদের তরবারি তাদের করেছে মারাত্মক যখম।
তোমার কাছের যাদের স্ত্রী আছে তাদের পৌঁছাও একটি কথা, বিশ্বাস করো না কখনও নারী জাতিকে সেই রমণীর পর, যে বলেছিল তার প্রতিবেশিনীকে, যোদ্ধা যদি বাড়িতে অবস্থান করত, তাহলে আমিও থাকতাম।
যখন সে দেখল একটি লোক, যার বর্ণ প্রচণ্ড গরমের দেশের খরতাপ করে তুলেছে তামাটে, অস্থিসার দেহ যার।
শেষ রাতে সে তাকে দেখল বর্ম পরিধানরত যুদ্ধযাত্রার জন্য।
যখন আমি সওয়ার ছিলাম খাঁটো লোমের ঘোড়ার পিঠে মোটা জিনের উপর। আমার পরিধেয় বস্ত্রের সাথে সন্নিহিত ছিল তরবারির খাপ।
কখনও আমি তৎপর গনীমত কুড়ানোর কাজে, কখনও বা লিপ্ত থাকি আনসারদের সাথে মুজাহিদরূপে।
প্রায় সকল জংলাভূমি আমি পার হয়ে যাই ধীর পদক্ষেপে আর সব ঢালুভূমিও। যাতে আমি ওলট পালট করে দেই তার যত প্রয়োজন।
আর ওই পাপিষ্ঠা তো চায় আমি আর না ফিরি।
ইবন হিশাম বলেন: আমার নিকট আবু উবায়দা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহায়র ইব্ন আজওয়া হুযালী হুনায়নের যুদ্ধে বন্দী হয়। পেছন দিক থেকে তার হাত বেঁধে দেওয়া হয়। জামীল ইব্ন মা'মার জুমাহী তাকে দেখে বলে উঠে : তুমিই আমাদের বিরুদ্ধে আক্রোশ ছড়িয়ে বেড়েয়িছিলে? এই বলে সে তাকে হত্যা করে। আবূ খিরাশ হুযালী তার প্রতি শোক জ্ঞাপন করে নিম্নের কবিতাটি আবৃত্তি করে, সে ছিল তার চাচাত ভাই :
জামীল ইব্ন মা'মার মেহমানদের দুর্বল করে দিয়েছে, এমন এক দানবীরকে হত্যা করে, যার কাছে এসে আশ্রয় নিত যতসব অভাবগ্রস্ত লোক।
যার তরবারির খাপ ছিল সুদীর্ঘ। সে তো বেঁটে ছিল না, যখন করত নড়াচড়া। আর তার তরবারির পেটিও ছিল লম্বা।
যখন উত্তরা বায়ু তাকে শ্রান্ত করে ফেলত, তখনও সে দানশীলতার কারণে তার দু'হাতে চাদরও অন্যকে সমর্পণ করত।
শীতকালে দরিদ্র লোক তার ঘরে এসে আশ্রয় নিত। জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত রাতের দীন মুসাফির শৈত্য প্রবাহে- কাতর হয়ে তার কাছে এসে শান্তি লাভ করত, যখন সান্ধ্যকালীন ঝড়ো হাওয়া প্রবল বেগে বয়ে চলত, আর সে কোন আশ্রয়ের সন্ধান করত।
সেই গৃহবাসীদের অবস্থা কী, যারা পরস্পর ছিল না বিচ্ছিন্ন, তবে তাদের তীক্ষ্ণভাষী সরদার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।
আমি কসম করে বলছি, তুমি যদি তার মুকাবিলা করতে, আর সে না হত শৃংখলিত। তা হলে তোমার কাছে আনাগোনা করত পাহাড়ী শেয়াল।
তার সাথে সাক্ষাতকালে তুমি যদি তার সাথে সম্মুখ যুদ্ধের আহবান জানাতে, কিংবা সম্মুখ সমরে আহবানকারীদের মধ্যে শামিল হতে, তা হলে জামীলই হত সম্প্রদায়ের মধ্যে সব চাইতে নিকৃষ্টতম ধরাশায়ী ব্যক্তি।
তবে, পশ্চাৎ দিক হতে আক্রমণকারী প্রতিপক্ষকে কাবুতেই পেয়ে যায়।
হে উম্মু সাবিত! এটা তো গৃহের অন্তরঙ্গ পরিবেশ নয়, বরং এখানে শেকল গলা বেষ্টন করে আছে।
যুবা গেছে বৃদ্ধের মত হয়ে, সত্য ব্যতিরেকে সে আর কিছুই করতে পারে না।
নিন্দাকারিণীরাও এখন নিয়েছে বিশ্রাম।
অন্তরঙ্গ ভ্রাতৃবর্গ হয়ে গেল এমন, যেন তাদের উপর কেউ মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে।
তুমি মনে করো না আমি মক্কার সে রাতগুলোর কথা ভুলে গিয়েছি, যখন আমাদের ইচ্ছায় কেউ অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারত না।
যখন মানুষ, মানুষ ছিল 'এবং শহরে এক প্রকার ঔদাসিন্য বিরাজ করছিল এবং যখন আমাদের জন্য কোন প্রবেশ পথ করা হত না রুদ্ধ।
ইবন ইসহাক বলেন: হুনায়নের যুদ্ধে স্বীয় পশ্চাদপসরণের অজুহাত প্রদর্শন করতে গিয়ে মালিক ইব্ন আওফ বলেন:
আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে, রাস্তার মোড়ের কান-কাটা উট, ফলে এক মুহূর্তও আমার চোখ বন্ধ হয়নি।
হাওয়াযিনকে জিজ্ঞাসা কর, আমি তাদের শত্রুর ক্ষতি সাধন করি কি না এবং তাদের কেউ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে তার সাহায্য করি কি না?
কত সৈন্যবাহিনীকেই তো আমি মিলিয়ে দিয়েছি অন্য বাহিনীর সাথে। তাদের দু'দলের এক দল বর্ম পরিহিত অন্য দল বর্মবিহীন।
এমন কত রণক্ষেত্র রয়েছে। যেখানকার সঙ্কটাবস্থার কারণে বহুজনই অক্ষমতা স্বীকার করেছে, আর সেক্ষেত্রে আমাকে করা হয়েছে অগ্রবর্তী।
আমার সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষদর্শীরা তা ভালভাবেই অবগত।
আমি যে রণক্ষেত্রের ঘাটে অবতরণ করেছি, তার লোকজনকে পানি তুলতে দিয়েছি। বলা বাহুল্য, তার পানি তো রক্ত ছাড়া কিছু নয়।
যখন তার সঙ্কটাবস্থা দূর হয়ে যায়, তখন তা আমাকে উত্তরাধিকারী করে যায় এক সম্মানজনক জীবনের এবং গনীমতের অংশের যা বণ্টন করা হয়।
তোমরা আমাকে মুহাম্মদের খান্দান-কৃত অপরাধে অভিযুক্ত করেছ, কিন্তু আল্লাহই ভাল জানেন কে, বেশী নাফরমান এবং কে বেশী জালিম।
আমি যখন একাকী লড়াই করি, তখন তোমরা আমার কোন সাহায্য করনি। আর যখন খাছ'আম গোত্র সমরে লিপ্ত হয়, তখনও তোমরা আমাকে পরিত্যাগ কর।
আমি যখন মর্যাদার ভিত্তি স্থাপন করতাম, তখন তোমাদের কতিপয় লোক তা ধ্বংস করে দিত।
ধ্বংসের স্থপতি ও তার বিনাশক কখনও সমান হতে পারে না।
শীত মৌসুমের সরু কোমর ও ক্ষীণ উদরবিশিষ্ট বহু লোক, যারা সম্মান অর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, সম্মানজনক পরিবেশে লালিত পালিত হয় এবং এমনিতেও সম্মানী, আমি ইয়ামনের কালো দাঁতালো বর্শা তাদের দেহে করেছি বিদ্ধ।
আর তাঁর স্ত্রীর এমন দশা করে ছেড়েছি যে, সে তার স্বামীকে ফিরিয়ে নেয় আর বলে, রণক্ষেত্র অমুকের জন্য নয়।
আমি পূর্ণ অস্ত্র সজ্জিত হয়ে নিজেকে বর্শার লক্ষ্যস্থলে পরিণত করেছি, আমি যেন (তীরন্দাজি শেখার) সেই বৃত্ত, যাকে বৈধ মনে করে এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেলা হয়।
ইবন ইসহাক বলেন: হাওয়াযিন সম্পর্কে জনৈক ব্যক্তি নিম্নের কবিতাটি রচনা করে। এতে সে মালিক ইব্ন আওফের সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে। কবিতাটি তার ইসলাম গ্রহণের পরে রচিত।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের অগ্রসর হওয়ার কথা স্মরণ কর, যখন তারা হয় সংঘবদ্ধ, আর মালিকের উপর পতাকাগুলো উড়ছিল পতপত করে।
আর মালিক তো মালিকই, হুনায়নের দিন কেউ ছিল না তার উপরে। তার মাথায় শোভা পাচ্ছিল মুকুট।
যুদ্ধের ঘনঘটাকালে তারা হয়ে উঠল প্রচণ্ড সাহসী। তাদের মাথায় শিরস্ত্রাণ, দেহে বর্ম এবং হাতে ঢাল, তারা প্রতিপক্ষের উপর আঘাত হানলো।
এক সময় দেখলো, নবীর চারপাশে কেউ নেই, এমন কি তিনি আচ্ছন্ন ধূলোর আস্তরণে।
অনন্তর তাঁদের সাহায্যার্থে আকাশ থেকে নেমে এলেন জিবরাঈল। ফলে, আমরা হলাম পরাস্ত ও বন্দী।
যদি জিবরাঈল ছাড়া অন্য কেউ লড়াই করতো আমাদের সাথে। তাহলে আমাদের উৎকৃষ্ট তরবারিগুলো ঠিকই আমাদের রক্ষা করত।
তারা যখন পশ্চাদপসরণ করেছিল, তখন উমর ফারূক আমাদের একটি বর্শার আঘাত খেয়ে পালিয়ে গেল, রক্তধারায় সিক্ত হয়ে গিয়েছিল তার জিন।
হুনায়নের যুদ্ধে বনূ জুশামের জনৈকা রমণীর দুই ভাই নিহত হয়েছিল। তাদের শোকে সে নিম্নের কবিতাটি রচনা করে:
হে আমার চক্ষুদ্বয়! মালিক ও আলা উভয়ের প্রতি অশ্রু বর্ষণ কর, কার্পণ্য করো না মোটেই।
তারা আবূ আমিরের হন্তা, যে ছিল এক সুদক্ষ তরবারি খেলোয়াড়।
তারা তাকে ফেলে রাখল রক্তরঞ্জিত অবস্থায়। সে টলছিল রক্তধারায়, তার কোন আশ্রয়দাতা ছিল না।
সা'দ ইব্ন বক্র গোত্রীয় আবূ সাওয়াব ইব্ন যায়দ ইব্ন সুহার নিম্নের কবিতাটি রচনা করে:
ওহে! তুমি কি সংবাদ পেয়েছ, কুরায়শরা পরাস্ত করেছে হাওয়াযিনকে?. ভাগ্য বিপর্যের পেছনে থাকে বহু কারণ।
হে কুরায়শ! একটা সময় ছিল, যখন আমরা ক্রুদ্ধ হলে, সে ক্রোধে প্রবাহিত হত তাজা রক্ত।
একটা সময় ছিল হে কুরায়শ! যখন আমরা রেগে গেলে মনে হত যেন আমাদের নাকে নস্যি রাখা।
কিন্তু এখন কুরায়শরা আমাদের হেঁকে তাড়াচ্ছে, যেভাবে গান গেয়ে গেয়ে উট খেদানো হয়।
এখন আমাকে অপমান স্বীকার করতে বলা হলে, অস্বীকার করতে পারি না। আবার হাস্যমুখে বিনীতও হতে পারি না তাদের সামনে।
শীঘ্রই প্রত্যেক গলিতে তাদের গোশতের বেসাতি হবে, এবং তাদের কানে তাদের আমলনামা লটকিয়ে দেওয়া হবে।
ইবন হিশাম বলেন। আবু সাওয়াবের পিতা ও দাদার নাম যথাক্রমে যিয়াদ ও সাওয়াবও বলা হয়ে থাকে। খালাফ আল-আহমার "يمجئ من الغضاب دم عبيط " শীর্ষক শ্লোকটি আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, আর শেষের শ্লোকটি ইবন ইসহাক ভিন্ন অপর সূত্রে প্রাপ্ত।
ইবন ইসহাক বলেন, বনূ তামীমের শাখা বনূ আসাদের আবদুল্লাহ্ ইব্ন ওয়াহাব উপরিউক্ত কবিতার জবাবে বলেন:
আমরা যাদের সাথে লড়াই করি, তাদের আঘাত হানি আল্লাহর কারণে। তোমরা যত কারণ দেখেছ, এটা তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম কারণ।
হে হাওয়াযিন! আমরা যখন পরস্পর মুখোমুখি হলাম, দুশমনের মাথার খুলি তাজা রক্তে করছিলাম সিক্ত।
তোমাদের আর বনূ কাসীর সম্মিলিত বাহিনীর বুকের হাড় বৃত্তচ্যুত পত্রের মত করলাম পিষ্ট।
আমরা তোমাদের বহু নেতাকে করেছি হত্যা। আর তোমাদের পরাজিত ও যুদ্ধরত যোদ্ধাদের হত্যা করতে প্রবত্ত হই।
রণক্ষেত্রে মুলতাছ পড়ে থাকল দু'হাত বিছিয়ে জোয়ান উটের দীর্ঘশ্বাসের মত সে শেষ নিঃশ্বাস টানছিল।
কায়স আয়লান যদি ক্রুদ্ধ হয়ে থাকে। তো আমার নস্যি তাকে ঠিকই বশ মানাবে।
খাদীজ ইব্ন আওজা নাসরী বলেন:
আমরা যখন হুনায়ন ও তার পানির নিকটবর্তী হলাম, তখন নান রকম কদর্য রঙের কিছু ছায়ামূর্তি দেখতে পেলাম।
তারা ছিল ঝলমলে অস্ত্রধারী এক বিশাল বাহিনীর সাথে। তারা সে বাহিনী 'উত্তয়া পর্বত শীর্ষে ছুঁড়ে মারলে- বুঝি বা তা সমতল ভূমিতে পরিণত হত।
আমার সম্প্রদায়ের নেতারা যদি মানত আমার কথা, তা হলে আমরা হতাম না এই বিপদের সম্মুখীন, মুকাবিলা করতে হত না আমাদের মুহাম্মদ-খান্দানের আশি হাজার সৈন্যের, তদুপরি যাঁরা লাভ করেছিল খিন্দিফ গোত্রের সহযোগিতা।
টিকাঃ
১. তায়েফের একটি স্থান।