📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে কথিত কবিতাবলী

📄 হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে কথিত কবিতাবলী


বুজায়র ইবন যুহায়র ইবন আবু সুলামী হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে বলেন:
আল্লাহ্ ও তাঁর বান্দাহ না হলে ঠিকই তোমরা পালাতে,
যখন ত্রাস সকল কাপুরুষকে করেছিল কাবু।
উপত্যকার ঢালুতে যেদিন আমাদের মুখোমুখি হল সমকক্ষ শত্রু, তাজী ঘোড়াগুলো সব পড়ে যাচ্ছিল মুখ থুবড়ে।
কেউ দৌড়াচ্ছিল হাতে কাপড়ে নিয়ে। আর কোন অংশ ছিটকে পড়ছিল কাত হয়ে, কোনটি খুব আর বুক উল্টিয়ে।
আল্লাহ্ আমাদের সম্মান বাঁচালেন, জয়ী করলেন আমাদের দ্বীনকে আর করলেন বলিয়ান রহমানের ইবাদতের বদৌলতে।
আল্লাহ্ তাদের করলেন ধ্বংস, করে দিলেন ছত্রভঙ্গ, আর তাদের করলেন পদদলিত শয়তানের দাসত্ব হেতু।
ইবন হিশাম বলেন : কুতক বর্ণনাকারী এ কবিতার মাঝে আরও উল্লেখ করেন :
যখন তোমাদের নবীর চাচা ও তাঁর অভিভাবক দাঁড়ালেন সতেজে,
হেঁকে বললেন, ওহে ঈমানের সেনাদল!
কোথায় তারা, যারা সাড়া দিয়েছিল তাদের প্রতিপালকের ডাকে, বদর প্রান্তরে কিংবা বায়আতুর রিদওয়ানে?

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস আরও বলেন

📄 আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস আরও বলেন


নিশ্চয়ই আমি, কসম সব তেজস্বী ঘোড়ার, আর রাসূল যা পাঠ করেন কিতাব হতে তার, গুণী হয়েছি, বনু সাকীফের দুর্দশায়, এবং যে শান্তি ভোগ করেছে তারা গিরিপথ-প্রান্তে।
তারাই নজদবাসীদের প্রধান শত্রু, তাদের নিধন সুমিষ্ট পানীয়ের চাইতেও মধুর।
কাশী গোত্রের সেনাদলকে আমরা করেছি পরাস্ত, ফলে, যুদ্ধের সব চাপ পড়ে বনু রিআবের উপর।
আওতাসে বনু হিলালের একটা পাড়া— প্রচণ্ড ধুলায় হয় সমাচ্ছন্ন।
যদি সাক্ষাত হত বনু কিলাবের সৈন্যদের সাথে, তবে উৎক্ষিপ্ত ধুলো দেখে উঠে পড়ত তাদের নারীকুল।
বুস হতে আওরাল পর্যন্ত সর্বত্র- আমরা অশ্ব হাঁকিয়েছি সবেগে, কুড়িয়েছি গনীমত।
বিশাল বাহিনীসহ, যাদের শোরগোলে ছিল চারদিক মুখরিত। তাদের মাঝখানে আল্লাহ্র রাসূল, তাঁর বাহিনী আঘাত হানতে অগ্রসরমান।
ইবন হিশাম বলেন : تعفر بالتراب শব্দ ইবন ইসহাক ভিন্ন অন্য সূত্রে প্রাপ্ত। ইবন হিশামের বর্ণনা মতে আতিয়্যা ইব্‌ন উফায়্যিফ নিসরী উপর্যুউক্ত কবিতার জবাব দেয় এবং বলে:
রিফাআ কি হুনায়নের ব্যাপারে গর্ব করে? এবং আব্বাস, যে দুধবিহীন ভেড়ীর পোষ্য?
তোমার অহংকার সেই গর্বিণী দাসীর মত, যার গায়ে তার কর্ত্রীর পোশাক, বাকী অংগে জীর্ণ চামড়া।
ইবন ইসহাক বলেন: হুনায়নের যুদ্ধ নিয়ে আব্বাস যখন হাওয়াযিনদের অতিষ্ঠ করে তোলে, তখনই আতিয়্যা ইব্‌ন উফায়্যিফ উপরি-উক্ত মন্তব্য করে। রিফাআ ছিল বনূ জুহায়নার লোক।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে আরও বলেন

📄 আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে আরও বলেন


'হে নবীদের সীলমোহর, তুমি তো প্রেরিত সত্যসহ। যত সত্য-সঠিক পথ তার দিশা তোমারই দেওয়া।
আল্লাহ্ তাঁর মাখলুকের মাঝে করেছেন প্রতিষ্ঠিত— তোমার ভালবাসা, নাম রেখেছেন তোমার মুহাম্মদ।
যারা তোমার গৃহীত প্রতিশ্রুতি করেছে রক্ষা, তারা একটি সেনাদল, তাদের প্রতি পাঠিয়েছ তুমি যাহ্হাককে যে ছিল একজন তীক্ষ্ণ অস্ত্রধারী যোদ্ধা।
যখন সে হল শত্রুবেষ্টিত, তখন দেখল তোমাকে। অনন্তর সে তার নিকট আত্মীয়বর্গকে করল আক্রমণ।
তার তো একই লক্ষ্য সন্তুষ্টি রহমানের, আর তোমার।
আমি তোমাকে জানাচ্ছি, তাকে দেখেছি আমি আক্রমণরত ধূলিমেঘের ভেতর থেকে। চূর্ণ করছে মস্তক মুশরিকদের।
কখনও বা দু'হাতে তাদের টিপে ধরছে টুটি, কখনও তীক্ষ্ণ তলোয়ারে তাদের মস্তক করছে খণ্ড বিখণ্ড।
কখনও তরবারিতে উড়িয়ে দিচ্ছে গুপ্ত ঘাতকের খুলি, সত্যিই তুমি যদি দেখতে যা দেখেছি আমি, হৃদয় জুড়াত তোমার।
বনু সুলায়ম তার আগে আগে ছিল ধাবমান, শত্রুর প্রতি উপর্যুপরি আঘাত হানতে-হানতে।
তারা চলছিল তার পতাকাতলে সে যেন একদল বনের সিংহ, তৎপর আবাস প্রতিরক্ষায়।
তারা আত্মীয়ের কাছে আশাবাদী নয় আত্মীয়তার, আল্লাহর আনুগত্যই তাদের অভিপ্রেত, আর তোমার ভালবাসা।
এই ছিল আমাদের রণকীর্তি, যে জন্য আমাদের খ্যাতি, প্রকৃতপক্ষে আমাদের অভিভাবক তো তোমার প্রভু।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে আরও বলেন

📄 আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে আরও বলেন


ওহে উম্মু ফারওয়া! যদি দেখতে আমাদের তাজী ঘোড়াগুলো। কোনটি ছিল সওমারীহীন; যাকে নেওয়া হচ্ছিল টেনে, কোনটি খোঁড়া। উপর্যুপরি যুদ্ধ ওদের করেছে ক্লান্ত, ক্ষতস্থান হতে নির্গত হচ্ছে অনবরত রক্তধারা। কত নারী এখন বলছে, আমাদের দাপট তাদের শান্তি দিয়েছে, যুদ্ধের কঠিন ঘাত হতে, করেছে তাকে শংকামুক্ত। প্রথম সেই প্রতিনিধিদলের মত আর প্রতিনিধি দল নাই, তারা আমাদের জন্য মুহাম্মদের রজ্জুতে দিয়েছে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। প্রতিনিধি হয়ে এসেছিল আবূ কুতন হুযাবা আর ছিল আবুল-গুয়ূস, ওয়াসি ও মিকনা। তিনি নিয়ে এসেছিলেন একশ' সৈন্য, ফলে নয়শ' পৌছুলো হাজারের কোঠায়। বনু আওফ ও মুখাশিনের দল জোগায় আরও ছয়শ সেই সাথে খুফাফ গ্রোত্র চারশত। নবী যখন আমাদের হাজার সৈন্যের সহযোগিতায় হলেন জয়ী, তুলে দিলেন আমাদের হাতে আন্দোলিত পতাকা। সে পতাকাতলে আমরা করলাম জয়লাভ। তার দায়িত্ব অর্পিত হল এক মহানুভব ব্যক্তিত্বের উপর, যার নেতৃত্ব ছিল অব্যাহত।
যে দিন আমরা মক্কা উপত্যকায় ছিলাম নবীর পার্শ্বে তার এক ডানা স্বরূপ, যখন আন্দোলিত হচ্ছিল বর্শা। যে ছিল আমাদের প্রতিপালকের দিকে প্রকৃত আহবানকারীর ডাকের এক সাড়া বিশেষ।
আমাদের মধ্যে কেউ ছিল শিরস্ত্রাণবিহীন, কেউ বা শিরস্ত্রাণ পরিহিত। কারও পরিধানে ছিল বাছাইকৃত বড়-সড় বর্ম, লোহার তারে যা বুনেছিল দাউদ ও তুব্বা।¹
হুনায়নের দুই কুয়ার পাদদেশে ছিল আমাদের বাহিনী, যারা ঘোর মুনাফিকের মস্তক করে চূর্ণ, আর যারা ছিল অবিচল পাহাড়ের মত।
আমাদের দ্বারা নবী হন সাহায্যপ্রাপ্ত। বস্তুত আমরা এমন এক দল যে, যে কোন জরুরী অবস্থায় আসি উপকার-অপকারে। আমরা সেদিন বর্শা দ্বারা হাওয়াযিনকে করি প্রতিহত।
উৎক্ষিপ্ত ধূলায় আমাদের তাজী ঘোড়া হয়েছিল সমাচ্ছন্ন।
যখন নবী তাদের দাপটে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিলেন, আর তারা ধেয়ে এসেছিল সুগঠিত নাহিনী নিয়ে, যার তেজে সূর্যও প্রায় হয়ে যাচ্ছিল নিষ্প্রভ।
তখন ডাকা হয়েছিল বনু জুশামকে, আর তার মাঝে নাসরের সকল শাখা-শাখাকে, যখন চলছিল বর্শা বৃষ্টি।
অবশেষে নবী মুহাম্মদ (সা) বললেন: হে বনূ সুলায়ম! তোমরা তোমাদের ওয়াদা পূর্ণ করেছ, এবার ক্ষান্ত হও।
আমরা চলে গেলাম। আমরা না থাকলে তাদের শক্তিমত্তা ক্ষতি সাধন করতে পারত মু'মিনদের এবং বাঁচাতে পারত যা তারা করেছিল অর্জন。

টিকাঃ
১. তুব্বা-ইয়ামানের প্রাচীন বাদশাহদের উপাধি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00