📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হুনায়ন যুদ্ধে যারা শহীদ হন

📄 হুনায়ন যুদ্ধে যারা শহীদ হন


ইবন ইসহাক বলেন: হুনায়নের যুদ্ধে যে সকল মুসলিম শাহাদত লাভ করেন, এস্থলে তাদের নাম প্রদত্ত হলো:
১. কুরায়শের শাখা বনু হাশিমের আয়মান ইবন উবায়দ (রা)।
২. বনূ আসাদ ইব্‌ন আবদুল-উয্যার-ইয়াযীদ ইব্‌ন যা'আ ইব্‌ন আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব ইব্‌ন আসাদ (রা)। জানাহ নামের তাঁর ঘোড়াটি তাকে পিঠ থেকে ফেলে দেয় এবং এতেই তার মৃত্যু হয়।
৩. আনসারদের আজলান গোত্রীয় সুরাকা ইবন হারিস ইবন আদি (রা)।
৪. আশ'আরীদের মধ্যে হতে আবু আমির আশ'আরী (রা)।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হুনায়নের বন্দী ও মালামাল

📄 হুনায়নের বন্দী ও মালামাল


এরপর হুনায়নের বন্দী ও মালামাল রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সামনে উপস্থিত করা হয়। মূলত: সস্পদের দায়িত্বে ছিলেন মাসউদ ইবন আমর গিফারী (রা)। রাসূলুল্লাহ (সা) মালামালসহ বন্দীদেরকে যীররানায়ে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে তাদের আটকে রাখা হয়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে কথিত কবিতাবলী

📄 হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে কথিত কবিতাবলী


বুজায়র ইবন যুহায়র ইবন আবু সুলামী হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে বলেন:
আল্লাহ্ ও তাঁর বান্দাহ না হলে ঠিকই তোমরা পালাতে,
যখন ত্রাস সকল কাপুরুষকে করেছিল কাবু।
উপত্যকার ঢালুতে যেদিন আমাদের মুখোমুখি হল সমকক্ষ শত্রু, তাজী ঘোড়াগুলো সব পড়ে যাচ্ছিল মুখ থুবড়ে।
কেউ দৌড়াচ্ছিল হাতে কাপড়ে নিয়ে। আর কোন অংশ ছিটকে পড়ছিল কাত হয়ে, কোনটি খুব আর বুক উল্টিয়ে।
আল্লাহ্ আমাদের সম্মান বাঁচালেন, জয়ী করলেন আমাদের দ্বীনকে আর করলেন বলিয়ান রহমানের ইবাদতের বদৌলতে।
আল্লাহ্ তাদের করলেন ধ্বংস, করে দিলেন ছত্রভঙ্গ, আর তাদের করলেন পদদলিত শয়তানের দাসত্ব হেতু।
ইবন হিশাম বলেন : কুতক বর্ণনাকারী এ কবিতার মাঝে আরও উল্লেখ করেন :
যখন তোমাদের নবীর চাচা ও তাঁর অভিভাবক দাঁড়ালেন সতেজে,
হেঁকে বললেন, ওহে ঈমানের সেনাদল!
কোথায় তারা, যারা সাড়া দিয়েছিল তাদের প্রতিপালকের ডাকে, বদর প্রান্তরে কিংবা বায়আতুর রিদওয়ানে?

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস আরও বলেন

📄 আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস আরও বলেন


নিশ্চয়ই আমি, কসম সব তেজস্বী ঘোড়ার, আর রাসূল যা পাঠ করেন কিতাব হতে তার, গুণী হয়েছি, বনু সাকীফের দুর্দশায়, এবং যে শান্তি ভোগ করেছে তারা গিরিপথ-প্রান্তে।
তারাই নজদবাসীদের প্রধান শত্রু, তাদের নিধন সুমিষ্ট পানীয়ের চাইতেও মধুর।
কাশী গোত্রের সেনাদলকে আমরা করেছি পরাস্ত, ফলে, যুদ্ধের সব চাপ পড়ে বনু রিআবের উপর।
আওতাসে বনু হিলালের একটা পাড়া— প্রচণ্ড ধুলায় হয় সমাচ্ছন্ন।
যদি সাক্ষাত হত বনু কিলাবের সৈন্যদের সাথে, তবে উৎক্ষিপ্ত ধুলো দেখে উঠে পড়ত তাদের নারীকুল।
বুস হতে আওরাল পর্যন্ত সর্বত্র- আমরা অশ্ব হাঁকিয়েছি সবেগে, কুড়িয়েছি গনীমত।
বিশাল বাহিনীসহ, যাদের শোরগোলে ছিল চারদিক মুখরিত। তাদের মাঝখানে আল্লাহ্র রাসূল, তাঁর বাহিনী আঘাত হানতে অগ্রসরমান।
ইবন হিশাম বলেন : تعفر بالتراب শব্দ ইবন ইসহাক ভিন্ন অন্য সূত্রে প্রাপ্ত। ইবন হিশামের বর্ণনা মতে আতিয়্যা ইব্‌ন উফায়্যিফ নিসরী উপর্যুউক্ত কবিতার জবাব দেয় এবং বলে:
রিফাআ কি হুনায়নের ব্যাপারে গর্ব করে? এবং আব্বাস, যে দুধবিহীন ভেড়ীর পোষ্য?
তোমার অহংকার সেই গর্বিণী দাসীর মত, যার গায়ে তার কর্ত্রীর পোশাক, বাকী অংগে জীর্ণ চামড়া।
ইবন ইসহাক বলেন: হুনায়নের যুদ্ধ নিয়ে আব্বাস যখন হাওয়াযিনদের অতিষ্ঠ করে তোলে, তখনই আতিয়্যা ইব্‌ন উফায়্যিফ উপরি-উক্ত মন্তব্য করে। রিফাআ ছিল বনূ জুহায়নার লোক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00