📄 হুনায়ন সম্পর্কে আল্লাহ্ যা অবর্তীণ করেন : ইবন হিশাম বলেন
لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ وَيَوْمَ حُنَيْنِ إِذْ basics a c k baat اعجبتكم كثرتم وَذَلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ পর্যন্ত আয়াত দু'টি নাযিল করেন।
অর্থ: আল্লাহ্ তোমাদের তো সাহায্য করেছেন বহু ক্ষেত্রে এবং হুনায়নের যুদ্ধের দিনে, যখন তোমাদের উৎফুল্ল করেছিল তোমাদের সংখ্যাধিক্য; কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল। তারপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে। এরপর আল্লাহ্ তাঁর নিকট হতে তাঁর রাসূল ও মু'মিনদের উপর প্রশান্তি বর্ষণ করেন এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী অবতীর্ণ করেন, যা তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি কাফিরদের শাস্তি প্রদান করেন। এটাই কাফিরদের কর্মফল' (৯: ২৫-২৬)।
📄 হুনায়ন যুদ্ধে যারা শহীদ হন
ইবন ইসহাক বলেন: হুনায়নের যুদ্ধে যে সকল মুসলিম শাহাদত লাভ করেন, এস্থলে তাদের নাম প্রদত্ত হলো:
১. কুরায়শের শাখা বনু হাশিমের আয়মান ইবন উবায়দ (রা)।
২. বনূ আসাদ ইব্ন আবদুল-উয্যার-ইয়াযীদ ইব্ন যা'আ ইব্ন আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব ইব্ন আসাদ (রা)। জানাহ নামের তাঁর ঘোড়াটি তাকে পিঠ থেকে ফেলে দেয় এবং এতেই তার মৃত্যু হয়।
৩. আনসারদের আজলান গোত্রীয় সুরাকা ইবন হারিস ইবন আদি (রা)।
৪. আশ'আরীদের মধ্যে হতে আবু আমির আশ'আরী (রা)।
📄 হুনায়নের বন্দী ও মালামাল
এরপর হুনায়নের বন্দী ও মালামাল রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সামনে উপস্থিত করা হয়। মূলত: সস্পদের দায়িত্বে ছিলেন মাসউদ ইবন আমর গিফারী (রা)। রাসূলুল্লাহ (সা) মালামালসহ বন্দীদেরকে যীররানায়ে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে তাদের আটকে রাখা হয়।
📄 হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে কথিত কবিতাবলী
বুজায়র ইবন যুহায়র ইবন আবু সুলামী হুনায়নের যুদ্ধ সম্পর্কে বলেন:
আল্লাহ্ ও তাঁর বান্দাহ না হলে ঠিকই তোমরা পালাতে,
যখন ত্রাস সকল কাপুরুষকে করেছিল কাবু।
উপত্যকার ঢালুতে যেদিন আমাদের মুখোমুখি হল সমকক্ষ শত্রু, তাজী ঘোড়াগুলো সব পড়ে যাচ্ছিল মুখ থুবড়ে।
কেউ দৌড়াচ্ছিল হাতে কাপড়ে নিয়ে। আর কোন অংশ ছিটকে পড়ছিল কাত হয়ে, কোনটি খুব আর বুক উল্টিয়ে।
আল্লাহ্ আমাদের সম্মান বাঁচালেন, জয়ী করলেন আমাদের দ্বীনকে আর করলেন বলিয়ান রহমানের ইবাদতের বদৌলতে।
আল্লাহ্ তাদের করলেন ধ্বংস, করে দিলেন ছত্রভঙ্গ, আর তাদের করলেন পদদলিত শয়তানের দাসত্ব হেতু।
ইবন হিশাম বলেন : কুতক বর্ণনাকারী এ কবিতার মাঝে আরও উল্লেখ করেন :
যখন তোমাদের নবীর চাচা ও তাঁর অভিভাবক দাঁড়ালেন সতেজে,
হেঁকে বললেন, ওহে ঈমানের সেনাদল!
কোথায় তারা, যারা সাড়া দিয়েছিল তাদের প্রতিপালকের ডাকে, বদর প্রান্তরে কিংবা বায়আতুর রিদওয়ানে?