📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বোন শায়মা প্রসংগ
ইবন ইসহাক বলেন: সা'দ ইব্ন বকর গোত্রের এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ্ (সা) একদা বললেন: তোমরা যদি বনূ সা'দ ইব্ন বকরের মাজাদ নামক লোকটিকে তাঁবুতে পাও, তা হলে সে যেন তোমাদের থেকে পালাতে না পারে। ঐ ব্যক্তিটি একদা একটি ঘটনা ঘটিয়েছিল। যখন মুসলমানরা তাকে পাঁকড়াও করতে সক্ষম হয়, তখন তারা তাকে ও তার পরিবার পরিজনকে এবং তাদের সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দুধ-বোন হারিসের কন্যা শায়মাকেও ধরে নিয়ে আসেন। তাঁকে আনার ব্যাপারে তাঁরা কিছুটা কঠোরতাও প্রদর্শন করছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দুধবোন শায়মা বিন্ত হারিস ইব্ন আবদুল উয্যা তখন বলে উঠলেন: ওহে! জেনে রেখো, আমি কিন্তু তোমাদের সঙ্গীর দুধ-বোন! তাঁরা তার কথায় বিশ্বাস করলেন না এবং তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলেন।
📄 দুধবোনের সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সদাচরণ
ইব্ন ইসহাক বলেন: ইয়াযীদ ইব্ন উবায়দ সা'দী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা যখন শায়মাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হলেন, তখন তিনি বললেন: ইয়া রসূলুল্লাহ (সা)! আমি আপনার দুধ-বোন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এর নিদর্শন কি?
জবাবে শায়মা বললেন: আপনি যে শিশুকালে আমার পিঠে কামড় দিয়েছিলেন, তার দাগ এখনো আমার পিঠে বিদ্যমান রয়েছে। তখন আমি আপনাকে কোলে নিয়ে রেখেছিলাম।
রাবী বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিদর্শনটি সনাক্ত করতে সমর্থ হন। তিনি তাঁর জন্যে তাঁর চাদরটি বিছিয়ে দিলেন এবং তাঁকে তার উপর বসালেন। তিনি তাঁকে দু'টি বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে বললেন:
أن أحببت فعندى محبة مكرمة وإن احببت ان امتعك وترجعى الى قومك فعلت
তুমি যদি আমার কাছে থাকতে পসন্দ কর, তা হলে তোমার জন্যে রয়েছে আমার প্রাণঢালা ভালবাসা ও সম্মান সমাদর; আর তা না করে তুমি যদি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট আমার দেয়া উপহার সামগ্রীসহ ফিরে যেতে চাও, তা হলে আমি তোমাকে তাই দেবো। তখন শায়মা বললেন: বরং আমাকে দ্রব্যসম্ভার দিয়ে আমার সম্প্রদায়ের নিকটই ফিরিয়ে দিন! সেমতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে প্রচুর দ্রব্যসামগ্রী দান করলেন এবং তার সম্প্রদায়ের কাছে তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।
বনূ সা'দের লোকেরা বলে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) শায়মাকে মাকতুল নামক একজন গোলাম এবং তার সাথে একটি বাঁদীও দান করেন। শায়মা তাদের দু'জনের মধ্যে বিয়ে দিয়ে দেন। ঐ সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের বংশধররা অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে।
📄 হুনায়ন সম্পর্কে আল্লাহ্ যা অবর্তীণ করেন : ইবন হিশাম বলেন
لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ وَيَوْمَ حُنَيْنِ إِذْ basics a c k baat اعجبتكم كثرتم وَذَلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ পর্যন্ত আয়াত দু'টি নাযিল করেন।
অর্থ: আল্লাহ্ তোমাদের তো সাহায্য করেছেন বহু ক্ষেত্রে এবং হুনায়নের যুদ্ধের দিনে, যখন তোমাদের উৎফুল্ল করেছিল তোমাদের সংখ্যাধিক্য; কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল। তারপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে। এরপর আল্লাহ্ তাঁর নিকট হতে তাঁর রাসূল ও মু'মিনদের উপর প্রশান্তি বর্ষণ করেন এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী অবতীর্ণ করেন, যা তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি কাফিরদের শাস্তি প্রদান করেন। এটাই কাফিরদের কর্মফল' (৯: ২৫-২৬)।
📄 হুনায়ন যুদ্ধে যারা শহীদ হন
ইবন ইসহাক বলেন: হুনায়নের যুদ্ধে যে সকল মুসলিম শাহাদত লাভ করেন, এস্থলে তাদের নাম প্রদত্ত হলো:
১. কুরায়শের শাখা বনু হাশিমের আয়মান ইবন উবায়দ (রা)।
২. বনূ আসাদ ইব্ন আবদুল-উয্যার-ইয়াযীদ ইব্ন যা'আ ইব্ন আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব ইব্ন আসাদ (রা)। জানাহ নামের তাঁর ঘোড়াটি তাকে পিঠ থেকে ফেলে দেয় এবং এতেই তার মৃত্যু হয়।
৩. আনসারদের আজলান গোত্রীয় সুরাকা ইবন হারিস ইবন আদি (রা)।
৪. আশ'আরীদের মধ্যে হতে আবু আমির আশ'আরী (রা)।