📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সালামা ইব্‌ন দুরায়দের কবিতা

📄 সালামা ইব্‌ন দুরায়দের কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন: সালামা ইব্‌ন দুরায়দ যখন সকলকে অপারগ করে দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন সে কবিতায় এরূপ বলেছিল:
যাবৎ না আপতিত হলো বিপদ তোমার উপর রলে তুমি বিস্তৃত হয়ে আমাকে, এখন আবের কোল ঘেঁষে সংঘটিত যুদ্ধে তুমি প্রত্যক্ষ করলে; - যখন বাহনে চড়ে পলায়নই ছিল বাঞ্ছিত কাঙ্ক্ষিত প্রতিটি কুলীন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, প্রতিটি ভদ্র অভিজাত লোকের কাছে। তারা নিজের জননী ও ভাইকে পর্যন্ত ফেলে পালাচ্ছিল আর ফিরেও তাকাচ্ছিল না পেছন পানে; তখন আমি তোমার পিছু পিছু চলে, অধঃবদনে পলায়ন করা থেকে বাঁচিয়েছি তোমাকে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবু আমিরের শাহাদত ও তার ঘাতকদ্বয়কে নিধন

📄 আবু আমিরের শাহাদত ও তার ঘাতকদ্বয়কে নিধন


ইবন হিশাম বলেন: আমার নিকট জনৈক বিশ্বস্ত কাব্য ও ঘটনা-বিশারদ বর্ণনা করেছেন যে, আওতাসের যুদ্ধে এমন দশ ব্যক্তির মুকাবিলা আবূ আমির আশআরী (রা)-এর সাথে হয়, যারা পরস্পর ভাই ছিল। তাদের সকলেই ছিল মুশরিক। তাদের একজন প্রথমে আবূ আমিরের উপর হামলা করে, আর তিনিও পাল্টা তার উপর হামলা করেন। তিনি তাকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালেন। তারপর বললেন: হে আল্লাহ্! তুমি তার ব্যাপারে সাক্ষী থাকো! তারপর তিনি তাকে হত্যা করে ফেলেন। তারপর আরেকজন তাঁর উপর হামলা করে। আবূ আমির তাঁকেও ইসলামের দিকে দাওয়াত দিয়ে, তারপর তার উপর পাল্টা হামলা চালালেন। তিনি তখন বললেন: হে আল্লাহ্! এর ব্যাপারে তুমি সাক্ষী থাকো! তারপর আবূ আমির একেও হত্যা করলেন। তারপর একে একে তাদের সকলেই এ ভাবে তাঁর উপর হামলা চালায়' এবং আবূ আমির এভাবে প্রত্যেকের সময় উপরোক্ত বাক্য বলে তাদের নয়জনকেই হত্যা করেন। তারপর দশম ব্যক্তিটিও তাঁর উপর হামলা করলো। আর তিনি পূর্ববর্তীদের মতো একেও ইসলামের দাওয়াত দিয়ে, 'হে আল্লাহ্! তুমি এর ব্যাপারে সাক্ষী থাকো' বলে তার উপরও পাল্টা হামলা চালালেন। তখন ঐ ব্যক্তিটি বলে উঠলো : হে আল্লাহ্! আমার ব্যাপারে তুমি সাক্ষী থেকো না। তখন আবূ আমির তাকে হত্যা করা থেকে বিরত রইলেন। এ ব্যক্তিটি রক্ষা পেয়ে গেল। পরক্ষণেই সে ইসলাম গ্রহণ করলো এবং সে সত্যিকার নিষ্ঠাবান মুসলমান বলেই প্রতিপন্ন হল। এরপর যখনই রসূলুল্লাহ্ (সা) ঐ লোকটিকে দেখতে পেতেন, তখন বলে উঠতেন : ھذا شدید ابی عامر -"ঐ যে আবূ আমিরের তলোয়ারকে ফাঁকি দিয়ে বেঁচে যাওয়া লোকটি।"
তার পরক্ষণেই জুশাম গোত্রের হারিছের দুই পুত্র পরস্পরে দুই ভাই আলা ও আওফা একযোগে আবূ আমিরের উপর তীর নিক্ষেপ করে। এক জনের তীর তাঁর হৃৎপিণ্ডকে বিদীর্ণ করে এবং অপর জনের তীর তাঁর হাঁটুকে বিদ্ধ করে। এভাবে তারা দু'জনে তাঁকে শহীদ করে। লোকজন আবূ মূসা আশ'আরী (রা)-কে তাঁর স্থলে আমীররূপে বরণ করে নেয়। তিনি ঘাতকদ্বয়ের উপর পাল্টা হামলা করে তাদের উভয়কেই হত্যা করেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ আমির (রা)-এর ঘাতকদ্বয়ের মৃত্যুতে রচিত মর্সিয়া

📄 আবূ আমির (রা)-এর ঘাতকদ্বয়ের মৃত্যুতে রচিত মর্সিয়া


বন্ জুশام ইব্‌ন মুআবিয়ার এক ব্যক্তি উক্ত ঘাতকদ্বয়ের মৃত্যুতে নিম্নরূপ মর্সিয়া রচনা করে:
إن الرزية قتل العلاء * و إوفى جميعا ولم يسندا
আলা আর আওফার হত্যাকাণ্ড একটা সাংঘাতিক মর্মান্তিক ঘটনা। তারা দু'জন এমনভাবেই মারা পড়লো যে, একটুও অবলম্বন তাদের ছিল না।
هما القاتلان أبا عامر * وقد كان ذاهبة أربدا
এরা দু'জনই আবূ আমিরের হত্যাকারী। আর আবূ আমির ছিলেন এক নিপুণ কুশলী অসি-চালক যোদ্ধা।
هما تركاه لدى معرك * كأن على عطفه مجسدا
তারা দু'জনে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে এমন অবস্থায় পরিত্যাগ করলো যে, তাঁর কাছে যেন জাফরান মাখা ছিল।
قلم تر في الناس مثليهما * أقل عثارا و أرمى يدا
তাদের মতো লোক তুমি লোকসমাজে দেখনি, যাদের নিপুণ হাত তীর নিক্ষেপে এবং লক্ষ্যভেদে খুব কমই ভুল করে থাকে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 শিশু ও নারী হত্যা নিষিদ্ধ

📄 শিশু ও নারী হত্যা নিষিদ্ধ


ইবন ইসহাক বলেন: আমার নিকট আমার কোন কোন সঙ্গী বর্ণনা করেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (সা) জনৈকা নিহত মহিলার নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যাকে খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ হত্যা করেছিলেন। লোকজনের তখন সেখানে খুব ভীড়! রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর কোন একজন সঙ্গীকে লক্ষ্য করে বললো:
ادرك خالدا ، فقل له : ان رسول الله نهاك * صلى الله عليه وسلم) ان تقتل وليدا أو امرأة او عسيفا
"খালিদের কাছে যাও এবং তাকে বলো যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তোমাকে শিশু, নারী অথবা ভাড়াটে লোককে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00