📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মালিক ইব্‌ন আওফ

📄 মালিক ইব্‌ন আওফ


পরাজিত হওয়ার পর মালিক ইব্‌ন আওফ বের হয়ে একটি গিরিপর্বতে তার অশ্বারোহী দলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। সে তার সাথীদের লক্ষ্য করে বললো: যতক্ষণ না তোমাদের দুর্বলরা চলে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এখানে দাঁড়াও। ততক্ষণে তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়ে গেছে, তারা এসে তোমাদের সাথে মিলিত হবে। সেমতে সে নিজেও সেখানে দাঁড়িয়ে রইলো। ততক্ষণে যে পরাজিত দুর্বলরা তার সাথে এসে মিলিত হয়েছিল তারা অতিক্রম করে গেল। এ ব্যাপারে মালিক ইব্‌ন আওফ কবিতার ছন্দে বলে:
আমার অশ্ব মুহাজ-এর উপর যদি হামলা না হতো দু' দু'বার তা'হলে দুর্জনদের পথ রুদ্ধ হয়ে আসতো শাদীক প্রান্তরের নিম্নাঞ্চলে খর্জুর বীথির পাশে, হামলা না হতো যদি দাহমান ইবন নসরের, তা হলে বনূ জা'ফর ও বনূ হিলালের লোকদের অত্যন্ত দুর্ভোগ সোহারের পিছু হটতে হতো।
ইবন হিশাম বলেন: এগুলো মালিক ইব্‌ন আওফের অন্য যুদ্ধকালে বর্ণিত কবিতা। এর প্রমাণ হচ্ছে এই যে, এ বর্ণনার শুরুতে আছে যে দুরায়দ ইব্‌ন সাম্মা জিজ্ঞাসা করেছিল : বন্ জা'ফর ও বনু কিলাব গোত্রদ্বয় এ যুদ্ধের ব্যাপারে কী ভূমিকা নিয়েছে? লোকজন জবাবে বলেছিল : তারা এ যুদ্ধে আসেনি। অথচ এ কবিতায় মালিক ইব্‌ন আওফ বলছে: "বনূ কিলাব ও বনূ কিলালকে পিছু হটতে হতো।"
এথেকেই পরিষ্কার প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এ পংক্তিগুলো এ যুদ্ধকালে মালিক ইব্‌ন আওফ বলেনি। তা সে অন্য কোন যুদ্ধকালেই বলে থাকবে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মালিক ইব্‌ন আওফ সংক্রান্ত আরেকটি বর্ণনা

📄 মালিক ইব্‌ন আওফ সংক্রান্ত আরেকটি বর্ণনা


ইবন হিশাম বলেন: আমার নিকট এ বর্ণনাও পৌঁছেছে যে, মালিক ইব্‌ন আওফ একা তার সাথীরা যখন গিরিপর্বতে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন একটি অশ্বারোহী দলের সেখানে আর্বিভাব ঘটে। সে তার সাথীদেরকে জিজ্ঞাসা করলো: কী হে! তোমরা কী দেখতে পাচ্ছো?
জবাবে তারা বললো: আমরা এমন একটি সম্প্রদায়ের লোকজনকে দেখতে পাচ্ছি, যারা তাদের বল্লম তাদের ঘোড়াগুলোর কানসমূহের ফাঁকে রেখেছে আর তাদের জানু প্রলম্বিত।
তখন আওফ বলে উঠলো ওহ্, এরা হচ্ছে সুলায়ম গোত্রের লোক। এদের ভয় করার কোন কারণ তোমাদের নেই। তারা যখন এলো, তখন তাদেরকে অতিক্রম করে প্রান্তরের নীচের দিকে নেমে গেল।
তারপর তাদের পেছনে পেছনে আরেকটি গোত্রের অশ্বারোহী দল আসছিল। তখন সে তার সঙ্গীদের জিজ্ঞাসা করলো তোমরা কী দেখতে পাচ্ছো হে?
জবাবে তারা বললো আমরা এমন এক সম্প্রদায়ের লোকজনকে দেখতে পাচ্ছি, যারা তাদের বল্লম তাদের ঘোড়াসমূহের উপর এলোপাতাড়ি রেখেছে। তখন আওফ বলে উঠলো: ওহ্! এরা হচ্ছে আওস ও খাযরাজ গোত্রীয় লোকজন। তাদের পক্ষ থেকেও তোমাদের কোন অনিষ্টের আশঙ্কা নেই। তারা যখন গিরিপর্বতের কাছে এলো, তখন তারাও সুলায়ম-গোত্রীয় লোকজনের পথ ধরে চলে গেল। তারপর একজন অশ্বারোহীর আবির্ভাব হলো। তখন সে তার সঙ্গীদেরকে বললো তোমরা কী দেখতে পাচ্ছো হে? জবাবে তারা বললো: প্রলম্বিত জানু বিশিষ্ট একজন অশ্বারোহীকে দেখতে পাচ্ছি। তার বল্লম তার কাঁধের উপর রক্ষিত এবং তার মাথায় একটি লাল পট্টি বাঁধা রয়েছে।
সে বললো: এ লোকটি হচ্ছে যুবায়র ইবনু আওয়াম। সে তখন লাত দেবতার কসম খেয়ে বললো: এ ব্যক্তি অবশ্যই তোমাদের কে লণ্ডভণ্ড করে দেবে। তোমরা একে প্রতিরোধ কর! ফলে যুবায়র যখন গিরিপর্বতের নিকটে এলেন, তখন তারা তাঁর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করল এবং তাঁকে প্রতিরোধ করতে অগ্রসর হলো। তিনি তাদের বল্লমের দ্বারা আঘাত হানতে লাগলেন, এমন কি শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সালামা ইব্‌ন দুরায়দের কবিতা

📄 সালামা ইব্‌ন দুরায়দের কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন: সালামা ইব্‌ন দুরায়দ যখন সকলকে অপারগ করে দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন সে কবিতায় এরূপ বলেছিল:
যাবৎ না আপতিত হলো বিপদ তোমার উপর রলে তুমি বিস্তৃত হয়ে আমাকে, এখন আবের কোল ঘেঁষে সংঘটিত যুদ্ধে তুমি প্রত্যক্ষ করলে; - যখন বাহনে চড়ে পলায়নই ছিল বাঞ্ছিত কাঙ্ক্ষিত প্রতিটি কুলীন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, প্রতিটি ভদ্র অভিজাত লোকের কাছে। তারা নিজের জননী ও ভাইকে পর্যন্ত ফেলে পালাচ্ছিল আর ফিরেও তাকাচ্ছিল না পেছন পানে; তখন আমি তোমার পিছু পিছু চলে, অধঃবদনে পলায়ন করা থেকে বাঁচিয়েছি তোমাকে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবু আমিরের শাহাদত ও তার ঘাতকদ্বয়কে নিধন

📄 আবু আমিরের শাহাদত ও তার ঘাতকদ্বয়কে নিধন


ইবন হিশাম বলেন: আমার নিকট জনৈক বিশ্বস্ত কাব্য ও ঘটনা-বিশারদ বর্ণনা করেছেন যে, আওতাসের যুদ্ধে এমন দশ ব্যক্তির মুকাবিলা আবূ আমির আশআরী (রা)-এর সাথে হয়, যারা পরস্পর ভাই ছিল। তাদের সকলেই ছিল মুশরিক। তাদের একজন প্রথমে আবূ আমিরের উপর হামলা করে, আর তিনিও পাল্টা তার উপর হামলা করেন। তিনি তাকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালেন। তারপর বললেন: হে আল্লাহ্! তুমি তার ব্যাপারে সাক্ষী থাকো! তারপর তিনি তাকে হত্যা করে ফেলেন। তারপর আরেকজন তাঁর উপর হামলা করে। আবূ আমির তাঁকেও ইসলামের দিকে দাওয়াত দিয়ে, তারপর তার উপর পাল্টা হামলা চালালেন। তিনি তখন বললেন: হে আল্লাহ্! এর ব্যাপারে তুমি সাক্ষী থাকো! তারপর আবূ আমির একেও হত্যা করলেন। তারপর একে একে তাদের সকলেই এ ভাবে তাঁর উপর হামলা চালায়' এবং আবূ আমির এভাবে প্রত্যেকের সময় উপরোক্ত বাক্য বলে তাদের নয়জনকেই হত্যা করেন। তারপর দশম ব্যক্তিটিও তাঁর উপর হামলা করলো। আর তিনি পূর্ববর্তীদের মতো একেও ইসলামের দাওয়াত দিয়ে, 'হে আল্লাহ্! তুমি এর ব্যাপারে সাক্ষী থাকো' বলে তার উপরও পাল্টা হামলা চালালেন। তখন ঐ ব্যক্তিটি বলে উঠলো : হে আল্লাহ্! আমার ব্যাপারে তুমি সাক্ষী থেকো না। তখন আবূ আমির তাকে হত্যা করা থেকে বিরত রইলেন। এ ব্যক্তিটি রক্ষা পেয়ে গেল। পরক্ষণেই সে ইসলাম গ্রহণ করলো এবং সে সত্যিকার নিষ্ঠাবান মুসলমান বলেই প্রতিপন্ন হল। এরপর যখনই রসূলুল্লাহ্ (সা) ঐ লোকটিকে দেখতে পেতেন, তখন বলে উঠতেন : ھذا شدید ابی عامر -"ঐ যে আবূ আমিরের তলোয়ারকে ফাঁকি দিয়ে বেঁচে যাওয়া লোকটি।"
তার পরক্ষণেই জুশাম গোত্রের হারিছের দুই পুত্র পরস্পরে দুই ভাই আলা ও আওফা একযোগে আবূ আমিরের উপর তীর নিক্ষেপ করে। এক জনের তীর তাঁর হৃৎপিণ্ডকে বিদীর্ণ করে এবং অপর জনের তীর তাঁর হাঁটুকে বিদ্ধ করে। এভাবে তারা দু'জনে তাঁকে শহীদ করে। লোকজন আবূ মূসা আশ'আরী (রা)-কে তাঁর স্থলে আমীররূপে বরণ করে নেয়। তিনি ঘাতকদ্বয়ের উপর পাল্টা হামলা করে তাদের উভয়কেই হত্যা করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00